পশ্চিমবঙ্গে সম্ভাব্য পালাবদলের আবহে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসবেন কে? রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা, দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন বর্তমান বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সংগঠন, জনভিত্তি এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সাফল্যের নিরিখে তিনিই আপাতত ‘ফ্রন্ট-রানার’ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকদের একাংশ।
২০২১ সালের নির্বাচনে নন্দীগ্রামে লড়াই জিতে রাজ্য রাজনীতিতে নিজের অবস্থান আরও পোক্ত করেন শুভেন্দু। এরপর গত কয়েক বছরে তৃণমূলের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক আন্দোলন, কর্মীদের পাশে দাঁড়ানো এবং সংগঠনকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা বিজেপির ভিত মজবুত করেছে বলেই মত রাজনৈতিক মহলের।


তবে মুখ্যমন্ত্রী পদ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও ধোঁয়াশায়। দলের অন্দরেই আরও কয়েকটি নাম ঘুরপাক খাচ্ছে। রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য—যিনি আরএসএস-ঘনিষ্ঠ মুখ হিসেবে পরিচিত—কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পছন্দের তালিকায় থাকতে পারেন বলে জল্পনা। ২০১৪ সালে বসিরহাট দক্ষিণ থেকে জয়ী হয়ে রাজ্যে বিজেপির প্রথম বিধায়ক হিসেবে নজর কাড়েন তিনি।
অন্যদিকে, বাংলায় বিজেপির উত্থানের অন্যতম কারিগর প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ-এর নামও আলোচনায় রয়েছে। একসময় কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হলেও, সাম্প্রতিক সময়ে সেই সম্পর্ক অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে। খড়গপুর সদর থেকে তাঁর জয়ের সম্ভাবনাও তাঁকে দৌড়ে এগিয়ে রাখছে।
এই তালিকায় রয়েছেন উত্তরবঙ্গের প্রভাবশালী নেতা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার এবং বুদ্ধিজীবী মুখ হিসেবে পরিচিত স্বপন দাশগুপ্ত। ফলে মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে রাজনৈতিক জল্পনা আরও তীব্র হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।


এখন নজর দিল্লির দিকে—এই হাইভোল্টেজ পরিস্থিতিতে শেষ পর্যন্ত কাকে বেছে নেয় কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব, সেটাই দেখার।







