সংহতি দিবস উপলক্ষে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আবারও রাজ্যের মানুষের কাছে একতার বার্তা পৌঁছে দিলেন। ৬ ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে অতীতে বিভিন্ন গোষ্ঠী উত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টা করলেও, বাংলার মাটি কখনও বিভেদের রাজনীতিকে মাথা নত করেনি—এমনটাই মত মুখ্যমন্ত্রীর। সংহতি দিবস ঘিরে তাঁর লেখা X পোস্টে উঠে এসেছে সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান এবং শান্তি-সম্প্রীতির আহ্বান।
মমতা লেখেন, বাংলার মাটি রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, রামকৃষ্ণ ও বিবেকানন্দের শিক্ষা বহন করে। এখানে ধর্মভেদ নেই, আছে মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতা। তাঁর কথায়, যারা ভোটের রাজনীতিতে সাম্প্রদায়িকতার আগুন জ্বালাতে চাইছে, তাদের মোকাবিলা করবে বাংলা। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, বিভেদের রাজনীতি নয়, ঐক্যের চেতনায় জনগণ এগিয়ে যাবে।


সংহতি দিবসে একতার বার্তা মমতার, সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ডাক
তিনি আরও লেখেন, উৎসব সকলের—হিন্দু, মুসলিম, শিখ, খ্রিস্টান, জৈন ও বৌদ্ধ, সকলেই বাংলায় কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আনন্দ ভাগ করে নেয়। তাই সংহতি দিবসে তাঁর বার্তা ছিল স্পষ্ট—যারা দেশকে ভাঙতে চাইছে, তাদের বিরুদ্ধে লড়াই চলবে।
এই সংহতি দিবস তৃণমূলের কাছে শুধু ঐতিহাসিক স্মৃতিচারণ নয়, রাজনৈতিক বার্তাও। ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর থেকেই দিনটি তৃণমূল পালন করে আসছে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে প্রতি বছর এই দিনে শান্তি, সহমর্মিতা ও ধর্মীয় সম্প্রীতির বার্তা দেওয়া হয়। এ বছর ছাত্র ও যুব সংগঠনের দায়িত্বে বৃহৎ সভা অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে বহু ধর্মগুরু ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন।
সভা আয়োজনকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক প্রস্তুতিও চূড়ান্ত। কলকাতা ছাড়াও দুই ২৪ পরগনা ও হাওড়া থেকে ছাত্র-যুবদের অংশ নিতে বলা হয়েছে। নিরাপত্তার দিক থেকেও কড়াকড়ি চালু হয়েছে। বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়, সার্থক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্যরা নিরাপত্তা কর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় সভার খুঁটিনাটি সাজিয়ে নিয়েছেন।



এই সময়টিতে রাজনৈতিক উত্তাপও তুঙ্গে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক ঘিরে রাজ্যে মেরুকরণের অভিযোগ তুলছে তৃণমূল। দলের দাবি, বিজেপি আগামী দিনে অশান্তির পরিবেশ তৈরি করতে পারে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে সংহতি দিবসে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে।
এদিকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও সোশ্যাল মিডিয়ায় সংহতি দিবসের পোস্টার শেয়ার করে একতার বার্তা দিয়েছেন। তাঁর বার্তায়ও উঠে এসেছে সাংবিধানিক মূল্যের কথা এবং ধর্মীয় সম্প্রীতির প্রয়োজনীয়তা।
বাংলার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিকাঠামো বহুদিন ধরে বৈচিত্র্যের মধ্যেই ঐক্যের শিক্ষা দিয়ে এসেছে। রাজনৈতিক বিভাজন যতই চেষ্টা করুক, মানুষের জীবনযাত্রায় সেই ঐতিহ্য আজও অটুট। তাই সংহতি দিবস কেবল একটি প্রতীকী দিন নয়—এটি বাংলার বহুত্ববাদী সত্তার পুনর্স্মরণও।
মমতার ভাষায়—বাংলা শান্তির মাটি। ঐক্যের মাটি। এই মাটি কোনওদিন সাম্প্রদায়িকতার কাছে মাথা নত করেনি, ভবিষ্যতেও করবে না।







