বন দফতরের এক মহিলা রেঞ্জার অফিসারকে অপমানের দায়ে কারামন্ত্রীর পদ থেকে অখিল গিরিকে সরিয়ে দেবার সিদ্ধান্ত নেয় তৃণমূল সরকার। ১৩ বছরের এই জোড়াফুল শাসনকালে এই প্রথম কোনও মন্ত্রীকে পদত্যাগের নির্দেশ দেয় দল। আর দলের নির্দেশ মতোই পদত্যাগ করেন অখিল গিরি। আর এবার জানা গেল, কারা দফতরের দায়িত্ব নিজের হাতেই রাখলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শনিবার তাজপুরের সৈকতে সরকারি জমি জবর দখল উচ্ছেদে গিয়ে অখিল গিরির রোষের মুখে পড়তে হয় এক মহিলা রেঞ্জার মনীষা সাউকে। ওই মহিলা রেঞ্জারের উপর একেবারে চড়াও হন রাজ্যের প্রাক্তন কারামন্ত্রী। প্রাণনাশের হুমকি দেবার পাশাপাশি অকথ্য ভাষায় তিনি আক্রমণ করেন মনীষাকে। ‘বেয়াদপ’, ‘শয়তান’ ইত্যাদি শব্দ প্রয়োহ করেন তিনি। আর এই ঘটনার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয় সমালোচনার ঝড়।
মহিলা রেঞ্জারকে অপমানের ঘটনায় চুপ থাকেনি তৃণমূল সরকারও। সঙ্গে সঙ্গে অখিল গিরির বিরুদ্ধে অ্যাকশন শুরু করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের তরফে সুব্রত বক্সী অখিলকে ইস্তফা দেবার নির্দেশ দেন। না করলে সরিয়ে দেবার কথাও জানানো হয়। এরপরেই ইস্তফা দেন অখিল। সঙ্গে তাঁকে মহিলা রেঞ্জারকে ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশও আসে কিন্তু, তা একেবারেই করেননি অখিল। তবে, তাঁকে মন্ত্রীসভা থেকে সরিয়ে ‘বিরল’ সিদ্ধান্ত নেয় তৃণমূল।
বৃহস্পতিবার রাজ্য মন্ত্রিসভায় একাধিক রদবদল হল। দায়িত্ব বাড়ল চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, মানস ভুঁইঞা এবং বাবুল সুপ্রিয়র। দফতর বদল হল মহম্মদ গোলাম রব্বানির। চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে অর্থ দফতর, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ, ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দফতরের পাশাপাশি দেওয়া হল পরিবেশ দফতরের দায়িত্বও। এতদিন এই দফতরের দায়িত্বে ছিলেন মহম্মদ গোলাম রব্বানি। তাঁল্কে সরিয়ে নিয়ে আসা হল অচিরাচরিত শক্তির দফতরে।
অন্যদিকে, এতদিন পার্থ ভৌমিক ছিলেন রাজ্যের সেচ ও জলপথ পরিবহণের মন্ত্রী। লোকসভা ভোটে জিতে তিনি ব্যারাকপুরের সাংসদ হয়েছেন। ফলে মন্ত্রিত্ব ছাড়তে হয় তাঁকে। সেচ দফতরের দায়িত্বে এলেন মানস ভুঁইঞা। পাশাপাশি আগের মতোই জলসম্পদ উন্নয়ন দপ্তরের দায়িত্বও সামলাবেন তিনি। বাবুল সুপ্রিয় এতদিন ছিলেন তথ্যপ্রযুক্তি দপ্তরের মন্ত্রী। এবার শিল্প পুনর্গঠন দফতরের দায়িত্বও পেলেন গায়ক।



