ভরাডুবির মাঝেও অভিষেককে ‘স্ট্যান্ডিং ওভেশন’! কালীঘাট বৈঠকে বিধায়কদের বার্তা মমতার

কালীঘাট বৈঠকে দলের ভরাডুবির পরেও অভিষেকের ভূমিকার প্রশংসা মমতার। সমালোচনার মাঝেই ঐক্যের বার্তা দিতে উঠে দাঁড়িয়ে সম্মান জানানোর নির্দেশ দেন তিনি।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ভোটে বড় ধাক্কার পর দল যখন চাপে, ঠিক সেই সময়েই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কালীঘাটে জয়ী বিধায়কদের বৈঠকে তিনি স্পষ্ট বার্তা দিলেন—সমালোচনা থাকলেও অভিষেকের পরিশ্রম অস্বীকার করা যাবে না। এমনকি, তাঁর প্রতি সম্মান জানাতে সকলকে উঠে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেন তৃণমূল নেত্রী।

ভোটের ফল ঘোষণার পরপরই কালীঘাটে দলের জয়ী প্রার্থীদের নিয়ে বৈঠকে বসেন মমতা। ২৯৪ আসনের মধ্যে তৃণমূলের আসন সংখ্যা নেমে এসেছে ৮০-এ—এই ফল ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই চাপে শাসকদল। শপথগ্রহণের আগে এই বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছিল। তবে সূত্রের খবর, এদিন অন্তত ৯ জন জয়ী প্রার্থী অনুপস্থিত ছিলেন, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই দলের অন্দরে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

এই টানাপোড়েনের মাঝেই বৈঠকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে কথা বলেন মমতা। ভোটের আগে দলের সংগঠন শক্তিশালী করতে এবং প্রচারে তাঁর ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি। এরপরই উপস্থিত বিধায়কদের উদ্দেশে বলেন, অভিষেকের প্রতি সম্মান জানাতে সবাই যেন উঠে দাঁড়ান। নির্দেশ মেনে একে একে দাঁড়িয়ে পড়েন দলের বর্ষীয়ান নেতারাও।

উপস্থিতদের মধ্যে ছিলেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম এবং জাভেদ খানের মতো অভিজ্ঞ মুখ। রাজনৈতিকভাবে কঠিন সময়ে দলের দ্বিতীয় সারির নেতৃত্বকে সামনে আনার এই বার্তা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

দলের ভরাডুবির পর অভিষেকের ভূমিকা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠছিল, সেই প্রেক্ষিতে এই পদক্ষেপকে ‘সংহতির বার্তা’ হিসেবেই দেখছেন অনেকে। তৃণমূল নেতৃত্বের কাছে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ—সংগঠনকে পুনর্গঠন করে আগামী দিনের লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত করা।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত