তপ্ত রোদে হেঁটে, গান-স্লোগানে ভরিয়ে, সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলে—সবকিছু করেও শেষ পর্যন্ত ফলের খাতায় শূন্যই রইল বামফ্রন্টের তরুণ ব্রিগেড। ভোটের ময়দানে লড়াই জমালেও, গণনার শেষে বাস্তবতা কঠিন—বিজেপির উত্থানের ঢেউয়ে তৃণমূলের পাশাপাশি কার্যত মুছে গেল বামেদের প্রত্যাবর্তনের আশা।
দমদম কেন্দ্রে নবম রাউন্ডের শেষে তৃতীয় স্থানেই থামলেন ময়ুখ বিশ্বাস। সেখানে বড় ব্যবধানে এগিয়ে বিজেপি প্রার্থী অরিজিৎ বক্সী, দ্বিতীয় স্থানে তৃণমূলের ব্রাত্য বসু। একই চিত্র দমদম উত্তরেও—ষষ্ঠ রাউন্ড শেষে বিজেপির সৌরভ শিকদার এগিয়ে, দ্বিতীয় স্থানে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবং তৃতীয় স্থানে দীপ্সিতা ধর।


পানিহাটি কেন্দ্রেও ভিন্ন ছবি দেখা যায়নি। ভাইরাল ‘ঝড় তুলে ওই’ গানের মাধ্যমে প্রচারে নজর কাড়া কলতান দাশগুপ্ত শেষ পর্যন্ত তৃতীয় স্থানেই থেমে গেলেন। এই কেন্দ্রে তৃণমূলের তীর্থঙ্কর ঘোষ-কে পেছনে ফেলে এগিয়ে ছিলেন বিজেপি প্রার্থী, যিনি আরজি কর-কাণ্ডের নির্যাতিতার মা হিসেবেও আলোচনায় ছিলেন।
উত্তরপাড়া কেন্দ্রেও একই পরিণতি। প্রচারে স্বতঃস্ফূর্ত ভঙ্গি, সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ—সব মিলিয়ে নজর কেড়েছিলেন মিনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। কিন্তু ১৩ রাউন্ড শেষে তিনিও তৃতীয় স্থানেই থামলেন। এই কেন্দ্রে প্রথম স্থানে বিজেপির দীপাঞ্জন চক্রবর্তী, দ্বিতীয় স্থানে তৃণমূলের শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রচারে সৃজনশীলতা ও পরিশ্রমের ঘাটতি ছিল না বাম তরুণদের। কিন্তু সংগঠনগত দুর্বলতা ও ভোটের মেরুকরণে সেই প্রচার ভোটে রূপান্তরিত হল না। ফলে ‘শূন্য থেকে এক’ হওয়ার স্বপ্ন এবারও অধরাই রয়ে গেল বাম শিবিরের কাছে।









