খড়্গপুরে ‘কমব্যাক’ ঘোষ বাবুর, ১০ বছর পর নিজের ঘাঁটিতে দাপুটে জয়

লোকসভায় হারার পর খড়্গপুর সদরে জয়ে প্রত্যাবর্তন দিলীপের, সংগঠন ও অভিজ্ঞতায় ফের প্রমাণ করলেন নিজের শক্তি

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

লোকসভায় পরাজয়ের ধাক্কা কাটিয়ে ফের নিজের চেনা ময়দানে দাপট দেখালেন দিলীপ ঘোষ। খড়্গপুর সদর বিধানসভা কেন্দ্রে শুরু থেকেই এগিয়ে থেকে শেষ পর্যন্ত প্রায় ২২ হাজারের বেশি ভোটে জয় নিশ্চিত করলেন তিনি। এই জয় শুধু ব্যক্তিগত প্রত্যাবর্তন নয়, বরং রাজ্য রাজনীতিতে তাঁর প্রভাব এখনও অটুট—সেই বার্তাও স্পষ্ট করল।

২০১৬ সালে এই কেন্দ্র থেকেই প্রথমবার বিধায়ক হয়েছিলেন দিলীপ। এক দশক পর আবার সেই আসনে ফিরে এসে একই সাফল্য—রাজনৈতিক মহলে একে ‘ফুল সার্কেল’ মুহূর্ত বলেই দেখা হচ্ছে। ভোটগণনার শুরু থেকেই তাঁর লিড ক্রমাগত বাড়তে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত তৃণমূল প্রার্থী প্রদীপ সরকার-কে বড় ব্যবধানে হারান তিনি।

ফল ঘোষণার আগেই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন দিলীপ। সকালে তিনি বলেছিলেন, “মানুষ যে ভাবে ভোট দিয়েছেন, পরিবর্তন নিশ্চিত।” যদিও এক লক্ষ ভোটের ব্যবধানের দাবি পূরণ হয়নি, তবু তাঁর ভবিষ্যদ্বাণী যে ভুল ছিল না, তা দিনের শেষে পরিষ্কার—রাজ্যে বিজেপির উত্থান এবং খড়্গপুরে তাঁর জয়, দুটোই মিলেছে একসঙ্গে।

রাজনৈতিক মহলে দিলীপ ঘোষকে নিয়ে মতভেদ থাকলেও, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিস্তারে তাঁর ভূমিকা অস্বীকার করা যায় না। প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি হিসেবে সংগঠন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁর বিতর্কিত মন্তব্য নিয়েও কম আলোচনা হয়নি—কখনও কড়া ভাষা, কখনও অপ্রচলিত দাবি—সব মিলিয়ে তিনি বরাবরই আলোচনার কেন্দ্রে থেকেছেন।

দিলীপের রাজনৈতিক পথচলা বেশ আলাদা। ১৯৮৪ সালে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ-এর প্রচারক হিসেবে জীবন শুরু। দীর্ঘদিন সংগঠনের কাজে যুক্ত থাকার পর ২০১৪ সালে সরাসরি বিজেপির রাজনীতিতে আসেন। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই রাজ্য নেতৃত্বের আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন এবং পরে রাজ্য সভাপতির দায়িত্বও পান।

২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে খড়্গপুর সদর থেকে জয় তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ারের বড় মাইলফলক ছিল। সেই সময় বিজেপি রাজ্যে মাত্র তিনটি আসন জিতেছিল, আর সেই তিনের মধ্যে ছিলেন দিলীপও। এরপর ওঠা-পড়ার মধ্য দিয়ে পথ চললেও, এবার আবার নিজের ঘাঁটিতে ফিরে এসে জয়ের হাসি হাসলেন তিনি।

সব মিলিয়ে, এই জয় শুধু একটি আসনের ফল নয়—এটি দিলীপ ঘোষের রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের গল্প, যেখানে পরাজয়ের পরও লড়াই চালিয়ে গিয়ে আবার শীর্ষে ফিরে আসার বার্তা স্পষ্ট।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত