Home Blog Page 1444

শেখ হাসিনা কতদিন ভারতে থাকবেন? প্রত্যর্পণের চাপে কূটনৈতিক জবাব দিলেন জয়শংকর

শেখ হাসিনা কতদিন ভারতে থাকবেন? প্রত্যর্পণের চাপে কূটনৈতিক জবাব দিলেন জয়শংকর

ভারতের মাটিতে প্রায় এক বছর ধরে শেখ হাসিনা যে অজ্ঞাতবাসে রয়েছেন, তা নিয়ে বাংলাদেশে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে। গণবিক্ষোভ ও সংরক্ষণ বিরোধী আন্দোলনের জেরে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। কিন্তু শেখ হাসিনা কতদিন ভারতে থাকবেন, সেই প্রশ্ন ঘিরে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে।

শনিবার এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে সাক্ষাৎকারে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর স্পষ্ট জানিয়ে দেন—হাসিনার দেশে ফেরা তাঁদের হাতে নয়। তাঁর কথায়, “তিনি একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে ভারতে এসেছিলেন। নিজের দেশের পরিস্থিতি বিচার করেই সিদ্ধান্ত নেবেন তিনি।” এই বক্তব্যের পরই পরিষ্কার হয়ে যায়, বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ চাপের জবাবে দিল্লি সতর্ক কূটনৈতিক পথ বেছে নিয়েছে।

শেখ হাসিনা কতদিন ভারতে থাকবেন? প্রত্যর্পণের চাপে কূটনৈতিক জবাব দিলেন জয়শংকর

গত বছরের আগস্টে বাংলাদেশজুড়ে ছাত্র আন্দোলন ও ক্রমবর্ধমান গণবিক্ষোভে আওয়ামি লিগ সরকারের পতন ঘটে। সামরিক পাহারায় ঢাকা ছেড়ে ভারতে আসেন মুজিবকন্যা শেখ হাসিনা। তারপর থেকেই তিনি ভারতের রাজনৈতিক আশ্রয়ে রয়েছেন বলে কূটনৈতিক মহলের দাবি। অন্যদিকে ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তবর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর হাসিনার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রুজু হয়।

ঢাকার আন্তর্জাতিক ট্রাইবুনাল ইতিমধ্যে গণহত্যার মামলায় হাসিনার মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সম্পত্তি ক্রোক করে নিহত ও আহতদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছে আদালত। আরও একটি জমি দুর্নীতি মামলায় তাঁকে ২১ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ঢাকা টানা দু’বার নয়াদিল্লিকে প্রত্যর্পণের আবেদন জানিয়েছে বলে বিদেশমন্ত্রক সূত্রে খবর।

ঠিক এই অবস্থায় জয়শংকরকে প্রশ্ন করা হয়েছিল—শেখ হাসিনা কি যতদিন ইচ্ছা ভারতে থাকতে পারবেন? উত্তরে তিনি জানান, “এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। পরিস্থিতি অনুকূল হলেই তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন।’’ তাঁর বক্তব্যে পরিষ্কার, ভারত প্রকাশ্যে কোনওপক্ষ নিচ্ছে না; বরং হাসিনার নিরাপত্তা এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি—দুটোই বিবেচনায় রেখেই এগোচ্ছে দিল্লি।

বাংলাদেশে গণবিক্ষোভ শুরুর পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক টানাপড়েনের মধ্যে রয়েছে। হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর সেই সম্পর্ক আরও জটিল হয়েছে। তবে জয়শংকর এদিন উল্লেখ করেন, ভারতের মূল আগ্রহ বাংলাদেশের গণতন্ত্র সুসংহত হওয়া। তাঁর কথায়, “আমরা চাই বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হোক। জনগণের ইচ্ছাকেই প্রতিফলিত করুক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া।”

এই মন্তব্য স্পষ্ট করে দেয়—ঢাকার নির্বাচন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে কেন্দ্র করেই ভারতের কূটনৈতিক অবস্থান নির্ধারিত হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রশ্নও উঠছে—বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত শেখ হাসিনা আদৌ দেশে ফিরতে পারবেন কি না।

কূটনৈতিক মহলের মতে, বাংলাদেশের অন্তবর্তী সরকারের প্রত্যর্পণের চাপ যতই বাড়ুক, ভারত সরাসরি কোনও সিদ্ধান্তে যাচ্ছে না। কারণ দেশত্যাগী সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ভবিষ্যৎ শুধু আইনি নয়, আঞ্চলিক রাজনৈতিক সমীকরণকেও প্রভাবিত করতে পারে। ফলে আপাতত স্পষ্ট—শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান আরও দীর্ঘ হতে পারে, যদি না বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আমূল বদলায়।

বেলডাঙায় বাবরি শিলান্যাসে অবরুদ্ধ জাতীয় সড়ক, দুর্ভোগে যাত্রী

বেলডাঙায় বাবরি শিলান্যাসে অবরুদ্ধ জাতীয় সড়ক, দুর্ভোগে যাত্রী

বাবরি শিলান্যাস ঘিরে বেলডাঙায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে, আন্দাজ করেননি কেউই। পূর্বঘোষণা মতো শনিবার মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় প্রস্তাবিত বাবরি মসজিদের শিলান্যাস করেন সাসপেন্ড হওয়া তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। কিন্তু সেই বাবরি শিলান্যাস কর্মসূচি ঘিরেই কার্যত অচল হয়ে পড়ল ১২ (আগের ৩৪) নম্বর জাতীয় সড়ক। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সড়কজুড়ে তৈরি হয় ব্যাপক যানজট, বিশেষ করে কলকাতামুখী লেনে যান চলাচল একেবারে থমকে যায়।

শনিবার সকাল ১১টার পর থেকেই বেলডাঙার বড়ুয়া মোড় থেকে রেজিনগর পর্যন্ত National Highway 12 প্রায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। বেলা গড়াতে রাস্তার উপর লম্বা লাইন তৈরি হয় গাড়ির। কলকাতামুখী লেনে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাক, প্রাইভেট কার ও বাস মিলিয়ে প্রায় কয়েক কিলোমিটার জুড়ে যানবাহনের সাপলুডো। যদিও শিলিগুড়িমুখী লেনে তুলনামূলক কম চাপ থাকলেও, সেখানেও গাড়ি চলাচল অত্যন্ত ধীরগতি।

বেলডাঙায় বাবরি শিলান্যাসে অবরুদ্ধ জাতীয় সড়ক, দুর্ভোগে যাত্রী

প্রশাসনের মতে, বাবরি শিলান্যাস কর্মসূচি যে জায়গায় অনুষ্ঠিত হয়, সেটি জাতীয় সড়ক থেকে মাত্র ৩০০–৪০০ মিটার দূরে। ফলে সড়ক দিয়ে বিপুল সংখ্যক মানুষের হৈচৈ ও যাতায়াত শুরু হয়। সভায় পৌঁছোতে জাতীয় সড়কের ধারে গাড়ি দাঁড় করিয়ে দেন বহু মানুষ। এর পর পিছনে থাকা গাড়িগুলো আটকে পড়ে। অনেকে বাধ্য হয়ে সাত থেকে আট কিলোমিটার পথ হেঁটে সভাস্থলে যান। কেউ কেউ আবার কৃষিজমি পেরিয়ে বিকল্প পথে মসজিদ নির্মাণস্থলে পৌঁছনোর চেষ্টা করেন।

জাতীয় সড়ক ধরে বহু মানুষকে মসজিদ নির্মাণের জন্য মাথায় ইট নিয়ে হাঁটতে দেখা যায়—যেটি পরিস্থিতি কতটা জনাকীর্ণ হয়ে উঠেছিল, তারই স্পষ্ট প্রমাণ।

পরিস্থিতি আঁচ করে সকাল থেকেই পলাশি মোড়ে বেশ কিছু গাড়িকে বিকল্প পথে ঘুরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেয় পুলিশ। কিন্তু বাবরি শিলান্যাস কর্মসূচিতে মানুষের ভিড় এতটাই বেড়ে যায় যে, যানজট নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। প্রশাসনের এক কর্তার বক্তব্য, সন্ধ্যার আগে সড়কের অবস্থার উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম।

স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীরা অভিযোগ করেন, আগে থেকেই যথেষ্ট পুলিশ মোতায়েন করা হলেও ভিড়ের তুলনায় সেই ব্যবস্থা ছিল অপ্রতুল। বেলডাঙা এলাকায় এত বড় জমায়েতের আগে প্রশাসন যথাযথ পরিকল্পনা করেনি বলেও অভিযোগ উঠছে।

অন্যদিকে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। হুমায়ুন কবীর এই বাবরি শিলান্যাস কর্মসূচি নিয়ে আগেই রাজ্যের রাজনৈতিক অন্দরে বিতর্ক শুরু হয়েছিল। সরকারি অনুমতি ছাড়াই মসজিদ নির্মাণের শিলান্যাস করা নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা পর্যন্ত পৌঁছেছে বিষয়টি। তার মধ্যেই এই নতুন বিপত্তি—বাবরি শিলান্যাসের জেরে অবরুদ্ধ জাতীয় সড়ক, আর তাতে যাত্রী ভোগান্তি বেড়েছে বহুগুণ।

প্রশাসন জানিয়েছে, যানজট নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। জরুরি পরিষেবার গাড়িগুলিকে দ্রুত এগনোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তবে সাধারণ মানুষকে ধৈর্য ধরতে অনুরোধ করা হচ্ছে।

দিনের শেষে প্রশ্ন উঠছে—এমন একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল কর্মসূচির জন্য কেন আগে থেকেই যথেষ্ট ট্রাফিক প্ল্যানিং হয়নি? কেন বেলডাঙায় জাতীয় সড়কের গায়ে এত বড় জনসমাবেশের অনুমতি দেওয়া হলো? বাবরি শিলান্যাস-এর রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক প্রভাব ভবিষ্যতেও আরও আলোচনার জন্ম দেবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

খলিস্তানি সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক কঠোর পদক্ষেপ নিল ব্রিটেন

খলিস্তানি সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক কঠোর পদক্ষেপ নিল ব্রিটেন

খলিস্তানি সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্রিটেনের কঠোর পদক্ষেপ ভারত–ব্রিটেন কূটনৈতিক সম্পর্কে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিল। দীর্ঘদিন ধরে ভারতের বার্তা ছিল—লন্ডনে বসে খলিস্তানি নেটওয়ার্ক ভারতের বিরুদ্ধে terror funding, Khalistani extremism ও anti-India activities চালাচ্ছে। অবশেষে সেই অভিযোগ স্বীকার করে ব্রিটিশ সরকার প্রথমবারের মতো সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী আইনের অধীনে সরাসরি ব্যবস্থা নিল।

ব্রিটিশ প্রশাসন গুরপ্রীত সিং রেহাল ও বব্বর অকালি লেহের-এর বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। দু’জনের ওপর কাউন্টার-টেরোরিজম (নিষেধাজ্ঞা) বিধিমালা ২০১৯ অনুযায়ী সন্ত্রাসবাদ-সম্পর্কিত কার্যকলাপের অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে ব্রিটেন স্পষ্ট জানিয়ে দিল—ভারত বিরোধী খলিস্তানি সন্ত্রাসীদের আর মাটি দেওয়া হবে না।

খলিস্তানি সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক কঠোর পদক্ষেপ নিল ব্রিটেন

ব্রিটিশ অর্থ মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, রেহাল এবং তার সঙ্গে যুক্ত তিনটি সংস্থার সম্পূর্ণ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে—Sanchay Punjab CIC, Whitehawk Consultants Ltd, এবং একটি অসংগঠিত প্রতিষ্ঠান Loha Design। এই বাজেয়াপ্তকরণ শুধু আর্থিক আঘাত নয়, খলিস্তানি সংগঠনগুলির অর্থ সঞ্চালন পুরোপুরি আটকাতে এক শক্তিশালী কৌশল।

রেহালকে কোনও সংস্থার পরিচালক হিসেবে কাজ করা বা প্রত্যক্ষ–পরোক্ষভাবে কোনও ব্যবস্থাপনায় অংশ নেওয়াও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড বা এক মিলিয়ন পাউন্ড পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। ব্রিটিশ আইন বিশেষজ্ঞেরা একে বলছেন—the strongest action ever taken against Khalistani terror funding networks in the UK.

ব্রিটিশ সরকারের মূল্যায়নও জানায়, এই প্রথমবার খলিস্তানি নেটওয়ার্ককে চিহ্নিত করে সন্ত্রাসীদেরকে আর্থিকভাবে কোণঠাসা করতে এত বিস্তৃত আইন প্রয়োগ করা হয়েছে। ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলির প্রতিবেদন বারবার বলেছে—লন্ডন ও বার্মিংহাম মিলিয়ে বব্বর খালসা এবং বব্বর অকালি লেহের খোলাখুলি জঙ্গি কার্যকলাপের প্রচার, সদস্য সংগ্রহ ও ফান্ডিং চালিয়ে আসছে। সেই প্রেক্ষিতেই ব্রিটেনের এই সিদ্ধান্তকে “ঐতিহাসিক” বলা হচ্ছে।

ভারতে Babbar Khalsa International (BKI) বহু বছর ধরেই নিষিদ্ধ। ব্রিটেনও বহুবার এই সংগঠনের হুমকি স্বীকার করেছে, কিন্তু কার্যকর কোনও পদক্ষেপ নেওয়ার অভিযোগ ছিল না। এবার সেই দীর্ঘসূত্রতার অবসান ঘটল।

ব্রিটিশ অর্থ সচিব লুসি রিগবি কেসি বলেছেন—
“সন্ত্রাসীরা ব্রিটেনের আর্থিক ব্যবস্থাকে ব্যবহার করলে আমরা কখনোই তা মেনে নেব না। এই পদক্ষেপ দেখিয়ে দিল—আমরা ঘৃণা ও সহিংসতার পাশে নই, বরং শান্তিপূর্ণ সমাজের পাশে আছি।”

কূটনৈতিক মহলের মতে, ভারতের বারবার হুঁশিয়ারি এবং সাম্প্রতিক উচ্চ পর্যায়ের আলোচনাই এই সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে কানাডায় খলিস্তানি কার্যকলাপ নিয়ে তৈরি উত্তেজনার পর ব্রিটেনের ওপর চাপ আরও বাড়ে।

ব্রিটেনের এই সিদ্ধান্ত ভারতের কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। বহুদিন ধরে ভারত বলছিল—পাঞ্জাবের বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসবাদের পেছনে বিদেশে থাকা এই নেটওয়ার্কই মূল অর্থদাতা। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই ব্রিটেন এবার কঠোর অবস্থান নিল।

ব্রিটিশ গোয়েন্দা মহলের বক্তব্য অনুযায়ী, রেহাল এবং বব্বর অকালি লেহের জঙ্গল কার্যকলাপের প্রচার, নিয়োগ এবং অর্থ সংগ্রহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছিল। তাদের এই নেটওয়ার্ক উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ এবং অস্ট্রেলিয়া—তিন মহাদেশেই ছড়ানো ছিল।

ভারত–ব্রিটেন সম্পর্ক নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত হওয়ার পথে এই সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে একটি বড় টার্নিং পয়েন্ট। বিশেষজ্ঞদের মতে, খলিস্তানি সন্ত্রাসীদের জন্য এবার UK is no longer a safe haven।

নানুরে ফের রক্তাক্ত সংঘর্ষ, আড্ডার মাঝেই খুন তৃণমূলের বুথ সভাপতি

নানুরে ফের রক্তাক্ত সংঘর্ষ, আড্ডার মাঝেই খুন তৃণমূলের বুথ সভাপতি

নানুর আবারও রক্তাক্ত। শান্ত গ্রামের রাত ভেঙে আচমকা চিৎকার আর অস্ত্রের ঝনঝনানি। শুক্রবার রাতে থুপসড়া অঞ্চলের পাতিছাড়া গ্রামে গ্রামবাসীদের সাধারণ আড্ডা মুহূর্তে যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়। সেই অমানবিক আক্রমণের শিকার হয়ে মারা যান তৃণমূলের বুথ সভাপতি রাসবিহারী সর্দার (দোদন)। আরও পাঁচজন গুরুতর জখম হয়ে হাসপাতালে জীবনযুদ্ধে লড়ছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের কথায় বোঝা যায়, নানুরের এই হামলা এতটাই দ্রুত ঘটে যে পালানোর বা প্রতিরোধের কোনও সুযোগই মেলেনি। রাতের অন্ধকারে আচমকা দু’পক্ষের তীব্র বচসা শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যে একদল দুষ্কৃতী লোহার রড, শাবল ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে নির্বিচারে মারধর শুরু করে। রাসবিহারীকে মাটিতে ফেলে একের পর এক কোপানো হয়। তাঁকে বাঁচাতে গেলে আরও পাঁচজনকেও আঘাত করে দুষ্কৃতীরা।

নানুরে ফের রক্তাক্ত সংঘর্ষ, আড্ডার মাঝেই খুন তৃণমূলের বুথ সভাপতি

গুরুতর আহত অবস্থায় তৃণমূল নেতাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে পাঁচজন আহত এখন পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোট ব্লক হাসাপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।

মৃতের ছেলে মানব সর্দারের বর্ণনা হৃদয়বিদারক। তাঁর কথায়, পার্টি অফিস থেকে নাটমন্দিরের পথে এসে হামলার মুখে পড়েন বাবা। রড–শাবলের কোপে সেখানেই লুটিয়ে পড়েন। পরিবারের দাবি, এই হামলা আকস্মিক নয়, পরিকল্পিতও হতে পারে। তাঁরা থানায় FIR দায়ের করেছেন এবং হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি তুলেছেন।

ঘটনার পর মুহূর্তে নানুরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় নানুর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। এলাকা ঘিরে তল্লাশি শুরু হয়, দুষ্কৃতীদের খোঁজে গ্রামজুড়ে অভিযান চালানো হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, গ্রাম্য দ্বন্দ্ব ও পুরনো বিবাদের জেরেই এই রক্তাক্ত আক্রমণ হতে পারে। তবে রাজনৈতিক রং নিয়েও প্রশ্ন উঠছে, কারণ আক্রান্ত ব্যক্তি শাসকদলের সক্রিয় বুথ সভাপতি ছিলেন।

এই ঘটনার সময় নাটমন্দিরে গ্রামবাসীদের আড্ডা চলছিল। বহু মানুষ উপস্থিত থাকলেও হামলাকারীরা দ্রুত চম্পট দেয়। স্থানীয়দের মত, ঘটনাটি এতটা সংগঠিত ও দ্রুত ছিল যে আক্রমণকারীরা আগে থেকেই পরিকল্পনা করে এসেছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে নানুর এলাকায় একাধিক বিক্ষিপ্ত অশান্তি দেখা গিয়েছে। ফলে এই হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে নতুন করে নিরাপত্তা প্রশ্নে উদ্বেগ বাড়ছে। গ্রামবাসীদের একাংশ মনে করছেন, এই হামলা শুধু বচসার জেরে হতে পারে না; এর নেপথ্যে বৃহত্তর উদ্দেশ্য থাকতে পারে।

শনিবার মঙ্গলকোট হাসপাতালে রাসবিহারীর দেহের ময়নাতদন্ত হবে। এর পর তাঁর মরদেহ নিয়ে আসা হবে গ্রামে, যেখানে এখনই উত্তেজনা চরমে।

নানুর যেন আবারও হয়ে উঠেছে বাংলার রাজনৈতিক অশান্তির প্রতিচ্ছবি—যেখানে গ্রাম্য আড্ডাও হয়ে উঠছে মৃত্যুফাঁদ। পুলিশের তদন্তে সামনে আসে কি প্রকৃত কারণ, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা এলাকা।

দু’দিন শিয়ালদহ শাখায় বন্ধ থাকবে একাধিক ট্রেন, জানুন বিস্তারিত

দু’দিন শিয়ালদহ শাখায় বন্ধ থাকবে একাধিক ট্রেন, জানুন বিস্তারিত

শিয়ালদহ শাখা-র যাত্রীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খবর। বিধাননগর–শিয়ালদহ স্টেশনের মধ্যবর্তী রেললাইনে বড়সড় রক্ষণাবেক্ষণ ও ট্রাফিক ব্লক নেওয়ায় আগামী ৮ এবং ৯ ডিসেম্বর একাধিক ট্রেন বাতিল করা হচ্ছে। পূর্ব রেল ইতিমধ্যেই এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে যাত্রীদের সতর্ক করেছে। যেহেতু শিয়ালদহ শাখা কলকাতা ও উত্তর ২৪ পরগনার হাজারো নিত্যযাত্রীর প্রধান লাইফলাইন, তাই এই দু’দিনের কাজ যাত্রীসাধারণের দৈনন্দিন যাতায়াতে প্রভাব ফেলবে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ৮ ডিসেম্বর রাত ১১টা ৪৫ মিনিট থেকে ৯ ডিসেম্বর ভোর ৩টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত মোট ২২৫ মিনিট চলবে রক্ষণাবেক্ষণ। শিয়ালদহ ও বিধাননগর রোড স্টেশনের মাঝে ১ নম্বর ব্রিজের ৫ নম্বর লাইনে এই কাজ হবে। সেই সময় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকবে এবং শিয়ালদহ শাখা দিয়ে ট্রেন চলবে না।

দু’দিন শিয়ালদহ শাখায় বন্ধ থাকবে একাধিক ট্রেন, জানুন বিস্তারিত

রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ব্লকের প্রয়োজন ছিল বহুদিন। লাইনের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে এবং ভবিষ্যতে যান্ত্রিক ত্রুটি কমাতে দ্রুত কাজ শেষ করার লক্ষ্য নিয়েছে পূর্ব রেল। তবে ফলে সাধারণ যাত্রীদের যে বাড়তি ভোগান্তি হবে, সেটাও স্বীকার করেছে রেল দফতর।

এই সময়ে শিয়ালদহ শাখা-র কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ লোকাল ট্রেন সম্পূর্ণ বাতিল করা হয়েছে। যেমন শিয়ালদহ–নৈহাটি এবং নৈহাটি–শিয়ালদহ লোকালের মতো রোজ যাতায়াতের নির্ভরযোগ্য ট্রেন দু’টি এই দু’দিন চলবে না। দৈনিক যাত্রীদের ওপর এর সরাসরি প্রভাব পড়বে।

কিছু ট্রেনের যাত্রাপথ সংক্ষেপ করা হয়েছে। শান্তিপুর–শিয়ালদহ লোকাল ৮ ডিসেম্বর শুধুমাত্র ব্যারাকপুর পর্যন্ত চলবে। আবার শিয়ালদহ–শান্তিপুর লোকাল ৯ ডিসেম্বর ব্যারাকপুর থেকেই যাত্রা শুরু করবে। বনগাঁ রুটেও পরিবর্তন আনা হয়েছে—বনগাঁ–শিয়ালদহ লোকাল চলবে দমদম ক্যান্টনমেন্ট পর্যন্ত।

দু’দিন শিয়ালদহ শাখায় বন্ধ থাকবে একাধিক ট্রেন, জানুন বিস্তারিত

শুধু যাত্রাপথই নয়, সময়সূচিতেও আনা হয়েছে পরিবর্তন। লালগোলা প্যাসেঞ্জারের সময় পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে, যাতে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। পূর্ব রেলের মতে, নিরাপত্তার স্বার্থেই এই পরিবর্তন প্রয়োজন।

যাত্রীদের অনেকে মনে করছেন, বছরের শেষের দিকে উৎসবমুখর আবহে যাতায়াতের ভিড় বেশি থাকে। তাই হঠাৎ রক্ষণাবেক্ষণের সিদ্ধান্ত কিছুটা অসুবিধে তৈরি করবে। তবে রেলের দাবি, লাইনের উন্নয়ন এখনই অত্যন্ত জরুরি, নইলে বৃহত্তর ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

শিয়ালদহ শাখা বহু বছর ধরে পূর্ব ভারতের অন্যতম ব্যস্ত রেল করিডর। প্রতিদিন কয়েক লক্ষ যাত্রী এই শাখা ব্যবহার করেন। তাই রক্ষণাবেক্ষণের কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন হলে ভবিষ্যতে যাত্রীদের যাতায়াত আরও মসৃণ হবে বলে আশাবাদ রেল কর্তাদের।

এই দু’দিন যাত্রাপথ পরিকল্পনা করার আগে যাত্রীদের রেলের কন্ট্রোল রুম নম্বর, অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা মোবাইল অ্যাপ থেকে সর্বশেষ তথ্য দেখে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরিবর্তিত সূচিতে অল্প সময়ের ভুলও যাত্রীদের বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে।

যদিও সাময়িক অসুবিধা থাকছে, তবুও রেল দফতর আশা করছে—যাত্রীদের সহযোগিতায় শিয়ালদহ শাখার এই জরুরি কাজ দ্রুত শেষ হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে এর সুফল মিলবে সকলের।

সংহতি দিবসে একতার বার্তা মমতার, সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ডাক

সংহতি দিবসে একতার বার্তা মমতার, সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ডাক

সংহতি দিবস উপলক্ষে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আবারও রাজ্যের মানুষের কাছে একতার বার্তা পৌঁছে দিলেন। ৬ ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে অতীতে বিভিন্ন গোষ্ঠী উত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টা করলেও, বাংলার মাটি কখনও বিভেদের রাজনীতিকে মাথা নত করেনি—এমনটাই মত মুখ্যমন্ত্রীর। সংহতি দিবস ঘিরে তাঁর লেখা X পোস্টে উঠে এসেছে সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান এবং শান্তি-সম্প্রীতির আহ্বান।

মমতা লেখেন, বাংলার মাটি রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, রামকৃষ্ণ ও বিবেকানন্দের শিক্ষা বহন করে। এখানে ধর্মভেদ নেই, আছে মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতা। তাঁর কথায়, যারা ভোটের রাজনীতিতে সাম্প্রদায়িকতার আগুন জ্বালাতে চাইছে, তাদের মোকাবিলা করবে বাংলা। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, বিভেদের রাজনীতি নয়, ঐক্যের চেতনায় জনগণ এগিয়ে যাবে।

সংহতি দিবসে একতার বার্তা মমতার, সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ডাক

তিনি আরও লেখেন, উৎসব সকলের—হিন্দু, মুসলিম, শিখ, খ্রিস্টান, জৈন ও বৌদ্ধ, সকলেই বাংলায় কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আনন্দ ভাগ করে নেয়। তাই সংহতি দিবসে তাঁর বার্তা ছিল স্পষ্ট—যারা দেশকে ভাঙতে চাইছে, তাদের বিরুদ্ধে লড়াই চলবে।

এই সংহতি দিবস তৃণমূলের কাছে শুধু ঐতিহাসিক স্মৃতিচারণ নয়, রাজনৈতিক বার্তাও। ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর থেকেই দিনটি তৃণমূল পালন করে আসছে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে প্রতি বছর এই দিনে শান্তি, সহমর্মিতা ও ধর্মীয় সম্প্রীতির বার্তা দেওয়া হয়। এ বছর ছাত্র ও যুব সংগঠনের দায়িত্বে বৃহৎ সভা অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে বহু ধর্মগুরু ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন।

সভা আয়োজনকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক প্রস্তুতিও চূড়ান্ত। কলকাতা ছাড়াও দুই ২৪ পরগনা ও হাওড়া থেকে ছাত্র-যুবদের অংশ নিতে বলা হয়েছে। নিরাপত্তার দিক থেকেও কড়াকড়ি চালু হয়েছে। বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়, সার্থক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্যরা নিরাপত্তা কর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় সভার খুঁটিনাটি সাজিয়ে নিয়েছেন।

সংহতি দিবসে
সংহতি দিবসে

এই সময়টিতে রাজনৈতিক উত্তাপও তুঙ্গে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক ঘিরে রাজ্যে মেরুকরণের অভিযোগ তুলছে তৃণমূল। দলের দাবি, বিজেপি আগামী দিনে অশান্তির পরিবেশ তৈরি করতে পারে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে সংহতি দিবসে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে।

এদিকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও সোশ্যাল মিডিয়ায় সংহতি দিবসের পোস্টার শেয়ার করে একতার বার্তা দিয়েছেন। তাঁর বার্তায়ও উঠে এসেছে সাংবিধানিক মূল্যের কথা এবং ধর্মীয় সম্প্রীতির প্রয়োজনীয়তা।

বাংলার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিকাঠামো বহুদিন ধরে বৈচিত্র্যের মধ্যেই ঐক্যের শিক্ষা দিয়ে এসেছে। রাজনৈতিক বিভাজন যতই চেষ্টা করুক, মানুষের জীবনযাত্রায় সেই ঐতিহ্য আজও অটুট। তাই সংহতি দিবস কেবল একটি প্রতীকী দিন নয়—এটি বাংলার বহুত্ববাদী সত্তার পুনর্স্মরণও।

মমতার ভাষায়—বাংলা শান্তির মাটি। ঐক্যের মাটি। এই মাটি কোনওদিন সাম্প্রদায়িকতার কাছে মাথা নত করেনি, ভবিষ্যতেও করবে না।

অনির্বাণ চক্রবর্তীর গাড়ি দুর্ঘটনা, টালিগঞ্জ ব্রিজের নিচে বাসের ধাক্কায় চাঞ্চল্য

অনির্বাণ চক্রবর্তীর গাড়ি দুর্ঘটনা, টালিগঞ্জ ব্রিজের নিচে বাসের ধাক্কায় চাঞ্চল্য

অভিনেতা অনির্বাণ চক্রবর্তী শনিবার সকালে একটি গুরুতর দুর্ঘটনার মুখোমুখি হন। চারু মার্কেট থেকে রাসবিহারি যাচ্ছিল তাঁর গাড়ি। পথে টালিগঞ্জ ব্রিজের নিচে একটি বাসের সঙ্গে প্রচণ্ড ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় গাড়ি। জনপ্রিয় অভিনেতা, যিনি বহু দর্শকের কাছে ‘একেন বাবু’ নামেই বেশি পরিচিত, জানিয়েছেন—তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন। এই খবরে অনুরাগীরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন।

দুর্ঘটনার পরে অনির্বাণ চক্রবর্তী বলেন, আচমকাই অন্য একটি গাড়ি তাঁর গাড়ির সামনে এসে পড়ে। সেটিকে বাঁচাতে গিয়েই তিনি নিয়ন্ত্রণ হারান, আর তখনই ঘটে বাসের সঙ্গে সংঘর্ষ। অনির্বাণ চক্রবর্তীর গাড়ি দুর্ঘটনা সংক্রান্ত ভিডিও ও খবর সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই উদ্বেগ বাড়ে ভক্তদের মধ্যে।

অনির্বাণ চক্রবর্তীর গাড়ি দুর্ঘটনা, টালিগঞ্জ ব্রিজের নিচে বাসের ধাক্কায় চাঞ্চল্য

অভিনেতা জানিয়েছেন, বাসচালকের আচরণ ছিল অত্যন্ত উদ্ধত। তাঁর দাবি, যদি তিনি ব্রেক না কষতেন, তাহলে নাকি আরও ভয়াবহ ঘটনা ঘটত। তবে দায়িত্ব এড়িয়ে ঘটনাটির দোষ পুরোপুরি অনির্বাণের উপর চাপানোর চেষ্টা করেন বাসচালক। এমনকি তিনি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে, অনির্বাণ নিজেই বাধা দেন।

দুর্ঘটনার তীব্রতা ছিল যথেষ্ট। গাড়ির সামনে অংশ পুরোপুরি ভেঙে গিয়েছে, এমনকি গাড়ির সামনের কাচও চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়। তবে ঈশ্বরের কৃপায় অনির্বাণ চক্রবর্তী বা তাঁর চালক—কেউই আহত হননি। গাড়ি এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে তা রাস্তায় চালানোর মতো অবস্থায় নেই। ফলে পরবর্তী গন্তব্যে পৌঁছতে পুলিশের গাড়িতে ব্যবস্থা করা হয়।

অনির্বাণ চক্রবর্তীর গাড়ি দুর্ঘটনা

ঘটনা জানাতে প্রথমে টালিগঞ্জ থানা এবং পরে চারু মার্কেট থানায় যোগাযোগ করেন অনির্বাণ চক্রবর্তী। অভিনেতা জানান, পুলিশ যথেষ্ট দ্রুততার সঙ্গে সহযোগিতা করছে। প্রশাসন অভিযোগ নথিভুক্ত করেছে এবং তদন্তও শুরু হয়েছে।

অভিনেতা সেই সময় একটি অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে ছিলেন। তাঁর হঠাৎ অনির্বাণ চক্রবর্তীর গাড়ি দুর্ঘটনা-র খবর টলিপাড়ায়ও চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। ‘একেন বাবু’ সিরিজের জন্য জনপ্রিয় এই অভিনেতার উপর দর্শকদের আবেগ গভীর। তাই দুর্ঘটনার খবর মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে এবং উদ্বেগ বাড়তে থাকে।

অনির্বাণ জানান, তিনি শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ হলেও অভিজ্ঞতাটি ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ। আচমকা ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনার ধাক্কা কাটাতে কিছুটা সময় লাগবে বলেও জানান তিনি। তবে তাঁর অনুরাগীদের জন্য বার্তা—“আমি ঠিক আছি। কোনও রকম চোট লাগেনি। চালকও ভালো আছে।”

টালিগঞ্জ–চারু মার্কেট এলাকা বরাবরই ব্যস্ত রাস্তা। বাস, অটো, ট্যাক্সি—সব মিলিয়ে এই রুটে দুর্ঘটনার হার তুলনামূলক বেশি। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আচমকা লেন পরিবর্তন এবং বেপরোয়া বাসচালনা বহুবার দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনির্বাণের দুর্ঘটনাও এমন পরিস্থিতিরই নমুনা।

পুলিশ সূত্রে খবর, বাসচালকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। বাসচালক ঠিক কীভাবে গাড়ির সামনে এলেন বা দুর্ঘটনার জন্য কে বেশি দায়ী—তা জানতে পুলিশ তদন্ত করছে।

প্রশাসনের দাবি, অনির্বাণ চক্রবর্তী সময় মতো অভিযোগ করেছেন, এবং তাঁরা সর্বোচ্চ সহযোগিতা দিচ্ছেন। ঘটনার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় আরও কোনও সমস্যা হয়নি।

দিনের শেষে, অভিনেতার ভক্তদের জন্য राहतের কথা—অনির্বাণ চক্রবর্তী নিরাপদ এবং সুস্থ। তবে তাঁর গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তদন্তের পাশাপাশি ক্ষতিপূরণের বিষয়টিও দেখবে পুলিশ।

কার পরামর্শে IPL থেকে রাসেলের অবসর? সামনে এলো সেই তথ্য

কার পরামর্শে IPL থেকে রাসেলের অবসর? সামনে এলো সেই তথ্য

নিলামের ঠিক আগে আন্দ্রে রাসেলকে ছেড়ে দিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স। পরে একই রাসেলকেই IPL-এ নতুন ভূমিকায় পাওয়ার কোচ হিসাবে দলে ফেরাল কেকেআর। এই নাটকীয় পরিবর্তনের পিছনে যে মূল ভূমিকা রয়েছে শাহরুখ খানের, তা প্রকাশ্যে আনলেন দলের সিইও বেঙ্কি মাইসোর। তাঁর দাবি, রাসেলের IPL অবসর এবং কোচিং ভূমিকায় যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তে আবেগের পাশাপাশি জড়িয়ে ছিল বড় টাকার অঙ্কও।

IPL–এর এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্রিকেটমহলে প্রশ্ন উঠছিল। কেন হঠাৎ করে কেকেআর এমন একজন match-winner-কে ছাড়ল, যিনি একাধিক মরসুমে দলকে একার হাতে ম্যাচ জিতিয়েছেন? বেঙ্কি মাইসোর জানালেন, এটি কোনও হঠকারী সিদ্ধান্ত নয়, বরং দীর্ঘ আলোচনা, মূল্যায়ন এবং আর্থিক হিসাব–নিকাশের ফল।

কার পরামর্শে IPL থেকে রাসেলের অবসর? সামনে এলো সেই তথ্য

বেঙ্কি ‘ক্রিকইনফো’-কে বলেন, রাসেলকে ছেড়ে দেওয়ার খবর শুনে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন তিনি। তাঁর কথায়, সিদ্ধান্ত জানানো মাত্র রাসেল দুঃখ পেয়েছিলেন। তখনই তিনি পুরো বিষয়টি জানান দলের মালিক শাহরুখ খানকে। শাহরুখ প্রস্তাব দেন, ফ্রাঞ্চাইজি যদি রাসেলকে ছাড়তে বাধ্য হয়, তাহলে অবসর নিয়ে দলের কোচিং সেট–আপে যোগ দিতে পারেন তিনি। শোনা যায়, এই কথাই রাসেলের মনে শক্তি যোগায় এবং তিনি নতুন দায়িত্ব নিতে রাজি হন।

নেপথ্যে কিন্তু আরেকটি বড় কারণ ছিল টাকার হিসাব। বেঙ্কির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, গত নিলামের আগে রাসেলের চুক্তি ছিল ১২ কোটি। কিন্তু IPL-এর রিটেনশন নিয়ম অনুযায়ী, তাঁকে চতুর্থ খেলোয়াড় হিসেবে রাখা হয়েছিল বলে কেকেআরের বাজেট থেকে কাটা হয়েছিল ১৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ, আসল বেতন ১২ কোটি হলেও দলের পার্স থেকে বরাদ্দ কমেছিল ১৮ কোটি। বেঙ্কি বলেন, ছোট নিলামের ক্ষেত্রে এই অঙ্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণেই রিটেনশন–হিসাব মাথায় রেখে ফ্র্যাঞ্চাইজিকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।

যদি রিটেনশন মূল্য ১২ কোটিই থাকত, তবে পরিস্থিতি অন্যরকম হতে পারত বলে মনে করেন বেঙ্কি। তাঁর কথায়, ১২ কোটিও অনেক টাকা, কিন্তু রাসেলের মতো ক্রিকেটারের প্রকৃত মূল্য তার থেকেও বেশি। তবু ১৮ কোটি টাকা বাজেটে ফিরে আসাটাই দলীয় পরিকল্পনায় বড় ভূমিকা নিয়েছিল।

কার পরামর্শে IPL থেকে রাসেলের অবসর?
কার পরামর্শে IPL থেকে রাসেলের অবসর?

রাসেল সিদ্ধান্তে আঘাত পেয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু কেকেআর পরিবারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এত গভীর যে দূরে সরে যাওয়ার কথা তিনি ভাবতেই পারেননি। বেঙ্কি জানান, সিদ্ধান্ত জানার পর দু’ রাত ঘুমোতে পারেননি রাসেল। ১১ বছরের সম্পর্ক, পুরনো স্মৃতি, দলের প্রতি আবেগ—সব মিলিয়ে তিনি ভেঙে পড়েছিলেন। বেঙ্কি বলেন, তাঁকে ফিটনেস বাড়ানোর জন্য বিদেশ পাঠানো, নির্বাসনের সময়ে পাশে থাকা—সবসময়ই রাসেল কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

রাসেলকে পাওয়ার কোচ হিসাবে নেওয়ার সিদ্ধান্তও এসেছে হঠাৎ—এমনটাই জানালেন কেকেআর সিইও। তাঁর মতে, রাসেলের শারীরিক শক্তি, লম্বা শট মারার ক্ষমতা এবং ম্যাচ শেষ করে আসার মানসিক দক্ষতা দলের তরুণদের শেখানোর জন্য আদর্শ। পাওয়ার হিটিং, ফিল্ডিং আর মানসিক প্রস্তুতি—সবই নতুনদের শেখাবেন রাসেল। কোচিংয়ের চাইতে ড্রেসিংরুমে ইতিবাচক ভাব বজায় রাখাই হবে তাঁর প্রধান ভূমিকা।

কেবল রাসেলই নন, বদলে গেছে পুরো কোচিং স্টাফ। অভিষেক নায়ার হয়েছেন প্রধান কোচ, দলে যোগ দিয়েছেন ডোয়েন ব্র্যাভো, শেন ওয়াটসন, টিম সাউদি। বেঙ্কির ভাষায়, ২০২৪ সালের পর গোটা কোচিং প্যানেল জাতীয় দলে যোগ দেওয়া উপলক্ষে কেকেআর বুঝতে পারে—নতুন যুগের ক্রিকেটে সদ্য অবসর নেওয়া ক্রিকেটাররাই সবচেয়ে উপযুক্ত। তাই পুরনো অভিজ্ঞতা নয়, নতুন প্রজন্মের দৃষ্টিভঙ্গিকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

শেষ পর্যন্ত পরিষ্কার—IPL–এ রাসেলের অবসর এবং কেকেআরে তাঁর নতুন দায়িত্ব—উভয়ই এসেছে আবেগ, বাস্তবতা এবং অর্থনৈতিক পরিকল্পনার সংমিশ্রণ থেকে। আর এই পুরো অধ্যায়ের নেপথ্যে রয়ে গেছেন শাহরুখ খান।

মঙ্গল-আদিত্য যোগে ডিসেম্বরেই টাকার স্রোত, ভাগ্যবদলের সময় এই ৪ রাশির

মঙ্গল-আদিত্য যোগে ডিসেম্বরেই টাকার স্রোত, ভাগ্যবদলের সময় এই ৪ রাশির

ডিসেম্বর ২০২৫ শুরু হতেই জ্যোতিষজগতে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে মঙ্গল-আদিত্য যোগ। সূর্য ও মঙ্গলের এই বিরল সংযোগ বৈদিক জ্যোতিষ অনুসারে শক্তি, কর্মোদ্যম, অর্থপ্রাপ্তি ও সামাজিক সম্মানের প্রতীক। জ্যোতিষীরা মনে করছেন, এই মঙ্গল-আদিত্য যোগ বছরের শেষে চারটি রাশিকে অফুরন্ত আর্থিক সাফল্যের পথে এগিয়ে দেবে।

আগামীকাল রাতে মঙ্গল ধনু রাশিতে প্রবেশ করছে এবং ১৬ ডিসেম্বর সেখানে যোগ দেবে সূর্য। ফলে ধনু রাশিতে তৈরি হবে প্রভাবশালী মঙ্গল-আদিত্য যোগ, যা কার্যকর থাকবে ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত। এই সময়কে অনেকেই বছরের সবচেয়ে শক্তিশালী গ্রহসংযোগের মধ্যে অন্যতম বলে মনে করছেন।

মঙ্গল-আদিত্য যোগে ডিসেম্বরেই টাকার স্রোত, ভাগ্যবদলের সময় এই ৪ রাশির

সূর্য যেখানে আত্মশক্তি, নেতৃত্ব ও সফলতার প্রতীক, মঙ্গল সেখানে কর্মোদ্যম, সাহস ও দৃঢ়তার কারক। তাই এই দুটি গ্রহ একই রাশিতে যুক্ত হলে জীবনে শুরু হয় গতিময়তা। বিশেষ করে অর্থভাগ্য ও করিয়ারে এর প্রভাব স্পষ্ট হয় বলে বিশ্বাস করেন জ্যোতিষীরা। এ কারণেই ডিসেম্বরের শেষ কয়েক সপ্তাহকে অনেকেই ‘লক্ষ্মীর আগমনের সময়’ বলছেন।

এই মঙ্গল-আদিত্য যোগ বিশেষভাবে সুফল দেবে মিথুন, তুলা, ধনু এবং কুম্ভ রাশিকে। চলুন দেখে নেওয়া যাক, কোন রাশির জন্য কী বদল অপেক্ষা করছে।

মিথুন রাশির জাতকদের দীর্ঘদিনের আর্থিক চাপ কমে আসবে। নতুন আয় বৃদ্ধির পথ খুলে যাবে এবং কর্মক্ষেত্রে সাফল্যের সুযোগ বাড়বে। আত্মবিশ্বাসের জোরে নতুন সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন, যা ভবিষ্যতে বড় লাভ এনে দেবে। প্রেমজীবনেও আসবে স্থিরতা। যারা বিনিয়োগ করেছেন, তারা পাচ্ছেন বহুগুণ রিটার্ন পাওয়ার সম্ভাবনা। পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কও দৃঢ় হবে।

3 mithun 5

তুলা রাশির জন্য এই সময় বিশেষ শুভ। মঙ্গল-আদিত্য যোগ আপনাকে দেবে কর্মক্ষেত্রে স্বীকৃতি ও নতুন দায়িত্ব। ব্যবসায়ীদের জন্য সময়টি লাভজনক, বিশেষ করে নতুন কোনও প্রকল্প শুরু করলে সফলতা দ্রুত মিলবে। দাম্পত্যে ভুল বোঝাবুঝি কমে আসবে। জমি বা সম্পত্তি সংক্রান্ত বিষয়ে লাভের ইঙ্গিত রয়েছে। সন্তানদের বিদেশযাত্রা বা উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

7 tula 5

ধনু রাশির জন্য এই সময় ভাগ্যের চাকা বদলে দেওয়ার মতো। সূর্য-মঙ্গলের সংযোগ ধনুর নিজ রাশিতেই গঠিত হওয়ায় ফল আরও শক্তিশালী হবে। কর্মজীবনে পদোন্নতি, বেতন বৃদ্ধি এবং বড় কোনও চুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে। ব্যবসায়ীরা নতুন ক্লায়েন্ট পেতে পারেন। যারা দীর্ঘদিন ধরে কোনও বিষয়ে বাধার মুখে পড়ছিলেন, তারা এবার সমাধানের পথ পাবেন। পরিবারে আনন্দমুখর পরিবেশ তৈরি হবে এবং দাম্পত্যে সময় কাটাতে চাইবেন দু’জনেই।

9 dhanu 5

কুম্ভ রাশির জাতকদের জন্য এই সময়টি সম্পত্তি ও সামাজিক সম্মানের যোগ তৈরি করছে। পূর্বপুরুষের সম্পত্তি বা নতুন সম্পদ অর্জনের সম্ভাবনা উজ্জ্বল। নতুন ব্যবসা শুরু করতে চাইলে সময়টি অত্যন্ত শুভ। চাকরিজীবীদের দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ কমে আসবে এবং সহকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নতি পাবে। সঙ্গীর সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি মিটে গিয়ে সম্পর্ক আরও স্থিতিশীল হবে।

11 kumbha 5

জ্যোতিষ অনুযায়ী, মঙ্গল-আদিত্য যোগ শুধু আর্থিক উন্নতি নয়, জীবনের সার্বিক অগ্রগতির দ্বারও খুলে দেয়। তবে সময়কে কাজে লাগাতে প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা, যুক্তিবোধ এবং স্থিরতা। গ্রহের প্রভাব সুযোগ তৈরি করে, কিন্তু সেই সুযোগকে গ্রহণ করার দায়িত্ব আমাদেরই। এ কারণে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিসেম্বরের এই শক্তিশালী যোগকে যেভাবে কাজে লাগাবেন, আগামী বছরের সাফল্য ততটাই সহজ হবে।

বাবরি শিলান্যাস ঘিরে বেলডাঙায় উত্তেজনা, নিরাপত্তায় র‍্যাফ–পুলিশ মোতায়েন

বাবরি শিলান্যাস ঘিরে বেলডাঙায় উত্তেজনা, নিরাপত্তায় র‍্যাফ–পুলিশ মোতায়েন

বেলডাঙা-২ ব্লকে বাবরি শিলান্যাস ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শুক্রবার থেকেই র‍্যাফ ও পুলিশের উপস্থিতি কার্যত ছয়লাপ মুর্শিদাবাদে। কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে কড়া সতর্কতায় রাজ্য প্রশাসন। শনিবার সকালে আরও আঁটসাঁট করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এর মধ্যেই শিলান্যাসের জন্য নির্দিষ্ট জমিতে হাজির হন তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হওয়া ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। ভিনজেলা থেকে আসা সমর্থকদের তিনি শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানান।

বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা হুমায়ুন ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করেছেন, ৬ ডিসেম্বরই বাবরি শিলান্যাস হবে। মুখ্যমন্ত্রীর সভায় গিয়ে সাসপেনশনের খবর জানার পরও তাঁর অবস্থান বদলায়নি। বরং আরও দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করেছিলেন, বেলডাঙার ছেতিয়ানি এলাকায় তিনি ‘বাবরি মসজিদ’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেই ছাড়বেন। শনিবার সকালেও নিজে দাঁড়িয়ে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি তদারকি করতে দেখা যায় তাঁকে।

বাবরি শিলান্যাস ঘিরে বেলডাঙায় উত্তেজনা, নিরাপত্তায় র‍্যাফ–পুলিশ মোতায়েন

এদিকে, পরিস্থিতি যাতে অশান্তিতে না গড়ায়, সেই কারণে মুর্শিদাবাদকে মুড়ে ফেলা হয়েছে নিরাপত্তার বলয়ে। রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে অতিরিক্ত পুলিশবাহিনী এনে মোতায়েন করা হয়েছে এলাকায়। কেন্দ্রীয় বাহিনীর রুটমার্চ চলছে সকাল থেকে। প্রশাসনের বক্তব্য, কলকাতা হাই কোর্ট যে দায়িত্ব রাজ্যের হাতে তুলে দিয়েছে, তা নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করবে পুলিশ–প্রশাসন।

শনিবার সকালে শিলান্যাস ঘিরে উচ্ছ্বাসও প্রকাশ করেছেন হুমায়ুন। তাঁর দাবি, এই কর্মসূচি ‘ঐতিহাসিক’। বিপুল মানুষের জমায়েত হবে। সৌদি আরব থেকে আগত এক ইমামও উপস্থিত থাকবেন বলে জানান তিনি। দুপুর ১২টা থেকে ২টো—এই দুই ঘণ্টার মধ্যেই মূল অনুষ্ঠান সম্পন্ন করার পরিকল্পনা।

তবে শুরু থেকেই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে বাবরি মসজিদ নামটি। তৃণমূল নেতা ফিরহাদ হাকিম পরিষ্কার জানিয়েছিলেন, যে কেউ মন্দির বা মসজিদ তৈরি করতে পারেন—কিন্তু ‘বাবরি মসজিদ’ নামকরণের রাজনৈতিক বার্তা দল বরদাস্ত করবে না। সেই বার্তা দিয়েই দলের তরফে হুমায়ুনকে সাসপেন্ড করা হয়।

দলীয় সিদ্ধান্তের পরও হুমায়ুন নিজে পিছিয়ে যাননি। তাঁর বক্তব্য, এত বিরোধিতা সত্ত্বেও তিনি এই মসজিদ তৈরি করে ছাড়বেন। সকালেও বলেন, বেলা ১২টা থেকে ২টার মধ্যে শিলান্যাস হবে, এবং সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা তিনি নিজে দেখছেন।

হুমায়ুনের ঘোষণার পর বিষয়টি কলকাতা হাই কোর্টেও গড়ায়। যদিও আদালত হস্তক্ষেপ করেনি। বরং আইনশৃঙ্খলার ভার রাজ্য প্রশাসনের হাতে ছেড়ে দেয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশাসনের উপর চাপ আরও বেড়েছে।

এখন নজর শিলান্যাসের দিন ও সময়কে ঘিরে। বাবরি শিলান্যাস নিয়ে হুমায়ুনের দাবি, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় পরিসরে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত করেছে। অন্যদিকে, প্রশাসনের লক্ষ্য—কোনও ভাবেই অশান্তি ছড়াতে না দেওয়া। র‍্যাফ, কেন্দ্রীয় বাহিনী ও জেলা পুলিশের সমন্বিত নজরদারিতে বেলডাঙা প্রস্তুত হয়ে উঠেছে এক টানটান পরিস্থিতির দিনের জন্য।