নজরবন্দি ব্যুরো: নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তৎপর হয়ে উঠেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। বৃহস্পতিবার রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অভিযান চালায় তদন্তকারীদের দল। মুর্শিদাবাদের ডোমকলের তৃণমূল বিধায়কের বাড়িতে হানা দেয় তারা। দীর্ঘক্ষণ তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হয় লক্ষ লক্ষ নগদ টাকা। সেইসময়ে বাড়িতে ছিলেন না বিধায়ক জাফিকুল ইসলাম। এত টাকার উৎস কী? তার উত্তর জানতে এবার তাঁকে তলব করতে পারে সিবিআই।
আরও পড়ুন: উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে কড়া অবস্থান সুপ্রিম কোর্টের, খসড়া নামের জন্য ১ সপ্তাহের ডেডলাইন


সূত্রে খবর, নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে গতকাল ডোমকলের তৃণমূল বিধায়ক জাফিকুল ইসলামের বাড়িতে হানা দেয় সিবিআই আধিকারিকরা। তল্লাশি চালিয়ে ৩৫ লক্ষ টাকা সিবিআই উদ্ধার হয়। যার মধ্যে ১০ লক্ষ টাকা পাওয়া যায় বিধায়কের খাটের তলা থেকে। তদন্তকারীরা একাধিক প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এরপরই তাঁকে তলবের প্রস্তুতি শুরু করেছে বলে খবর। তবে কেবল নগদ টাকা নয়, জাফিকুলের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে এক কেজি সোনা। পাওয়া গিয়েছে বিভিন্ন রকম সোনার গয়না। ওই সোনার বাজারমূল্য খতিয়ে দেখতে কলকাতায় নিয়ে এসেছেন তদন্তকারীরা। এত পরিমাণ সোনার গয়নার কোনও নথি দেখাতে পারেনি বিধায়ক কিংবা তাঁর পরিবার।

গতকাল সিবিআই তল্লাশির সময় বাড়িতে ছিলেন না ডোমকলের বিধায়ক জাফিকুল ইসলাম। জানা যায়, তিনি বিধানসভার শীতকালীন অধিবেশনে যোগ দিতে কলকাতায় গিয়েছিলেন। তৃণমূলের বিক্ষোভে কালো পোশাক পরে যোগও দিয়েছিলেন তিনি। তৃণমূল সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই কিড স্ট্রিটের এমএলএ হোস্টেলে ছিলেন তিনি। দুপুরে সেখানে খাওয়া দাওয়া করেন তিনি। এরপর গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়েন। যদিও সন্ধ্যে পর্যন্ত ডোমকলের বাড়িতে যাননি বলেই খবর।



নগদ টাকা উদ্ধার নিয়ে এখনও জাফিকুলের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে তৃণমূলের অভিযোগ, পুরোটাই বিজেপির চক্রান্ত। দলীয় মুখপাত্র কুণাল ঘোষ ‘‘কোনও কোনও সূত্রে বলা হচ্ছে, জাফিকুলের বাড়ি থেকে টাকা পাওয়া গিয়েছে। সেই টাকা বৈধ না অবৈধ, সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এখনও আসেনি।”
নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে আরও ১ তৃণমূল বিধায়ককে তলব করবে CBI!, তাঁর বাড়ি থেকেই উদ্ধার হয় লক্ষাধিক নগদ

উল্লেখ্য, তৃণমূল বিধায়ক জাফিকুল ইসলামের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। ১৩ বিএড কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মালিক তিনি। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের দাবি, বিধায়কের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বেআইনি নিয়োগের জন্য সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।







