“২-৩ সপ্তাহে ভয়ঙ্কর হামলা”—ইরানকে কড়া বার্তা ট্রাম্পের, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও তীব্র

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারিতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা—ইরানের পাল্টা বার্তা, যুদ্ধ চলবে আরও ছয় মাস; জ্বালানি সঙ্কটের আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন আন্তর্জাতিক মহল

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমশ জটিল হচ্ছে যুদ্ধ পরিস্থিতি। তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী, জ্বালানি সঙ্কটের আশঙ্কা বাড়ছে বিশ্বজুড়ে—এই আবহেই ইরানকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিলেন Donald Trump। তাঁর দাবি, আগামী ২-৩ সপ্তাহের মধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে ‘ভয়ঙ্কর আঘাত’ হানতে পারে মার্কিন বাহিনী—যা নতুন করে বিশ্ব রাজনীতিতে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

বুধবার জাতির উদ্দেশে ভাষণের আগে সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র খুব দ্রুত ইরান থেকে সরে আসতে পারে, তবে প্রয়োজন হলে ফের সামরিকভাবে ফিরে আসবে। তাঁর এই মন্তব্যে স্পষ্ট, পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত অনিশ্চিত এবং কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা ক্ষীণ।

প্রসঙ্গত, ইরান-ইজরায়েল সংঘাত ইতিমধ্যেই এক মাস পেরিয়ে গিয়েছে। যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতিতেও—বিশেষ করে তেলের বাজারে। এই পরিস্থিতিতে যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছে ওয়াশিংটন, যদিও ময়দানে উত্তেজনা কমার কোনও লক্ষণ নেই।

এর আগে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরান যুদ্ধবিরতির আবেদন জানিয়েছে এবং Strait of Hormuz খুলে দেওয়ার শর্ত তুলেছে। তবে এই দাবি সরাসরি খারিজ করে দেয় তেহরান। ইরানের বিদেশ মন্ত্রক জানায়, এমন কোনও অনুরোধ তারা করেনি এবং এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

ইরানের বিদেশমন্ত্রী Abbas Araghchi স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আমেরিকা বা ইজরায়েলের কোনও চাপেই নতি স্বীকার করবে না ইরান। বরং প্রয়োজন হলে অন্তত ছয় মাস ধরে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে তাদের। তাঁর কথায়, “সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হলেও আমরা তা মানতে বাধ্য নই। নিজেদের রক্ষায় যতদিন প্রয়োজন, ততদিন লড়াই চলবে।”

এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে। International Energy Agency-র প্রধান ফাতিহ বিরোল সতর্ক করেছেন, বর্তমান সংঘাত চলতে থাকলে এপ্রিল মাসে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সঙ্কট আরও তীব্র হতে পারে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সামরিক অভিযানের জেরে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি ঘটে। মার্কিন ও ইজরায়েলি বাহিনীর বিমান হামলায় ইরানের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং শীর্ষ নেতৃত্বের বড় ক্ষয়ক্ষতির খবর সামনে আসে।

তবে নতুন নেতৃত্বের অধীনে ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে—কোনও চাপিয়ে দেওয়া শর্ত তারা মানবে না। ওয়াশিংটনের দাবি অনুযায়ী আলোচনা চলছে—এই কথাও নস্যাৎ করেছে তেহরান। আরাগচির মতে, প্রকৃত আলোচনার জন্য যে পারস্পরিক বৈঠক প্রয়োজন, তার কোনও পরিবেশ এখনও তৈরি হয়নি।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন