Home Blog

১৪৩ রানেই অলআউট বাংলা, শামির জোড়া আঘাতে লড়াইয়ে ফিরল লক্ষ্মীরতনের দল

ইডেন গার্ডেন্সে মহারাষ্ট্রের বিরুদ্ধে রঞ্জি ট্রফির ম্যাচে বল করছেন মহম্মদ শামি
বাংলার ব্যাটিং বিপর্যয়ের পর বল হাতে জোড়া উইকেট মহম্মদ শামির।

রঞ্জি ট্রফিতে জয়ের হ্যাটট্রিক করেও ব্যাটিংয়ের দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে পারছে না বাংলা। ঘরের মাঠ ইডেন গার্ডেন্সে মহারাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ফের ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়ল লক্ষ্মীরতন শুক্লার দল। সোমবার প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৪৩ রানেই গুটিয়ে গেল বাংলার ব্যাটিং। অধিনায়ক অভিমন্যু ঈশ্বরণ থেকে শুরু করে অভিজ্ঞ ব্যাটাররা কেউই বড় রান করতে পারলেন না। একমাত্র লড়াই করলেন অভিষেক পোড়েল। তবে বাংলার ব্যাটিং ব্যর্থতার পর বল হাতে জবাব দিলেন মহম্মদ শামি। তাঁর জোড়া উইকেটে প্রথম দিনের শেষে চাপে মহারাষ্ট্রও।

এক বছর পর ইডেনে রঞ্জি ম্যাচ খেলতে নেমেছিল বাংলা। টস জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নেয় মহারাষ্ট্র। শুরু থেকেই বাংলার ব্যাটারদের উপর চাপ তৈরি করেন মহারাষ্ট্রের বোলাররা। প্রথম ইনিংসে মাত্র ৩৬.৫ ওভারেই শেষ হয়ে যায় বাংলার ইনিংস। দিনের শেষে মহারাষ্ট্রের সংগ্রহ ৮ ওভারে ২১ রান, ২ উইকেট। অর্থাৎ বাংলার থেকে এখনও ১২২ রানে পিছিয়ে রয়েছে তারা।

বাংলার ব্যাটিং বিপর্যয়ের শুরুটা হয় প্রথম থেকেই। অধিনায়ক অভিমন্যু ঈশ্বরণ মাত্র ১০ রান করে ফিরে যান। এরপর অঙ্কুর পালও ১ রানের বেশি করতে পারেননি। সুরজ সিন্ধু জয়সওয়ালকে উপরের দিকে তুলে আনার সিদ্ধান্তও কাজে আসেনি। তিনি কোনও রান না করেই আউট হন।

সুদীপ কুমার ঘরামি ১৯ রান করলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। অন্যদিকে সুদীপ চট্টোপাধ্যায়ের ব্যাটিং ব্যর্থতা অব্যাহত। এদিন তাঁর সংগ্রহ মাত্র ৭ রান। ফলে দ্রুত উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় বাংলা।

এই পরিস্থিতিতে এক প্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালান উইকেটকিপার-ব্যাটার অভিষেক পোড়েল। ৬৭ বলে ৫৪ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন তিনি। তাঁর ব্যাট থেকে আসে আটটি চার। তবে অন্য প্রান্তে নিয়মিত উইকেট পড়তে থাকায় বড় জুটি গড়ে ওঠেনি।

অভিষেককে কিছুটা সঙ্গ দেন প্রদীপ্ত প্রামাণিক। ৪৩ বলে ৩১ রান করেন তিনি। কিন্তু এই দুই ব্যাটার ছাড়া বাংলার আর কেউ উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ১৪৩ রানেই শেষ হয় বাংলার প্রথম ইনিংস।

ব্যাট হাতে ব্যর্থ হলেও বল হাতে শুরুটা ভালো করেছে বাংলা। মহারাষ্ট্রের ইনিংস শুরু হতেই আক্রমণে আসেন মহম্মদ শামি। নিজের অভিজ্ঞতা ও গতির সাহায্যে প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের চাপে রাখেন তিনি।

প্রথমে মহারাষ্ট্রের অধিনায়ক পৃথ্বী শ-কে ফেরান শামি। ২১ বলে ১২ রান করে বোল্ড হন পৃথ্বী। এরপর দিগ্বিজয় পাটিলকেও রানের খাতা খোলার আগেই প্যাভিলিয়নে ফেরান বাংলার তারকা পেসার। মাত্র এক বল খেলেই আউট হন তিনি।

শামির এই জোড়া আঘাতে ম্যাচে ফেরার আশা দেখছে বাংলা। দিনের শেষে তাঁর বোলিং পরিসংখ্যান ৪ ওভারে ৬ রান দিয়ে ২ উইকেট। অন্যদিকে মহারাষ্ট্রের স্কোর ৮ ওভারে ২১/২। উইকেটে রয়েছেন সিদ্ধেশ বীর ও অঙ্কিত বাওনে।

ইডেনে প্রথম দিনের খেলা নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই বন্ধ করে দিতে হয়। দুপুরের দিকে খারাপ আলোর কারণে খেলা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ের আগেই দিনের খেলা শেষ করার সিদ্ধান্ত নেন আম্পায়াররা।

ফলে বাংলার বোলাররা আরও বেশি সময় মহারাষ্ট্রের ব্যাটিংয়ের উপর চাপ তৈরি করার সুযোগ পাননি। তবে মাত্র ১৪৩ রানের জবাবে দুই উইকেট তুলে নেওয়া বাংলার কাছে কিছুটা স্বস্তির।

দিল্লির বিরোধী সমাবেশের পাল্টা কলকাতায় বিজেপির মেগা মিছিল, নেতৃত্বে নীতীন নবীন

কলকাতায় বিজেপির গণতন্ত্র বাঁচাও মিছিলে নীতীন নবীন ও শুভেন্দু অধিকারী
কলেজ স্ট্রিট থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত বিজেপির পদযাত্রায় নেতৃত্বে নীতীন নবীন।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিরোধীদের আন্দোলনের পাল্টা এবার রাস্তায় নামল বিজেপি। ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ স্লোগানকে সামনে রেখে সোমবার কলকাতায় মেগা পদযাত্রার আয়োজন করে গেরুয়া শিবির। কলেজ স্ট্রিট থেকে শুরু হয়ে মিছিল এগোয় ধর্মতলার দিকে। নেতৃত্বে ছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীন (Nitin Nabin)। আপনার দেওয়া ঘটনাবিবরণ অনুযায়ী, মিছিলে তাঁর সঙ্গে প্রথম সারিতে হাঁটেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) এবং রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)। তিন নেতার কাঁধেই ছিল জাতীয় পতাকা।

বিজেপির এই কর্মসূচি শুধু কলকাতায় সীমাবদ্ধ নয়। বিরোধীদের এসআইআর-বিরোধী প্রচার এবং ‘ভোট চুরি’র অভিযোগের জবাব দিতে একাধিক রাজ্যে পদযাত্রা ও জনসংযোগ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে দল। কলকাতার পাশাপাশি সোমবার হায়দরাবাদে একই স্লোগানে পদযাত্রায় অংশ নেওয়ার কথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের।

সোমবার দুপুরে কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীন। তাঁকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। সেখান থেকে তাঁরা কলেজ স্ট্রিটের উদ্দেশে রওনা দেন। মিছিল শুরুর আগে থেকেই এলাকায় জড়ো হতে থাকেন বিজেপির নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা।

দলের ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, বিকেল ৩টেয় কলেজ স্ট্রিট থেকে পদযাত্রা শুরু হওয়ার কথা ছিল। গন্তব্য ধর্মতলা বা এসপ্ল্যানেড। প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মিছিলের উদ্দেশ্য ছিল বিরোধীদের রাজনৈতিক প্রচারের পাল্টা জনমত তৈরি করা। বিজেপির বক্তব্য, বিরোধীরা নির্বাচিত সরকারগুলিকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে এবং এসআইআর নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।

কলকাতার মিছিলে বিজেপির একাধিক রাজ্য নেতা ও কর্মী-সমর্থক অংশ নেন। জমায়েতে দেখা যায় দলের মুখপাত্র দেবজিৎ সরকারকেও। তাঁর বক্তব্য, বিরোধীদের অরাজকতা ও মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র রক্ষার উদ্দেশ্যেই এই পদযাত্রা। বিজেপির দাবি, সাধারণ মানুষ সত্যের পাশে রয়েছেন।

১ নভেম্বর দিল্লির রামলীলা ময়দানে বড় সমাবেশ করে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA)। সেখানে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি তোলা হয়। এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিরোধী নেতারা। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী-সহ একাধিক বিরোধী নেতা নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে সরব হন।

এই সমাবেশে ককরোচ জনতা পার্টি বা Cockroach Janta Party-ও সমর্থন জানিয়েছিল। তাদের অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়ার ফলে যোগ্য ভোটারদের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিও জানিয়েছে দলটি।

বিজেপির দাবি, বিরোধীরা এসআইআর নিয়ে ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে। সেই প্রচারের জবাব দিতেই দেশজুড়ে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। বিজেপির কাছে এই পদযাত্রা নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও নির্বাচন কমিশনের পক্ষে জনমত তৈরির প্রচার। অন্যদিকে বিরোধীদের বক্তব্য, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে যোগ্য নাগরিকদের ভোটাধিকার যাতে ক্ষুণ্ণ না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

একই দিনে হায়দরাবাদেও পদযাত্রার কর্মসূচি নেয় বিজেপি। সেখানে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের। বাসিরবাগের বাবু জগজীবন রাম মূর্তির সামনে থেকে পদযাত্রা শুরু হয়ে মোজামজাহি মার্কেটে শেষ হওয়ার কথা। তেলঙ্গানা বিজেপির নেতারা জানিয়েছেন, এসআইআর নিয়ে কংগ্রেসের প্রচারের জবাব দিতেই এই কর্মসূচি।

অমিত শাহের বক্তব্যেও বিরোধীদের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক সুর শোনা যায়। তাঁর অভিযোগ, বারবার নির্বাচনে পরাজয়ের পর কংগ্রেস অরাজকতার মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করছে এবং গণতন্ত্রকে দুর্বল করতে চাইছে। দিল্লির বিরোধী সমাবেশের পরেই এই মন্তব্য করেন তিনি।

কলকাতায় আসার আগে বিহারের ভাগলপুরে বিজেপির একই কর্মসূচিতে অংশ নেন নীতীন নবীন। সেখানে বিরোধীদের উদ্দেশে তাঁর বক্তব্য ছিল, তাঁদের লক্ষ্য ক্ষমতা দখল করা, অন্যদিকে বিজেপির কাছে সংবিধান ও গণতন্ত্র রক্ষা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

এসআইআর নিয়ে বিরোধীদের প্রশ্নের জবাবে তিনি তামিলনাড়ু ও কেরলের নির্বাচনের প্রসঙ্গও তোলেন। তাঁর যুক্তি, ওই রাজ্যগুলিতে এসআইআর প্রক্রিয়ার পরেও বিরোধীরা জয় পেয়েছে। তাই শুধু ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার যুক্তি নেই বলে দাবি করেন বিজেপি সভাপতি।

বিজেপির এই কর্মসূচি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সিপিএমও। দলের বিধায়ক মুস্তাফিজুর রহমান রানা বলেন, বিরোধীদের আন্দোলনের প্রভাব পশ্চিমবঙ্গে সেভাবে পড়েনি। রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের মাত্র ছয় মাসের মধ্যে কেন এই ধরনের মিছিলের প্রয়োজন হল, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

ফলে একদিকে নির্বাচন কমিশন ও এসআইআর নিয়ে বিরোধীদের আন্দোলন, অন্যদিকে তার পাল্টা বিজেপির দেশজোড়া পদযাত্রা—এই দুই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে সংঘাত তৈরি হয়েছে। কলকাতার রাজপথের এই মিছিলও সেই রাজনৈতিক টানাপড়েনেরই অংশ।

Cyclone Murasu: ১২০ কিমি বেগে ঝড়, মধ্যরাতে তাণ্ডব চালাবে ঘুর্ণিঝড়! বাংলার আবহাওয়ায় কতটা প্রভাব?

Severe Cyclone Murasu approaching Andhra Pradesh coast over Bay of Bengal
বঙ্গোপসাগরে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় মুরাসু, অন্ধ্র উপকূলে আছড়ে পড়বে মধ্যরাতে। ফিচার ইমেজ - AI

বঙ্গোপসাগরে শক্তি বাড়িয়ে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে মুরাসু (Cyclone Murasu)। সোমবার, ২ নভেম্বর দুপুরের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে এই ঘূর্ণিঝড়। ক্রমশ উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে দক্ষিণ অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে সেটি। ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগের (India Meteorological Department বা IMD) পূর্বাভাস, স্থলভাগে প্রবেশের সময় ঝড়ের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। অন্যদিকে, কলকাতা-সহ পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়ায় এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব কতটা পড়বে, তা নিয়েও নজর রয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় মুরাসুর সর্বশেষ অবস্থান কোথায়? আবহাওয়া দফতরের ২ নভেম্বর দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে প্রকাশিত সামুদ্রিক আবহাওয়া বুলেটিন অনুযায়ী, সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে ঘূর্ণিঝড় মুরাসু পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরের উপর অবস্থান করছিল। এর অবস্থান ছিল ১৪.১ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮১.৪ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে।

সেই সময় ঘূর্ণিঝড়টি অন্ধ্রপ্রদেশের নেল্লোর থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ-পূর্বে এবং তামিলনাড়ুর চেন্নাই থেকে ১৮০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে ছিল। কাভালি থেকে দূরত্ব ছিল ১৮০ কিলোমিটার, ওঙ্গোল থেকে ২১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে এবং মাচিলিপত্তনম থেকে প্রায় ২৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে।

গত ছয় ঘণ্টায় ঘণ্টায় প্রায় ২২ কিলোমিটার গতিতে পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়েছে ঘূর্ণিঝড়টি। ফলে অন্ধ্র উপকূলের দিকে ক্রমশ এগিয়ে আসছে বিপজ্জনক আবহাওয়া ব্যবস্থা। [এটা জেনে রাখুন: ঘূর্ণিঝড় কী? কীভাবে তৈরি হয়, কতটা বিপজ্জনক এবং ঘূর্ণিঝড়ের সময় কী করবেন]

কখন ও কোথায় আছড়ে পড়বে ঘূর্ণিঝড় মুরাসু (Cyclone Murasu)? IMD-র পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২ নভেম্বর সোমবার রাত ১১টা ৩০ মিনিট থেকে ৩ নভেম্বর মঙ্গলবার ভোর ৪টের মধ্যে দক্ষিণ অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে ঘূর্ণিঝড় মুরাসু। নেল্লোর ও নারসাপুরের মধ্যবর্তী উপকূলীয় এলাকায়, ওঙ্গোলের দক্ষিণে স্থলভাগে প্রবেশের সম্ভাবনা রয়েছে।

স্থলভাগে প্রবেশের সময় ঘূর্ণিঝড়ের স্থায়ী গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার থাকতে পারে। দমকা হাওয়ার সর্বোচ্চ গতিবেগ পৌঁছতে পারে ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটারে। ফলে উপকূলবর্তী এলাকায় গাছপালা, বিদ্যুতের খুঁটি এবং অস্থায়ী কাঠামোর ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

তামিলনাড়ু ও অন্ধ্রপ্রদেশে প্রবল বৃষ্টির আশঙ্কা: ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশ এবং তামিলনাড়ুর একাধিক এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য গতিপথের কাছাকাছি জেলাগুলিতে বৃষ্টির পাশাপাশি প্রবল ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।

চেন্নাই, চেঙ্গলপট্টু এবং তিরুভাল্লুরের মতো এলাকায় ইতিমধ্যেই ভারী বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে। পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে চেন্নাইয়ে সোমবার স্কুল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উপকূলবর্তী এলাকায় প্রশাসনিক সতর্কতাও বাড়ানো হয়েছে।

ওড়িশাতেও সতর্কতা, প্রস্তুত বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী: মুরাসুর প্রভাবে ওড়িশার দক্ষিণাঞ্চলেও বৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে গঞ্জাম-সহ উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। ৩ নভেম্বর বৃষ্টির তীব্রতা বাড়তে পারে বলে আবহাওয়া সংক্রান্ত পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF) এবং ওড়িশা বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর (ODRAF) কর্মীদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে। মৎস্যজীবীদেরও সমুদ্রে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় মুরাসু (Cyclone Murasu)-র প্রভাব কি পড়বে পশ্চিমবঙ্গে? ঘূর্ণিঝড় মুরাসুকে কেন্দ্র করে বাংলার বাসিন্দাদের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়ায় এর প্রভাব কতটা পড়বে? আপাতত আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাসে পশ্চিমবঙ্গে এই ঘূর্ণিঝড়ের সরাসরি বড় প্রভাবের কোনও ইঙ্গিত নেই।

তবে কলকাতা, হাওড়া ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় আকাশ মেঘলা থাকতে পারে। বিক্ষিপ্তভাবে হালকা বৃষ্টি বা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। কলকাতা আবহাওয়া কেন্দ্রের সামুদ্রিক বুলেটিনে পশ্চিমবঙ্গ উপকূলের এক-দু’টি জায়গায় বৃষ্টি অথবা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।

অর্থাৎ, দক্ষিণ ভারতের উপকূলে ঘূর্ণিঝড় মুরাসু নিয়ে বিপর্যয়ের আশঙ্কা থাকলেও বাংলার ক্ষেত্রে আপাতত পরিস্থিতি তুলনামূলক স্বাভাবিক। ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ, স্থলভাগে প্রবেশের সময় এবং পরবর্তী আবহাওয়ার পরিবর্তনের দিকে নজর রাখছে আবহাওয়া দফতর।

কালো মেঘে ঢাকল কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের আকাশ, বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা ১০ জেলায়

Dark cloudy sky over Kolkata with possibility of rain on 2 November 2026
কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় মেঘাচ্ছন্ন আকাশ, রয়েছে বৃষ্টির সম্ভাবনা।

২ নভেম্বর, সোমবার বিকেল থেকেই কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আকাশ মেঘে ঢেকেছে। বিকেল প্রায় ৫টা নাগাদ শহর ও সংলগ্ন অঞ্চলের আকাশ সম্পূর্ণ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় যেকোনও মুহূর্তে বৃষ্টি নামার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আবহাওয়ার এই পরিবর্তনে কর্মব্যস্ত দিনের শেষে বাড়ি ফেরার পথে সমস্যায় পড়তে পারেন সাধারণ মানুষ। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলার আবহাওয়া এখন নজরে রাখছেন বাসিন্দারা।

সোমবার দুপুরের পর থেকেই আবহাওয়ার পরিবর্তন লক্ষ্য করা গিয়েছে। শুধু কলকাতা নয়, হাওড়া-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলাতেও মেঘের ঘনঘটা বেড়েছে। কয়েকটি জায়গায় ইতিমধ্যেই হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ফলে সন্ধ্যার দিকে বাইরে বেরোনোর পরিকল্পনা থাকলে সঙ্গে ছাতা রাখা প্রয়োজন।

আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক ঘণ্টায় কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকার কিছু অংশে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কলকাতা, হাওড়া, হুগলি এবং উত্তর ২৪ পরগনার কিছু এলাকায় বজ্রপাতের সতর্কতাও জারি করা হয়েছে। ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগের (India Meteorological Department) সতর্কবার্তায় সোমবার বিকেল ২টা ৪৫ মিনিট থেকে পরবর্তী ২–৩ ঘণ্টার মধ্যে এই পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার কথা জানানো হয়েছে। কলকাতা জেলায় বজ্রপাতের জন্য হলুদ সতর্কতাও জারি ছিল, যার নির্ধারিত মেয়াদ বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত।

ঘূর্ণিঝড় মুরাসুর প্রভাবেই কি বদলাচ্ছে আবহাওয়া? এই আবহাওয়ার পরিবর্তনের পিছনে বঙ্গোপসাগরের ঘূর্ণিঝড় মুরাসু (Cyclone Murasu)-এর পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ। পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরের উপর শক্তিশালী হয়ে উঠেছে ঘূর্ণিঝড়টি। তবে এর সরাসরি প্রভাব পশ্চিমবঙ্গে কতটা পড়বে, তা নিয়ে আবহাওয়া দফতর পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। আপাতত বাংলার জন্য বড় ধরনের দুর্যোগের সতর্কতা জারি করা হয়নি।

আগামীকাল কোন কোন জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা? মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর দক্ষিণবঙ্গের ১০টি জেলায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। তালিকায় রয়েছে কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া এবং ঝাড়গ্রাম। এই জেলাগুলির এক-দু’টি জায়গায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে।

উত্তরবঙ্গের ক্ষেত্রেও মঙ্গলবার কয়েকটি জায়গায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ৪ নভেম্বর থেকে দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ জেলায় আবহাওয়া শুষ্ক হওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। উত্তরবঙ্গেও ৪ নভেম্বরের পর অধিকাংশ জায়গায় বৃষ্টির সম্ভাবনা কমবে বলে জানানো হয়েছে।

সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার পথে কী সতর্কতা প্রয়োজন? কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় আকাশ মেঘলা থাকায় সন্ধ্যার যাতায়াতে কিছুটা অসুবিধা হতে পারে। বিশেষত বৃষ্টির সময় রাস্তায় জল জমা, যান চলাচলে ধীরগতি এবং বজ্রপাতের মতো পরিস্থিতির কথা মাথায় রাখা প্রয়োজন। বজ্রপাত হলে খোলা জায়গায় বা গাছের নীচে আশ্রয় না নেওয়াই নিরাপদ।

সব মিলিয়ে, ২ নভেম্বর সোমবার সন্ধ্যায় কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকার আবহাওয়া মেঘলা থাকার পাশাপাশি বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। মঙ্গলবারও দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকছে। তবে এই বৃষ্টি সর্বত্র বা একটানা হবে, এমন কোনও ইঙ্গিত নেই।

জিততেই হবে বিশ্বকাপ, তাই নিজেকে নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত রোহিতের

বিজয় হাজারে ট্রফিতে মুম্বইয়ের হয়ে খেলার প্রস্তুতিতে ভারতীয় ক্রিকেটার রোহিত শর্মা
২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলতে পারেন রোহিত শর্মা।

টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন। এখন ভারতীয় দলের হয়ে রোহিত শর্মার (Rohit Sharma) লক্ষ্য একটাই—ওয়ানডে ক্রিকেট এবং ২০২৭ সালের বিশ্বকাপ। সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই ঘরোয়া ক্রিকেটে ফেরার পরিকল্পনা করছেন ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আসন্ন বিজয় হাজারে ট্রফিতে মুম্বইয়ের হয়ে খেলার জন্য মুম্বই ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনকে নিজের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন তিনি। বিশ্বকাপের আগে যত বেশি সম্ভব ম্যাচ খেলে ছন্দ ধরে রাখাই হিটম্যানের লক্ষ্য।

রোহিতের সামনে এখন নিউজিল্যান্ড সফরের চ্যালেঞ্জ। ৪ নভেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। তার পর দেশের মাটিতে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলবে ভারত। সেই সিরিজ শেষ হওয়ার পরই বিজয় হাজারে ট্রফিতে মুম্বইয়ের হয়ে খেলার সুযোগ তৈরি হতে পারে রোহিতের।

২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি এখন থেকেই শুরু করতে চাইছেন রোহিত শর্মা। টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি থেকে সরে দাঁড়ানোর পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর লক্ষ্য সীমাবদ্ধ ওয়ানডে ফরম্যাটে। ফলে এই ফরম্যাটে ম্যাচের মধ্যে থাকা এবং নিজের ব্যাটিং ছন্দ বজায় রাখা তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোহিত মুম্বই ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনকে জানিয়েছেন, তিনি বিজয় হাজারে ট্রফিতে মুম্বইয়ের হয়ে খেলতে আগ্রহী। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ওয়ানডে সিরিজ শেষ হওয়ার পর তাঁকে দলে পাওয়া যেতে পারে।

তবে টুর্নামেন্টের ঠিক কোন কোন ম্যাচে রোহিত খেলবেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তাঁর আন্তর্জাতিক সূচি, শারীরিক প্রস্তুতি এবং দলের প্রয়োজনের উপর নির্ভর করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। তাই বিজয় হাজারে ট্রফিতে তাঁর অংশগ্রহণের পরিকল্পনা থাকলেও নির্দিষ্ট ম্যাচের তালিকা এখনও নিশ্চিত নয়।

বিসিসিআইয়ের প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, ডিসেম্বর মাসে ভারতের বিরুদ্ধে তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে শ্রীলঙ্কা। ওয়ানডে সিরিজ শুরু হবে ১৩ ডিসেম্বর। পরের দুটি ম্যাচ ১৬ ও ১৯ ডিসেম্বর। ম্যাচগুলি হবে যথাক্রমে দিল্লি, বেঙ্গালুরু ও আমদাবাদে।

অন্যদিকে, বিজয় হাজারে ট্রফি শুরু হচ্ছে ১৪ ডিসেম্বর। ফলে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ওয়ানডে সিরিজ চলাকালীনই ঘরোয়া টুর্নামেন্ট শুরু হয়ে যাবে। আন্তর্জাতিক সিরিজ শেষ হওয়ার পর রোহিতের সামনে মুম্বইয়ের হয়ে খেলার সুযোগ তৈরি হবে।

এরপর জানুয়ারিতে ভারতের মাটিতে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলতে আসবে জিম্বাবোয়ে। সূচি অনুযায়ী, ৩ জানুয়ারি কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে হবে প্রথম ম্যাচ। পরের দুটি ওয়ানডে ৬ ও ৯ জানুয়ারি। বিশ্বকাপের আগে এই সিরিজগুলিও রোহিতের প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

আপাতত রোহিতের মনোযোগ নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ওয়ানডে সিরিজে। প্রথম ম্যাচ ৪ নভেম্বর অকল্যান্ডে। পাঁচ ম্যাচের এই সিরিজ শেষ হবে ১৫ নভেম্বর। নিউজিল্যান্ডের পরিবেশ ও পিচের সঙ্গে মানিয়ে নিতে ভারতীয় দল প্রস্তুতি শুরু করেছে।

রবিবার অকল্যান্ডে আয়োজিত প্রস্তুতি শিবিরে রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলি (Virat Kohli) দু’জনেই উপস্থিত ছিলেন। দলের পেসারদের বিরুদ্ধে ব্যাটিং অনুশীলন করেন তাঁরা। বিশেষ করে নতুন পেসারদের বলের গতি, বাউন্স এবং লাইন-লেংথের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার দিকে নজর ছিল।

প্রস্তুতি শিবিরে আকিব নবি, অংশুল কাম্বোজ ও গুরনুর ব্রাররা বল করেন। গুরনুরের উচ্চতা কাজে লাগিয়ে শর্ট বল করার বিষয়টি নজর কাড়ে। কাম্বোজের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের পাশাপাশি আকিব নবির বলেও সমস্যায় পড়েন বিরাট কোহলি। কয়েকবার ব্যাটের কানায় বল লাগে। রোহিতও শুরুতে কিছুটা সাবধানী ছিলেন। নিউজিল্যান্ডের বাউন্স ও গতির সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি।

রোহিতের মতো বিরাট কোহলিও এখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সীমিত ফরম্যাটে খেলছেন। ফলে ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি তাঁর কাছেও গুরুত্বপূর্ণ। তবে তিনি ঘরোয়া ক্রিকেটে নামবেন কি না, সে বিষয়ে এখনও কোনও নিশ্চিত খবর নেই।

রোহিতের বিজয় হাজারে ট্রফিতে খেলার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে তা মুম্বই দলের কাছেও বড় প্রাপ্তি হবে। একইসঙ্গে তরুণ ক্রিকেটারদের সঙ্গে ড্রেসিংরুম ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ পাবেন অভিজ্ঞ এই ওপেনার।

বিশ্বকাপের আগে আন্তর্জাতিক ম্যাচের পাশাপাশি ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলার সিদ্ধান্ত রোহিতের প্রস্তুতিতে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার। আপাতত নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ওয়ানডে সিরিজেই নজর হিটম্যানের।

‘যা বলেছি, বেশ করেছি’, থানায় কালীপুজো বিতর্কে জবাব জগন্নাথের, নিশানায় বাম-মমতা

Jagannath Chattopadhyay Kali Puja Controversy
থানায় থানায় কালীপুজোর প্রস্তাবের পক্ষে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়।

থানায় থানায় কালীপুজো করার প্রস্তাব ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হতেই এবার নিজের বক্তব্যের পক্ষে সওয়াল করলেন রাজ্যের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় (Jagannath Chattopadhyay)। বিরোধীদের সমালোচনার মুখে তাঁর সাফ কথা, “যা বলেছি, বেশ করেছি।” তাঁর দাবি, থানায় কালীপুজো করা কোনও ধর্মীয় বিভাজনের বিষয় নয়, বরং দীর্ঘদিনের পুলিশ সংস্কৃতির অংশ। একইসঙ্গে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলের প্রসঙ্গ তুলে তাঁদেরও নিশানা করেছেন তিনি। মন্ত্রীর বক্তব্য, অতীতে থানায় কালীপুজো নিয়ে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তার ‘প্রায়শ্চিত্ত’ করতে হবে পুলিশকে।

সিউড়িতে বীরভূম জেলা পুলিশের বিজয়া সম্মিলনীর অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে প্রথম থানায় থানায় সাড়ম্বরে কালীপুজোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন জগন্নাথ। জেলা পুলিশ সুপারের কাছে তাঁর আবেদন ছিল, প্রত্যেক থানায় কালীপুজোর আয়োজন করা হোক। প্রয়োজনে থানায় কালীমূর্তিও রাখা হোক। সেই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় বিতর্ক। এবার নিজের অবস্থানে অনড় থেকে সেই প্রস্তাবের ব্যাখ্যা দিলেন মন্ত্রী।

‘পুলিশ সংস্কৃতির অঙ্গ থানায় কালীপুজো’

সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, থানায় কালীপুজো করার প্রস্তাব তিনি যথেষ্ট কারণেই দিয়েছেন। তাঁর দাবি, আজন্মকাল ধরে বিভিন্ন থানায় কালীপুজোর প্রচলন রয়েছে। তাই এটিকে নতুন কোনও ধর্মীয় উদ্যোগ হিসেবে দেখার প্রয়োজন নেই।

মন্ত্রীর কথায়, “যা বলেছি বেশ করেছি। সঙ্গত কারণ আছে বলেই বলা হয়েছে। আজন্মকাল থানায় থানায় কালীপুজো হয়ে আসছে। পুলিশ সংস্কৃতির অঙ্গ থানায় কালীপুজো করা।”

এর আগে সিউড়ির অনুষ্ঠানে তিনি বলেছিলেন, বাঙালির স্কুলে স্কুলে যেমন সরস্বতী পুজোর সংস্কৃতি রয়েছে, তেমনই থানায় কালীপুজোও পুলিশ সংস্কৃতির অংশ হতে পারে। তাঁর বক্তব্য, পুলিশকর্মীরা শক্তির উপাসক। অভিযানে বেরোনোর আগে দেবীর কাছে প্রার্থনা করলে বাহিনীর মনোবল বাড়বে বলেও মনে করেন তিনি।

নিজের বক্তব্যের সমর্থনে রঘু ডাকাতের প্রসঙ্গও টেনেছিলেন মন্ত্রী। লোককথা অনুযায়ী, ডাকাতি করতে যাওয়ার আগে রঘু ডাকাত মা কালীর পুজো করতেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। থানায় কালীমূর্তি থাকলে অপরাধী ও পুলিশ—উভয়েই দেবীর সামনে প্রার্থনা করতে পারবেন বলেও মন্তব্য করেছিলেন জগন্নাথ।

জ্যোতি বসু, বুদ্ধদেব ও মমতাকে একযোগে আক্রমণ

থানায় কালীপুজো নিয়ে বিতর্কের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে এবার রাজ্যের তিন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর আমলের প্রসঙ্গ তুলেছেন উচ্চশিক্ষামন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, জ্যোতি বসুর মুখ্যমন্ত্রিত্বের সময়ে থানায় কালীপুজো নিয়ে বিশেষ আগ্রহ দেখানো হয়নি। পরবর্তী সময়ে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য পৃথক সংখ্যালঘু দফতর তৈরি করেছিলেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এরপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু তোষণের অভিযোগও তুলেছেন জগন্নাথ। তাঁর দাবি, ভোটের স্বার্থে তৎকালীন সরকার থানায় কালীপুজোর বিষয়ে নিষেধাজ্ঞামূলক অবস্থান নিয়েছিল। তবে এগুলি মন্ত্রীর রাজনৈতিক অভিযোগ; সংশ্লিষ্ট সরকারের সিদ্ধান্ত বা নির্দেশের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য হিসেবে এগুলিকে দেখা উচিত নয়।

জগন্নাথের বক্তব্য, গত কালীপুজোয় মা কালীর মূর্তিকে পুলিশ প্রিজন ভ্যানে তোলার যে ছবি সামনে এসেছিল, তা গোটা রাজ্যের মানুষ দেখেছেন। সেই ঘটনার উল্লেখ করেই তিনি বলেন, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে পুলিশকে এবার থানায় থানায় কালীপুজোর মাধ্যমে ‘প্রায়শ্চিত্ত’ করতে হবে।

মন্ত্রীর প্রস্তাবকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক প্রশ্নও উঠেছে। থানার মতো সরকারি প্রতিষ্ঠানে কোনও নির্দিষ্ট ধর্মের পুজোকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হলে পুলিশের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রের সঙ্গে তার সম্পর্ক কী হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সমালোচকেরা।

সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী এই প্রস্তাবের সমালোচনা করে বলেছেন, মন্ত্রীর পদে থেকে থানায় কালীপুজোকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার কথা বলা সংবিধানের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-এর প্রতিবেদনে এই আপত্তির পাশাপাশি পুলিশের নিরপেক্ষতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার প্রশ্নও উঠে এসেছে।

অন্যদিকে, মন্ত্রীর বক্তব্যের সমর্থকেরা বিষয়টিকে বাংলার স্থানীয় সংস্কৃতি ও বহু থানায় আগে থেকে প্রচলিত পুজোর ধারার সঙ্গে যুক্ত করে দেখছেন। ফলে বিতর্কের কেন্দ্রে এখন শুধু কালীপুজোর আয়োজন নয়, সরকারি প্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় অনুষ্ঠানের ভূমিকা এবং পুলিশের নিরপেক্ষতা—দু’টি বিষয়ই।

জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের প্রস্তাবের পর বীরভূম-সহ একাধিক জেলার থানায় কালীপুজোর প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে মন্ত্রীর বক্তব্যের ভিত্তিতে সব থানায় সরকারি নির্দেশ জারি হয়েছে, এমনটা বলা যাচ্ছে না।

এখন প্রশ্ন, থানায় কালীপুজোকে কি শুধুই স্থানীয় উদ্যোগ হিসেবে রাখা হবে, নাকি সরকারি নির্দেশিকা ও প্রাতিষ্ঠানিক আয়োজনের মাধ্যমে তা চালু করা হবে? সেই সিদ্ধান্তের পাশাপাশি পুলিশকর্মীদের দায়িত্ব, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং সব সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে পুলিশের নিরপেক্ষ ভাবমূর্তি বজায় রাখার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

বিতর্কের মুখে জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় নিজের বক্তব্য থেকে সরছেন না। বরং বাম ও তৃণমূল সরকারের অতীত ভূমিকার প্রসঙ্গ তুলে নিজের প্রস্তাবের পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন। এবার রাজ্য পুলিশ ও প্রশাসন এই প্রস্তাব নিয়ে কী পদক্ষেপ করে, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

ইন্দ্রনীল সেনের মেয়েকেও লালবাজারে তলব, পুজোর পাস মামলায় পরিবারের আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখছে পুলিশ

পুজোর পাস মামলায় প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনকে ঘিরে কলকাতা পুলিশের তদন্ত
পুজোর পাস মামলায় ইন্দ্রনীল সেনের পরিবারের আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখছে লালবাজার।

দুর্গাপুজোর পাস বিক্রি ও ইউনেস্কোর (UNESCO) নাম-লোগো ব্যবহারের অভিযোগে তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের পরিবারের আর্থিক লেনদেনের উপর নজর বাড়াচ্ছে কলকাতা পুলিশ। এবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য লালবাজারে তলব করা হল ইন্দ্রনীল সেনের মেয়েকে। তদন্তকারীদের দাবি, তাঁর নামে থাকা দু’টি সংস্থার সঙ্গে এই মামলার আর্থিক লেনদেনের যোগসূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর আগে ইন্দ্রনীলের স্ত্রী মধুছন্দা সেনকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকেছিল পুলিশ। ফলে পুজোর পাস সংক্রান্ত মামলায় সেন পরিবারের একাধিক সদস্যকে ঘিরে তদন্তের পরিধি বাড়ছে।

২ নভেম্বর প্রকাশিত সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইন্দ্রনীল-কন্যার নামে থাকা ‘আইএসকেপ’ এবং ‘মায়েরা’ নামে দু’টি সংস্থার লেনদেন তদন্তকারীদের নজরে এসেছে। অভিযোগ, ‘মাস আর্ট’ (Mass Art) সংস্থার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থের সঙ্গে ওই সংস্থাগুলির আর্থিক যোগসূত্র রয়েছে। সেই লেনদেনের প্রকৃতি, টাকার উৎস এবং কোথায় সেই অর্থ গিয়েছে, তা জানতে তাঁর বক্তব্য শুনতে চান গোয়েন্দারা। তবে তলব হওয়া মানেই কোনও অপরাধে তাঁর জড়িত থাকা প্রমাণিত নয়। তদন্তের স্বার্থেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাইছে পুলিশ।

গত ২৮ অক্টোবর প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনকে গ্রেপ্তার করে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের বিশেষ সেল। ওই দিন সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে ইডির দফতরে হাজিরা দিতে গিয়েছিলেন তিনি। দুর্গাপুজোর প্রিভিউ শো এবং বিশেষ প্রবেশপত্র বিক্রির নামে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)।

ইডির দফতর থেকে বেরোনোর পরই কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দারা তাঁকে আটক করেন। পরে লালবাজারে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেপ্তার করা হয় তাঁকে। পুলিশের অভিযোগ, এর আগে একাধিকবার তলব করা হলেও তিনি হাজিরা দেননি। আগাম জামিনের আবেদনও আদালতে খারিজ হয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

এই মামলায় কলকাতা পুলিশ ও ইডি পৃথকভাবে তদন্ত করছে। ইন্দ্রনীল সেনের গ্রেপ্তারির পর আদালত তাঁকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেয়।

এই মামলার সূত্রপাত ব্যবসায়ী জয়দীপ মুখোপাধ্যায়ের দায়ের করা অভিযোগ থেকে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২২ সালে ‘মাস আর্ট’ নামে একটি সংস্থা তৈরি হয়। দুর্গাপুজোর প্রিভিউ শো এবং বিশেষ প্রবেশের পাস বিক্রির সঙ্গে সংস্থাটির নাম জড়ায়। অভিযোগকারীর দাবি, কলকাতার একাধিক বড় পুজো মণ্ডপের প্রিভিউ শোয়ের জন্য উচ্চমূল্যে টিকিট বিক্রি করা হয়েছিল।

অভিযোগে আরও বলা হয়, সংস্থাটি নিজেদের ইউনেস্কোর সঙ্গে যুক্ত বা অনুমোদিত অংশীদার হিসেবে প্রচার করেছিল এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাটির নাম ও লোগো ব্যবহার করে পাস বিক্রি করা হয়েছিল। এই ব্যবহারের বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন ওঠে। বিষয়টি নিয়ে বউবাজার থানায় অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর তদন্ত শুরু করে কলকাতা পুলিশ। পরে গোয়েন্দা বিভাগের বিশেষ দল তদন্তের দায়িত্ব নেয়। ইডিও আর্থিক লেনদেনের সূত্র ধরে পৃথক তদন্ত শুরু করে।

ইন্দ্রনীল সেনের গ্রেপ্তারির পর তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেনকেও লালবাজারে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ৩১ অক্টোবর তিনি সেখানে গিয়ে তদন্তকারীদের মুখোমুখি হন। ‘মাস আর্ট’-এর সঙ্গে তাঁর যোগসূত্র এবং সংস্থার আর্থিক লেনদেন নিয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হয় বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

এবার মেয়ের নামে থাকা দু’টি সংস্থার লেনদেন খতিয়ে দেখতে চাইছেন তদন্তকারীরা। ‘মাস আর্ট’-এর মাধ্যমে পুজোর পাস বিক্রি করে সংগৃহীত অর্থ কোন কোন অ্যাকাউন্টে গিয়েছে, একাধিক সংস্থার মধ্যে টাকা কীভাবে ঘুরেছে এবং সেই লেনদেনের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের কোনও যোগ রয়েছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ।

‘দ্য টেলিগ্রাফ’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, তদন্তকারীরা ইন্দ্রনীল সেনের স্ত্রী-সহ পরিবারের অন্য সদস্যদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টও খতিয়ে দেখছেন। আদালতে পুলিশের পক্ষ থেকে একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অর্থ লেনদেনের কথা জানানো হয়েছিল। তবে তদন্তের বিভিন্ন পর্যায়ে সম্ভাব্য আর্থিক অনিয়মের অঙ্ক নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে আলাদা আলাদা তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। তাই নির্দিষ্ট অঙ্ককে চূড়ান্ত বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।

তদন্তকারীদের অভিযোগের পাশাপাশি ইন্দ্রনীল সেনের আইনজীবীর বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ। আদালতে তাঁর আইনজীবী দাবি করেছিলেন, ইন্দ্রনীল সেন ‘মাস আর্ট’-এর কোনও পদে ছিলেন না এবং তদন্তে তাঁর ভূমিকা নিয়ে পুলিশের বক্তব্যের বিরোধিতা করেছিলেন। ফলে মামলার অভিযোগ ও তার জবাব—দু’দিকই বিচারাধীন তদন্তের অংশ।

এখন ইন্দ্রনীল-কন্যাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর তদন্তে নতুন কোনও তথ্য সামনে আসে কি না, সেদিকেই নজর। বিশেষ করে ‘মাস আর্ট’, পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা সংস্থা এবং বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মধ্যে অর্থের লেনদেনের প্রকৃতি স্পষ্ট করাই তদন্তকারীদের অন্যতম লক্ষ্য। তবে অভিযোগের সত্যতা শেষ পর্যন্ত তদন্ত ও আদালতের প্রক্রিয়াতেই নির্ধারিত হবে।

বুদ্ধদেব সন্তান সুচেতনের বিস্ফোরক সাক্ষাৎকার! এসএফআই-সিপিএম নিয়ে ক্ষোভ, শিল্পায়নে ভরসা শুভেন্দু সরকারের উপর

বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের ছেলে সুচেতন ভট্টাচার্য ও বাংলার শিল্পায়ন প্রসঙ্গ
এসএফআই, সিপিএম এবং সিঙ্গুরে শিল্পায়ন নিয়ে নিজের বক্তব্য জানালেন সুচেতন ভট্টাচার্য।

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের (Buddhadeb Bhattacharjee) সন্তান। সেই পরিচয়ের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল প্রত্যাশা, চাপ এবং রাজনৈতিক পরিসরে নানা অভিজ্ঞতা। দীর্ঘদিন প্রকাশ্যে খুব বেশি কথা না বললেও এবার নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নিয়ে মুখ খুললেন সুচেতন ভট্টাচার্য (Suchetan Bhattacharya)। এসএফআইয়ের (SFI) সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ থেকে সিপিএমের (CPI-M) কিছু নেতার কথিত দ্বিচারিতা—একাধিক বিষয়ে সরব হয়েছেন তিনি। পাশাপাশি বাবার অধরা শিল্পায়নের স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রসঙ্গে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকারের উপরও আশা প্রকাশ করেছেন বুদ্ধদেবপুত্র।

১ নভেম্বর প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে সুচেতন জানিয়েছেন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সন্তান হওয়ার কারণে তাঁকে যেমন বাইরের নানা চাপ সামলাতে হয়েছে, তেমনই রাজনৈতিক সংগঠনের অন্দরেও নিজের মতো করে চলার ক্ষেত্রে সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে। ছাত্রজীবনে বামপন্থী রাজনীতির প্রতি আগ্রহ থাকলেও সংগঠনের কিছু নিয়ম ও নিয়ন্ত্রণ তাঁর ব্যক্তিস্বাধীনতার ভাবনার সঙ্গে মেলেনি। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই ধীরে ধীরে এসএফআই এবং দলের সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে সরে যান তিনি।

এসএফআই ছাড়ার কারণ জানালেন সুচেতন

ছাত্রজীবনে প্রেসিডেন্সি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পড়ুয়া ছিলেন সুচেতন। পারিবারিক রাজনৈতিক আবহের কারণে বামপন্থী ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে তাঁর পরিচয় তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সংগঠনের কাজ করতে গিয়ে ব্যক্তিস্বাধীনতা নিয়ে মতবিরোধ তৈরি হয় বলে জানিয়েছেন তিনি।

সুচেতনের বক্তব্য, এসএফআইয়ের একটি সময়ে সদস্যদের ব্যক্তিগত পছন্দ, কে কোন বই পড়বেন, কার সঙ্গে মিশবেন বা কথা বলবেন—এমন বিষয়েও সংগঠনের তরফে নির্দেশ দেওয়ার প্রবণতা ছিল। এই ধরনের নিয়ন্ত্রণ তিনি মেনে নিতে পারেননি।

নিজের ব্যক্তি-স্বাতন্ত্র্য ও স্বাধীন চিন্তার উপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়ে সুচেতন বলেন, সবাইকে একই কথা বলতে হবে বা একই মত অনুসরণ করতে হবে—এমন সাংগঠনিক সংস্কৃতি তাঁর পছন্দ ছিল না। ক্রমশ বিরক্তি বাড়ায় শেষ পর্যন্ত এসএফআই ছেড়ে বেরিয়ে আসেন তিনি।

এই সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে বাবা বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য তাঁকে কোনও বাধা দেননি বলেও জানিয়েছেন সুচেতন। বরং নিজের পছন্দ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা দিয়েছিলেন বাবা। রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রশ্নেও পরিবারের মধ্যে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দেওয়া হত বলে তাঁর বক্তব্য।

সিপিএমের কিছু নেতার দ্বিচারিতা নিয়েও সরব

শুধু ছাত্র সংগঠন নয়, সিপিএমের কিছু নেতার রাজনৈতিক জীবনযাপন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সুচেতন। তাঁর অভিযোগ, একাংশের বামপন্থী নেতা প্রকাশ্যে নিজেদের সর্বহারা হিসেবে তুলে ধরেন, কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনে তাঁদের জীবনযাপনের সঙ্গে সেই বক্তব্যের মিল পাওয়া যায় না।

সুচেতনের কথায়, কেউ কেউ প্রকাশ্যে আর্থিক অনটনের কথা বললেও তাঁদের সন্তানদের বিদেশে পড়াশোনা বা নিজেদের সম্পত্তির মতো বিষয় সামনে এলে অন্য ছবি দেখা যায়। এই ধরনের দ্বিচারিতা তাঁর অপছন্দের।

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর ছেলে হওয়ার কারণে দলের ভিতরেও তাঁকে নানা চাপের মুখে পড়তে হয়েছিল বলে জানিয়েছেন তিনি। দলের গঠনতন্ত্র ও সাংগঠনিক নিয়মের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া তাঁর পক্ষে কঠিন ছিল। তাই সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক গড়ে ওঠেনি। তবে নিজের বক্তব্যে জানিয়েছেন, এখনও ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে সিপিএমকেই বেছে নেন তিনি।

সিঙ্গুরে শিল্প না হওয়ার আক্ষেপ ছিল বুদ্ধদেবের

সাক্ষাৎকারের সবচেয়ে আবেগঘন অংশ ছিল বাবার শিল্পায়নের স্বপ্ন নিয়ে আলোচনা। পশ্চিমবঙ্গে শিল্প গড়ে তোলার জন্য বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের উদ্যোগ এবং সিঙ্গুরে টাটার প্রস্তাবিত গাড়ি কারখানা না হওয়ার প্রসঙ্গ উঠতেই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন সুচেতন।

তাঁর বক্তব্য, সিঙ্গুরে শিল্প না হওয়ার আক্ষেপ বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের জীবনের শেষ পর্বেও ছিল। রাজ্যে শিল্পায়নের যে পরিকল্পনা তিনি করেছিলেন, তা বাস্তবায়িত না হওয়ায় হতাশা থেকেই গিয়েছিল। সুচেতনের কথায়, বাবার কাছে এই বিষয়টি ছিল শুধু একটি কারখানা তৈরির প্রশ্ন নয়; বাংলার যুবসমাজের কর্মসংস্থান এবং রাজ্যের অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের সঙ্গেও তা জড়িত ছিল।

সিঙ্গুরের পাশাপাশি রাজ্যে বৃহত্তর শিল্প পরিকাঠামো গড়ে তোলার যে স্বপ্ন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য দেখেছিলেন, তা পূরণ হলে বহু মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারত বলে মনে করেন সুচেতন।

শিল্পায়ন নিয়ে শুভেন্দু সরকারের উপর আশা সুচেতনের

বর্তমান রাজ্য সরকারের শিল্পনীতি নিয়েও নিজের মত জানিয়েছেন বুদ্ধদেবপুত্র। তাঁর বক্তব্য, নতুন সরকার শিল্পস্থাপনের ক্ষেত্রে সদর্থক পদক্ষেপ করছে বলে তিনি মনে করছেন। সেই উদ্যোগ বাস্তবে রূপ পেলে তাঁর বাবা খুশি হতেন বলেই বিশ্বাস সুচেতনের।

এর আগে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের স্ত্রী মীরা ভট্টাচার্যও রাজ্যে শিল্পায়নের প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকারের প্রতি আশা প্রকাশ করেছিলেন। সিঙ্গুরে শিল্প গড়ে তোলার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেছিলেন, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য যে শিল্পায়নের স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়তে পারে।

সুচেতনের বক্তব্যেও সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন দেখা গিয়েছে। তবে তাঁর এই মন্তব্যকে বর্তমান সরকারের শিল্পনীতি সম্পর্কে ব্যক্তিগত আশাবাদ হিসেবেই দেখা উচিত। ঘোষিত পরিকল্পনা বাস্তবে কতটা শিল্প, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানে পরিণত হয়, তা নির্ভর করবে প্রকল্পগুলির বাস্তবায়নের উপর।

একদিকে নিজের রাজনৈতিক পরিচয় ও স্বাধীন চিন্তার কথা বলছেন সুচেতন, অন্যদিকে বাবার অসমাপ্ত শিল্পায়নের স্বপ্ন নিয়েও প্রকাশ্যে মত জানাচ্ছেন। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার নিয়ে যখন নতুন করে আলোচনা চলছে, তখন তাঁর ছেলের এই সাক্ষাৎকারও সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করল।

‘দেশের জন্য বুলেট খেতেও রাজি’, নিউজিল্যান্ড সফরে গম্ভীরের নতুন চ্যালেঞ্জ

নিউজিল্যান্ড সফরে ভারতীয় ক্রিকেট দলের কোচ গৌতম গম্ভীর
দেশের হয়ে দায়িত্ব পালনে কোনও অজুহাত নয়, স্পষ্ট বার্তা গৌতম গম্ভীরের।

টানা ক্রিকেটের ধকল, একের পর এক সিরিজ এবং প্রত্যাশার প্রবল চাপ। তবুও দায়িত্ব থেকে সরে আসার কোনও প্রশ্নই নেই ভারতের হেড কোচ গৌতম গম্ভীরের (Gautam Gambhir)। প্রয়োজনে দেশের জন্য বুলেটের সামনেও দাঁড়াতে রাজি তিনি। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজ শেষে হ্যামিল্টনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এমনই দৃঢ় বার্তা দিয়েছেন ভারতীয় দলের কোচ। একইসঙ্গে আগামী ওয়ানডে ও টেস্ট সিরিজের জন্য দলকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতি নিতে বলেছেন তিনি।

ভারতীয় ক্রিকেট দলের ব্যস্ত সূচিতে বিশ্রামের সুযোগ কার্যত নেই। এক সিরিজ শেষ হওয়ার আগেই শুরু হয়ে যাচ্ছে পরেরটির প্রস্তুতি। ক্রিকেটারদের পাশাপাশি এই চাপ সামলাতে হচ্ছে কোচ ও সাপোর্ট স্টাফদেরও। গম্ভীরও স্বীকার করেছেন, একাধিক ফরম্যাটে দলের দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে কখনও কখনও মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়েন তিনি। তবে দেশের হয়ে কাজ করার সুযোগকে সবচেয়ে বড় সম্মান বলেই মনে করেন ভারতের হেড কোচ।

‘আমি বুলেটের সামনেও দাঁড়াতে রাজি’, স্পষ্ট বার্তা গম্ভীরের

নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে পঞ্চম টি-টোয়েন্টি ম্যাচের পর সাংবাদিক সম্মেলনে গম্ভীরকে তাঁর কাজের চাপ এবং মানসিক ক্লান্তি নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। জবাবে তিনি জানান, পেশাদার হিসেবে দায়িত্ব পালনে কোনও অজুহাত দিতে চান না। চাপ সামলানোর ক্ষমতা তাঁর রয়েছে এবং যত দিন সম্ভব এই দায়িত্ব পালন করে যেতে চান।

গম্ভীরের কথায়, তিনি মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়েছেন, তবে সেই চাপ সামলে নেওয়ার মতো শক্তিও তাঁর রয়েছে। দেশের হয়ে কাজ করার সুযোগের সঙ্গে অন্য কোনও কিছুর তুলনা চলে না। প্রয়োজনে দেশের জন্য বুলেটের সামনেও দাঁড়াতে প্রস্তুত তিনি।

ভারতের মতো দলের কোচ হলে প্রত্যাশা ও সমালোচনা যে সব সময় থাকবে, তা ভালোভাবেই জানেন গম্ভীর। প্রতিটি ম্যাচ জেতার প্রত্যাশা থাকে সমর্থকদের। সামান্য ব্যর্থতাতেও কোচের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। কিন্তু সেই সমালোচনাকে দায়িত্ব থেকে পিছিয়ে আসার কারণ হিসেবে দেখতে নারাজ তিনি। তাঁর কাছে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

নিউজিল্যান্ড সফরের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ভারতের শুরুটা ছিল দুর্দান্ত। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের পর নিউজিল্যান্ডে পৌঁছে খুব বেশি অনুশীলনের সুযোগ পায়নি ভারতীয় দল। দীর্ঘ বিমানযাত্রার ধকল কাটিয়ে মাত্র এক দিন প্রস্তুতির সুযোগ পেয়েছিলেন ক্রিকেটাররা। তার পরেও প্রথম তিনটি ম্যাচ জিতে পাঁচ ম্যাচের সিরিজ নিজেদের পকেটে পুরে নেয় ভারত।

দলের এই পারফরম্যান্সে খুশি গম্ভীর। তাঁর মতে, সম্পূর্ণ ভিন্ন আবহাওয়া, পরিবেশ এবং মাঠের পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে যে ভাবে ক্রিকেটাররা চাপ সামলেছেন, তা প্রশংসার যোগ্য। বিশেষ করে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে বেশ কয়েক জন ক্রিকেটারের প্রথম সফর হওয়া সত্ত্বেও তাঁরা যে মানসিকতা দেখিয়েছেন, তাতে সন্তুষ্ট কোচ।

তবে সিরিজের শেষ ছবিটা ভারতের জন্য খুব একটা স্বস্তির ছিল না। প্রথম তিন ম্যাচ জিতে সিরিজ নিশ্চিত করার পর শেষ দু’টি ম্যাচেই হেরে যায় ভারত। হ্যামিল্টনে পঞ্চম টি-টোয়েন্টিতে সাত উইকেটে জয় পায় নিউজিল্যান্ড। ফলে পাঁচ ম্যাচের সিরিজ শেষ হয় ভারতের পক্ষে ৩-২ ব্যবধানে।

টি-টোয়েন্টি সিরিজ শেষ হওয়ার পর এবার ভারতের সামনে ওয়ানডে ও টেস্ট ক্রিকেটের চ্যালেঞ্জ। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে এই দুই ফরম্যাটে ভালো ফল করা যে সহজ হবে না, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন গম্ভীর। তাঁর মতে, টি-টোয়েন্টির তুলনায় ওয়ানডে এবং টেস্টে পরিস্থিতি অনেক বেশি কঠিন হতে পারে। তাই পরিকল্পনায় কোনও খামতি রাখতে চাইছে না ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট।

নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শুরু হওয়ার কথা ৪ নভেম্বর। এরপর ১৯ নভেম্বর থেকে শুরু হবে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। অর্থাৎ অল্প সময়ের মধ্যেই ক্রিকেটারদের সাদা বল থেকে লাল বলের ক্রিকেটে মানিয়ে নিতে হবে। এই পরিবর্তনের জন্য যথাযথ প্রস্তুতি প্রয়োজন বলে মনে করেন গম্ভীর।

টেস্ট ক্রিকেটের প্রস্তুতির জন্য তিন দিনের সময় যথেষ্ট নয় বলেও মত জানিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, লাল বলের ক্রিকেটে ভালো ফল করতে হলে অন্তত আট থেকে ন’দিনের প্রস্তুতি প্রয়োজন। সূচি নির্ধারণের দায়িত্ব বিসিসিআইয়ের হলেও প্রতিটি ফরম্যাটের প্রস্তুতিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।

নিউজিল্যান্ড সফরে ভারতের সামনে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে বোলিং বিভাগ। গম্ভীরের বক্তব্য অনুযায়ী, অভিজ্ঞতার নিরিখে নিউজিল্যান্ডের পরিস্থিতিতে ভারতের বোলিং আক্রমণ কিছুটা পিছিয়ে থাকতে পারে। বিশেষ করে ওয়ানডে ক্রিকেটে এতটা অনভিজ্ঞ বোলিং আক্রমণ নিয়ে নামা দলের কাছে বড় পরীক্ষা হতে চলেছে।

টেস্ট ক্রিকেটেও বোলারদের অভিজ্ঞতার অভাব নিয়ে সতর্ক গম্ভীর। তাঁর মতে, ব্যাটিং বিভাগ নিয়ে আপাতত বিশেষ উদ্বেগ নেই। কিন্তু বোলারদের উপর বাড়তি দায়িত্ব থাকবে। প্রতিপক্ষের ঘরের মাঠে কঠিন পরিস্থিতিতে ধারাবাহিকভাবে ভালো বল করতে না পারলে সিরিজ জেতা কঠিন হবে।

ফলে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ওয়ানডে ও টেস্ট সিরিজে ভারতীয় বোলারদের পারফরম্যান্সই বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। গম্ভীরের বক্তব্য, দল ভালো ফল করলে বোলারদের অবদানই সবচেয়ে বেশি প্রশংসার দাবি রাখবে।

টি-টোয়েন্টি সিরিজে ৩-২ ব্যবধানে জয় দিয়ে শুরু হলেও শেষের দু’টি হার ভারতের সামনে কিছু প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এবার ওয়ানডে ও টেস্টে সেই ভুল শুধরে ঘুরে দাঁড়ানোই লক্ষ্য। চাপ, ক্লান্তি এবং কঠিন সূচির মাঝেও গম্ভীরের বার্তা পরিষ্কার—দেশের হয়ে খেলতে বা দায়িত্ব পালন করতে কোনও অজুহাত নয়, লক্ষ্য একটাই জয়।

সপ্তাহের শুরুতেই শেয়ার বাজারে বড় লাফ, ৭৮৮ পয়েন্ট বাড়ল সেনসেক্স! চাঙ্গা নিফটিও

সপ্তাহের শুরুতে সেনসেক্স ও নিফটির উত্থানে চাঙ্গা ভারতীয় শেয়ার বাজার
সপ্তাহের প্রথম ট্রেডিং সেশনেই ঊর্ধ্বমুখী সেনসেক্স ও নিফটি।

সপ্তাহের প্রথম ট্রেডিং সেশনেই ঘুরে দাঁড়াল দেশের শেয়ার বাজার (Indian Stock Market)। সোমবার, ২ নভেম্বর বাজার খোলার পর থেকেই শেয়ার কেনার প্রবণতা দেখা যায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে। মাত্র ১৫ মিনিটের লেনদেনেই প্রায় ১ শতাংশ বেড়ে যায় দুই বেঞ্চমার্ক সূচক সেনসেক্স (Sensex) ও নিফটি ৫০ (Nifty 50)। একইসঙ্গে স্মলক্যাপ ও মিডক্যাপ সূচকেও ছিল উল্লেখযোগ্য উত্থান। ফলে সপ্তাহের শুরুতেই ডালাল স্ট্রিটে ফিরল স্বস্তির ছবি।

প্রদত্ত প্রাথমিক বাজার-তথ্য অনুযায়ী, লেনদেন শুরুর ১৫ মিনিটের মধ্যে নিফটি ৫০ বেড়েছিল ২০৬ পয়েন্ট বা ০.৯০ শতাংশ। অন্যদিকে সেনসেক্সের ঝুলিতে যোগ হয়েছিল ৭৮৮ পয়েন্ট, যা প্রায় ১.০৫ শতাংশ বৃদ্ধি। পরবর্তী লেনদেনেও সূচকগুলির ঊর্ধ্বগতি বজায় থাকে। সকাল ৯টা ৪২ মিনিট নাগাদ নিফটি ৫০ প্রায় ১.০৮ শতাংশ বেড়ে ২৩,৩০৪.৯০ পয়েন্টে এবং সেনসেক্স ১.২৭ শতাংশ বেড়ে ৭৫,৪০৪.৬৪ পয়েন্টে পৌঁছয়।

কেন চাঙ্গা হল শেয়ার বাজার?

সোমবারের বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ও দেশীয় একাধিক আর্থিক খবর। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের অবসান নিয়ে কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগও কিছুটা কমেছে বলে বাজার বিশেষজ্ঞদের একাংশের মত।

গত সপ্তাহে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৮ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছিল। সোমবার তা নেমে প্রায় ১১০ ডলারে আসে। ভারতের মতো তেল আমদানিনির্ভর দেশের ক্ষেত্রে অপরিশোধিত তেলের দাম কমা সাধারণত মুদ্রাস্ফীতি ও আমদানি খরচের চাপ কমার সম্ভাবনা তৈরি করে। সেই কারণেও বাজারে কেনাকাটার প্রবণতা বেড়েছে।

বাজারের উত্থানে বড় ভূমিকা নিয়েছে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের (Reliance Industries) শেয়ারের ঊর্ধ্বগতি। ত্রৈমাসিক ফলাফলে প্রত্যাশার তুলনায় ভালো মুনাফার খবর প্রকাশ্যে আসার পর সংস্থার শেয়ারে জোরালো কেনাকাটা দেখা যায়। সোমবার সকালে রিলায়েন্সের শেয়ার প্রায় ৬ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছিল। এর পাশাপাশি কয়েকটি বড় সংস্থার ভালো ফলাফল এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কেনাকাটাও বাজারের মনোভাব ইতিবাচক করতে সাহায্য করেছে।

শুধু সেনসেক্স ও নিফটির মতো বড় সূচক নয়, সোমবারের লেনদেনে চাঙ্গা ছিল মিডক্যাপ ও স্মলক্যাপ শেয়ারও। অর্থাৎ বাজারের উত্থান কেবল কয়েকটি বড় সংস্থার শেয়ারে সীমাবদ্ধ ছিল না। বিভিন্ন ক্ষেত্রের শেয়ারে কেনাকাটার প্রবণতা দেখা গিয়েছে।

রয়টার্সের (Reuters) বাজার-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সকাল ৯টা ৪২ মিনিট নাগাদ ১৬টি প্রধান সেক্টরাল সূচকের মধ্যে ১৫টিই ইতিবাচক অবস্থানে ছিল। ফলে বাজারে সামগ্রিকভাবে কেনার প্রবণতা কতটা জোরালো ছিল, তা স্পষ্ট হয়।

তবে বাজারের এই উত্থান কতক্ষণ স্থায়ী হবে, তা নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, অপরিশোধিত তেলের দাম এবং আগামী দিনে প্রকাশিত হতে চলা সংস্থাগুলির আর্থিক ফলাফলের উপর। তাই এক দিনের সূচক বৃদ্ধি দেখেই বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরি।

সপ্তাহের শুরুতে সেনসেক্স ও নিফটির এই উত্থান নিঃসন্দেহে বিনিয়োগকারীদের মনে স্বস্তি ফিরিয়েছে। তবে বাজারে অস্থিরতা পুরোপুরি কেটেছে, এমন সিদ্ধান্তে এখনই পৌঁছনোর সময় আসেনি।