খলিস্তানি সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক কঠোর পদক্ষেপ নিল ব্রিটেন

ভারতের কূটনৈতিক চাপের পর খলিস্তানি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ও গুরপ্রীত সিং রেহালের বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করল ব্রিটেন, বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি ও কার্যত নিষিদ্ধ কার্যকলাপ।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

খলিস্তানি সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্রিটেনের কঠোর পদক্ষেপ ভারত–ব্রিটেন কূটনৈতিক সম্পর্কে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিল। দীর্ঘদিন ধরে ভারতের বার্তা ছিল—লন্ডনে বসে খলিস্তানি নেটওয়ার্ক ভারতের বিরুদ্ধে terror funding, Khalistani extremismanti-India activities চালাচ্ছে। অবশেষে সেই অভিযোগ স্বীকার করে ব্রিটিশ সরকার প্রথমবারের মতো সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী আইনের অধীনে সরাসরি ব্যবস্থা নিল।

ব্রিটিশ প্রশাসন গুরপ্রীত সিং রেহালবব্বর অকালি লেহের-এর বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। দু’জনের ওপর কাউন্টার-টেরোরিজম (নিষেধাজ্ঞা) বিধিমালা ২০১৯ অনুযায়ী সন্ত্রাসবাদ-সম্পর্কিত কার্যকলাপের অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে ব্রিটেন স্পষ্ট জানিয়ে দিল—ভারত বিরোধী খলিস্তানি সন্ত্রাসীদের আর মাটি দেওয়া হবে না।

খলিস্তানি সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক কঠোর পদক্ষেপ নিল ব্রিটেন

ব্রিটিশ অর্থ মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, রেহাল এবং তার সঙ্গে যুক্ত তিনটি সংস্থার সম্পূর্ণ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে—Sanchay Punjab CIC, Whitehawk Consultants Ltd, এবং একটি অসংগঠিত প্রতিষ্ঠান Loha Design। এই বাজেয়াপ্তকরণ শুধু আর্থিক আঘাত নয়, খলিস্তানি সংগঠনগুলির অর্থ সঞ্চালন পুরোপুরি আটকাতে এক শক্তিশালী কৌশল।

রেহালকে কোনও সংস্থার পরিচালক হিসেবে কাজ করা বা প্রত্যক্ষ–পরোক্ষভাবে কোনও ব্যবস্থাপনায় অংশ নেওয়াও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড বা এক মিলিয়ন পাউন্ড পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। ব্রিটিশ আইন বিশেষজ্ঞেরা একে বলছেন—the strongest action ever taken against Khalistani terror funding networks in the UK.

ব্রিটিশ সরকারের মূল্যায়নও জানায়, এই প্রথমবার খলিস্তানি নেটওয়ার্ককে চিহ্নিত করে সন্ত্রাসীদেরকে আর্থিকভাবে কোণঠাসা করতে এত বিস্তৃত আইন প্রয়োগ করা হয়েছে। ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলির প্রতিবেদন বারবার বলেছে—লন্ডন ও বার্মিংহাম মিলিয়ে বব্বর খালসা এবং বব্বর অকালি লেহের খোলাখুলি জঙ্গি কার্যকলাপের প্রচার, সদস্য সংগ্রহ ও ফান্ডিং চালিয়ে আসছে। সেই প্রেক্ষিতেই ব্রিটেনের এই সিদ্ধান্তকে “ঐতিহাসিক” বলা হচ্ছে।

ভারতে Babbar Khalsa International (BKI) বহু বছর ধরেই নিষিদ্ধ। ব্রিটেনও বহুবার এই সংগঠনের হুমকি স্বীকার করেছে, কিন্তু কার্যকর কোনও পদক্ষেপ নেওয়ার অভিযোগ ছিল না। এবার সেই দীর্ঘসূত্রতার অবসান ঘটল।

ব্রিটিশ অর্থ সচিব লুসি রিগবি কেসি বলেছেন—
“সন্ত্রাসীরা ব্রিটেনের আর্থিক ব্যবস্থাকে ব্যবহার করলে আমরা কখনোই তা মেনে নেব না। এই পদক্ষেপ দেখিয়ে দিল—আমরা ঘৃণা ও সহিংসতার পাশে নই, বরং শান্তিপূর্ণ সমাজের পাশে আছি।”

কূটনৈতিক মহলের মতে, ভারতের বারবার হুঁশিয়ারি এবং সাম্প্রতিক উচ্চ পর্যায়ের আলোচনাই এই সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে কানাডায় খলিস্তানি কার্যকলাপ নিয়ে তৈরি উত্তেজনার পর ব্রিটেনের ওপর চাপ আরও বাড়ে।

ব্রিটেনের এই সিদ্ধান্ত ভারতের কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। বহুদিন ধরে ভারত বলছিল—পাঞ্জাবের বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসবাদের পেছনে বিদেশে থাকা এই নেটওয়ার্কই মূল অর্থদাতা। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই ব্রিটেন এবার কঠোর অবস্থান নিল।

ব্রিটিশ গোয়েন্দা মহলের বক্তব্য অনুযায়ী, রেহাল এবং বব্বর অকালি লেহের জঙ্গল কার্যকলাপের প্রচার, নিয়োগ এবং অর্থ সংগ্রহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছিল। তাদের এই নেটওয়ার্ক উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ এবং অস্ট্রেলিয়া—তিন মহাদেশেই ছড়ানো ছিল।

ভারত–ব্রিটেন সম্পর্ক নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত হওয়ার পথে এই সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে একটি বড় টার্নিং পয়েন্ট। বিশেষজ্ঞদের মতে, খলিস্তানি সন্ত্রাসীদের জন্য এবার UK is no longer a safe haven

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত