মন্ত্রিত্ব ছাড়লেও ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নই নেই, পদত্যাগের পরেও নিজের অবস্থানে অনড় অখিল

২৪ ঘন্টার মধ্যে অ্যাকশন নিল তৃণমূল কংগ্রেস। ১৩ বছরের শাসনকালে প্রথমবারের জন্য কোনও মন্ত্রীকে পদত্যাগের নির্দেশ দিল শাসক দল।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

শনিবার দুপুর থেকে শিরোনামে অখিল গিরি! ২৪ ঘন্টার মধ্যে অ্যাকশন নিল তৃণমূল কংগ্রেস। ১৩ বছরের শাসনকালে প্রথমবারের জন্য কোনও মন্ত্রীকে পদত্যাগের নির্দেশ দিল শাসক দল। রবিবার অখিল গিরি জানিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি কারামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেবেন করবেন এবং ইতিমধ্যেই তিনি চিঠি পাঠিয়ে দিয়েছেন।

তাজপুরে উচ্ছেদ অভিযানে গিয়ে অখিল গিরির রোষের মুখে পড়েন বনদপ্তরের এক মহিলা রেঞ্জার মনীষা সাউ। তাঁকে অকথ্য ভাষায় হুঁশিয়ারি দেন রাজ্যের প্রাক্তন কারামন্ত্রী। এমনকি তাঁকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। একজন সরকারি আধিকারিকের সঙ্গে এই ধরনের অভব্য ব্যবহারের কড়া নিন্দা করে তৃণমূল। নিন্দার ঝড় ধেয়ে আসে বিরোধী শিবিরের পক্ষ থেকেও। অবশেষে ২৪ ঘন্টা কাটতে না কাটতেই বেনজির সিদ্ধান্ত নিল তৃণমূল। কারামন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল অখিল গিরিকে।

তবে পদত্যাগের পরেও নিজের অবস্থানে অনড় অখিল গিরি। রয়েছে সেই একই রকম দম্ভ এবং একই রকম আক্রমণাত্মক মনোভাব। তিনি সাফ জানালেন, “মন্ত্রীত্ব আমার কাছে কোনও বড় বিষয় নয়। আমি ২০১১ সাল থেকে বিধায়ক। সব নির্বাচনে জিতেছি। নিজের লড়াই নিজে লড়েছি। আমি দলের একজন অনুগত সৈনিক। আগামী দিনের দল যা সিদ্ধান্ত নেবে, আমি সেই অনুযায়ী কাজ করব।”

পদত্যাগেড় পাশাপাশি অখিল গিরিকে ওই মহিলা অফিসারের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ দেয় তৃণমূল। কিন্তু আজ অখিল নিজের চেনা ভঙ্গিতে বলেন, “ক্ষমা চাওয়ার কোনও প্রশ্নই নেই। আমি কোনো সরকারি আধিকারিকের কাছে ক্ষমা চাইনি।” ফলে পদত্যাগের পরেও তৃণমূল বিধায়কের আচরণে আবার নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হল রাজনৈতিক মহলে। অখিল গিরির পদত্যাগ প্রসঙ্গে তৃণমূল মুখপাত্র শান্তনু সেন বলেছেন, “এই রকম রাজধর্ম একমাত্র তৃণমূল কংগ্রেসই দেখাতে পারে।” পাল্টা বিজেপির তরফে বলা হয়েছে, ভয় পেয়ে দোষ ঢাকার জন্যই অখিল গিরিকে সরিয়ে দেওয়া হল।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত