জেল খেটে আসা বালুকে প্রার্থী করেছিল তৃণমূল, তিন বারের বিধায়ককে এ বার প্রত্যাখ্যান করল হাবড়া

প্রথমে এগিয়ে থেকেও শেষরক্ষা হল না, হাবড়ায় প্রায় ২৩,৮০০ ভোটে হার জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের—২৬ বছরের জয়ের ধারায় ছেদ

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

দীর্ঘ রাজনৈতিক কেরিয়ারের পর হাবড়ায় বড় ধাক্কা—তিন বারের বিধায়ক জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ওরফে বালুকে এ বার স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করলেন ভোটাররা। প্রথমে এগিয়ে থেকেও শেষপর্যন্ত প্রায় ২৩,৮০০ ভোটে পরাজিত হলেন তিনি, যা রাজ্যের নির্বাচনী ছবিতে অন্যতম বড় অঘটন হিসেবে ধরা পড়ছে।

গণনা শুরুর পর প্রথম কয়েক রাউন্ডে এগিয়ে ছিলেন তৃণমূল প্রার্থী বালু। কিন্তু ধীরে ধীরে চিত্র বদলাতে থাকে। বিজেপি প্রার্থী দেবদাস মণ্ডল ব্যবধান বাড়াতে শুরু করেন, এবং শেষপর্যন্ত হাবড়া আসনে জয়ের দখল নেন। ২০১১ সালে ‘পরিবর্তন’-এর ঢেউয়ে প্রথম এই কেন্দ্রে জয়ের পর টানা তিন বার জিতেছিলেন বালু। তবে এ বার সেই ধারাবাহিকতায় ছেদ পড়ল।

জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক তৃণমূলের পুরনো মুখ। কংগ্রেস ভেঙে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নতুন দল গড়ার সময় থেকেই তাঁর সঙ্গে ছিলেন। ২০০১ সালে গাইঘাটা থেকে প্রথম বিধায়ক হন, পরে আসন বদলে হাবড়ায় এসে নিজের শক্ত ঘাঁটি তৈরি করেন। খাদ্য দফতরের দায়িত্ব সামলে দীর্ঘ সময় মন্ত্রিত্বেও ছিলেন।

তবে রাজনৈতিক জীবনের মাঝপথে বিতর্কও কম হয়নি। রেশন দুর্নীতি মামলায় ২০২৩ সালে গ্রেফতার হয়ে প্রায় ১৪ মাস জেলে ছিলেন তিনি। জামিনে মুক্তি পাওয়ার পরও সংগঠনে তাঁর গুরুত্ব অটুট ছিল। অনেকের ধারণা ছিল, এ বার হয়তো তাঁকে প্রার্থী করা হবে না। কিন্তু সেই জল্পনা উড়িয়ে হাবড়া থেকেই টিকিট দেয় তৃণমূল, এমনকি প্রচারেও নামেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

জেল থেকে বেরিয়ে সক্রিয় রাজনীতিতে ফেরেন বালু, সংগঠনের দায়িত্বও পান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভোটের লড়াইয়ে সেই প্রভাব কাজে এল না। ২৬ বছরের রাজনৈতিক জীবনে এই প্রথম কোনও নির্বাচনে পরাজয়ের মুখ দেখতে হল তাঁকে—যা শুধু ব্যক্তিগত নয়, রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণেও তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত