Home Blog Page 1443

মেষ রাশির আজকের রাশিফল – ৭ ডিসেম্বর ২০২৫, রবিবার

মেষ রাশির আজকের রাশিফল

মেষ রাশি, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫—আজকের দিনটি আপনার জন্য এক বিশেষ পরীক্ষার পাশাপাশি সুযোগেরও। দিনের শুরু থেকেই চাপ বাড়তে পারে ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে। বিশেষ করে সততা বজায় রাখা নিয়ে আপনাকে কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হতে পারে। তবুও তার মধ্যেই রয়েছে আপনার জয়ের চাবিকাঠি। মেষ রাশির জাতক হিসেবে আপনি যে নীতিতে অটল, সেটাই আজ আপনাকে সবার থেকে আলাদা করে তুলবে। পেশাগত ক্ষেত্রে এই দৃঢ়তা আপনার অবস্থানকে আরও শক্ত করবে।

আজকের মেষ রাশি রাশিফল বলছে, দিনের প্রথমভাগে কিছু মানসিক উদ্বেগ থাকলেও দুপুরের পর থেকে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হবে। পরিবারে শান্তি বজায় থাকবে এবং কাছের মানুষের সঙ্গে কাটবে সুন্দর সময়। কাজের জায়গায় আপনার কর্মদক্ষতা নজর কাড়বে সহকর্মী ও ঊর্ধ্বতনদের। যে কোনও দায়িত্ব আজ দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করতে পারবেন।

মেষ রাশির আজকের রাশিফল – ৭ ডিসেম্বর ২০২৫, রবিবার

সম্পর্কের ক্ষেত্রে কিছুটা ওঠাপড়া থাকবে। সকালে কিছু ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হলেও দিনের মাঝামাঝি সময়েই সব স্বাভাবিক হয়ে যাবে। প্রেমের ক্ষেত্রে আজকের Aries horoscope ইঙ্গিত দিচ্ছে, আপনার পছন্দের কেউ প্রেম নিবেদন করতে পারেন। নতুন সম্পর্ক শুরু হওয়ার সম্ভাবনাও প্রবল।

অর্থভাগ্য আজ অত্যন্ত অনুকূল। আর্থিক বিষয়ে আজকের মেষ রাশি দিনটি বিশেষ শুভ। অপ্রত্যাশিত কোনো উপার্জন বা আর্থিক লাভের সম্ভাবনা প্রবল। দীর্ঘদিনের কোনও আর্থিক সমস্যা থাকলে তার সমাধানও মিলতে পারে। ফলে মন থাকবে আনন্দে পূর্ণ।

পেশার ক্ষেত্রে আজ কিছু দূরের কাজে যেতে হতে পারে। এতে কিছুটা ক্লান্তি আসলেও কর্মজীবনে উন্নতির ইঙ্গিত স্পষ্ট। যারা নতুন চাকরির সন্ধানে রয়েছেন, তাদের জন্য আজকের দিন মন্দ নয়। সাক্ষাৎকার বা গুরুত্বপূর্ণ আলাপচারিতায় আপনার যুক্তি ও আত্মবিশ্বাস প্রভাব ফেলবে।

আজকের মেষ রাশির রাশিফল বলছে, পড়াশোনার দিকে মনোযোগ বাড়বে। শিক্ষার্থীরা নিজেদের লক্ষ্যপূরণের দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে যেতে পারবেন। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি আজ বিশেষভাবে ফলপ্রসূ হবে।

দিনের শুভ সংখ্যা ২৮, শুভ দিক পূর্ব, আর শুভ রং লাল। লাল প্রবাল আপনার আজকের শুভ রত্ন, যা সৌভাগ্য বৃদ্ধি করবে। সৌভাগ্যের এই সমাবেশ আজকের দিনকে করে তুলবে আরও অর্থবহ।

সব মিলিয়ে, মেষ রাশি ৭ ডিসেম্বর ২০২৫—দিনটি আপনার ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও কর্মজীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। নিজেকে স্থির রাখুন, সততা বজায় রাখুন, আর সুযোগ আসলে তা গ্রহণ করুন। দিনের শেষে দেখবেন, পরিশ্রম ও মানসিক শক্তির ফল আপনাকেই দেবে সেরা পুরস্কার।

ভারত বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা, রো-কো যুগলবন্দিতে ঐতিহাসিক জয়, যশস্বীর শতকে সিরিজে দাপট

ভারত বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা, রো-কো যুগলবন্দিতে ঐতিহাসিক জয়, যশস্বীর শতকে সিরিজে দাপট

সাদা বলের ক্রিকেটে ফিরতেই আবার ছন্দে ভারত। ভারত বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে বিশাখাপত্তনমে দাপট দেখাল রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি ও যশস্বী জয়সওয়াল। লাল বলের হতাশা ভুলিয়ে ভারত এই ম্যাচে ৯ উইকেটে জিতে সিরিজ নিজেদের নামে করল। দিন—রাতের কন্ডিশনে পরে বল করা কতটা কঠিন, তা এই ম্যাচ আবারও প্রমাণ করে দিল।

টস জেতেন লোকেশ রাহুল। সিদ্ধান্ত ছিল স্পষ্ট—প্রথমে বল করবে ভারত। টস জেতার মুহূর্তেই যেন অর্ধেক ম্যাচ পকেটে ঢুকে যায়। কারণ সন্ধ্যার পর শিশিরে বোলিং আগের দুই ম্যাচের মতোই চ্যালেঞ্জিং হবে—এটা জানত দুই দলই। কিন্তু এই ম্যাচে সেই চ্যালেঞ্জ ধরল দক্ষিণ আফ্রিকার গায়ে।

ভারত বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা, রো-কো যুগলবন্দিতে ঐতিহাসিক জয়, যশস্বীর শতকে সিরিজে দাপট

দক্ষিণ আফ্রিকার শুরুতেই বিপর্যয়

ম্যাচের প্রথম ওভারেই অর্শদীপ সিংহ তুলে নেন রায়ান রিকেলটনের উইকেট। তবে তার পরে ডি’কক ও বাভুমা জুটি কিছুটা স্থিরতা ফেরান। ভারতের বিরুদ্ধে সব সময়ই বিপজ্জনক ডি’কক এ বারও ছন্দে ফেরেন। তিনি ও বাভুমা মিলে ১১৩ রানের পার্টনারশিপ গড়েন।

কিন্তু জাডেজার এক নিখুঁত ডেলিভারিতে বাভুমা ফিরতেই ম্যাচের রসদ বদলাতে শুরু করে।

প্রসিদ্ধ–কুলদীপের স্পেলে ভেঙে পড়ে প্রোটিয়া ব্যাটিং

সিরিজে তাৎপর্যপূর্ণ কিছু করতে পারেননি প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ। কিন্তু এ দিন দ্বিতীয় স্পেলে এসে তিনি যেন সম্পূর্ণ বদলে গেলেন। একই ওভারে প্রথমে ব্রিৎজ় এবং পরে আগের ম্যাচের শতরানকারী মার্করামকে ফেরান তিনি।

অন্য প্রান্তে ডি’কক শতরান পূর্ণ করেন হর্ষিত রানার বলে। ভারতের মাটিতে এটি তাঁর সপ্তম শতরান। কিন্তু শতকের পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। প্রসিদ্ধের বলে ১০৬ রানে আউট হন তিনি।

ডেওয়াল্ড ব্রেভিস, মার্কো জানসেন কেউই কুলদীপ যাদবের ঘূর্ণিতে বেরোবার পথ খুঁজে পাননি। কুলদীপ ও প্রসিদ্ধ নেন ৪টি করে উইকেট। ফলে পুরো ৫০ ওভার খেলতে পারল না দক্ষিণ আফ্রিকা। ৪৭.৫ ওভারে অলআউট মাত্র ২৭০-তে।

ভারত বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা, রো-কো যুগলবন্দিতে ঐতিহাসিক জয়, যশস্বীর শতকে সিরিজে দাপট

২৭১ রানের চেজে রোহিত-যশস্বীর আধিপত্য

দিন—রাতের ম্যাচে ২৭০–২৮০ রানের টার্গেট আজকাল আর বড় কিছু নয়। ভারতীয় ওপেনাররা জানতেন, ধৈর্য ধরে খেললেই ব্যাট করা সহজ হবে। তাই শুরুতে ঝুঁকি না নিয়ে জুটি গড়ায় মন দিলেন রোহিত শর্মা ও যশস্বী জয়সওয়াল।

প্রথমে সংযম, পরে আগ্রাসন—এই ছন্দে খেলেই তাঁরা ১৫৫ রানের বিরাট ওপেনিং পার্টনারশিপ গড়েন। রোহিত ৭৫ রানে আউট হয়ে গেলেও তাঁর ইনিংস ভারতকে নিশ্চিত পথে এগিয়ে দেয়।

অন্য লেভেলে যশস্বী—কেরিয়ারের প্রথম শতরান

এ দিন সম্পূর্ণ অন্যরকম দেখা গেল যশস্বীকে। প্রথমে সময় নিলেন, পরে শট খেললেন আত্মবিশ্বাসে। এক দিনের ক্রিকেটে এখনও পর্যন্ত কখনোই অর্ধশতরানের বেশি করতে পারেননি। কিন্তু এই ম্যাচে সকল চাপ সরে গিয়ে উঠে এল তাঁর প্রথম আন্তর্জাতিক এক দিনের শতরান।

ফ্রন্ট ফুট ড্রাইভ, হুক, পুল—সব শটেই ছিল সাবলীলতা। তাঁর শতরানের পরই খেলার গতিপথ পুরোপুরি ভারতের দিকে ঝুঁকে পড়ল।

কোহলির ধীরস্থির ইনিংস ম্যাচ শেষ করে দেয়

যশস্বীর সঙ্গে জুটি বাঁধেন বিরাট কোহলি। শতরানের সুযোগ ছিল না, কিন্তু স্ট্রাইক রোটেশন আর টাইমিং দিয়ে তিনি নিশ্চিত করে দেন ম্যাচ দ্রুত শেষ হবে। শেষ পর্যন্ত কোহলি অপরাজিত ৬৫ ও যশস্বী অপরাজিত ১১৬ রানে ম্যাচ শেষ করেন।

৬১ বল বাকি থাকতে এই জয় ভারতীয় দলের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়ে দিল। কোচ গৌতম গম্ভীর টেস্ট সিরিজের হতাশা পেছনে ফেলে সাদা বলে দাপট দেখালেন তাঁর দল নিয়ে।

বুধের গোচরেই ডিসেম্বরের ‘জ্যাকপট’, এই ৩ রাশির টাকার ফোঁয়ারা

বুধের গোচরেই ডিসেম্বরের ‘জ্যাকপট’, এই ৩ রাশির টাকার ফোঁয়ারা

ডিসেম্বর শুরু হতেই জ্যোতিষমহলে নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু বুধের গোচর। বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্রের মতে, গ্রহদের রাশি পরিবর্তন বা নক্ষত্র পরিবর্তনে মানুষের জীবনে স্পষ্ট প্রভাব পড়ে। সেই কারণেই ডিসেম্বর মাসে বুধের গতিবিধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, গ্রহরাজ বুধ চলতি মাসেই শনির অনুরাধা নক্ষত্রে প্রবেশ করতে চলেছে, যা সরাসরি প্রভাব ফেলবে ১২টি রাশির উপর।

এই বুধের গোচর বিশেষত তিনটি রাশির ভাগ্যে বড় ধরণের পরিবর্তন আনবে। শুধু কর্মজীবন নয়, অর্থ, সম্পত্তি, স্বাস্থ্য ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক—সবক্ষেত্রেই মিলবে ইতিবাচক ফল।

বুধের গোচরেই ডিসেম্বরের ‘জ্যাকপট’, এই ৩ রাশির টাকার ফোঁয়ারা

১০ ডিসেম্বর মধ্যরাতে শুরু হচ্ছে বড় পরিবর্তন

বর্তমানে বুধ রয়েছে বিশাখা নক্ষত্রমণ্ডলে। তবে হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫, রাত ২:৩৯ মিনিটে বুধ প্রবেশ করবে শনির অধীনে থাকা অনুরাধা নক্ষত্রমণ্ডলে। এই পরিবর্তন চলবে ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

জ্যোতিষ মতে, শনির নক্ষত্রে বুধের অবস্থান মানেই গভীরতা, চ্যালেঞ্জ জয়ের শক্তি, স্থায়ী সম্পদ লাভ এবং কাজের প্রতি মনোযোগ বৃদ্ধি। ফলে এই সময়কাল বিশেষভাবে শুভ হতে চলেছে তিনটি রাশি—বৃশ্চিক, মকর ও কুম্ভের জন্য।

বৃশ্চিক: সম্পত্তি, অর্থ এবং সাফল্যের সোনালি সময়

বুধের গোচর বৃশ্চিক রাশির জন্য নিয়ে আসছে বিশেষ আশীর্বাদ। গ্রহের অবস্থান অনুযায়ী এই সময় আপনি প্রতিটি কাজে সাফল্য পাবেন।
সম্পত্তি কেনা বা জমিজমার লাভজনক সিদ্ধান্তও সফল হতে পারে। আর্থিক স্থিতি দৃঢ় হবে এবং পারিবারিক জীবনে বাড়বে সুখ ও শান্তি।

এছাড়া যারা কর্মজীবনে কঠোর পরিশ্রম করে আসছেন, তাঁদের জন্য এটি পুরস্কারের সময়। দক্ষতা স্বীকৃতি পাবে, উচ্চপদস্থদের প্রশংসা জুটবে।

