সরকার বদলাতেই দুশ্চিন্তা চরমে—চাকরি থাকবে তো? আতঙ্কে সিভিক সহ ৫ লক্ষ চুক্তিভিত্তিক কর্মী

শূন্যপদ পূরণের ইঙ্গিতে উদ্বেগ বাড়ছে অস্থায়ী কর্মীদের মধ্যে। প্রশাসনের বড় অংশ নির্ভরশীল হলেও ভবিষ্যৎ নিয়ে স্পষ্টতা নেই, বাড়ছে চাকরি হারানোর আশঙ্কা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর হঠাৎই অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে গেছেন প্রায় ৫ লক্ষ চুক্তিভিত্তিক কর্মী ও সিভিক ভলান্টিয়ার। “চাকরিটা থাকবে তো?”—এই একটাই প্রশ্ন এখন ঘুরছে দপ্তর থেকে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে। নতুন সরকারের নীতির ইঙ্গিত সামনে আসতেই অস্থায়ী কর্মীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে তীব্র উদ্বেগ।

রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোয় এই বিপুল সংখ্যক অস্থায়ী কর্মীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গ্রুপ এ, বি, সি ও ডি স্তরে প্রায় ৬ লক্ষ শূন্যপদ রয়েছে। সেখানে স্থায়ী কর্মীর সংখ্যা মাত্র ৩ লক্ষ ১৭ হাজারের কাছাকাছি। ফলে দৈনন্দিন কাজ চালাতে বড় অংশেই নির্ভর করতে হয় ডেটা এন্ট্রি অপারেটর, সহায়ক কর্মী এবং সিভিক ভলান্টিয়ারদের মতো চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের উপর।

পূর্ববর্তী সরকারের আমলে এই কর্মীরা বহুবার স্থায়ীকরণের দাবিতে আন্দোলন করেছেন। সেই প্রেক্ষিতে একটি নির্দেশ জারি করে জানানো হয়েছিল, নির্দিষ্ট শর্তে ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত তাঁরা কাজে বহাল থাকতে পারবেন এবং অবসরের পর সীমিত সুবিধাও দেওয়া হবে। সেই আশ্বাসেই অনেকেই ভবিষ্যতের পরিকল্পনা করেছিলেন।

কিন্তু নতুন সরকারের ঘোষণাপত্রে শূন্যপদ পূরণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক স্তরে ইতিমধ্যেই কিছু পদে রদবদলের ইঙ্গিতও মিলেছে। ফলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে—স্থায়ী নিয়োগ শুরু হলে অস্থায়ী পদগুলির ভবিষ্যৎ কী হবে? এই প্রশ্নই এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হয়ে উঠেছে।

ইতিমধ্যে বিভিন্ন দপ্তরে ওএসডি এবং পুনর্নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মীদের উপস্থিতি নিয়ে কিছু নির্দেশ জারি হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। অস্থায়ী কর্মীদের একাংশ মনে করছেন, নীতিগত পরিবর্তনের ফলে তাঁদের অবস্থান দুর্বল হতে পারে।

তবে প্রশাসনিক বাস্তবতাও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। এত বড় সংখ্যক অস্থায়ী কর্মী হঠাৎ সরিয়ে দিলে সরকারি কাজকর্মে বড়সড় ধাক্কা লাগতে পারে। নতুন নিয়োগ সম্পূর্ণ হতে সময় লাগবে, আর সেই ফাঁকে দপ্তরগুলির কাজ কীভাবে চলবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

সব মিলিয়ে, রাজনৈতিক পালাবদলের পর প্রশাসনের এই বড় অংশ এখন অনিশ্চয়তার দোলাচলে। আগামী দিনে সরকারের স্পষ্ট অবস্থানই নির্ধারণ করবে তাঁদের ভবিষ্যৎ।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত