ফের বিতর্কে রাজ্যের কারামন্ত্রী অখিল গিরি। তাজপুরে উচ্ছেদ অভিযানে মহিলা রেঞ্জ অফিসারকে শাসানি দিলেন তিনি। দিলেন প্রাণনাশের হুমকিও। ইতিমধ্যেই অখিল গিরিকে গ্রেফতারের দাবি সরব হয়েছে বিজেপি। আর এদিকে, অখিল মন্তব্যে ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামল তৃণমূল এবং রাজ্য সরকার। মন্ত্রীর এই মন্তব্য একেবারেই সমর্থনযোগ্য নয় বলে জানিয়েছেন তৃণমূলনেতা কুণাল ঘোষ।
তাজপুরে বন দফতরের জায়গায় চলছে ব্যবসা। সেই দোকানপাট তুলে দিতে গেলে রাজ্যের মন্ত্রীর রোষের মুখে পড়তে হল, মনীষা সাউ নামে এক মহিলা রেঞ্জ অফিসারকে। রীতিমতো হুমকি দিলেন অখিল গিরি। ওই মহিলা রেঞ্জ অফিসার স্পষ্ট বলেন, ‘আমি আবার কাজ করছি।’ তা সত্ত্বেও অখিল বলেন, “সরকারি কর্মচারি আপনি, মাথা নীচু করে থাকুন।’ বেয়াদপ, অসভ্য বলেও মনীষাকে আক্রমণ করেন অখিল। এমনকি প্রাণনাশের হুমকিও দিয়েছেন অখিল, এরকমই অভিযোগ।


এর আগেও একবার রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে নিয়ে কু-মন্তব্য করে বিতর্কে জড়ান অখিল। সেবার তিনি রাষ্ট্রপতির ‘রূপ’ নিয়ে বেফাঁস কথা বলেছিলেন। সেই কারণে ক্ষমা চেয়ে নেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি।। এই ঘটনায় যথেষ্ট শোরগোল সৃষ্টি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
তবে, তৃণমূলনেতা কুণাল ঘোষ স্পষ্ট জানিয়েছেন, অখিলের এই মন্তব্যকে সমর্থন করে না দল। তিনি দুঃখপ্রকাশ করে মনীষা সাউকে বলেছেন, ‘সসম্মানে কাজ করুন।’ অন্যদিকে, সিপিআইএম নেতা শতরূপ ঘোষ বলেছেন, তৃণমূল নেতারাই এখন সমাজবিরোধী। একই কথা বিজেপিরও। এদিকে, পরিস্থিতি সামলাতে নেমে পড়েছেন তৃণমূলের একাধিক নেতা। এখন, অখিলের বিরুদ্ধে শাসক দল ঠিক কী ব্যবস্থা নেয় তা অবশ্য সময় বলবে।
অখিল নিজের বক্তব্যের সাফাই দিয়ে বলেছেন, “সমুদ্রে জলস্তর বেড়েছে। এটা পর্যটন এলাকা। আগে এখানের দোকানদারেরা আরও সামনে বালির ওপর ব্যবসা করত। এখন জল বাড়ায় কিছুটা পিছিয়ে এসেছে। কাল রাতে কাউকে না জানিয়ে বন দফতরের কয়েকজন এসে এই দোকানগুলো ভেঙে দিয়েছে। রুটি-রুজির জন্য এখানে ব্যবসা করেন তাঁরা। এভাবে না বলে তুলে দিলে কী করে হবে!”









