পরকীয়ার জেরে স্বামীকে খুনের অভিযোগ! ঘুমন্ত অবস্থায় কুপিয়ে হত্যা, দেহ খালে ফেলে গ্রেপ্তার স্ত্রী ও প্রেমিক

পরকীয়া সম্পর্কের জেরে স্বামীকে খুনের অভিযোগ। তদন্তে ডিজিটাল প্রমাণের ভিত্তিতে স্ত্রী ও তাঁর কথিত প্রেমিককে গ্রেপ্তার করেছে বিহার পুলিশ।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বিহারের বক্সার জেলায় পরকীয়া সম্পর্ককে কেন্দ্র করে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগ, প্রেমের সম্পর্কে বাধা হয়ে দাঁড়ানো স্বামীকে ঘুমন্ত অবস্থায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন তাঁর স্ত্রী এবং স্ত্রীর প্রেমিক। পরে পরিচয় গোপন করার উদ্দেশ্যে মৃতদেহ নগ্ন করে খালে ফেলে দেওয়া হয়। ঘটনার তদন্তে নেমে স্ত্রী মমতা দেবী এবং অভিযুক্ত অরবিন্দ কুমার সিংকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ

বন্ধুত্ব থেকেই গড়ে ওঠে সম্পর্ক, অভিযোগ পুলিশের

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহতের নাম বীরেন্দ্র সিং। তিনি স্ত্রী মমতা দেবী, দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে সংসার করতেন।

তদন্তকারীদের দাবি, একই গ্রামের বাসিন্দা অরবিন্দ কুমার সিং-এর সঙ্গে বীরেন্দ্রের বন্ধুত্ব ছিল। সেই সূত্রেই অরবিন্দের বীরেন্দ্রর বাড়িতে নিয়মিত যাতায়াত শুরু হয়। তদন্তে উঠে এসেছে, সেই সময়েই মমতা দেবী ও অরবিন্দের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয় বলে অভিযোগ।

ঘুমন্ত অবস্থায় হামলার অভিযোগ

পুলিশের অভিযোগ, ১৯ জুলাই রাতে পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘুমিয়ে থাকা বীরেন্দ্র সিংয়ের উপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।

অভিযোগ, হত্যার পর প্রমাণ নষ্ট এবং মৃতদেহের পরিচয় গোপন করার উদ্দেশ্যে দেহ থেকে পোশাক খুলে গ্রামের পাশের একটি খালে ফেলে দেওয়া হয়।

খালে উদ্ধার পচাগলা দেহ

পুলিশ জানিয়েছে, খালের জলে ভেসে মৃতদেহটি রোহতাস জেলা থেকে বক্সার জেলার কালমানপুর এলাকার কাছে পৌঁছে যায়। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা খালের ধারে একটি পচাগলা নগ্ন দেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন।

পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায় এবং পরিচয় জানার চেষ্টা শুরু করে।

ডিজিটাল প্রমাণে মিলল সূত্র

পরিবারের সদস্যরা মৃতদেহ শনাক্ত করার পর তদন্তের গতি বাড়ে। নিহতের ভাই জীতেন্দ্র সিং-এর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে পুলিশ।

তদন্ত চলাকালীন ডিজিটাল রেকর্ড, মোবাইল ফোনের লোকেশন ডেটা এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ করে পুলিশ দুই সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে তথ্য সংগ্রহ করে।

এরপর মমতা দেবী ও অরবিন্দ কুমার সিংকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তদন্তে কী দাবি পুলিশের?

পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের সময় দুই অভিযুক্তই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তবে মামলার তদন্ত এখনও চলছে এবং ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন