মালদহ কাণ্ডে সুপ্রিম কোর্টের কড়া ধমক, তদন্তে এনআইএ— চাপে পুলিশ-প্রশাসন

মালদহে এসআইআর নিয়ে অশান্তি, বিচারকদের আটকে রাখা ও হামলার ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের কড়া ভর্ৎসনা; শো-কজ় রাজ্যের শীর্ষ আধিকারিকদের, তদন্তে নামল এনআইএ

বিজ্ঞাপন
নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

মালদহে ভোটার তালিকা সংশোধন ঘিরে বিস্ফোরক অশান্তি, বিচারকদের আটকে রাখা এবং হামলার অভিযোগ—এই সবকিছুর জেরে সরব দেশের শীর্ষ আদালত। বৃহস্পতিবার দিনভর সুপ্রিম কোর্টের তীব্র ভর্ৎসনা এবং নির্বাচন কমিশনের কড়া অবস্থানের পর শেষমেশ তদন্তভার দেওয়া হল এনআইএ-কে। প্রশাসনের গাফিলতি নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলে চাপে পড়েছে রাজ্য পুলিশ ও আমলাতন্ত্র।

বুধবার রাতে মালদহের মোথাবাড়ি ও সুজাপুর এলাকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া ঘিরে উত্তেজনা চরমে ওঠে। অভিযোগ, কালিয়াচক-২ ব্লক অফিসে সাতজন বিচারককে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। শুধু তাই নয়, তাঁদের গাড়িতে হামলার ঘটনাও সামনে আসে। এই ঘটনায় রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করে আদালত।

ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল বিষয়টি সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে জানান। বৃহস্পতিবার সকালে শুনানিতে দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, এটি শুধুমাত্র বিচারকদের ভয় দেখানোর চেষ্টা নয়, বরং আদালতের প্রতি চ্যালেঞ্জ। তাঁর পর্যবেক্ষণ, “এই ঘটনা পরিকল্পিত এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত—যার লক্ষ্য বিচার প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করা।”

এসআইআর প্রক্রিয়ায় যুক্ত বিচারকদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা না দেওয়ায় রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে আদালত। মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিওয়ালা, ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত, মালদহের জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারকে শো-কজ় নোটিস পাঠানো হয়েছে। আদালতের নির্দেশ, কেন তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা নির্দিষ্টভাবে জানাতে হবে।

এদিকে, একই দিনে নির্বাচন কমিশনের জরুরি বৈঠকেও চাপে পড়েন প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার সরাসরি প্রশ্ন তোলেন—ঘটনার সময় পুলিশ কোথায় ছিল এবং কেন আগে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। কলকাতায় নির্বাচন দফতর ঘিরে অশান্তির ঘটনাতেও কড়া ভর্ৎসনার মুখে পড়েন পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ।

সবমিলিয়ে, মালদহের ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভাঙন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে শেষ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন তদন্তভার তুলে দেয় এনআইএ-র হাতে। প্রাথমিক রিপোর্ট দ্রুত আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর