বন দফতরের এক মহিলা রেঞ্জার অফিসারকে অপমানের দায়ে কারামন্ত্রীর পদ থেকে অখিল গিরিকে সরিয়ে দেবার সিদ্ধান্ত নেয় তৃণমূল সরকার। ১৩ বছরের এই জোড়াফুল শাসনকালে এই প্রথম কোনও মন্ত্রীকে পদত্যাগের নির্দেশ দেয় দল।
বন দফতরের এক মহিলা রেঞ্জ অফিসারকে অপমান করার অপরাধে অখিল গিরিকে কারামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করল তৃণমূল। আর দলের নির্দেশ মতোই পদত্যাগ করলেন অখিল। ১৩ বছরের তৃণমূল শাসনকালে বেনজির সিদ্ধান্ত। প্রথমবারের জন্য মন্ত্রীসভা থেকে কোনও মন্ত্রীকে পদত্যাগের নির্দেশ দিল শাসক দল।
শনিবার দুপুর থেকে শিরোনামে অখিল গিরি! ২৪ ঘন্টার মধ্যে অ্যাকশন নিল তৃণমূল কংগ্রেস। ১৩ বছরের শাসনকালে প্রথমবারের জন্য কোনও মন্ত্রীকে পদত্যাগের নির্দেশ দিল শাসক দল। রবিবার অখিল গিরি জানিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি কারামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেবেন করবেন এবং ইতিমধ্যেই তিনি চিঠি পাঠিয়ে দিয়েছেন।
তৃণমূলের পক্ষ থেকে অখিলকে কড়া বার্তা দিয়ে বলা হয়েছে। গতকালের ওই ঘটনায় দলের তরফে স্পষ্ট বলা হয়েছে অবিলম্বে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে না হলে দল থেকে ইস্তফা দিতে হবে। কারামন্ত্রীকে নির্দেশ তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীর।
একদিকে যখন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, সবুজ সাথী, কন্যাশ্রী বা রূপশ্রীর মত প্রকল্প গড়ে নারী সুরক্ষা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন মমতা বন্দোপাধ্যায়। তখন তার মন্ত্রীসভারই একজন হুমকি দিচ্ছেন সরকারি মহিলা অফিসারকে। এটা মেনে নিতে পারছেন না কেউই।
অখিল নিজের বক্তব্যের সাফাই দিয়ে বলেছেন, "সমুদ্রে জলস্তর বেড়েছে। এটা পর্যটন এলাকা। আগে এখানের দোকানদারেরা আরও সামনে বালির ওপর ব্যবসা করত। এখন জল বাড়ায় কিছুটা পিছিয়ে এসেছে। কাল রাতে কাউকে না জানিয়ে বন দফতরের কয়েকজন এসে এই দোকানগুলো ভেঙে দিয়েছে। রুটি-রুজির জন্য এখানে ব্যবসা করেন তাঁরা। এভাবে না বিওলে তুলে দিলে কী করে হবে!"
রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর প্রসঙ্গে বিতর্কিত মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী অখিল গিরি। আর সেই মন্তব্যের রেশ কাটতে না কাটতেই ফের রাজ্যের কারামন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিতর্কিত মন্তব্যের অভিযোগ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর। শুরু তাই নয় অখিল গিরির বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ও করেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা।