আসল তৃণমূল কারা? বাদল অধিবেশনের আগেই সিদ্ধান্ত, ডেডলাইন চূড়ান্ত স্পিকার ওম বিড়লার

লোকসভায় (Lok Sabha) তৃণমূল কংগ্রেসের (Trinamool Congress) প্রকৃত সংসদীয় দল কারা, তা নিয়ে জল্পনার মাঝেই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। বাদল অধিবেশনের আগে দুই পক্ষের দাবি খতিয়ে দেখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে পারেন স্পিকার ওম বিড়লা (Om Birla)।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

আসল তৃণমূল কারা—এই প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই। তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় দলে ভাঙনের পর লোকসভায় কোন শিবিরকে বৈধ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে, তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের প্রস্তুতি শুরু করেছে স্পিকারের দফতর। সূত্রের খবর, ২০ জুলাই শুরু হতে চলা বাদল অধিবেশনের আগেই স্পিকার ওম বিড়লা (Om Birla) এই বিষয়ে চূড়ান্ত অবস্থান জানাতে পারেন।

স্পিকারের সচিবালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তৃণমূলের দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের বক্তব্য ইতিমধ্যেই শোনা হয়েছে। একদিকে কাকলি ঘোষ দস্তিদারদের নেতৃত্বাধীন শিবির এবং অন্যদিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) নেতৃত্বাধীন পক্ষ—দু’পক্ষই নিজেদের দাবি ও নথি স্পিকারের সামনে পেশ করেছে।

শুধু তৃণমূল নয়, শিবসেনার (Shiv Sena) সাংসদদের দলীয় অবস্থান নিয়েও শুনানি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। উদ্ধব ঠাকরের (Uddhav Thackeray) শিবির এবং বিদ্রোহী সাংসদদের বক্তব্যও স্পিকার শুনেছেন। ফলে দুটি রাজনৈতিক বিতর্কেরই নিষ্পত্তি বাদল অধিবেশনের আগেই হতে পারে বলে সূত্রের দাবি।

লোকসভার বাদল অধিবেশন শুরু হবে ২০ জুলাই। সেই অধিবেশনের প্রথম দিন থেকেই নতুন আসন বিন্যাস কার্যকর হতে পারে। স্পিকারের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই সংসদে কোন সাংসদ কোন দলের আসনে বসবেন, তা নির্ধারিত হবে।

এদিকে তৃণমূলের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক জল্পনা তীব্র হয়েছে। দলের প্রতীক, সংসদীয় স্বীকৃতি এবং সম্পত্তির অধিকার নিয়ে ভবিষ্যতে আইনি লড়াইয়ের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।

বিদ্রোহী শিবিরের অন্যতম মুখ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ইঙ্গিত দিয়েছেন, দলীয় প্রতীক, সম্পত্তি ও সাংগঠনিক অধিকার সংক্রান্ত বিষয় শেষ পর্যন্ত আদালতেই নিষ্পত্তি হতে পারে। অন্যদিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের দাবি, নতুন দলে যোগ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ওই সাংসদরা তৃণমূলের সাংসদ হিসেবে তাঁদের অধিকার হারিয়েছেন।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, স্পিকারের সিদ্ধান্ত শুধু সংসদীয় স্বীকৃতির প্রশ্নেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, তার প্রভাব পড়তে পারে দলের ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক অবস্থানেও। বিশেষ করে ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচির আগে এই সিদ্ধান্তের দিকে নজর রয়েছে রাজ্য রাজনীতির বিভিন্ন মহলের।

তৃণমূল কংগ্রেসের ইতিহাসে ২১ জুলাই বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে বিবেচিত হয়ে এসেছে। এবার সেই কর্মসূচির আগে লোকসভায় কোন পক্ষকে তৃণমূল হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়, তার উপর আগামী দিনের রাজনৈতিক সমীকরণ অনেকটাই নির্ভর করতে পারে। তবে স্পিকারের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত কোনও অবস্থান স্পষ্ট নয়।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন