বাংলায় চালু হচ্ছে আয়ুষ্মান ভারত! শপথের আগেই জোর প্রস্তুতি স্বাস্থ্য দফতরে

নতুন বিজেপি সরকার শপথ নেওয়ার আগেই বাংলায় আয়ুষ্মান ভারত কার্যকর করার প্রস্তুতি শুরু। ন্যাশনাল হেলথ অথরিটির সঙ্গে বৈঠকে স্বাস্থ্য দফতর।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

দীর্ঘ রাজনৈতিক পালাবদলের পর এবার বাংলায় কার্যকর হতে চলেছে কেন্দ্রের অন্যতম বড় স্বাস্থ্য প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত’। নতুন বিজেপি সরকার শপথ নেওয়ার আগেই শুরু হয়ে গেল প্রশাসনিক প্রস্তুতি। ন্যাশনাল হেলথ অথরিটির আধিকারিকদের সঙ্গে ইতিমধ্যেই বৈঠকে বসেছে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর। কীভাবে প্রকল্পটি রাজ্যে চালু করা হবে, কোন গাইডলাইন মেনে কাজ এগোবে এবং কীভাবে সাধারণ মানুষকে পরিষেবার আওতায় আনা হবে— তা নিয়েই শুরু হয়েছে বিস্তারিত আলোচনা। নবান্ন সূত্রে খবর, নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই আয়ুষ্মান ভারত কার্যকর করার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

রাজ্যে বিজেপির সরকার গঠনের আগেই কেন্দ্রীয় স্তরে এই প্রকল্প নিয়ে তৎপরতা শুরু হয়েছে। সূত্রের খবর, ন্যাশনাল হেলথ অথরিটির প্রতিনিধিদের সঙ্গে স্বাস্থ্য দফতরের একাধিক আধিকারিক বৈঠক করেছেন। সেখানে প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, বাংলায় নতুন সরকার গঠনের পর আয়ুষ্মান ভারত চালু করা হবে। সেই ঘোষণার পর থেকেই প্রশাসনিক স্তরে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। এতদিন এই প্রকল্প নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের সংঘাত থাকলেও রাজনৈতিক পালাবদলের পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে শুরু করেছে।

এদিকে শনিবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে নতুন বিজেপি সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই জোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মবার্ষিকীর দিনই নতুন সরকারের সূচনা করতে চাইছে বিজেপি। সকাল ১০টায় শপথ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা। বিজেপি সূত্রে খবর, অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-সহ একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা ও মন্ত্রী।

বুধবার দুপুর থেকেই ব্রিগেড ময়দানে মঞ্চ নির্মাণ ও সাজসজ্জার কাজ শুরু হয়েছে। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, বাংলা সংস্কৃতির ছোঁয়া রেখে অনুষ্ঠানকে বিশেষ মাত্রা দেওয়া হবে। ঝালমুড়ি, রসগোল্লা-সহ বাংলার ঐতিহ্যকে তুলে ধরারও পরিকল্পনা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার একাধিক বিজেপি নেতা ব্রিগেডে গিয়ে প্রস্তুতি খতিয়ে দেখেন। নিরাপত্তা ব্যবস্থা, অতিথি আসন, মঞ্চ এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা— সব কিছুই খুঁটিয়ে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই শপথ অনুষ্ঠান শুধু সরকার পরিবর্তনের আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং বাংলায় নতুন প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনাও হতে চলেছে।

আর সেই পরিবর্তনের অন্যতম বড় প্রতীক হিসেবেই সামনে আসছে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প। স্বাস্থ্য পরিষেবায় কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সরাসরি বাস্তবায়ন রাজ্যের চিকিৎসা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন