Home Blog Page 2

ইন্দ্রনীল সেনের মেয়েকেও লালবাজারে তলব, পুজোর পাস মামলায় পরিবারের আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখছে পুলিশ

পুজোর পাস মামলায় প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনকে ঘিরে কলকাতা পুলিশের তদন্ত
পুজোর পাস মামলায় ইন্দ্রনীল সেনের পরিবারের আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখছে লালবাজার।

দুর্গাপুজোর পাস বিক্রি ও ইউনেস্কোর (UNESCO) নাম-লোগো ব্যবহারের অভিযোগে তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের পরিবারের আর্থিক লেনদেনের উপর নজর বাড়াচ্ছে কলকাতা পুলিশ। এবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য লালবাজারে তলব করা হল ইন্দ্রনীল সেনের মেয়েকে। তদন্তকারীদের দাবি, তাঁর নামে থাকা দু’টি সংস্থার সঙ্গে এই মামলার আর্থিক লেনদেনের যোগসূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর আগে ইন্দ্রনীলের স্ত্রী মধুছন্দা সেনকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকেছিল পুলিশ। ফলে পুজোর পাস সংক্রান্ত মামলায় সেন পরিবারের একাধিক সদস্যকে ঘিরে তদন্তের পরিধি বাড়ছে।

২ নভেম্বর প্রকাশিত সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইন্দ্রনীল-কন্যার নামে থাকা ‘আইএসকেপ’ এবং ‘মায়েরা’ নামে দু’টি সংস্থার লেনদেন তদন্তকারীদের নজরে এসেছে। অভিযোগ, ‘মাস আর্ট’ (Mass Art) সংস্থার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থের সঙ্গে ওই সংস্থাগুলির আর্থিক যোগসূত্র রয়েছে। সেই লেনদেনের প্রকৃতি, টাকার উৎস এবং কোথায় সেই অর্থ গিয়েছে, তা জানতে তাঁর বক্তব্য শুনতে চান গোয়েন্দারা। তবে তলব হওয়া মানেই কোনও অপরাধে তাঁর জড়িত থাকা প্রমাণিত নয়। তদন্তের স্বার্থেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাইছে পুলিশ।

গত ২৮ অক্টোবর প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনকে গ্রেপ্তার করে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের বিশেষ সেল। ওই দিন সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে ইডির দফতরে হাজিরা দিতে গিয়েছিলেন তিনি। দুর্গাপুজোর প্রিভিউ শো এবং বিশেষ প্রবেশপত্র বিক্রির নামে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)।

ইডির দফতর থেকে বেরোনোর পরই কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দারা তাঁকে আটক করেন। পরে লালবাজারে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেপ্তার করা হয় তাঁকে। পুলিশের অভিযোগ, এর আগে একাধিকবার তলব করা হলেও তিনি হাজিরা দেননি। আগাম জামিনের আবেদনও আদালতে খারিজ হয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

এই মামলায় কলকাতা পুলিশ ও ইডি পৃথকভাবে তদন্ত করছে। ইন্দ্রনীল সেনের গ্রেপ্তারির পর আদালত তাঁকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেয়।

এই মামলার সূত্রপাত ব্যবসায়ী জয়দীপ মুখোপাধ্যায়ের দায়ের করা অভিযোগ থেকে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২২ সালে ‘মাস আর্ট’ নামে একটি সংস্থা তৈরি হয়। দুর্গাপুজোর প্রিভিউ শো এবং বিশেষ প্রবেশের পাস বিক্রির সঙ্গে সংস্থাটির নাম জড়ায়। অভিযোগকারীর দাবি, কলকাতার একাধিক বড় পুজো মণ্ডপের প্রিভিউ শোয়ের জন্য উচ্চমূল্যে টিকিট বিক্রি করা হয়েছিল।

অভিযোগে আরও বলা হয়, সংস্থাটি নিজেদের ইউনেস্কোর সঙ্গে যুক্ত বা অনুমোদিত অংশীদার হিসেবে প্রচার করেছিল এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাটির নাম ও লোগো ব্যবহার করে পাস বিক্রি করা হয়েছিল। এই ব্যবহারের বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন ওঠে। বিষয়টি নিয়ে বউবাজার থানায় অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর তদন্ত শুরু করে কলকাতা পুলিশ। পরে গোয়েন্দা বিভাগের বিশেষ দল তদন্তের দায়িত্ব নেয়। ইডিও আর্থিক লেনদেনের সূত্র ধরে পৃথক তদন্ত শুরু করে।

ইন্দ্রনীল সেনের গ্রেপ্তারির পর তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেনকেও লালবাজারে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ৩১ অক্টোবর তিনি সেখানে গিয়ে তদন্তকারীদের মুখোমুখি হন। ‘মাস আর্ট’-এর সঙ্গে তাঁর যোগসূত্র এবং সংস্থার আর্থিক লেনদেন নিয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হয় বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

এবার মেয়ের নামে থাকা দু’টি সংস্থার লেনদেন খতিয়ে দেখতে চাইছেন তদন্তকারীরা। ‘মাস আর্ট’-এর মাধ্যমে পুজোর পাস বিক্রি করে সংগৃহীত অর্থ কোন কোন অ্যাকাউন্টে গিয়েছে, একাধিক সংস্থার মধ্যে টাকা কীভাবে ঘুরেছে এবং সেই লেনদেনের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের কোনও যোগ রয়েছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ।

‘দ্য টেলিগ্রাফ’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, তদন্তকারীরা ইন্দ্রনীল সেনের স্ত্রী-সহ পরিবারের অন্য সদস্যদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টও খতিয়ে দেখছেন। আদালতে পুলিশের পক্ষ থেকে একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অর্থ লেনদেনের কথা জানানো হয়েছিল। তবে তদন্তের বিভিন্ন পর্যায়ে সম্ভাব্য আর্থিক অনিয়মের অঙ্ক নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে আলাদা আলাদা তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। তাই নির্দিষ্ট অঙ্ককে চূড়ান্ত বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।

তদন্তকারীদের অভিযোগের পাশাপাশি ইন্দ্রনীল সেনের আইনজীবীর বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ। আদালতে তাঁর আইনজীবী দাবি করেছিলেন, ইন্দ্রনীল সেন ‘মাস আর্ট’-এর কোনও পদে ছিলেন না এবং তদন্তে তাঁর ভূমিকা নিয়ে পুলিশের বক্তব্যের বিরোধিতা করেছিলেন। ফলে মামলার অভিযোগ ও তার জবাব—দু’দিকই বিচারাধীন তদন্তের অংশ।

এখন ইন্দ্রনীল-কন্যাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর তদন্তে নতুন কোনও তথ্য সামনে আসে কি না, সেদিকেই নজর। বিশেষ করে ‘মাস আর্ট’, পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা সংস্থা এবং বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মধ্যে অর্থের লেনদেনের প্রকৃতি স্পষ্ট করাই তদন্তকারীদের অন্যতম লক্ষ্য। তবে অভিযোগের সত্যতা শেষ পর্যন্ত তদন্ত ও আদালতের প্রক্রিয়াতেই নির্ধারিত হবে।

বুদ্ধদেব সন্তান সুচেতনের বিস্ফোরক সাক্ষাৎকার! এসএফআই-সিপিএম নিয়ে ক্ষোভ, শিল্পায়নে ভরসা শুভেন্দু সরকারের উপর

বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের ছেলে সুচেতন ভট্টাচার্য ও বাংলার শিল্পায়ন প্রসঙ্গ
এসএফআই, সিপিএম এবং সিঙ্গুরে শিল্পায়ন নিয়ে নিজের বক্তব্য জানালেন সুচেতন ভট্টাচার্য।

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের (Buddhadeb Bhattacharjee) সন্তান। সেই পরিচয়ের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল প্রত্যাশা, চাপ এবং রাজনৈতিক পরিসরে নানা অভিজ্ঞতা। দীর্ঘদিন প্রকাশ্যে খুব বেশি কথা না বললেও এবার নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নিয়ে মুখ খুললেন সুচেতন ভট্টাচার্য (Suchetan Bhattacharya)। এসএফআইয়ের (SFI) সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ থেকে সিপিএমের (CPI-M) কিছু নেতার কথিত দ্বিচারিতা—একাধিক বিষয়ে সরব হয়েছেন তিনি। পাশাপাশি বাবার অধরা শিল্পায়নের স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রসঙ্গে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকারের উপরও আশা প্রকাশ করেছেন বুদ্ধদেবপুত্র।

১ নভেম্বর প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে সুচেতন জানিয়েছেন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সন্তান হওয়ার কারণে তাঁকে যেমন বাইরের নানা চাপ সামলাতে হয়েছে, তেমনই রাজনৈতিক সংগঠনের অন্দরেও নিজের মতো করে চলার ক্ষেত্রে সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে। ছাত্রজীবনে বামপন্থী রাজনীতির প্রতি আগ্রহ থাকলেও সংগঠনের কিছু নিয়ম ও নিয়ন্ত্রণ তাঁর ব্যক্তিস্বাধীনতার ভাবনার সঙ্গে মেলেনি। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই ধীরে ধীরে এসএফআই এবং দলের সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে সরে যান তিনি।

এসএফআই ছাড়ার কারণ জানালেন সুচেতন

ছাত্রজীবনে প্রেসিডেন্সি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পড়ুয়া ছিলেন সুচেতন। পারিবারিক রাজনৈতিক আবহের কারণে বামপন্থী ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে তাঁর পরিচয় তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সংগঠনের কাজ করতে গিয়ে ব্যক্তিস্বাধীনতা নিয়ে মতবিরোধ তৈরি হয় বলে জানিয়েছেন তিনি।

সুচেতনের বক্তব্য, এসএফআইয়ের একটি সময়ে সদস্যদের ব্যক্তিগত পছন্দ, কে কোন বই পড়বেন, কার সঙ্গে মিশবেন বা কথা বলবেন—এমন বিষয়েও সংগঠনের তরফে নির্দেশ দেওয়ার প্রবণতা ছিল। এই ধরনের নিয়ন্ত্রণ তিনি মেনে নিতে পারেননি।

নিজের ব্যক্তি-স্বাতন্ত্র্য ও স্বাধীন চিন্তার উপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়ে সুচেতন বলেন, সবাইকে একই কথা বলতে হবে বা একই মত অনুসরণ করতে হবে—এমন সাংগঠনিক সংস্কৃতি তাঁর পছন্দ ছিল না। ক্রমশ বিরক্তি বাড়ায় শেষ পর্যন্ত এসএফআই ছেড়ে বেরিয়ে আসেন তিনি।

এই সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে বাবা বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য তাঁকে কোনও বাধা দেননি বলেও জানিয়েছেন সুচেতন। বরং নিজের পছন্দ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা দিয়েছিলেন বাবা। রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রশ্নেও পরিবারের মধ্যে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দেওয়া হত বলে তাঁর বক্তব্য।

সিপিএমের কিছু নেতার দ্বিচারিতা নিয়েও সরব

শুধু ছাত্র সংগঠন নয়, সিপিএমের কিছু নেতার রাজনৈতিক জীবনযাপন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সুচেতন। তাঁর অভিযোগ, একাংশের বামপন্থী নেতা প্রকাশ্যে নিজেদের সর্বহারা হিসেবে তুলে ধরেন, কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনে তাঁদের জীবনযাপনের সঙ্গে সেই বক্তব্যের মিল পাওয়া যায় না।

সুচেতনের কথায়, কেউ কেউ প্রকাশ্যে আর্থিক অনটনের কথা বললেও তাঁদের সন্তানদের বিদেশে পড়াশোনা বা নিজেদের সম্পত্তির মতো বিষয় সামনে এলে অন্য ছবি দেখা যায়। এই ধরনের দ্বিচারিতা তাঁর অপছন্দের।

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর ছেলে হওয়ার কারণে দলের ভিতরেও তাঁকে নানা চাপের মুখে পড়তে হয়েছিল বলে জানিয়েছেন তিনি। দলের গঠনতন্ত্র ও সাংগঠনিক নিয়মের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া তাঁর পক্ষে কঠিন ছিল। তাই সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক গড়ে ওঠেনি। তবে নিজের বক্তব্যে জানিয়েছেন, এখনও ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে সিপিএমকেই বেছে নেন তিনি।

সিঙ্গুরে শিল্প না হওয়ার আক্ষেপ ছিল বুদ্ধদেবের

সাক্ষাৎকারের সবচেয়ে আবেগঘন অংশ ছিল বাবার শিল্পায়নের স্বপ্ন নিয়ে আলোচনা। পশ্চিমবঙ্গে শিল্প গড়ে তোলার জন্য বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের উদ্যোগ এবং সিঙ্গুরে টাটার প্রস্তাবিত গাড়ি কারখানা না হওয়ার প্রসঙ্গ উঠতেই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন সুচেতন।

তাঁর বক্তব্য, সিঙ্গুরে শিল্প না হওয়ার আক্ষেপ বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের জীবনের শেষ পর্বেও ছিল। রাজ্যে শিল্পায়নের যে পরিকল্পনা তিনি করেছিলেন, তা বাস্তবায়িত না হওয়ায় হতাশা থেকেই গিয়েছিল। সুচেতনের কথায়, বাবার কাছে এই বিষয়টি ছিল শুধু একটি কারখানা তৈরির প্রশ্ন নয়; বাংলার যুবসমাজের কর্মসংস্থান এবং রাজ্যের অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের সঙ্গেও তা জড়িত ছিল।

সিঙ্গুরের পাশাপাশি রাজ্যে বৃহত্তর শিল্প পরিকাঠামো গড়ে তোলার যে স্বপ্ন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য দেখেছিলেন, তা পূরণ হলে বহু মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারত বলে মনে করেন সুচেতন।

শিল্পায়ন নিয়ে শুভেন্দু সরকারের উপর আশা সুচেতনের

বর্তমান রাজ্য সরকারের শিল্পনীতি নিয়েও নিজের মত জানিয়েছেন বুদ্ধদেবপুত্র। তাঁর বক্তব্য, নতুন সরকার শিল্পস্থাপনের ক্ষেত্রে সদর্থক পদক্ষেপ করছে বলে তিনি মনে করছেন। সেই উদ্যোগ বাস্তবে রূপ পেলে তাঁর বাবা খুশি হতেন বলেই বিশ্বাস সুচেতনের।

এর আগে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের স্ত্রী মীরা ভট্টাচার্যও রাজ্যে শিল্পায়নের প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকারের প্রতি আশা প্রকাশ করেছিলেন। সিঙ্গুরে শিল্প গড়ে তোলার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেছিলেন, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য যে শিল্পায়নের স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়তে পারে।

সুচেতনের বক্তব্যেও সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন দেখা গিয়েছে। তবে তাঁর এই মন্তব্যকে বর্তমান সরকারের শিল্পনীতি সম্পর্কে ব্যক্তিগত আশাবাদ হিসেবেই দেখা উচিত। ঘোষিত পরিকল্পনা বাস্তবে কতটা শিল্প, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানে পরিণত হয়, তা নির্ভর করবে প্রকল্পগুলির বাস্তবায়নের উপর।

একদিকে নিজের রাজনৈতিক পরিচয় ও স্বাধীন চিন্তার কথা বলছেন সুচেতন, অন্যদিকে বাবার অসমাপ্ত শিল্পায়নের স্বপ্ন নিয়েও প্রকাশ্যে মত জানাচ্ছেন। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার নিয়ে যখন নতুন করে আলোচনা চলছে, তখন তাঁর ছেলের এই সাক্ষাৎকারও সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করল।

‘দেশের জন্য বুলেট খেতেও রাজি’, নিউজিল্যান্ড সফরে গম্ভীরের নতুন চ্যালেঞ্জ

নিউজিল্যান্ড সফরে ভারতীয় ক্রিকেট দলের কোচ গৌতম গম্ভীর
দেশের হয়ে দায়িত্ব পালনে কোনও অজুহাত নয়, স্পষ্ট বার্তা গৌতম গম্ভীরের।

টানা ক্রিকেটের ধকল, একের পর এক সিরিজ এবং প্রত্যাশার প্রবল চাপ। তবুও দায়িত্ব থেকে সরে আসার কোনও প্রশ্নই নেই ভারতের হেড কোচ গৌতম গম্ভীরের (Gautam Gambhir)। প্রয়োজনে দেশের জন্য বুলেটের সামনেও দাঁড়াতে রাজি তিনি। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজ শেষে হ্যামিল্টনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এমনই দৃঢ় বার্তা দিয়েছেন ভারতীয় দলের কোচ। একইসঙ্গে আগামী ওয়ানডে ও টেস্ট সিরিজের জন্য দলকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতি নিতে বলেছেন তিনি।

ভারতীয় ক্রিকেট দলের ব্যস্ত সূচিতে বিশ্রামের সুযোগ কার্যত নেই। এক সিরিজ শেষ হওয়ার আগেই শুরু হয়ে যাচ্ছে পরেরটির প্রস্তুতি। ক্রিকেটারদের পাশাপাশি এই চাপ সামলাতে হচ্ছে কোচ ও সাপোর্ট স্টাফদেরও। গম্ভীরও স্বীকার করেছেন, একাধিক ফরম্যাটে দলের দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে কখনও কখনও মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়েন তিনি। তবে দেশের হয়ে কাজ করার সুযোগকে সবচেয়ে বড় সম্মান বলেই মনে করেন ভারতের হেড কোচ।

‘আমি বুলেটের সামনেও দাঁড়াতে রাজি’, স্পষ্ট বার্তা গম্ভীরের

নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে পঞ্চম টি-টোয়েন্টি ম্যাচের পর সাংবাদিক সম্মেলনে গম্ভীরকে তাঁর কাজের চাপ এবং মানসিক ক্লান্তি নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। জবাবে তিনি জানান, পেশাদার হিসেবে দায়িত্ব পালনে কোনও অজুহাত দিতে চান না। চাপ সামলানোর ক্ষমতা তাঁর রয়েছে এবং যত দিন সম্ভব এই দায়িত্ব পালন করে যেতে চান।

গম্ভীরের কথায়, তিনি মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়েছেন, তবে সেই চাপ সামলে নেওয়ার মতো শক্তিও তাঁর রয়েছে। দেশের হয়ে কাজ করার সুযোগের সঙ্গে অন্য কোনও কিছুর তুলনা চলে না। প্রয়োজনে দেশের জন্য বুলেটের সামনেও দাঁড়াতে প্রস্তুত তিনি।

ভারতের মতো দলের কোচ হলে প্রত্যাশা ও সমালোচনা যে সব সময় থাকবে, তা ভালোভাবেই জানেন গম্ভীর। প্রতিটি ম্যাচ জেতার প্রত্যাশা থাকে সমর্থকদের। সামান্য ব্যর্থতাতেও কোচের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। কিন্তু সেই সমালোচনাকে দায়িত্ব থেকে পিছিয়ে আসার কারণ হিসেবে দেখতে নারাজ তিনি। তাঁর কাছে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

নিউজিল্যান্ড সফরের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ভারতের শুরুটা ছিল দুর্দান্ত। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের পর নিউজিল্যান্ডে পৌঁছে খুব বেশি অনুশীলনের সুযোগ পায়নি ভারতীয় দল। দীর্ঘ বিমানযাত্রার ধকল কাটিয়ে মাত্র এক দিন প্রস্তুতির সুযোগ পেয়েছিলেন ক্রিকেটাররা। তার পরেও প্রথম তিনটি ম্যাচ জিতে পাঁচ ম্যাচের সিরিজ নিজেদের পকেটে পুরে নেয় ভারত।

দলের এই পারফরম্যান্সে খুশি গম্ভীর। তাঁর মতে, সম্পূর্ণ ভিন্ন আবহাওয়া, পরিবেশ এবং মাঠের পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে যে ভাবে ক্রিকেটাররা চাপ সামলেছেন, তা প্রশংসার যোগ্য। বিশেষ করে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে বেশ কয়েক জন ক্রিকেটারের প্রথম সফর হওয়া সত্ত্বেও তাঁরা যে মানসিকতা দেখিয়েছেন, তাতে সন্তুষ্ট কোচ।

তবে সিরিজের শেষ ছবিটা ভারতের জন্য খুব একটা স্বস্তির ছিল না। প্রথম তিন ম্যাচ জিতে সিরিজ নিশ্চিত করার পর শেষ দু’টি ম্যাচেই হেরে যায় ভারত। হ্যামিল্টনে পঞ্চম টি-টোয়েন্টিতে সাত উইকেটে জয় পায় নিউজিল্যান্ড। ফলে পাঁচ ম্যাচের সিরিজ শেষ হয় ভারতের পক্ষে ৩-২ ব্যবধানে।

টি-টোয়েন্টি সিরিজ শেষ হওয়ার পর এবার ভারতের সামনে ওয়ানডে ও টেস্ট ক্রিকেটের চ্যালেঞ্জ। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে এই দুই ফরম্যাটে ভালো ফল করা যে সহজ হবে না, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন গম্ভীর। তাঁর মতে, টি-টোয়েন্টির তুলনায় ওয়ানডে এবং টেস্টে পরিস্থিতি অনেক বেশি কঠিন হতে পারে। তাই পরিকল্পনায় কোনও খামতি রাখতে চাইছে না ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট।

নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শুরু হওয়ার কথা ৪ নভেম্বর। এরপর ১৯ নভেম্বর থেকে শুরু হবে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। অর্থাৎ অল্প সময়ের মধ্যেই ক্রিকেটারদের সাদা বল থেকে লাল বলের ক্রিকেটে মানিয়ে নিতে হবে। এই পরিবর্তনের জন্য যথাযথ প্রস্তুতি প্রয়োজন বলে মনে করেন গম্ভীর।

টেস্ট ক্রিকেটের প্রস্তুতির জন্য তিন দিনের সময় যথেষ্ট নয় বলেও মত জানিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, লাল বলের ক্রিকেটে ভালো ফল করতে হলে অন্তত আট থেকে ন’দিনের প্রস্তুতি প্রয়োজন। সূচি নির্ধারণের দায়িত্ব বিসিসিআইয়ের হলেও প্রতিটি ফরম্যাটের প্রস্তুতিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।

নিউজিল্যান্ড সফরে ভারতের সামনে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে বোলিং বিভাগ। গম্ভীরের বক্তব্য অনুযায়ী, অভিজ্ঞতার নিরিখে নিউজিল্যান্ডের পরিস্থিতিতে ভারতের বোলিং আক্রমণ কিছুটা পিছিয়ে থাকতে পারে। বিশেষ করে ওয়ানডে ক্রিকেটে এতটা অনভিজ্ঞ বোলিং আক্রমণ নিয়ে নামা দলের কাছে বড় পরীক্ষা হতে চলেছে।

টেস্ট ক্রিকেটেও বোলারদের অভিজ্ঞতার অভাব নিয়ে সতর্ক গম্ভীর। তাঁর মতে, ব্যাটিং বিভাগ নিয়ে আপাতত বিশেষ উদ্বেগ নেই। কিন্তু বোলারদের উপর বাড়তি দায়িত্ব থাকবে। প্রতিপক্ষের ঘরের মাঠে কঠিন পরিস্থিতিতে ধারাবাহিকভাবে ভালো বল করতে না পারলে সিরিজ জেতা কঠিন হবে।

ফলে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ওয়ানডে ও টেস্ট সিরিজে ভারতীয় বোলারদের পারফরম্যান্সই বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। গম্ভীরের বক্তব্য, দল ভালো ফল করলে বোলারদের অবদানই সবচেয়ে বেশি প্রশংসার দাবি রাখবে।

টি-টোয়েন্টি সিরিজে ৩-২ ব্যবধানে জয় দিয়ে শুরু হলেও শেষের দু’টি হার ভারতের সামনে কিছু প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এবার ওয়ানডে ও টেস্টে সেই ভুল শুধরে ঘুরে দাঁড়ানোই লক্ষ্য। চাপ, ক্লান্তি এবং কঠিন সূচির মাঝেও গম্ভীরের বার্তা পরিষ্কার—দেশের হয়ে খেলতে বা দায়িত্ব পালন করতে কোনও অজুহাত নয়, লক্ষ্য একটাই জয়।

সপ্তাহের শুরুতেই শেয়ার বাজারে বড় লাফ, ৭৮৮ পয়েন্ট বাড়ল সেনসেক্স! চাঙ্গা নিফটিও

সপ্তাহের শুরুতে সেনসেক্স ও নিফটির উত্থানে চাঙ্গা ভারতীয় শেয়ার বাজার
সপ্তাহের প্রথম ট্রেডিং সেশনেই ঊর্ধ্বমুখী সেনসেক্স ও নিফটি।

সপ্তাহের প্রথম ট্রেডিং সেশনেই ঘুরে দাঁড়াল দেশের শেয়ার বাজার (Indian Stock Market)। সোমবার, ২ নভেম্বর বাজার খোলার পর থেকেই শেয়ার কেনার প্রবণতা দেখা যায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে। মাত্র ১৫ মিনিটের লেনদেনেই প্রায় ১ শতাংশ বেড়ে যায় দুই বেঞ্চমার্ক সূচক সেনসেক্স (Sensex) ও নিফটি ৫০ (Nifty 50)। একইসঙ্গে স্মলক্যাপ ও মিডক্যাপ সূচকেও ছিল উল্লেখযোগ্য উত্থান। ফলে সপ্তাহের শুরুতেই ডালাল স্ট্রিটে ফিরল স্বস্তির ছবি।

প্রদত্ত প্রাথমিক বাজার-তথ্য অনুযায়ী, লেনদেন শুরুর ১৫ মিনিটের মধ্যে নিফটি ৫০ বেড়েছিল ২০৬ পয়েন্ট বা ০.৯০ শতাংশ। অন্যদিকে সেনসেক্সের ঝুলিতে যোগ হয়েছিল ৭৮৮ পয়েন্ট, যা প্রায় ১.০৫ শতাংশ বৃদ্ধি। পরবর্তী লেনদেনেও সূচকগুলির ঊর্ধ্বগতি বজায় থাকে। সকাল ৯টা ৪২ মিনিট নাগাদ নিফটি ৫০ প্রায় ১.০৮ শতাংশ বেড়ে ২৩,৩০৪.৯০ পয়েন্টে এবং সেনসেক্স ১.২৭ শতাংশ বেড়ে ৭৫,৪০৪.৬৪ পয়েন্টে পৌঁছয়।

কেন চাঙ্গা হল শেয়ার বাজার?

সোমবারের বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ও দেশীয় একাধিক আর্থিক খবর। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের অবসান নিয়ে কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগও কিছুটা কমেছে বলে বাজার বিশেষজ্ঞদের একাংশের মত।

গত সপ্তাহে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৮ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছিল। সোমবার তা নেমে প্রায় ১১০ ডলারে আসে। ভারতের মতো তেল আমদানিনির্ভর দেশের ক্ষেত্রে অপরিশোধিত তেলের দাম কমা সাধারণত মুদ্রাস্ফীতি ও আমদানি খরচের চাপ কমার সম্ভাবনা তৈরি করে। সেই কারণেও বাজারে কেনাকাটার প্রবণতা বেড়েছে।

বাজারের উত্থানে বড় ভূমিকা নিয়েছে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের (Reliance Industries) শেয়ারের ঊর্ধ্বগতি। ত্রৈমাসিক ফলাফলে প্রত্যাশার তুলনায় ভালো মুনাফার খবর প্রকাশ্যে আসার পর সংস্থার শেয়ারে জোরালো কেনাকাটা দেখা যায়। সোমবার সকালে রিলায়েন্সের শেয়ার প্রায় ৬ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছিল। এর পাশাপাশি কয়েকটি বড় সংস্থার ভালো ফলাফল এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কেনাকাটাও বাজারের মনোভাব ইতিবাচক করতে সাহায্য করেছে।

শুধু সেনসেক্স ও নিফটির মতো বড় সূচক নয়, সোমবারের লেনদেনে চাঙ্গা ছিল মিডক্যাপ ও স্মলক্যাপ শেয়ারও। অর্থাৎ বাজারের উত্থান কেবল কয়েকটি বড় সংস্থার শেয়ারে সীমাবদ্ধ ছিল না। বিভিন্ন ক্ষেত্রের শেয়ারে কেনাকাটার প্রবণতা দেখা গিয়েছে।

রয়টার্সের (Reuters) বাজার-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সকাল ৯টা ৪২ মিনিট নাগাদ ১৬টি প্রধান সেক্টরাল সূচকের মধ্যে ১৫টিই ইতিবাচক অবস্থানে ছিল। ফলে বাজারে সামগ্রিকভাবে কেনার প্রবণতা কতটা জোরালো ছিল, তা স্পষ্ট হয়।

তবে বাজারের এই উত্থান কতক্ষণ স্থায়ী হবে, তা নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, অপরিশোধিত তেলের দাম এবং আগামী দিনে প্রকাশিত হতে চলা সংস্থাগুলির আর্থিক ফলাফলের উপর। তাই এক দিনের সূচক বৃদ্ধি দেখেই বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরি।

সপ্তাহের শুরুতে সেনসেক্স ও নিফটির এই উত্থান নিঃসন্দেহে বিনিয়োগকারীদের মনে স্বস্তি ফিরিয়েছে। তবে বাজারে অস্থিরতা পুরোপুরি কেটেছে, এমন সিদ্ধান্তে এখনই পৌঁছনোর সময় আসেনি।

ইজরায়েলের সঙ্গে ৮ হাজার কোটির প্রতিরক্ষা চুক্তির পথে ভারত, বায়ুসেনার জন্য আসছে ৬টি আকাশে জ্বালানি ভরার বিমান

ভারতীয় বায়ুসেনার জন্য বোয়িং ৭৬৭ জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান তৈরির সম্ভাব্য ভারত-ইজরায়েল প্রতিরক্ষা চুক্তি।
বায়ুসেনার জন্য ছ'টি আধুনিক আকাশপথে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান কেনার পরিকল্পনা।

ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে এই সম্ভাব্য চুক্তিকে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, দীর্ঘদিন ধরেই মাঝ আকাশে যুদ্ধবিমানকে জ্বালানি সরবরাহ করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে ভারতীয় বায়ুসেনা। বর্তমানে রাশিয়ায় তৈরি ছ’টি ইলিউশিন আইএল-৭৮ (Ilyushin Il-78) ট্যাঙ্কার বিমান রয়েছে বায়ুসেনার হাতে। ২০০৩ সালে প্রথম এই বিমানগুলি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে সেগুলির রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিষেবা সংক্রান্ত সমস্যা বাড়ছে। ফলে নতুন প্রজন্মের জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে।

প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইজরায়েলের আইএআই ছ’টি ব্যবহৃত বোয়িং ৭৬৭ (Boeing 767) যাত্রীবাহী বিমান সংগ্রহ করবে। এরপর সেগুলিকে সম্পূর্ণ নতুন প্রযুক্তিতে সামরিক জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানে রূপান্তরিত করা হবে। এই বিশেষ বিমানগুলির নাম মাল্টি মিশন ট্যাঙ্কার ট্রান্সপোর্ট (Multi Mission Tanker Transport বা MMTT)।

শুধু আকাশে জ্বালানি সরবরাহ নয়, এই বিমানগুলিকে একাধিক সামরিক প্রয়োজনে ব্যবহার করার উপযোগী করে তোলা হবে। সেনা পরিবহণ, সামরিক সরঞ্জাম বহন এবং কৌশলগত পণ্য পরিবহণের কাজেও এগুলি ব্যবহার করা সম্ভব হবে। অর্থাৎ, একই বিমান একাধিক ধরনের দায়িত্ব পালন করতে পারবে।

এই প্রতিরক্ষা প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল দেশীয় প্রযুক্তি ও উৎপাদন ব্যবস্থার অংশগ্রহণ। প্রস্তাবিত চুক্তিতে অন্তত ৩০ শতাংশ কাজ ভারতে করার শর্ত রয়েছে। সেই কাজের দায়িত্বে থাকতে পারে হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড বা হ্যাল।

বিমানের কাঠামোগত পরিবর্তন, বৈদ্যুতিক সংযোগ, বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সংযুক্ত করা এবং প্রযুক্তি ব্যবস্থার একীকরণের মতো কাজে ভারতীয় সংস্থাগুলি অংশ নিতে পারে। এর ফলে শুধু বায়ুসেনার জন্য নতুন বিমান তৈরি নয়, দেশের প্রতিরক্ষা উৎপাদন ক্ষেত্রেও নতুন প্রযুক্তিগত দক্ষতা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের এপ্রিল মাসেই আইএআই এবং হ্যালের মধ্যে মাল্টি মিশন ট্যাঙ্কার ট্রান্সপোর্ট প্রকল্প নিয়ে একটি সমঝোতাপত্র স্বাক্ষরিত হয়েছিল। সেই সমঝোতার লক্ষ্য ছিল ভারতে ব্যবহৃত যাত্রীবাহী বিমানকে সামরিক ট্যাঙ্কার ও পরিবহণ বিমানে রূপান্তরিত করার পরিকাঠামো তৈরি করা।

যুদ্ধবিমানের ক্ষেত্রে মাঝ আকাশে জ্বালানি ভরার প্রযুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত যুদ্ধবিমান নির্দিষ্ট পরিমাণ জ্বালানি নিয়ে আকাশে ওড়ে। জ্বালানি শেষ হওয়ার আগে তাকে কোনও বিমানঘাঁটিতে ফিরে আসতে হয়। কিন্তু আকাশে জ্বালানি সরবরাহের ব্যবস্থা থাকলে মাঝপথে অবতরণ না করেই আরও দীর্ঘ সময় উড়তে পারে যুদ্ধবিমান।

এই পদ্ধতিতে বিশেষভাবে তৈরি ট্যাঙ্কার বিমান যুদ্ধবিমানের পাশে নির্দিষ্ট দূরত্ব ও উচ্চতায় উড়ে জ্বালানি সরবরাহ করে। ফলে যুদ্ধবিমানের কার্যকর উড়ান-সময় এবং অভিযান চালানোর পরিসর বাড়ে। দীর্ঘ দূরত্বের সামরিক অভিযান, সীমান্ত এলাকায় নজরদারি এবং সমুদ্রপথে কৌশলগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি বিশেষ কার্যকর।

নতুন ট্যাঙ্কার বিমানগুলি হাতে এলে রাফাল (Rafale), সুখোই-৩০ এমকেআই (Su-30MKI)-সহ বায়ুসেনার বিভিন্ন যুদ্ধবিমানের আকাশে থাকার সক্ষমতা বাড়তে পারে। ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলেও দীর্ঘ দূরত্বের অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সুবিধা পাওয়া সম্ভব হবে।

ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রস্তাবিত চুক্তি চূড়ান্ত হলে ২০২৮ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে ছ’টি বিমান সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এই সময়সীমা এখনও চূড়ান্ত সরকারি সরবরাহ সূচি নয়। মূল্য নির্ধারণ, চুক্তির শর্তাবলি এবং প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদনের একাধিক ধাপ বাকি রয়েছে।

প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত দর-কষাকষিতে ইজরায়েলের আইএআই এগিয়ে রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। রাশিয়া ও ইউরোপের কয়েকটি সংস্থাও প্রাথমিকভাবে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিল। কিন্তু প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করতে না পারায় শেষ পর্যন্ত আইএআই একমাত্র যোগ্য দরদাতা হিসেবে উঠে এসেছে বলে রিপোর্ট।

সব মিলিয়ে, প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার এই সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ভারতীয় বায়ুসেনার আকাশপথে অভিযান চালানোর সক্ষমতা বাড়বে। একই সঙ্গে পুরনো রুশ ট্যাঙ্কার বিমানের উপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। তবে চুক্তি স্বাক্ষর ও চূড়ান্ত অনুমোদন না হওয়া পর্যন্ত ছ’টি বিমান কেনার বিষয়টিকে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।

রাতেই অন্ধ্র উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’, ১২০ কিমি বেগে ঝড়! বাংলায় কতটা প্রভাব?

বঙ্গোপসাগরে প্রবল ঘূর্ণিঝড় মুরাসু এবং অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে সম্ভাব্য ল্যান্ডফল।
অন্ধ্র উপকূলে ল্যান্ডফলের পূর্বাভাস ঘূর্ণিঝড় মুরাসুর, বাংলায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা।

বঙ্গোপসাগরে শক্তি বাড়িয়ে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে ‘মুরাসু’। ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের (India Meteorological Department বা IMD) সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, সোমবার, ২ নভেম্বর মধ্যরাত থেকে মঙ্গলবার ভোরের মধ্যে দক্ষিণ অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে এই ঘূর্ণিঝড়। ল্যান্ডফলের সময় ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার হতে পারে। দমকা হাওয়ার সর্বোচ্চ গতিবেগ পৌঁছতে পারে ১২০ কিলোমিটারে। তবে বাংলার ক্ষেত্রে আপাতত সরাসরি ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতের আশঙ্কা নেই। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গ ও উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, অন্ধ্র উপকূলে মুরাসুর তাণ্ডবের কতটা প্রভাব পড়বে বাংলার আবহাওয়ায়?

শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত মুরাসু, কোথায় হবে ল্যান্ডফল?

আবহাওয়া দফতরের ২ নভেম্বরের বুলেটিন অনুযায়ী, দক্ষিণ-পশ্চিম ও সংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরের উপর অবস্থান করছে ঘূর্ণিঝড়টি। সোমবার রাত ২টো ৩০ মিনিটের পর্যবেক্ষণে ঝড়টির অবস্থান ছিল ১৩.৬ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮২.৫ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশের কাছে। গত ছয় ঘণ্টায় ঘণ্টায় প্রায় ২০ কিলোমিটার গতিতে উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়েছে মুরাসু।

আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, নেল্লোর ও নারসাপুরের মধ্যবর্তী উপকূলবর্তী এলাকায়, ওঙ্গোলের কাছাকাছি ল্যান্ডফল হতে পারে। সম্ভাব্য সময় ২ নভেম্বর রাত ১১টা ৩০ মিনিট থেকে ৩ নভেম্বর ভোর ৪টের মধ্যে। উপকূল অতিক্রম করার সময় ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০-১১০ কিলোমিটার থাকতে পারে। ঝোড়ো হাওয়ার সর্বোচ্চ বেগ হতে পারে ১২০ কিলোমিটার।

অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে তাই বিশেষ সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে। প্রবল বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কায় বিপর্যয় মোকাবিলার প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে। উপকূলের নিচু এলাকাগুলিতে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সাধারণ মানুষকে আবহাওয়া দফতর ও স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মুরাসুর প্রভাবে বাংলায় কি লণ্ডভণ্ড হবে?

ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য গতিপথ অন্ধ্রপ্রদেশের দিকে থাকায় পশ্চিমবঙ্গে সরাসরি আছড়ে পড়ার আশঙ্কা নেই। তবে তার প্রভাবে বঙ্গোপসাগরের আবহাওয়ায় পরিবর্তন আসতে পারে। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় আকাশ মেঘলা থাকবে। সোমবার ও মঙ্গলবার বিক্ষিপ্তভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি কিংবা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর ও পশ্চিম মেদিনীপুরে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া এবং রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি জেলাতেও কোথাও কোথাও হালকা বৃষ্টি হতে পারে। তবে এই বৃষ্টিকে ঘূর্ণিঝড়ের সরাসরি প্রভাবজনিত বড় দুর্যোগের পূর্বাভাস হিসেবে দেখছে না আবহাওয়া দফতর।

উত্তরবঙ্গের কোন কোন জেলায় বৃষ্টি?

মুরাসুর পরোক্ষ প্রভাবে উত্তরবঙ্গের আবহাওয়াতেও কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারের এক-দু’টি জায়গায় হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টিও হতে পারে।

তবে উত্তরবঙ্গের জন্য আপাতত ভারী বৃষ্টির কোনও বড় সতর্কতার কথা জানানো হয়নি। মালদহ, উত্তর দিনাজপুর ও দক্ষিণ দিনাজপুরেও আবহাওয়ার পরিবর্তনের দিকে নজর রাখা হচ্ছে। বুধবার থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে পূর্বাভাস।

কবে থেকে পরিষ্কার হবে আকাশ?

আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ৩ নভেম্বর পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলাতেও হালকা বৃষ্টি হতে পারে। তবে ৪ নভেম্বর থেকে দুই বঙ্গেই আবহাওয়ার উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শনিবার পর্যন্ত অধিকাংশ জেলায় শুষ্ক আবহাওয়া বজায় থাকতে পারে।

মৎস্যজীবীদের জন্য কী সতর্কতা?

ঘূর্ণিঝড় মুরাসুর কারণে বঙ্গোপসাগরের সমুদ্র পরিস্থিতির উপর বিশেষ নজর রাখছে আবহাওয়া দফতর। পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর, সংলগ্ন উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলের দিকে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। সমুদ্র উত্তাল থাকার সম্ভাবনা থাকায় সতর্কতা জারি রয়েছে।

তবে পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে ঘূর্ণিঝড়ের সরাসরি আছড়ে পড়ার কোনও পূর্বাভাস নেই। হুগলি নদীর কলকাতা ও হলদিয়া বন্দরে দূরবর্তী সতর্কতা সংকেত ২ জারি থাকার খবরও পাওয়া গিয়েছে। তাই সমুদ্রে যাওয়ার আগে মৎস্যজীবীদের সংশ্লিষ্ট বন্দর কর্তৃপক্ষ ও আবহাওয়া দফতরের সর্বশেষ নির্দেশিকা মেনে চলা জরুরি।

সব মিলিয়ে, ঘূর্ণিঝড় মুরাসুর মূল বিপদের মুখে দক্ষিণ অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল। বাংলায় আপাতত বড় ধরনের ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা নেই। তবে আগামী দু’দিন কয়েকটি জেলায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকছে। আবহাওয়ার পরিস্থিতি বদলালে নতুন সতর্কতা জারি হতে পারে। তাই সাধারণ মানুষকে সরকারি আবহাওয়া বুলেটিনের দিকে নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

সরকার বদলালেই কি দুর্নীতি বন্ধ? রাজনীতিকে স্বচ্ছ করতে প্রয়োজন ১০টি বড় সংস্কার, কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা

ভারতের রাজনীতিতে দুর্নীতি রোধ ও স্বচ্ছ প্রশাসন গড়ার প্রতীকী ছবি।
রাজনীতিতে দুর্নীতি বন্ধ করতে প্রয়োজন স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও স্বাধীন বিচারব্যবস্থা।

রাজনীতিতে পালাবদল হয়, ক্ষমতার হাতবদল হয়, নতুন মুখ দায়িত্ব নেয়। কিন্তু দুর্নীতির অভিযোগ কি সত্যিই কমে? শাসক ও বিরোধী—দুই শিবিরের বিরুদ্ধেই যখন বারবার স্বজনপোষণ, নিয়োগ দুর্নীতি, কাটমানি, সরকারি প্রকল্পে অনিয়ম এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ওঠে, তখন স্বাভাবিকভাবেই সামনে আসে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—ভারতের রাজনীতিকে দুর্নীতিমুক্ত করতে ঠিক কী করা প্রয়োজন? বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় বারবার উঠে আসে রাজনৈতিক অর্থের স্বচ্ছতা, স্বাধীন তদন্তকারী সংস্থা, দ্রুত বিচার, সরকারি নিয়োগে মেধার মর্যাদা এবং জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহির মতো বিষয়। শুধু সরকার পরিবর্তন নয়, দুর্নীতির সুযোগ তৈরি করে দেওয়া গোটা ব্যবস্থার সংস্কারই হতে পারে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথ।

শুধু সরকার পরিবর্তন নয়, প্রয়োজন রাজনৈতিক সংস্কার

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকার পরিবর্তন একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ তাদের প্রতিনিধি বেছে নেন। কিন্তু কোনও রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় এলেই দুর্নীতি বন্ধ হয়ে যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। কারণ দুর্নীতির শিকড় অনেক সময় রাজনৈতিক দল, প্রশাসন, সরকারি ঠিকাদারি ব্যবস্থা এবং আর্থিক লেনদেনের বিভিন্ন স্তরে ছড়িয়ে থাকে।

কোনও একটি দলকে দায়ী করে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। বরং যে দলই ক্ষমতায় থাকুক, তাদের কাজের উপর নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করাও উচিত নয়।

১. জনপ্রতিনিধিদের সম্পত্তির হিসাব নিয়মিত প্রকাশ করতে হবে

রাজনীতিতে স্বচ্ছতা আনতে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীদের সম্পত্তির হিসাব প্রকাশের পাশাপাশি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সম্পত্তির পরিবর্তনের উপর নজরদারি প্রয়োজন। নির্বাচনের আগে একজন প্রার্থীর কত সম্পত্তি ছিল এবং জনপ্রতিনিধি হওয়ার পর তাঁর সম্পত্তিতে কী পরিবর্তন ঘটল, তা নিয়মিত খতিয়ে দেখার ব্যবস্থা থাকা উচিত।

আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পত্তির অভিযোগ উঠলে স্বাধীন তদন্তের ব্যবস্থা করতে হবে। তবে সম্পত্তি বৃদ্ধি হলেই দুর্নীতি হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যাবে না। আয়, উত্তরাধিকার, ঋণ এবং অন্যান্য বৈধ উৎসের তথ্যও বিবেচনা করতে হবে।

২. রাজনৈতিক দলের আয় ও ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ্যে আনতে হবে

রাজনৈতিক দুর্নীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হল নির্বাচনী অর্থায়ন। একটি রাজনৈতিক দল কোথা থেকে অনুদান পাচ্ছে, কারা অর্থ দিচ্ছেন এবং সেই টাকা কীভাবে খরচ হচ্ছে, তা সাধারণ মানুষের কাছে পরিষ্কার থাকা প্রয়োজন।

বড় অঙ্কের অনুদানের উৎস, নির্বাচনী প্রচারের খরচ, দলীয় সম্পত্তি এবং আর্থিক লেনদেনের হিসাব নিয়মিত প্রকাশ করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলির আয়-ব্যয়ের স্বাধীন অডিটের ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

নির্বাচনে কালো টাকার ব্যবহার বন্ধ করতে রাজনৈতিক অনুদান ও নির্বাচনী ব্যয়ের উপর কার্যকর নজরদারি জরুরি।

৩. দুর্নীতির তদন্তে শাসক-বিরোধী ভেদাভেদ চলবে না

দুর্নীতির অভিযোগ উঠলেই তদন্তকারী সংস্থাকে রাজনৈতিক প্রভাবের বাইরে থেকে কাজ করতে হবে। কোনও নেতা শাসক দলের হোন কিংবা বিরোধী দলের, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্তের ক্ষেত্রে একই নিয়ম কার্যকর হওয়া প্রয়োজন।

তদন্তকারী সংস্থার নিয়োগ, কাজের স্বাধীনতা এবং তদন্তের অগ্রগতির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক নির্দেশে কাউকে হয়রানি করা কিংবা প্রভাবশালী কাউকে তদন্তের বাইরে রাখার সুযোগ বন্ধ করা জরুরি।

তদন্তের ফলাফল প্রমাণের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে, রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়।

৪. সরকারি চাকরির নিয়োগে মেধাই হতে হবে একমাত্র মাপকাঠি

নিয়োগ দুর্নীতি শুধু চাকরিপ্রার্থীদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করে না, প্রশাসনের উপর সাধারণ মানুষের আস্থাও কমিয়ে দেয়। সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে পরীক্ষার ফল, মেধাতালিকা, শূন্যপদের সংখ্যা এবং নিয়োগের প্রতিটি ধাপ প্রকাশ্যে রাখা প্রয়োজন।

নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক সুপারিশ, অর্থের বিনিময়ে চাকরি কিংবা স্বজনপোষণের অভিযোগ উঠলে দ্রুত তদন্ত করতে হবে। পাশাপাশি পরীক্ষার উত্তরপত্র, ফলাফল ও নিয়োগ সংক্রান্ত নথি সংরক্ষণের ব্যবস্থাও শক্তিশালী করা দরকার।

যোগ্য প্রার্থী যেন কোনওভাবেই রাজনৈতিক পরিচয় বা আর্থিক ক্ষমতার কাছে পিছিয়ে না পড়েন, তা নিশ্চিত করাই নিয়োগ ব্যবস্থার প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।

৫. পুলিশ ও প্রশাসনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করতে হবে

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় পুলিশ ও প্রশাসনের দায়িত্ব আইন অনুযায়ী কাজ করা। কিন্তু প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠলে সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

পুলিশের বদলি, তদন্ত, সরকারি অনুমোদন এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করা প্রয়োজন। কোনও জনপ্রতিনিধি বা রাজনৈতিক নেতা যেন প্রশাসনিক ক্ষমতাকে ব্যক্তিগত কিংবা দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করতে না পারেন, তার জন্য শক্তিশালী নজরদারি ব্যবস্থা প্রয়োজন।

৬. সরকারি প্রকল্পের প্রতিটি টাকার হিসাব দিতে হবে

রাস্তা নির্মাণ, পানীয় জল, আবাসন, হাসপাতাল কিংবা স্কুলের পরিকাঠামো উন্নয়নে সরকার বিপুল অর্থ বরাদ্দ করে। কিন্তু সেই অর্থের কতটা বাস্তবে কাজে লাগছে, তা সাধারণ মানুষের জানা প্রয়োজন।

প্রতিটি প্রকল্পের বরাদ্দ, টেন্ডার, ঠিকাদারের নাম, কাজের অগ্রগতি এবং খরচের হিসাব অনলাইনে প্রকাশ করা উচিত। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের অংশগ্রহণে সামাজিক নিরীক্ষা বা সোশ্যাল অডিট চালু করতে হবে।

কাগজে-কলমে প্রকল্প সম্পূর্ণ দেখানো হলেও বাস্তবে কাজ না হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকতে হবে।

৭. দুর্নীতির তথ্য প্রকাশকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে

অনেক সময় সরকারি কর্মী, ঠিকাদার কিংবা সাধারণ নাগরিক কোনও অনিয়মের তথ্য জানতে পারেন। কিন্তু সেই তথ্য প্রকাশ করলে চাকরি হারানো, হুমকি কিংবা হয়রানির আশঙ্কায় অনেকেই সামনে আসতে চান না।

এই পরিস্থিতি বদলাতে হুইসলব্লোয়ার বা দুর্নীতির তথ্য প্রকাশকারীদের আইনি সুরক্ষা কার্যকর করতে হবে। তাঁদের পরিচয় গোপন রাখা, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তথ্য প্রকাশকারীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

৮. দুর্নীতির মামলার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে

দুর্নীতির অভিযোগে মামলা দায়ের হওয়ার পর বছরের পর বছর বিচার চলতে থাকলে সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়। তাই দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলার তদন্ত ও বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য পর্যাপ্ত বিচারক, বিশেষ আদালত এবং উন্নত তদন্ত পরিকাঠামো প্রয়োজন।

তবে দ্রুত বিচারের নামে অভিযুক্তের আইনি অধিকার খর্ব করা যাবে না। অভিযোগ, প্রমাণ, সাক্ষ্য এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ—সবকিছুর ভিত্তিতেই বিচার হওয়া উচিত।

দোষ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী শাস্তি এবং বেআইনিভাবে অর্জিত সম্পত্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে।

৯. নির্বাচনে অর্থ ও পেশিশক্তির প্রভাব কমাতে হবে

নির্বাচন গণতন্ত্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। কিন্তু ভোটের সময় টাকা, উপহার, ভয় দেখানো কিংবা প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠলে নির্বাচনের স্বচ্ছতা প্রশ্নের মুখে পড়ে।

নির্বাচনী খরচের হিসাব নিয়মিত পরীক্ষা, রাজনৈতিক অনুদানের উৎস প্রকাশ এবং ভোটারদের প্রভাবিত করার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা প্রয়োজন। নির্বাচন কমিশনের নজরদারি আরও কার্যকর করতে হবে।

একই সঙ্গে ভোটারদেরও প্রার্থীর কাজ, সম্পত্তির বিবরণ, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং ঘোষিত অপরাধ সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

১০. রাজনৈতিক নেতাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে

একজন জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার অর্থ এই নয় যে, পরবর্তী পাঁচ বছর তাঁকে কোনও প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে না। এলাকার উন্নয়ন, সরকারি প্রকল্প, রাস্তা, পানীয় জল, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং শিক্ষা নিয়ে তাঁকে নিয়মিত মানুষের কাছে জবাব দিতে হবে।

নির্দিষ্ট সময় অন্তর জনশুনানি, স্থানীয় উন্নয়নের রিপোর্ট প্রকাশ এবং নাগরিকদের অভিযোগ জানানোর কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। জনপ্রতিনিধির কাজের মূল্যায়ন শুধু নির্বাচনের সময় নয়, গোটা মেয়াদ জুড়েই হওয়া প্রয়োজন।

দুর্নীতিমুক্ত রাজনীতির পথে সবচেয়ে বড় বাধা কোথায়?

রাজনৈতিক দুর্নীতি বন্ধ করার পথে সবচেয়ে বড় সমস্যা হল জবাবদিহির অভাব এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের সুযোগ। আইন থাকলেও তার প্রয়োগ যদি রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক প্রভাবের উপর নির্ভর করে, তাহলে সেই আইন কার্যকর হয়ে উঠতে পারে না।

তাই দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তিনটি বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে—স্বাধীন তদন্ত, নিরপেক্ষ বিচার এবং আর্থিক স্বচ্ছতা। এই তিনটি ক্ষেত্র শক্তিশালী না হলে শুধু নতুন আইন তৈরি করে বা সরকার পরিবর্তন করে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলির অভ্যন্তরেও গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। দলের নেতৃত্ব নির্বাচন, প্রার্থী বাছাই এবং আর্থিক সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতা থাকলে রাজনৈতিক জবাবদিহির সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী হতে পারে।

শেষ কথা: নেতা নয়, শক্তিশালী হতে হবে ব্যবস্থাকে

দুর্নীতিমুক্ত রাজনীতি গড়তে কোনও একজন নেতা কিংবা একটি রাজনৈতিক দলের উপর নির্ভর করলে চলবে না। কারণ ব্যক্তি পরিবর্তিত হলেও ব্যবস্থার দুর্বলতা থেকে গেলে দুর্নীতির সুযোগ থেকেই যায়।

একটি কার্যকর গণতন্ত্রে সরকারকে জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হবে, তদন্তকারী সংস্থাকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে এবং আদালতে দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি অর্থের প্রতিটি টাকার হিসাব জনগণের সামনে থাকা প্রয়োজন।

সবচেয়ে বড় কথা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই যেন কখনও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার হাতিয়ার না হয়ে ওঠে। শাসক ও বিরোধী—সবার জন্য একই আইন, একই তদন্ত প্রক্রিয়া এবং একই বিচারব্যবস্থা কার্যকর করতে হবে।

রাজনীতিকে দুর্নীতিমুক্ত করার আসল পথ সরকার বদল নয়, ব্যবস্থার সংস্কার। এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে, যেখানে দুর্নীতি করার সুযোগ কমবে, অনিয়ম ধরা পড়বে এবং দোষ প্রমাণিত হলে রাজনৈতিক ক্ষমতা কাউকে আইনের ঊর্ধ্বে রাখতে পারবে না।

পুরভোটে প্রার্থী হতে বিজেপির দরজায় ভিড়! জমা ৫ হাজার বায়োডাটা, তৃণমূলের বহু প্রাক্তন কাউন্সিলর নিয়ে জল্পনা

কলকাতা পুরভোট ২০২৬ উপলক্ষে বিজেপি ও তৃণমূলের প্রার্থী বাছাইয়ের প্রস্তুতি।
কলকাতা পুরভোটের আগে বিজেপি ও তৃণমূলের প্রার্থী বাছাই ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতা।

কলকাতা পুরসভার আসন্ন নির্বাচনের আগে প্রার্থী বাছাই ঘিরে তৎপরতা তুঙ্গে। ২০৯টি ওয়ার্ডে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিজেপি। দলীয় সূত্রের দাবি, ইতিমধ্যেই প্রার্থী হওয়ার আবেদন জানিয়ে পাঁচ হাজারেরও বেশি বায়োডাটা জমা পড়েছে। চিকিৎসক, আইনজীবী থেকে শুরু করে সমাজের বিভিন্ন পেশার মানুষ বিজেপির টিকিটে ভোটে লড়তে আগ্রহ প্রকাশ করছেন। পাশাপাশি তৃণমূলের একাধিক প্রাক্তন কাউন্সিলর ও তাঁদের ঘনিষ্ঠদেরও বিজেপির প্রার্থী হওয়ার চেষ্টা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। অন্যদিকে, গত পুরবোর্ডের বহু কাউন্সিলর এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের হয়ে লড়বেন কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

কলকাতা পুরসভার (Kolkata Municipal Corporation) আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিজেপি। দলের পুরনো রাজ্য দফতর ৬ নম্বর মুরলীধর সেন লেনে আবেদন জমা নেওয়ার জন্য ড্রপবক্সের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আবেদনকারীদের বায়োডাটা খতিয়ে দেখছেন দলের নেতৃত্ব। শুধু পরিচিত রাজনৈতিক মুখ নয়, পেশাগত পরিচিতি, এলাকায় গ্রহণযোগ্যতা এবং নির্বাচনে জেতার সম্ভাবনাকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিজেপির তরফে জানানো হয়েছে, কলকাতার ২০৯টি ওয়ার্ডেই প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে।

বিজেপির এই আবেদন প্রক্রিয়ায় চিকিৎসক, ইঞ্জিনিয়ার, আইনজীবী, সমাজকর্মী-সহ বিভিন্ন পেশার মানুষ আগ্রহ দেখাচ্ছেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার আগেই জানিয়েছিলেন, শুধু দলের পুরনো কর্মী হলেই টিকিট পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই। প্রার্থীর ভাবমূর্তি, স্থানীয় মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা এবং জয়ের সম্ভাবনা বিবেচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আবেদন জমা পড়ার সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন তথ্য সামনে এসেছে। অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে কয়েক হাজার আবেদনের কথা জানিয়েছিল বিজেপি নেতৃত্ব।

তৃণমূলের প্রাক্তন কাউন্সিলরদের বিজেপিতে যোগ দেওয়া এবং পদ্ম প্রতীকে লড়ার সম্ভাবনাও এবারের পুরভোটের অন্যতম আলোচ্য বিষয়। রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, কয়েকজন প্রাক্তন কাউন্সিলর নিজেদের পাশাপাশি ঘনিষ্ঠদেরও প্রার্থী করার জন্য বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। অন্যদিকে, কয়েকজন প্রাক্তন কাউন্সিলরকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করার খবরও প্রকাশ্যে এসেছে। তবে বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব প্রকাশ্যে জানিয়েছে, প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলরদের টিকিট দেওয়া নিয়ে যে জল্পনা চলছে, সে বিষয়ে দলের কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

এই পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের প্রাক্তন কাউন্সিলরদের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। কারও বক্তব্য, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নির্বাচনে লড়াইয়ের জন্য আর্থিক ও সাংগঠনিক প্রস্তুতি প্রয়োজন। আবার কারও ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, পরিবারের আপত্তি এবং আইনি মামলার বিষয়ও বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে বলে সূত্রের দাবি। তবে তৃণমূলের তরফে সব প্রাক্তন কাউন্সিলর নির্বাচনে অনাগ্রহী, এমন কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।

‘মমতা তৃণমূল’-এর রাজ্য সাধারণ সম্পাদক বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়ও প্রাক্তন কাউন্সিলরদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তাঁর দাবি, ক্ষমতার কাছাকাছি থাকার প্রবণতায় কেউ কেউ বিজেপির টিকিট পাওয়ার চেষ্টা করছেন। আবার কয়েকজন বিজেপির হামলা ও পুলিশি হেনস্তার আশঙ্কায় ভোটের ময়দান থেকে দূরে থাকতে চাইছেন বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। এই অভিযোগের বিষয়ে বিজেপির পাল্টা বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, কলকাতার পুরভোটে তৃণমূলের পুরনো নেতৃত্বের একাধিক পরিচিত মুখের অবস্থান নিয়েও আলোচনা চলছে। প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায় আপাতত সক্রিয় রাজনীতিতে নেই। প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, তিনি বা তাঁর মেয়ে এবার পুরভোটে প্রার্থী হচ্ছেন না। ২২ নম্বর ওয়ার্ড মহিলা সংরক্ষিত হওয়ায় প্রাক্তন ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষের প্রার্থী হওয়া নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।

প্রাক্তন মেয়র পারিষদ স্বপন সমাদ্দার এবং সন্দীপ রঞ্জন বক্সীও এবারের নির্বাচনে না লড়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। সন্দীপ বক্সীর ওয়ার্ড মহিলা সংরক্ষিত হওয়ায় অন্য ওয়ার্ডে গিয়ে লড়তে চান না বলে জানিয়েছেন। অন্যদিকে, স্বপন সমাদ্দারের বক্তব্য, তাঁর বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলির আইনি জটিলতা পুরোপুরি না মেটা পর্যন্ত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পরিকল্পনা নেই।

তবে তৃণমূলের সব প্রাক্তন কাউন্সিলর যে ভোট থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন, তা নয়। রত্না শূর ও রূপক গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো কয়েকজন পুরনো মুখের নির্বাচনে লড়ার আগ্রহ রয়েছে। বেহালার প্রাক্তন চিফ ইলেকশন এজেন্ট অঞ্জন দাসও জানিয়েছেন, হামলার আশঙ্কা থাকলেও তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের প্রার্থী হিসেবে লড়তে চান। বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় ও তাঁর স্ত্রী চৈতালী চট্টোপাধ্যায় অবশ্য দু’জনেই এবার প্রার্থী হতে চান না বলে জানিয়েছেন। তবে দলীয় নেতৃত্ব নির্দেশ দিলে সিদ্ধান্ত বদলাতে পারেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন বৈশ্বানর।

এদিকে, কলকাতার রাজনৈতিক সমীকরণে আরও একটি শক্তি হিসেবে উঠে আসছে ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস। ওই দলের রাজ্য যুব সভাপতি সৌরভ বসু আগে ৮৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন। এবার ওয়ার্ডটি মহিলা সংরক্ষিত হওয়ায় হাজরা-রাসবিহারী এলাকায় অন্য আসন থেকে লড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। দলের পরিষদীয় নেতৃত্বের তরফে সন্দীপন সাহা জানিয়েছেন, কলকাতার ২০৯টি ওয়ার্ডেই প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের।

সংখ্যালঘু অধ্যুষিত কয়েকটি এলাকায় মমতা-তৃণমূলের প্রাক্তন কাউন্সিলরদের একাংশ ডেমোক্রেটিক তৃণমূলের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন বলেও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশিত হয়নি। ফলে কোন ওয়ার্ডে কোন দল কাকে প্রার্থী করবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

অন্যদিকে, বিজেপি কলকাতার পুরভোটে ১৮০টির বেশি ওয়ার্ডে জয়ের লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তুতি চালাচ্ছে বলে দলীয় মহলে দাবি করা হচ্ছে। তবে নির্বাচনের ফল নিয়ে আগাম কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর সুযোগ নেই। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কলকাতার ১৪৪টি পুরনো ওয়ার্ডের মধ্যে ১০২টিতে বিজেপি এগিয়ে ছিল। সেই ফলকে সামনে রেখেই পুরভোটের প্রস্তুতি সাজাচ্ছে গেরুয়া শিবির।

কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা ১৪৪ থেকে বেড়ে ২০৯ হওয়ায় এবার প্রার্থী বাছাই ও আসন সমঝোতার সমীকরণও বদলেছে। বিজেপি ইতিমধ্যেই সব ওয়ার্ডে এককভাবে লড়ার কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে তৃণমূল, বাম ও কংগ্রেসও নিজেদের প্রার্থী বাছাইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফলে আসন্ন পুরভোটে শুধু দলীয় শক্তি নয়, স্থানীয় পরিচিতি, পুর পরিষেবার অভিজ্ঞতা এবং প্রার্থীদের গ্রহণযোগ্যতাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

‘সরকার বদলেছে, দুর্নীতি কমেনি’, অভয়ার বিচারের দাবিতে ফের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর দ্বারস্থ হচ্ছেন রত্না দেবনাথ

আরজি কর মামলায় সুবিচারের দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হচ্ছেন পানিহাটির বিধায়ক রত্না দেবনাথ।
আরজি কর মামলার তদন্ত ও মেডিক্যাল কলেজের দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে সরব রত্না দেবনাথ।

আরজি কর (R G Kar) কাণ্ডে মেয়ের মৃত্যুর সুবিচারের দাবিতে ফের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দ্বারস্থ হতে চলেছেন পানিহাটির বিজেপি বিধায়ক রত্না দেবনাথ। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পরও মেডিক্যাল কলেজগুলিতে দুর্নীতি বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ তুলেছেন তিনি। রবিবার, ১ নভেম্বর, সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রত্নার স্পষ্ট বক্তব্য, “পালাবদল হয়েছে ঠিকই, কিন্তু সেই মানুষগুলোই রয়েছে। ফলে দুর্নীতি কমেনি।” কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের (CBI) তদন্তের অগ্রগতি নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি। মেয়ের হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তের দাবিতে এবার সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিধায়ক।

বিজেপিতে যোগ দেওয়ার আগে থেকেই মেয়ের মৃত্যুর বিচার নিয়ে সরব ছিলেন রত্না দেবনাথ। তাঁর বক্তব্য ছিল, সরকার পরিবর্তন না হলে সুবিচার পাওয়া কঠিন। সেই লক্ষ্যেই রাজনীতিতে যোগ দিয়ে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পানিহাটি কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী হন তিনি এবং জয়ী হয়ে বিধায়ক নির্বাচিত হন। কিন্তু নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরও তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে সন্তুষ্ট নন তিনি।

রবিবার তাঁর অভিযোগ, আরজি কর মামলায় এখনও সমস্ত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রত্যাশিত পদক্ষেপ হয়নি। সিবিআইয়ের তদন্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। রত্নার দাবি, তাঁর পরিবার কখনও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তদন্ত চায়নি। কলকাতা হাই কোর্টের (Calcutta High Court) নির্দেশেই মামলার তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে যায়। তাঁর কথায়, তদন্তকারী সংস্থা যদি কাজ করতে না পারে, তাহলে তাদের দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া উচিত।

রত্না দেবনাথের বক্তব্য, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল হলেও প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে পুরনো প্রভাবশালীদের উপস্থিতি রয়ে গিয়েছে। সেই কারণেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রত্যাশিত পদক্ষেপ হচ্ছে না বলে তাঁর অভিযোগ। তবে তাঁর এই বক্তব্য রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক স্তরে ওঠা অভিযোগ হিসেবেই বিবেচ্য।

শুধু আরজি কর মামলাই নয়, রাজ্যের একাধিক মেডিক্যাল কলেজে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়েও সরব হয়েছেন পানিহাটির বিধায়ক। তাঁর দাবি, বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজের অনিয়ম সংক্রান্ত একাধিক ফাইল তাঁর হাতে এসেছে। সেই নথিগুলির ভিত্তিতে অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু করার দাবি জানাবেন তিনি। এই বিষয়েই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে ফের দেখা করতে চান রত্না।

উল্লেখ্য, আরজি করের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা ২০২৪ সালের অগস্টে গোটা দেশকে আলোড়িত করেছিল। কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে তদন্তভার যায় সিবিআইয়ের হাতে। পরবর্তী সময়ে মামলার তদন্তের পরিধি ও অগ্রগতি নিয়ে একাধিকবার প্রশ্ন তুলেছেন নির্যাতিতার বাবা-মা। ২০২৬ সালের অগস্টে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নতুন করে তদন্তের উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেছিলেন। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু প্রশাসনিক ও অন্যান্য অভিযোগ খতিয়ে দেখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।

এদিকে, পানিহাটি স্পোর্টিং ক্লাবকে ঘিরেও নতুন বিতর্কে জড়িয়েছেন রত্না দেবনাথ। বিজয়া সম্মিলনীর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে ক্লাবের গেটে তালা ঝুলতে দেখেন বলে অভিযোগ তাঁর। শনিবার নির্ধারিত সময়ে সেখানে পৌঁছেও ক্লাবের ভিতরে ঢুকতে পারেননি বিধায়ক। পরে ক্লাবের বারান্দায় কয়েকজন সদস্যকে নিয়ে অনুষ্ঠান করতে হয় তাঁকে। এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রশাসনের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি।

এরপর রবিবার ক্লাবের চাবি নিজের হেফাজতে নেওয়ার কথা জানান রত্না। তাঁর ঘোষণা, নতুন পরিচালন কমিটি গঠন করা হবে। সেই কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁর হাতে ক্লাবের চাবি তুলে দেওয়া হবে। তবে ক্লাবের চাবি নেওয়া এবং পরিচালন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় স্তরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ক্লাবের সদস্যদের একাংশের অভিযোগও প্রকাশ্যে এসেছে।

একদিকে মেয়ের মৃত্যুর সুবিচারের দাবি, অন্যদিকে মেডিক্যাল কলেজগুলিতে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত—দুই বিষয়েই এবার মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সরাসরি জবাবদিহি চাইতে চান রত্না দেবনাথ। বিজেপির বিধায়ক হয়েও সরকারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানানো তাঁর এই অবস্থান রাজ্যের রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

মহাকরণের পিছনে বহুতলে মাঝরাতে ভয়াবহ আগুন, পুড়ে ছাই অফিসের নথি-কম্পিউটার! তদন্তে দমকল

কলকাতার মহাকরণের পিছনে লায়ন্স রেঞ্জের বহুতল অফিসে অগ্নিকাণ্ড
মহাকরণের পিছনে লায়ন্স রেঞ্জের বহুতল অফিসে আগুন নেভানোর কাজে দমকল।

কলকাতার প্রশাসনিক কেন্দ্র মহাকরণের (Writers’ Buildings) লাগোয়া এলাকায় মাঝরাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। বিবাদী বাগের লায়ন্স রেঞ্জে একটি বহুতল অফিসে আগুন লেগে পুড়ে গেল একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও কম্পিউটার। রবিবার ভোররাত সাড়ে ৩টে নাগাদ বিল্ডিং থেকে ধোঁয়া বেরতে দেখে দমকলে খবর দেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের ১০টি ইঞ্জিন। দীর্ঘ সময়ের চেষ্টায় আগুন অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এলেও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ যথেষ্ট বলে জানা যাচ্ছে। কীভাবে আগুন লাগল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। অগ্নিকাণ্ডের কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে দমকল।

ঘটনাটি ঘটেছে কলকাতার বিবাদী বাগ এলাকায়, মহাকরণের ঠিক পিছনে লায়ন্স রেঞ্জের একটি বহুতলে। ওই ভবনে চার থেকে পাঁচটি সংস্থার অফিস রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। রবিবার ভোররাতে আচমকাই বিল্ডিং থেকে ঘন ধোঁয়া বেরতে শুরু করে। বিষয়টি নজরে আসতেই স্থানীয় বাসিন্দারা দমকলকে খবর দেন।

খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের একাধিক ইঞ্জিন। মোট ১০টি ইঞ্জিন আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজে নামে। বহুতলের ভিতরে আগুনের উৎস এবং বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে থাকা আগুনের অবস্থা বুঝতে স্মোক ডিটেক্টর ব্যবহার করা হয়। দমকল কর্মীদের নিরাপত্তার জন্য ঘটনাস্থলে আনা হয় গ্যাস মাস্কও।

দমকল সূত্রে জানা গিয়েছে, বহুতলের চারতলায় আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল। সেখানে থাকা অফিসের নথিপত্রের বড় অংশ পুড়ে গিয়েছে। শুধু কাগজপত্র নয়, আগুনের তাপে অফিসের কম্পিউটারও ভস্মীভূত হয়েছে বলে খবর। কোন সংস্থার কী ধরনের নথি নষ্ট হয়েছে, তা এখনও বিস্তারিতভাবে জানা যায়নি।

সকালের দিকে আগুন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এলেও বিপদ পুরোপুরি কাটেনি। সকাল ৮টার পরও ভবনের কয়েকটি জায়গায় পকেট ফায়ার বা আগুনের ছোট ছোট অংশ জ্বলছিল। সেগুলি চিহ্নিত করে নেভানোর কাজ চালান দমকল কর্মীরা। এরপর শুরু হয় কুলিং প্রসেস। অর্থাৎ, আগুন নিভে যাওয়ার পরও যাতে উত্তপ্ত অংশ থেকে ফের আগুন ছড়িয়ে না পড়ে, তার জন্য ভবনের বিভিন্ন অংশ ঠান্ডা করার কাজ চলছে।

এই অগ্নিকাণ্ডে ঠিক কত টাকার সম্পত্তি নষ্ট হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। সংশ্লিষ্ট অফিস কর্তৃপক্ষকে ঘটনার কথা জানানো হয়েছে। পুড়ে যাওয়া নথির মধ্যে কী কী গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নথি ও কম্পিউটার নষ্ট হওয়ার ফলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির প্রশাসনিক ও দৈনন্দিন কাজে কতটা প্রভাব পড়বে, সেটিও পর্যালোচনার বিষয়।

তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, কীভাবে আগুন লাগল? প্রাথমিকভাবে শর্ট সার্কিটের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। আবার অন্য কোনও কারণে আগুন লেগেছিল কি না, তা নিয়েও তদন্ত প্রয়োজন। দমকল কর্মীরা জানিয়েছেন, আগুন সম্পূর্ণ নিভে যাওয়ার পর ঘটনাস্থল ভালোভাবে পরীক্ষা করা হবে। আগুনের উৎস চিহ্নিত করার পাশাপাশি বহুতলের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাও খতিয়ে দেখা হবে।

দমকলের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার কারণেই ক্ষয়ক্ষতি এতটা বেড়েছে। তবে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।