১৩ বছরের তৃণমূল শাসনকালে বেনজির সিদ্ধান্ত। প্রথমবারের জন্য মন্ত্রীসভা থেকে কোনও মন্ত্রীকে পদত্যাগের নির্দেশ দিল শাসক দল। বন দফতরের এক মহিলা রেঞ্জ অফিসারকে অপমান করার অপরাধে অখিল গিরিকে কারামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করল তৃণমূল। আর দলের নির্দেশ মতোই পদত্যাগ করলেন অখিল। তবে, এই ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক মহলের উত্তাপ যেন কমছেই না।
শনিবার তাজপুরে উচ্ছেদ অভিযানে গিয়ে অখিল গিরির রোষের মুখে পড়েন বনদফতরের এক মহিলা রেঞ্জার মনীষা সাউ। তাঁকে অকথ্য ভাষায় হুঁশিয়ারি দেন রাজ্যের প্রাক্তন কারামন্ত্রী। এমনকি তাঁকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। কারামন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনার আয়ু মাত্র ৭-৮ দিন, ১০ দিন’। সংশ্লিষ্ট মহিলা পদাধিকারীকে বেয়াদব, জানোয়ার বলে আক্রমণ শানান তিনি। একজন সরকারি আধিকারিকের সঙ্গে এই ধরনের অভব্য ব্যবহারের কড়া নিন্দা করে তৃণমূল। নিন্দার ঝড় ধেয়ে আসে বিরোধী শিবিরের পক্ষ থেকেও। অবশেষে ২৪ ঘন্টা কাটতে না কাটতেই বেনজির সিদ্ধান্ত নিল তৃণমূল। কারামন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল অখিল গিরিকে।


তবে, অখিল গিরির পদত্যাগে খুশি নয় বিরোধী শিবির। শনিবারই সামাজিম মাধ্যমে একটি পোস্ট করে অখিলের গ্রেফতারির দাবি তোলে বিজেপি। এখনও পর্যন্ত সেই অবস্থানেই অনড় রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল। বিজেপির মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য সাফ বলেছেন, “এটা ভয় পেয়ে তৃণমূলের মুখ বাঁচানোর চেষ্টা। রাজ্যের সর্বত্র শাসক দলের নেতানেত্রীদের শরীরী ভাষা এই অখিল গিরির মতোই। অখিল গিরিকে গ্রেফতার করা উচিৎ।” অখিলকে গ্রেফতারির দাবি জানিয়েছেন কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরীও।
তবে পদত্যাগের পরেও নিজের অবস্থানে অনড় অখিল গিরি। রয়েছে সেই একই রকম দম্ভ এবং একই রকম আক্রমণাত্মক মনোভাব। তিনি সাফ জানালেন, “মন্ত্রীত্ব আমার কাছে কোনও বড় বিষয় নয়। আমি ২০১১ সাল থেকে বিধায়ক। সব নির্বাচনে জিতেছি। নিজের লড়াই নিজে লড়েছি। আমি দলের একজন অনুগত সৈনিক। আগামী দিনের দল যা সিদ্ধান্ত নেবে, আমি সেই অনুযায়ী কাজ করব।” পদত্যাগের পাশাপাশি অখিল গিরিকে ওই মহিলা অফিসারের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ দেয় তৃণমূল। কিন্তু আজ অখিল নিজের চেনা ভঙ্গিতে বলেন, “ক্ষমা চাওয়ার কোনও প্রশ্নই নেই। আমি কোনো সরকারি আধিকারিকের কাছে ক্ষমা চাইনি।”