মকর: হঠাৎ টাকা লাভ ও আটকে থাকা কাজের মসৃণ গতি

মকর রাশির জাতকদের জন্য বুধের গোচর যেন ডিসেম্বর মাসের প্রকৃত ‘জ্যাকপট’। হঠাৎ আর্থিক লাভ, পুরনো ঋণ পরিশোধ এবং জমে থাকা প্রকল্প দ্রুত এগোবে।
ব্যাঙ্কিং, রাইটিং, মার্কেটিং বা মিডিয়া পেশার সঙ্গে যুক্তদের জন্য এটা বিশেষ শুভ সময়। সাফল্যের দরজা খুলে যাবে, নতুন সুযোগ আসবে।

বছরের পর বছর আটকে থাকা কাজও অদ্ভুত গতিতে সম্পন্ন হবে, যা মকর রাশির জাতকদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়াবে।

কুম্ভ: কর্মজীবনে উত্থান, পদোন্নতির সম্ভাবনা

কুম্ভ রাশির জন্য বুধের গোচর অভাবনীয় ইতিবাচক ফল আনবে। নতুন কাজ, নতুন সুযোগ ও নতুন দায়িত্ব আসবে। এই দায়িত্ব ভবিষ্যতে আপনাকে উচ্চপদ বা পদোন্নতি এনে দিতে পারে।
কর্মস্থলে সম্মান বৃদ্ধি পাবে, আপনার কাজের প্রশংসা করবেন সবাই।

তবে এই সময় কিছুটা স্বাস্থ্যসাবধানতা জরুরি। ছোটখাটো শারীরিক সমস্যার দিকে নজর রাখলেই পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে থাকবে। পারিবারিক ও বিবাহিত জীবন হবে মধুর।

বুধের গোচর কেন এত গুরুত্বপূর্ণ

বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্রে বুধকে বুদ্ধি, বাণিজ্য, যোগাযোগ, ব্যবসা, যুক্তিবাদ, সম্পর্ক এবং আর্থিক স্থিতির গ্রহ হিসেবে ধরা হয়।
শনির নক্ষত্রে বুধের অবস্থান মানে দায়িত্ববোধ, কঠোর পরিশ্রমের সুফল, স্থায়ী সম্পদ এবং বাস্তবমুখী সিদ্ধান্ত গ্রহণের শক্তি বৃদ্ধি।
এই কারণেই বুধের গোচর ডিসেম্বর মাসের শক্তিশালী জ্যোতিষ ঘটনা। অনেকের জীবনে খুলে দেবে সাফল্যের দরজা, কারও কাছে আনবে নতুন আশা।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২০ হাজার রানের ক্লাবে রোহিত শর্মা, নতুন ইতিহাস হিটম্যানের

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২০ হাজার রানের ক্লাবে রোহিত শর্মা, নতুন ইতিহাস হিটম্যানের

ভারতীয় ক্রিকেটে আবারও নতুন ইতিহাস লিখলেন রোহিত শর্মা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২০ হাজার রান স্পর্শ করে তিনি প্রমাণ করলেন, সমালোচনা ও অনিশ্চয়তার মধ্যেও তাঁর ব্যাট এখনও আগের মতোই ধারালো। এই অর্জনের ফলে চতুর্থ ভারতীয় ব্যাটার হিসাবে তিনি ২০,000 International Runs–এর অভিজাত ক্লাবে জায়গা করে নিলেন।

সার্বিকভাবে রোহিত হলেন বিশ্বের ১৪তম ব্যাটার, যিনি এই মাইলফলক ছুঁলেন। তাঁর আগে এই কৃতিত্ব অর্জন করেছেন শচীন তেণ্ডুলকর, বিরাট কোহলি এবং রাহুল দ্রাবিড়। ফলে একসঙ্গে ভারতীয় ব্যাটিং ইতিহাসের সবচেয়ে উজ্জ্বল তিন অধ্যায়ের পাশে এখন দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে রইল রোহিতের নামও।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২০ হাজার রানের ক্লাবে রোহিত শর্মা, নতুন ইতিহাস হিটম্যানের

চাপ, সমালোচনা, অনিশ্চয়তা—তার মধ্যেও রোহিতের জবাব ব্যাট হাতে

গত কয়েক মাস ধরেই রোহিত শর্মার ভবিষ্যৎ নিয়ে জোর জল্পনা চলছিল ভারতীয় ক্রিকেটে। বয়স, ফর্ম, ফিটনেস—সবকিছু নিয়েই প্রশ্ন উঠছিল বারবার। প্রতিটি ম্যাচই যেন তাঁর কাছে নতুন অগ্নিপরীক্ষা।

কিন্তু রোহিত আবারও দেখালেন, বড় মঞ্চে নিজেকে নতুনভাবে প্রমাণ করাই তাঁর স্বভাব। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মাত্র ৫৩৮ ইনিংসে ৪২-এর বেশি গড় এবং দুর্দান্ত স্ট্রাইক রেট বজায় রেখে ২০ হাজারে পৌঁছে যাওয়া তাঁর মহানতারই প্রমাণ।

আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—২০,০০০ রানের ক্লাবে থাকা কারও স্ট্রাইক রেট রোহিতের কাছাকাছি নয়। বিশেষ করে সাদা বলের ক্রিকেটে তিনি এক অনন্য ব্যাটিং দর্শনের নির্মাতা, যেখানে পাওয়ার হিটিং, টাইমিং ও টেম্পারামেন্ট—তিনটিই একই সঙ্গে উপস্থিত।

মাইলফলকে পৌঁছাতে দরকার ছিল মাত্র ৩৩ রান

এই ম্যাচে রোহিতের প্রয়োজন ছিল মাত্র ৩৩ রান। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর ব্যাটিং স্টাইলে যেভাবে ঝাঁঝ বাড়ছে, তাতে সেই রান তুলতে তাঁর বেশি সময় লাগেনি। তিন ফরম্যাট মিলিয়ে ইতিমধ্যে তিনি করেছেন ৫০টি আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি, যা ভারতীয় ক্রিকেটে তাঁকে আরও উঁচু জায়গায় নিয়ে যায়।

শুধু তাই নয়, সাদা বলের ক্রিকেটে তিনি বহু দুর্লভ রেকর্ডের মালিক—তিনটি ডাবল সেঞ্চুরি, একাধিক ICC ইভেন্টে সেরা পারফরম্যান্স, আইপিএলের ইতিহাসে স্মরণীয় সব ইনিংস।

ভারতের সর্বকালের সেরা ব্যাটারদের তালিকায় রোহিত এখন স্থায়ী

ভারতের সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক তালিকায় শীর্ষে আছেন শচীন তেণ্ডুলকর—৩৪,৩৫৭ রান। তাঁর পরে বিরাট কোহলি এবং রাহুল দ্রাবিড়। এখন তাঁদের ঠিক নিচেই জায়গা করে নিল রোহিত শর্মার নাম।

সংশয় নেই, ২০,০০০ International Runs অর্জন করে রোহিত নিজেকে ভারতের সর্বকালের সেরা ব্যাটারদের তালিকায় স্থায়ী আসন পেয়ে গেলেন।

rr

কেরিয়ারের শেষ অধ্যায়ে, সামনে সবচেয়ে বড় স্বপ্ন

রোহিত শর্মার ক্রিকেট জীবন এখন সায়াহ্নে দাঁড়িয়ে। প্রায় সব অর্জনই তাঁর ঝুলিতে। বাকি শুধু একটাই—৫০ ওভারের বিশ্বকাপ জয়। ২০২৭ সালে সেই স্বপ্ন পূরণের সুযোগ আছে তাঁর সামনে। কিন্তু তাঁকে দলে রাখা হবে কিনা—এটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

তবে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স, ব্যাটিং ফর্ম এবং নেতৃত্বের দক্ষতা—সব মিলিয়ে বলা যায়, রোহিতকে এই মুহূর্তে বাদ দেওয়ার প্রসঙ্গ উঠতেই পারে না।

রোহিত শর্মার ২০,০০০ রানের যাত্রা শুধু পরিসংখ্যান নয়

রোহিত শর্মার এই মাইলফলক শুধু সংখ্যার খেলা নয়। এটি একজন ক্রিকেটারের আত্মবিশ্বাস, অধ্যবসায়, চাপজয়ী মানসিকতা এবং কিংবদন্তিত্বের প্রতীক।

তিনি আবারও প্রমাণ করলেন—বড় খেলোয়াড় শুধু রান দিয়ে নয়, মুহূর্ত দিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেন। আর সেই মুহূর্তই রোহিত শর্মাকে ভারতীয় ক্রিকেট ইতিহাসের বিশেষ আসনে বসিয়েছে।

৫০০ কিমি ভ্রমণে সর্বোচ্চ বিমান ভাড়া ৭৫০০ টাকা, ইন্ডিগো কাণ্ডের পর কঠোর সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের

৫০০ কিমি ভ্রমণে সর্বোচ্চ বিমান ভাড়া ৭৫০০ টাকা, ইন্ডিগো কাণ্ডের পর কঠোর সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের

ইন্ডিগো যাত্রী বিভ্রাট নিয়ে দেশজুড়ে যখন আলোড়ন চলছে, ঠিক তখনই কেন্দ্র বড় পদক্ষেপ নিল। দেশে বিমান ভাড়া নিয়ন্ত্রণ করতে অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক আনল নতুন দূরত্বভিত্তিক ভাড়ার সর্বোচ্চ সীমা। বহুদিন ধরেই অভিযোগ উঠছিল—বেসরকারি এয়ারলাইনগুলি ব্যস্ত রুটগুলিতে ইচ্ছেমতো অন্তর্দেশীয় বিমান ভাড়া বাড়িয়ে দিচ্ছে। বিশেষত ইন্ডিগো কাণ্ডের পরে সেই ভাড়া একধাক্কায় বেড়ে যাওয়ায় যাত্রীরা সরব হন।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের বক্তব্য, অনেক ক্ষেত্রেই অযৌক্তিক বিমান ভাড়া নেওয়া হচ্ছিল। ফলে যাত্রীদের স্বার্থ রক্ষায় বাধ্য হয়েই ভাড়া নিয়ন্ত্রণে এই সিদ্ধান্ত। নতুন নির্দেশ শুধুমাত্র ইকোনমি ক্লাস বিমান ভাড়া-এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে এবং ভারতের অভ্যন্তরীণ রুটেই কার্যকর হবে।

সরকারের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত রুটে কোনও এয়ারলাইন ৭৫০০ টাকার বেশি ভাড়া নিতে পারবে না। ৫০০ থেকে ১০০০ কিলোমিটারের ভাড়া সর্বোচ্চ ১২,০০০ টাকা। ১০০০ থেকে ১৫০০ কিলোমিটারের যাত্রায় সর্বোচ্চ সীমা ১৫,০০০ টাকা। আর ১৫০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বের ভাড়া নির্ধারিত হয়েছে সর্বোচ্চ ১৮,০০০ টাকা।

৫০০ কিমি ভ্রমণে সর্বোচ্চ বিমান ভাড়া ৭৫০০ টাকা, ইন্ডিগো কাণ্ডের পর কঠোর সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের

তবে এই মূল ভাড়ার মধ্যে বিমানবন্দর ইউজার ডেভেলপমেন্ট ফি (UDF), প্যাসেঞ্জার সার্ভিস ফি (PSF) বা অন্যান্য সরকারি কর অন্তর্ভুক্ত নয়। অর্থাৎ মোট টিকিটের চূড়ান্ত মূল্য নির্ধারণে এই অতিরিক্ত চার্জ আলাদাভাবে যুক্ত হবে।

এছাড়া পরিষ্কার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—অনলাইন বুকিং হোক বা অফলাইন কাউন্টার, সব ক্ষেত্রেই বিমানসংস্থাগুলিকে এই সীমা মানতেই হবে। যতদিন না ভারতের বিমান ভাড়া স্থিতিশীল হচ্ছে বা মন্ত্রক থেকে নতুন নির্দেশ জারি হচ্ছে, ততদিন এই মূল্যসীমা প্রয়োগে বাধ্য থাকবে সব এয়ারলাইন।

কেন্দ্রীয় সরকার বহুবার সতর্ক করার পরও যেখানে বিমান ভাড়া লাগামহীনভাবে বাড়ছিল, সেখানে এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই যাত্রীস্বার্থে জরুরি পদক্ষেপ বলছেন। বিশেষত উৎসবের মরসুম, হঠাৎ বুকিং বা ব্যস্ত বিমানপথে ভাড়ায় উর্ধ্বগতি দেখেই যাত্রীরা ক্ষোভে ফেটে পড়ছিলেন। ইন্ডিগো ঘটনা সেই বিতর্ককে আরও উস্কে দেয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গত কয়েক বছরে বিমান সংস্থার ব্যয় বাড়লেও এত মাত্রায় ভাড়া বৃদ্ধি যুক্তিযুক্ত ছিল না। নতুন নির্দেশে ভাড়ার সীমা স্থির থাকলে স্বল্প দূরত্বের বিমানযাত্রা সাধারণ যাত্রীর ধরাছোঁয়ার মধ্যে থাকবে। তবে কিছু এয়ারলাইনের দাবি, এই সর্বোচ্চ সীমা থাকলে ব্যস্ত রুটে তাদের আর্থিক চাপ বাড়তে পারে।

তবে কেন্দ্রের অবস্থান স্পষ্ট—যাত্রীদের অসুবিধা রুখতেই এই হস্তক্ষেপ। বিমানযাত্রাকে সুবিধাজনক ও সাশ্রয়ী রাখতে সরকার এই সিদ্ধান্তে অনড়।

নতুন নির্দেশ কার্যকর হওয়ার পরই বোঝা যাবে, দেশের বিমান ভাড়ার বাজার কতটা স্থিতিশীল হয়। আপাতত যাত্রীদের জন্য এটা বড় স্বস্তির খবর বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ব্রিগেডে পাঁচ লক্ষ গীতাপাঠের প্রস্তুতি, থাকছেন দিলীপ–সুকান্ত–শমীক

ব্রিগেডে পাঁচ লক্ষ গীতাপাঠের প্রস্তুতি, থাকছেন দিলীপ–সুকান্ত–শমীক

কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে গীতাপাঠ ফের রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। আয়োজনকারী দল ‘সনাতন সংস্কৃতি সংসদ’ দাবি করেছে, এ বছর পাঁচ লক্ষ মানুষের গীতাপাঠ তাঁদের লক্ষ্য। লোকসভা ভোটের আগে ২০২৩ সালে ‘লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠ’-এর মাধ্যমে যেভাবে ব্রিগেড উত্তাল হয়েছিল, ঠিক দুই বছর পর সেই অনুষ্ঠান আরও বড় আকারে আয়োজন করা হচ্ছে। রাজনৈতিক জল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে বিজেপির ভূমিকাও।

রবিবারের এই গীতাপাঠ কর্মসূচিতে কারা থাকছেন, তা নিয়ে জল্পনা ছিল কয়েকদিন ধরে। শেষ পর্যন্ত পরিষ্কার হয়েছে—এ বার অনুষ্ঠান মঞ্চে দেখা যাবে দিলীপ ঘোষ, রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারকে। শুভেন্দু অধিকারী এই কর্মসূচির প্রথম ঘোষণাকারী হলেও রবিবার তিনি উপস্থিত থাকবেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

ব্রিগেডে পাঁচ লক্ষ গীতাপাঠের প্রস্তুতি, থাকছেন দিলীপ–সুকান্ত–শমীক

বিজেপির ভেতরে প্রশ্ন উঠছিল দিলীপ ঘোষের উপস্থিতি নিয়ে। দলের বড় কর্মসূচিতে তাঁকে সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যায়নি। তবে সমস্ত জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে দিলীপ নিজেই জানিয়েছেন, তিনি রবিবার সকাল ৯টার মধ্যে ব্রিগেডে পৌঁছে যাবেন। একইসঙ্গে রাজ্য বিজেপির অন্যান্য নেতৃত্বের কাছেও আমন্ত্রণ পাঠানো হয়েছে, এবং তাঁরা উপস্থিত থাকবেন বলেই নিশ্চিত সূত্রে জানা যাচ্ছে।

আয়োজকদের তরফে আমন্ত্রণ গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের কাছেও। কিন্তু রাজ্যপাল দিল্লিতে থাকার কারণে যোগ দিতে পারবেন না। মুখ্যমন্ত্রী এ বারও অনুষ্ঠানে থাকছেন না বলেই নবান্ন সূত্রে ইঙ্গিত।

ব্রিগেড ময়দানে তিনটি বিশাল মঞ্চ তৈরি হচ্ছে। মূল মঞ্চে থাকবেন সর্বভারতীয় পরিচিত সাধুসন্তেরা, যাঁদের নেতৃত্বে হবে বৃহৎ গীতাপাঠ। দুই পাশের মঞ্চে বসবেন বাংলার নামী সাধুসন্তেরা। মূল মঞ্চের সামনে একটি ক্ষুদ্র মঞ্চে থাকবে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। তিনটি বিশেষ সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে শুরু হবে রবিবারের কর্মসূচি।

bjp

এ দিন উপস্থিত থাকতে পারেন ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের স্বামী প্রদীপ্তানন্দ, রিষড়া প্রেমমন্দিরের নির্গুণানন্দ ব্রহ্মচারী, জগৎবন্ধু আশ্রমের বন্ধুগৌরব দাস মহারাজ। পাশাপাশি স্বামী জ্ঞানানন্দ, রামদেব, ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রী এবং সাধ্বী ঋতাম্ভরা-সহ একাধিক সর্বভারতীয় সাধুসন্তকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

তবে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে পাঁচ লক্ষ জমায়েতের দাবি। ২০২৩ সালের ‘লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠ’-এ শেষ পর্যন্ত সাংগঠনিক দাবি ছিল প্রায় এক লক্ষ ৩৭ হাজার মানুষের উপস্থিতি। সেই দাবিতেও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকে। তাই এ বার পাঁচ লক্ষের দাবি বাস্তবে কতটা পূরণ হবে, তা নিয়েই কৌতূহল এবং সংশয় দু’টোই তুঙ্গে।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ব্রিগেডের গীতাপাঠ বিজেপির কাছে শক্তিপ্রদর্শনের বড় সুযোগ। শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষিত লক্ষ্য—পাঁচ লক্ষ হিন্দুর সমবেত গীতাপাঠ—সার্থক হবে কি না, তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল। এ বারের অনুষ্ঠান শুধু ধর্মীয় কর্মসূচি নয়, বরং রাজনৈতিক বার্তারও এক অনন্য মঞ্চ হয়ে উঠতে চলেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

রাইট টু ডিসকানেক্ট বিল: অফিস সময়ের পর ফোন-ইমেল নয়, লোকসভায় পেশ হল নয়া বিল

রাইট টু ডিসকানেক্ট বিল: অফিস সময়ের পর ফোন-ইমেল নয়, লোকসভায় পেশ হল নয়া বিল

ভারতে কর্মীদের কাজের পর ব্যক্তিগত সময় ক্রমশ ক্ষয়ে যাচ্ছে—কর্পোরেট চাপ, ওয়ার্ক-ফ্রম-হোম সংস্কৃতি এবং ডিজিটাল সংযোগের বাড়বাড়ন্তের ফলে অফিসের সীমা আর অফিসেই আটকে থাকে না। এই পরিস্থিতি থেকেই উঠে এসেছে রাইট টু ডিসকানেক্ট বিল পুনরায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। শুক্রবার লোকসভায় আবারও এই বিল পেশ করেছেন এনসিপি সাংসদ সুপ্রিয়া সুলে।

বিলে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, কাজের সময়ের বাইরে বা ছুটির দিনে কোনও কর্মী চাইলে অফিসের ফোন না ধরতে পারেন, এমনকি অফিসের ই-মেল বা মেসেজেরও জবাব দিতে বাধ্য নন। সুপ্রিয়া সুলের মতে, আধুনিক কর্মক্ষেত্রে কর্মীদের মানসিক চাপ ভয়াবহভাবে বাড়ছে। তাই তাঁদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সময় রক্ষার জন্য এই রাইট টু ডিসকানেক্ট বিল অত্যন্ত জরুরি।

রাইট টু ডিসকানেক্ট বিল: অফিস সময়ের পর ফোন-ইমেল নয়, লোকসভায় পেশ হল নয়া বিল

২০১৯ সালেও এই একই বিল সংসদে পেশ করেছিলেন সুপ্রিয়া সুলে, তবে তা আইনে পরিণত হয়নি। এবারও বিলটি একটি প্রাইভেট মেম্বার্স বিল, ফলে তা আইন হওয়ার সম্ভাবনা কম হলেও, বিলটি সংসদে পেশ হওয়ায় বিষয়টি নতুন করে জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে।

রাইট টু ডিসকানেক্ট বিল-এর মূল উদ্দেশ্য হল কর্মীদের উপর অনিয়ন্ত্রিত কাজের চাপ কমানো এবং কাজের সময়ের বাইরে তাঁদের স্বাধীনতা রক্ষা করা। বিশেষত বেসরকারি ও কর্পোরেট ক্ষেত্রের কর্মীরা সবচেয়ে বেশি এই সমস্যায় পড়েন। অফিস-টাইম শেষ হলেও ফোন, হোয়াটসঅ্যাপ, মেইল—সর্বত্র কাজের নির্দেশনা এসে পৌঁছয়, যা তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনকে ব্যাহত করে।

সুলে বিলে যুক্তি দিয়েছেন, কর্মীরা যেহেতু কাজের জন্য নির্দিষ্ট সময় ও শ্রম ব্যয় করেন, তাই কাজের সময় শেষে তাঁদের অধিকার থাকা উচিত ডিজিটাল সংযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার। বিশ্বের বহু দেশে যেমন ফ্রান্স, ইতালি, স্পেনের মতো দেশে এই আইনের প্রয়োগ রয়েছে, ভারতেও সেই আলোচনা শুরু হওয়া জরুরি।

প্রাইভেট মেম্বার্স বিল সাধারণত সরকার নয়, পৃথক সাংসদরা ব্যক্তিগতভাবে পেশ করেন। সরকারের সমর্থন না পেলে এ ধরনের বিল আইন হয় না। ইতিহাস বলছে, স্বাধীনতার পর থেকে মাত্র একটি প্রাইভেট মেম্বার্স বিল আইন হয়েছে। ফলে রাইট টু ডিসকানেক্ট বিল সংসদে পাস হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। তবে কর্মীদের অধিকার নিয়ে এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে চর্চার ক্ষেত্র তৈরি করবে।

সরকারি দপ্তরের তুলনায় বেসরকারি সংস্থা, IT sector, corporate workplace–এ এই সমস্যাটা বেশি প্রকট। ওয়ার্ক-লাইফ ব্যালেন্স বজায় রাখতে এই বিলকে অনেক শ্রম আইন বিশেষজ্ঞও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন। তাঁদের মতে, এই বিল হয়তো এখনই আইন না হলেও, ভবিষ্যতে ভারতের শ্রমনীতিতে বড় পরিবর্তনের সূচনা ঘটাতে পারে।

অন্যদিকে, কর্পোরেট মহলের একটি অংশ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলছে, রাইট টু ডিসকানেক্ট বিল প্রয়োগ হলে তা উৎপাদনশীলতা কমাতে পারে। তবে অধিকাংশ মানবসম্পদ বিশেষজ্ঞের মত, সুখী কর্মী মানেই উৎপাদনশীল কর্মী, তাই দীর্ঘমেয়াদে এই পদক্ষেপই বেশি বাস্তবসম্মত।

বর্তমান পরিস্থিতিতে, কর্মীদের জন্য সুপ্রিয়া সুলের বিল একটি বলিষ্ঠ বার্তা—কাজ গুরুত্বপূর্ণ হলেও, ব্যক্তিগত সময় ও মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব তার চেয়ে কোনও অংশে কম নয়।
বিলটি আইন হবে কি না, তা ভবিষ্যৎই বলবে। তবে রাইট টু ডিসকানেক্ট বিল নিঃসন্দেহে কর্মীদের অধিকারের প্রশ্নে একটি নতুন দিশা দেখাল।

‘বাংলা বাঁচাও যাত্রা’ কি বদলে দেবে সিপিএমের ভাগ্য? প্রশ্ন বাড়ছে অন্দরে

‘বাংলা বাঁচাও যাত্রা’ কি বদলে দেবে সিপিএমের ভাগ্য? প্রশ্ন বাড়ছে অন্দরে

বিধানসভা ভোটের আগে সিপিএম বড় জোর দিয়ে শুরু করেছে বাংলা বাঁচাও যাত্রা। লক্ষ্য রাজ্য জুড়ে সংগঠনের পুনর্গঠন, জনসংযোগ বাড়ানো এবং নতুন করে রাজনৈতিক আবহ তৈরি। কিন্তু শুরুতেই উঠছে প্রশ্ন—এই বাংলা বাঁচাও যাত্রা আদৌ কি সিপিএমকে ‘বাঁচাতে’ পারবে?

তৃণমূল কংগ্রেস যে ধাঁচে নবজোয়ার যাত্রা চালিয়ে রাজ্যে নতুন জনআবহ তৈরি করেছিল, সিপিএমও যেন সেই পথেই হেঁটেছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতোই মহম্মদ সেলিম ও মিনাক্ষী মুখোপাধ্যায় কোচবিহার থেকে পদযাত্রার সূচনা করেন। কিন্তু ছবি মিললেও পরিবেশ মিলছে না। কোথাও নেই তৃণমূলের মতো জনস্রোত বা দৃশ্যত চমক। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন বাড়ছে—কেন এই সাড়া মিলছে না?

কোচবিহারের তুফানগঞ্জ থেকে যাত্রা শুরু হতেই স্থানীয় নেতৃত্ব স্বীকার করেছেন, প্রত্যাশিত উদ্দীপনা দেখা যায়নি। যেখানে আগে পঞ্চায়েত কিংবা লোকসভা ভোটের সময় প্রচারে যুব নেতাদের আগ্রাসী অংশগ্রহণ দেখা যেত, সেখানে বাংলা বাঁচাও যাত্রায় তারা তেমন উপস্থিত নন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে কিছু পুরোনো নেতা-কর্মী লাল পতাকা নিয়ে হাঁটছেন। যে নিচুতলার উন্মাদনা সংগঠনকে চাঙ্গা করার কথা, তা-ও অনুপস্থিত।

‘বাংলা বাঁচাও যাত্রা’ কি বদলে দেবে সিপিএমের ভাগ্য? প্রশ্ন বাড়ছে অন্দরে

অন্যদিকে, সেলিম ও মিনাক্ষী দাবি করেছেন—মানুষ তাঁদের সমর্থন করছেন। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি বলছে ভিন্ন গল্প। আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি—সব জায়গাতেই ভিড় একইভাবে কম। বাইকের মিছিলও কার্যত প্রতীকী। স্থানীয় নেতা-কর্মীরা বলছেন, ২০১১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে মানুষ ছুটে যেতেন। সেই আবেগ সিপিএম এখনও তৈরি করতে পারেনি, বরং ক্রমশ পিছিয়ে পড়ছে।

দলের অন্দরে অনেকে এই কর্মসূচিকে পরিকল্পনার দিক থেকে ত্রুটিপূর্ণ বলছেন। তৃণমূল নবজোয়ার যাত্রার আগে রাজ্যজোড়া প্রস্তুতি নিয়েছিল। বুথ সংগঠনকে রীতিমতো প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল যাতে ঘরে ঘরে পৌঁছানো যায়। সিপিএম সে পথে হাঁটেনি। বরং পরীক্ষার আগের রাতে সিলেবাস শেষ করার মতো তড়িঘড়ি করে কর্মসূচি শুরু হয়েছে বলেই মনে করছেন বহু কর্মী।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সিপিএমের নীতিপঙ্গুত্বও এখন বড় সমস্যা। কংগ্রেসের সঙ্গে জোট হবে কি না—স্পষ্ট নয়। বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই জোরালো হবে নাকি কংগ্রেসকেই প্রতিপক্ষ ধরা হবে—এমন মৌলিক বার্তাও নিচুতলার কর্মীরা পাচ্ছেন না। ফলে বিভ্রান্তি বাড়ছে। যে কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচি সফল করতে মতাদর্শগত স্পষ্টতা জরুরি; সেই জায়গায় সিপিএমের ঘাটতি প্রকট।

‘বাংলা বাঁচাও যাত্রা’ কি বদলে দেবে সিপিএমের ভাগ্য? প্রশ্ন বাড়ছে অন্দরে
‘বাংলা বাঁচাও যাত্রা’ কি বদলে দেবে সিপিএমের ভাগ্য? প্রশ্ন বাড়ছে অন্দরে

এছাড়া, এসআইআর বিতর্কের সময় তৃণমূল যে ভাবে বুথে বুথে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে, সমস্যার কথা শুনেছে—তা জনসমর্থন পেয়েছে। সিপিএমের বুথকর্মীদের বড় অংশ সেই কাজ সামলাতে পারেননি। উপরন্তু, একদিকে সংগঠনের নির্দেশ, অন্যদিকে এসআইআর নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর দায়—কোনটা আগে সামলাবেন তা নিয়েও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

এতকিছুর পরও সিপিএম বলছে, এই যাত্রা সংগঠনকে নতুন করে চাঙ্গা করবে। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—১১টি জেলা পার করলেই কি সংগঠনের ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব? যেসব জেলায় সিপিএমের সংগঠন সবচেয়ে দুর্বল, যেমন—দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর বা কলকাতা—সেইসব জায়গাকে বাদ দেওয়া কি সঠিক সিদ্ধান্ত?

পূর্ব মেদিনীপুরের এক প্রবীণ সিপিএম নেতা বলছেন, দুর্বল অঞ্চলে না গেলে জনআস্থা পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়। যেখানেই সংগঠন শক্তিশালী, শুধু সেখানেই কর্মসূচি করলে রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্র বদলানো যাবে না।

রাজনৈতিকভাবে স্পষ্ট, বাংলা বাঁচাও যাত্রা এখন সিপিএমের কাছে শুধু কর্মসূচি নয়—রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। কিন্তু প্রশ্ন রয়ে যায়—এই যাত্রা কি সত্যিই সিপিএমকে নতুন করে জনমনে জায়গা করে দেবে, নাকি এটি আরেকটি ব্যর্থ কর্মসূচির তালিকায় নাম লেখাবে?

সময়ই তার উত্তর দেবে।

কুলদীপ ও প্রসিদ্ধের চাপে বড় স্কোরে ব্যর্থ প্রোটিয়ারা, ভারতের জন্য টার্গেট ২৭১

কুলদীপ ও প্রসিদ্ধের চাপে বড় স্কোরে ব্যর্থ প্রোটিয়ারা, ভারতের জন্য টার্গেট ২৭১

ভাইজ্যাগের সবুজ আউটফিল্ডে শনিবার ওয়ানডে সিরিজ জমে উঠল ভারত–দক্ষিণ আফ্রিকা লড়াইয়ে। কিন্তু আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এল কুলদীপ যাদব ও প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ। দুই ভারতীয় বোলারের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ডি’ককের দুর্লভ সেঞ্চুরিও শেষ পর্যন্ত হতাশার গল্প হয়ে রইল প্রোটিয়াদের জন্য। প্রথম ইনিংসে মাত্র ২৭০ রানে অলআউট হয়ে বড় স্কোরের সুযোগ হাতছাড়া করল দক্ষিণ আফ্রিকা। এই ম্যাচে কুলদীপের ঘূর্ণি ছিল ভারতের প্রধান অস্ত্র, যা ভেঙে দেয় প্রতিপক্ষের ছন্দ।

ম্যাচ শুরুর আগে টস জেতেন ভারত অধিনায়ক কেএল রাহুল। দীর্ঘ ২০ ম্যাচ পর ওয়ানডেতে টস জিতে রাহুল প্রত্যাশিতভাবেই প্রথমে ফিল্ডিং নেন। তাতে শুরুটা দারুণ হয় ভারতের। প্রথম ওভারেই অর্শদীপ সিং ফেরান রিকেলটনকে। দ্রুত উইকেট হারালেও বাভুমা ও ডি’কক প্রোটিয়া ইনিংসের হাল ধরেন। দুই অভিজ্ঞ ব্যাটারের ১১২ রানের জুটি ভারতের ওপর চাপ সৃষ্টি করে।

কুলদীপ ও প্রসিদ্ধের চাপে বড় স্কোরে ব্যর্থ প্রোটিয়ারা, ভারতের জন্য টার্গেট ২৭১

বাভুমা আউট হওয়ার পর ডি’কক আরেকটি ভালো জুটি গড়েন ব্রিৎজকের সঙ্গে। ততক্ষণে ডি’কক তুলে ফেলেছেন তাঁর সেঞ্চুরি, রানরেটও উঠেছে ছয়ের কাছাকাছি। মনে হচ্ছিল ৩৫০ বা তারও বেশি স্কোর করতে পারে দক্ষিণ আফ্রিকা। কিন্তু ম্যাচের মোড় তখনও বাকি ছিল।

সেই মোড় এনে দেন প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ। আগের ম্যাচে ব্যর্থতার পরও কোচ গৌতম গম্ভীরের আস্থা তাঁকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছিল। সেই আস্থার পূর্ণ মর্যাদা দিয়ে একই ওভারে তিনি ফেরান ডি’কক ও মার্করামকে। দুজনই দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং লাইনআপের স্তম্ভ। এক ওভারেই দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট পড়ে প্রোটিয়াদের মেরুদণ্ড যেন ভেঙে পড়ে।

এই ধাক্কা সামলানোর আগেই শুরু হয় কুলদীপ যাদব–এর বিধ্বংসী স্পেল। তাঁর ঘূর্ণিতে আচ্ছন্ন হয়ে একে একে প্যাভিলিয়নে ফেরেন ব্রেভিস, জ্যানসেন, বশ ও এনগিডি। মাত্র কয়েক ওভারের ব্যবধানে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং ধস নামে। একটি ওভারেই ব্রেভিস ও জ্যানসেনকে ফিরিয়ে কুলদীপ ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন। ফলাফল—প্রোটিয়ারা ৫০ ওভারও খেলতে পারল না, থেমে যায় ২৭০ রানে।

এই ম্যাচে কুলদীপের ঘূর্ণি ছিল ভারতীয় বোলিংয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি। প্রসিদ্ধও তুলে নিলেন ৪ উইকেট। দুই বোলারের কম্বিনেশনে দক্ষিণ আফ্রিকার পরিকল্পনা সম্পূর্ণ ভেস্তে যায়।

এই রান ভাইজ্যাগের পিচে কতটা নিরাপদ হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছেই। সাধারণত এই মাঠে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং আরও সহজ হয়ে যায়, বিশেষ করে শিশির পড়লে স্পিনাররা সাহায্য পান না। ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপে যখন রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি ও শুভমন গিলের মতো ফর্মে থাকা ব্যাটাররা আছেন, তখন ২৭০ রানের লক্ষ্য খুব বেশি কঠিন হওয়ার কথা নয়।

ভারতের ব্যাটিং শক্তি এবং পিচের আচরণ মিলিয়ে বলতে গেলে এটি একটি চেজিং ফ্রেন্ডলি ম্যাচ হয়ে উঠতে পারে। দলের আত্মবিশ্বাসও এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে, কারণ তাদের প্রধান অস্ত্র কুলদীপের ঘূর্ণি আবারও প্রমাণ করেছে তাঁর ম্যাচ-উইনিং ক্ষমতা।

এখন দেখার, রোহিত-কোহলির অভিজ্ঞতা ও ভারতের মিডল অর্ডারের স্থিতিশীলতা মিলিয়ে কতটা সহজে লক্ষ্য তাড়া করতে পারে ভারত। তবে প্রোটিয়াদের ২৭০ রানে থামিয়ে ভারত পেয়ে গেল মানসিক দিক দিয়ে বাড়তি সুবিধা।

নদিয়ায় সভা করতে আসছেন মমতা, বাড়ছে ভোটের উত্তাপ রাজ্যে

নদিয়ায় সভা করতে আসছেন মমতা, বাড়ছে ভোটের উত্তাপ রাজ্যে

পশ্চিমবঙ্গে ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশ হতে এখনও কয়েক মাস বাকি। তবুও রাজনৈতিক অঙ্গনে যে ভোটের উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে, তা আন্দাজ করা যায় তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সাম্প্রতিক কর্মসূচি থেকেই। জেলায় জেলায় একের পর এক জনসভা করে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ আরও উৎসাহব্যঞ্জক করে তুলছেন তিনি। আগামী ১১ ডিসেম্বর নদিয়ার কৃষ্ণনগর গভর্নমেন্ট কলেজের মাঠে বড়সড় সভা করবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, যা কেন্দ্র করে উত্তেজনা চরমে।

নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে প্রশাসন। শনিবার কৃষ্ণনগর গভর্নমেন্ট কলেজের মাঠে নিরাপত্তা ব্যবস্থার খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখেন এডিজি সাউথ বেঙ্গল-সহ কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার শীর্ষ আধিকারিকরা। সভা স্থলে কোন দিক দিয়ে ভিড় প্রবেশ করবে, কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে, কোথায় নিরাপত্তার নজরদারি জোরদার করা দরকার—সবই যাচাই করা হয়েছে। নিরাপত্তায় কোনও ফাঁক রাখতে রাজি নয় পুলিশ।

নদিয়ায় সভা করতে আসছেন মমতা, বাড়ছে ভোটের উত্তাপ রাজ্যে

এর আগে উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁয় এসআইআর আবহে প্রথম রাজনৈতিক সভা করেন মমতা। সেখানে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন, এসআইআর নিয়ে আতঙ্কের কোনও কারণ নেই। মানুষের পাশে তৃণমূল আছে বলেই আশ্বস্ত করেছিলেন তিনি। এরপর মালদহ ও মুর্শিদাবাদেও সভা করেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রতিটি সভায় তাঁর বক্তব্য—তিনি ভোটের রাজনীতি নয়, মানুষের রাজনীতি করেন। মানুষের পাশে থাকা তাঁর প্রথম ও শেষ লক্ষ্য।

এই পরপর জনসভাগুলোর পর আগামী ৯ ডিসেম্বর মমতার কোচবিহারে সভা নির্ধারিত রয়েছে। আর তার মাত্র দু’দিন পরই নদিয়ায় সভা। যদিও জেলা পুলিশ এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারিভাবে নির্দেশিকা পায়নি। তবে তাও নিরাপত্তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে জোরকদমে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি স্পষ্ট ইঙ্গিত—মমতার নদিয়ায় সভা প্রায় নিশ্চিত।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নদিয়া জেলার সামাজিক সমীকরণের দিকে তাকিয়েও এই সভা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বনগাঁর মতো নদিয়াতেও মতুয়া সম্প্রদায়ের একটি বড় অংশ বাস করেন। ফলে কৃষ্ণনগর গভর্নমেন্ট কলেজের মাঠে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোন বার্তা দেন, তা শুধু নদিয়া নয়, সমগ্র দক্ষিণবঙ্গের ভোট-সমীকরণকে প্রভাবিত করতে পারে। তৃণমূলের কাছে মতুয়া ভোট সবসময়ই মূল্যবান, এবং বিজেপির সঙ্গে এই ভোটব্যাঙ্কের টানাপোড়েন প্রাক-নির্বাচনী রাজনীতিতে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে।

তৃণমূল সূত্রের মতে, এই সভায় এসআইআর নিয়ে উদ্বেগ কমানোর পাশাপাশি উন্নয়ন, গ্রামীণ প্রকল্প, মহিলাদের নিরাপত্তা—এমন নানা বিষয় কেন্দ্র করে বড়ো বার্তা দিতে পারেন মমতা। একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানও আরও তীব্র হতে পারে। রাজনৈতিক মহলের মতে, নদিয়ার সভা নির্বাচনের আগমুহূর্তে তাঁর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রচার-সমাবেশ হতে চলেছে।

জেলার তৃণমূল নেতৃত্ব সভা সফল করতে ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু করেছে। মাঠ সাজানো থেকে মঞ্চ নির্মাণ—সব কাজেই তৎপরতার ছাপ মিলছে। রাজ্য জুড়ে যখন ভোটের আবহ তৈরি হচ্ছে, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর এই টানা জনসভা নিঃসন্দেহে তৃণমূল কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা এনে দিচ্ছে।

এখন সবার দৃষ্টি একটাই—কৃষ্ণনগরের মঞ্চে দাঁড়িয়ে মমতা ঠিক কী বার্তা দেবেন? বিশেষ করে মতুয়া ভোট-ব্যাঙ্ক ও এসআইআর ইস্যু কেন্দ্র করে তাঁর বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে বিশেষ গুরুত্ব বহন করবে।