নজরবন্দি ব্যুরো: আগামী বছর লোকসভা নির্বাচন। আর তার ঠিক আগেই পঞ্চায়েতে তৃণমূলের একাধিপত্য কিন্তু বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলার জন্য যথেষ্ট। পঞ্চায়েতের ফলপ্রকাশে দেখা গেল, সব জেলাতেই জয়জয়কার শাসক দলের। কিন্তু তার মধ্যেও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য মুর্শিদাবাদে তৃণমূলের ব্যাপক সাফল্যের ঘটনা। আর যে ঘটনায় কি কিছুটা চিন্তিত প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী।
আরও পড়ুন: ইডির চাপ ভুলে পঞ্চায়েতে তৃণমূলের ব্যাপক সাফল্যে মমতা অভিষেককে কুর্নিশ সায়নীর


জেলার নাম মুর্শিদাবাদ। কিন্তু রাজনৈতিক মহল চেনে একটাই নামে, সেটা হল অধীর-গড়। আর হবে নাই বা কেন! সেই ১৯৯৯ সালে আরএসপি নেতা প্রমথেশ মুখার্জীকে হারিয়ে সাংসদ হলেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী, তারপর থেকে আজ পর্যন্ত শত প্রতিকূলতাতেও নিজের দুর্গ অক্ষত রাখতে সমর্থ হয়েছেন তিনি। জেলার মানুষ বা রাজনৈতিক মহল জানে, মুর্শিদাবাদের জন্য কত কাজ করেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। আর বোধ হয় সেই কারণেই গোটা রাজ্যে কংগ্রেস নিজের পরিচয় হারালেও অধীর আজও সগৌরবে মুর্শিদাবাদ থেকে দিল্লির পার্লামেন্টে গিয়ে ভাষণ দেন। কিন্তু, এবারের পঞ্চায়েত ভোট যেন কিছুটা চিন্তাতেই রাখল অধীরকে।

পঞ্চায়েতের ফলাফল বলছে, মুর্শিদাবাদে গ্রাম পঞ্চায়েতের মোট আসন ৫,৫৯১টি আসনের মধ্যে তৃণমূল একাই পেয়েছে ২,৫৪২টি আসন, বাম-কংগ্রেস জোট পেয়েছে ১,৬০০টি আসন, বিজেপি পেয়েছে ৪৯৯টি গ্রাম পঞ্চায়েত আসন। প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত পরিসংখ্যান কিছুটা এরকমই। অন্যদিকে, জেলা পরিষদের মোট আসন ৭৮টি আসনের মধ্যে তৃণমূল ৪৮টি আসন পেরিয়ে গিয়েছে। জেলা পরিষদে এখনও পর্যন্ত কংগ্রেস-সিপিএমের মিলিত আসন সংখ্যা ছয়। আর জেলা পরিষদের এই ভয়ঙ্কর ফলাফলই কিন্তু অধীর রঞ্জন চৌধুরীর জন্য চিন্তার বিষয়।

যদিও পঞ্চায়েত ভোটের ফলে দেখা গিয়েছে, এবার বাম ও কংগ্রেস বেশ ভালোই ভোট পেয়েছে। বিধানসভা ভোটের শূণ্য তকমা হয়তো খাতায় কলমে মুছবে না কিন্তু এই সামান্য সাফল্যটুকু মনের কলঙ্ককে কিছুটা মুছতে সাহায্য করবে বাম কংগ্রেস কর্মী সমর্থকদের। তবে, আগামী বছর লোকসভা ভোটেও মুর্শিদাবাদে এই মানুষগুলিই ভোট দেবেন, সেখানে টলে যাবে না তো অধীরের পঁচিশ বছরের সাজানো সিংহাসন?


অধীর যদিও জানিয়েছেন, পঞ্চায়েতে ছাপ্পা, রিগিং আর ভোট লুট ছাড়া কিছুই হয়নি। সেই কারণেই হাসি চওড়া হয়েছে তৃণমূলের। ভোটের পরের দিনই হাইকোর্টে মামলাও করেন অধীর। নিজেইলড়েন নিজের মামলা। সেই মামলাআর শুনানিও হয়ে গিয়েছে। অধীরের প্রত্যাশা সম্পূর্ণ পূরণ না হলেও হাইকোর্টে কিছুটা মুখ পুড়েছে রাজ্য সরকারের।
লোকসভার আগেই অধীর-গড়ে ব্যাপক সাফল্য তৃণমূলের, কপালে চিন্তার ভাঁজ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির?








