মধ্যমগ্রামের দোহাড়িয়ায় বুধবার রাতের গুলির শব্দ থামলেও তার অভিঘাত থামেনি—শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহকারী চন্দ্রনাথ রথ খুনের ঘটনায় কার্যত অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি। পরিকল্পিত হামলায় তাঁর মৃত্যু, গুরুতর জখম সঙ্গী বুদ্ধদেব বেরা—ঘটনার পরই হাসপাতালে ভিড় জমিয়েছে বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। ইতিমধ্যেই সেখানে পৌঁছেছেন শুভেন্দু অধিকারী নিজে, সঙ্গে একাধিক শীর্ষ নেতা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে চারটি বাইকে মোট আটজন দুষ্কৃতী চন্দ্রনাথের গাড়িকে অনুসরণ করে। দোহাড়িয়া লেনের ভিতরে ঢোকার মুখে উল্টো দিক থেকে এসে এলোপাথারি গুলি চালানো হয়। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, গাড়ির গতিপথ আগে থেকেই আততায়ীদের জানানো হয়েছিল—যা এই হামলার সুপরিকল্পিত দিককে সামনে আনছে। হামলাকারীরা হেলমেট পরে থাকায় তাদের চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে উঠেছে।
গুলিতে গুরুতর জখম হন চন্দ্রনাথ ও তাঁর সঙ্গী বুদ্ধদেব বেরা। দ্রুত তাঁদের স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা চন্দ্রনাথকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালের কর্ণধার প্রতিম সেনগুপ্ত জানান, তাঁর বুকের বাঁ দিকে দু’টি গুলি লাগে এবং হাসপাতালে আনার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়। অন্যদিকে বুদ্ধদেবের শরীরে তিনটি গুলি লাগে—বুক, পেট ও হাতে। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে কলকাতার বাইপাস সংলগ্ন একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে, তাঁর অস্ত্রোপচার প্রয়োজন।

মধ্যমগ্রামে রক্তাক্ত রাত! শুভেন্দুর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ খুনে উত্তাল এলাকা, হাসপাতালে ভিড়
চন্দ্রনাথ রথের বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুরে হলেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে মধ্যমগ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। বিজেপি সূত্রে দাবি, ভবানীপুরের নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারীর হয়ে কাজ করা টিমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন তিনি। আহত বুদ্ধদেবও সেই দলের সক্রিয় সদস্য।
ঘটনার খবর ছড়াতেই হাসপাতালে ভিড় বাড়তে থাকে। বিজেপির একাধিক নেতা—শঙ্কর ঘোষ, পীযূষ কানোরিয়া, কৌস্তভ বাগচী, রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়—হাসপাতালে পৌঁছান। পরে সেখানে আসেন শুভেন্দু অধিকারীও। হাসপাতালের বাইরে ও ভিতরে কর্মী-সমর্থকদের ঢল নামায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
পুলিশ ইতিমধ্যেই দুষ্কৃতীদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে, পাশাপাশি প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এই খুনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও তীব্র আকার নিতে শুরু করেছে।



