পঞ্চায়েত নির্বাচনে পরাজিত সামসুদ্দিন খান। বঙ্গ রাজনীতিতে নামটা পরিচিত নয়। তবে তাঁর ভাইকে সকলেই চেনে। প্রয়াত ছাত্রনেতা আনিস খানের দাদা সামসুদ্দিন। ভাইয়ের স্বপ্ন পূরণ করতেই এবারে ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ফলাফল শূন্য। মঙ্গলবার ভোট গণনা শেষে তাঁকে পরাজিত ঘোষণা করা হয়।
বিধানসভা নির্বাচনের সময় অস্বাভাবিকভাবে ছাদ থেকে পড়ে মৃত্যু হয়েছিল সিপিএমের তরুণ নেতা আনিস খান। অভিযোগ ছিল খুন করা হয়েছে আনিসকে। সময়ের ঘড়ি চলতেই থেকেছে কিন্তু আনিসের মৃত্যুর তদন্ত আজও শেষ হয়নি। পরিবারের তরফ থেকে সিবিআই তদন্তের দাবি উঠলেও তা মেটেনি। এবার আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনে বামেদের হয়ে দেওয়াল লিখছেন আনিসের বৃদ্ধ বাবা সালেম খান।
গভীর রাতে আনিস খানের বাড়িতে হানা দেয় কয়েকজন পুলিশকর্মী। এরপরই বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে মৃত্যু হয় ছাত্রনেতার। পুলিশের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ আনে পরিবার। আনিসের রহস্যমৃত্যু নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছিল। আদালতের নির্দেশেই কবর থেকে তুলে দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্ত হয় তাঁর। এই ঘটনার পর একাধিক সিপিএম নেতৃত্বকে আনিসের বাড়িতে দেখা গিয়েছিল। মহম্মদ সেলিম সহ অনেকেই নিহত ছাত্রনেতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছিলেন।
আগামীকাল ইনসাফ সভার আগে আজ আমতার সারদা গ্রামে আনিসের বাড়ি থেকে মিছিলও বের করল বাম ছাত্র-যুব নেতৃত্ব। মিছিল থেকে সিবিআই তদন্তের দাবি জানালেন আনিসের বাবা সালেম খান। প্রয়োজনে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হবেন তিনি।
শুক্রবার রাতে হাওড়ার আমতায় ছাত্রনেতা আনিস খানের দাদা সলমন খানের ওপর হামলা। আশঙ্কাজনক অবস্থায় সলমনকে উলুবেড়িয়া হাসপাতালের সিসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে। সেই ঘটনায় এবার সুর চড়ালেন বাম নেত্রী মীনাক্ষী মুখ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, সরকার ও পুলিশ মিলিতভাবে দুষ্কৃতীদের আড়াল করছে।
রাজ্য সরকারের তরফে সিট গঠন করে তদন্ত শুরু করা হলেও সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছিল তাঁর পরিবার। সেই নিয়ে জট কাটতে না কাটতেই এবার আক্রান্ত আনিসের ভাই সলমন।