নজরবন্দি ব্যুরোঃ শুক্রবার রাতে হাওড়ার আমতায় ছাত্রনেতা আনিস খানের দাদা সলমন খানের ওপর হামলা। আশঙ্কাজনক অবস্থায় সলমনকে উলুবেড়িয়া হাসপাতালের সিসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে। সেই ঘটনায় এবার সুর চড়ালেন বাম নেত্রী মীনাক্ষী মুখ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, সরকার ও পুলিশ মিলিতভাবে দুষ্কৃতীদের আড়াল করছে।
আরও পড়ুনঃ ED: প্রায় ৭০ কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগ, মোবাইল অ্যাপ প্রতারণায় বিরাট অভিযানে ইডি
জলপাইগুড়িতে পা রেখে মীনাক্ষী বলেন, আনিসের পরিবারের উপর হামলা এই নতুন নয়। আগেও হয়েছে। আনিসের দাদা সলমন খানের উপর হামলা চালানো হয়েছে। আনিসের পুরো পরিবার বার বার আক্রমণের মুখে পড়ছে। পুলিশ কোন ব্যবস্থা নেয় নি। সরকার ও পুলিশ মিলিতভাবে দুষ্কৃতীদের আড়াল করছে। কেন সিট তদন্ত করবে। কেন সিবিআই তদন্ত করবে না। পুলিশের সামনে হামলা হচ্ছে।
একই অভিযোগ তুলেছেন সলমনের স্ত্রী। অভিযোগ, এর আগে দুই বার হামলা চালানো হয়েছে তাঁর স্বামীর ওপর। কিন্তু প্রতিবারে প্রাণে বেঁচে যান তিনি। গতকালের ঘটনার পর সলমনের স্ত্রী উপস্থিত হতেই অল্পের জন্য প্রাণরক্ষা হয়। জানাচ্ছেন আহত সলমন।

উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারি মাসে ছাত্রনেতা আনিস খানের মৃত্যুকে ঘিরে তোলপাড় হয় রাজ্য রাজনীতি। আমতার সারদা গ্রামের দক্ষিণ খাঁ পাড়ার বাসিন্দা আনিসের মৃত্যুর জন্য পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে তাঁর পরিবার৷ ঘটনায় একজন সিভিক ভলেন্টিয়ার ও একজন হোমগার্ডকে গ্রেফতার করা হয়৷ সেই ঘটনার রেশ ধরে লাগাতার আন্দোলনে সরব হয়েছে সমস্ত বিরোধী দলগুলি৷
শুক্রবার রাতে আনিসের খুড়তুতো ভাই সলমন খানকে আঘাত করা হয়। সলমনের পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, গতকাল রাত ১ টা ১৫ নাগাদ আচমকা সলমনের বাড়িতেই তাঁর ওপর হামলা চালায় অজ্ঞাত পরিচয়ের ব্যক্তি। বাথরুম থেকে বেরিয়ে দেখেন হামলার পর মাথায় গুরুতর আঘাত নিয়ে পড়ে থাকেন সলমন।
সলমনের স্ত্রীর চিতকারে এলাকাবাসী এসে রক্তাক্ত সলমনকে হাসপাতালে নিয়ে যান। ততক্ষণে ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয় হামলাকারী৷ গকতজন তার অবস্থা গুরুতর। জখম সলমন উলুবেড়িয়া মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।পরিবারের তরফে দাবি করা হয়েছে, গতকাল রাত ৩ টে নাগাদ আমতা থানার পুলিশ উপস্থিত হয়৷ সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করে নিয়ে যায়।
সরকার ও পুলিশ মিলিতভাবে দুষ্কৃতীদের আড়াল করছে, বিস্ফোরক মন্তব্য মীনাক্ষীর

অভিযোগ, আনিস খানের হত্যা মামলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে সলমনের। এমনকি আনিস খানের মৃতদেহ উদ্ধারের সময় উপস্থিত ছিল সে। আদালতে তাঁকেই মূল সাক্ষী হিসাবে ধরে নেওয়া হয়েছিল। বিরোধীদের অভিযোগ, একাধিকবার আনিসের পরিবারের তরফে নিরাপত্তার দাবি করা হয়েছিল। কিন্তু তা করা হয়নি।








