মহাকরণের পিছনে বহুতলে মাঝরাতে ভয়াবহ আগুন, পুড়ে ছাই অফিসের নথি-কম্পিউটার! তদন্তে দমকল

কলকাতার বিবাদী বাগে মহাকরণের পিছনে লায়ন্স রেঞ্জের বহুতল অফিসে ভোররাতে আগুন লাগে। দমকলের ১০টি ইঞ্জিনের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও পুড়ে গিয়েছে নথি ও কম্পিউটার।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

কলকাতার প্রশাসনিক কেন্দ্র মহাকরণের (Writers’ Buildings) লাগোয়া এলাকায় মাঝরাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। বিবাদী বাগের লায়ন্স রেঞ্জে একটি বহুতল অফিসে আগুন লেগে পুড়ে গেল একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও কম্পিউটার। রবিবার ভোররাত সাড়ে ৩টে নাগাদ বিল্ডিং থেকে ধোঁয়া বেরতে দেখে দমকলে খবর দেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের ১০টি ইঞ্জিন। দীর্ঘ সময়ের চেষ্টায় আগুন অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এলেও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ যথেষ্ট বলে জানা যাচ্ছে। কীভাবে আগুন লাগল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। অগ্নিকাণ্ডের কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে দমকল।

ঘটনাটি ঘটেছে কলকাতার বিবাদী বাগ এলাকায়, মহাকরণের ঠিক পিছনে লায়ন্স রেঞ্জের একটি বহুতলে। ওই ভবনে চার থেকে পাঁচটি সংস্থার অফিস রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। রবিবার ভোররাতে আচমকাই বিল্ডিং থেকে ঘন ধোঁয়া বেরতে শুরু করে। বিষয়টি নজরে আসতেই স্থানীয় বাসিন্দারা দমকলকে খবর দেন।

খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের একাধিক ইঞ্জিন। মোট ১০টি ইঞ্জিন আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজে নামে। বহুতলের ভিতরে আগুনের উৎস এবং বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে থাকা আগুনের অবস্থা বুঝতে স্মোক ডিটেক্টর ব্যবহার করা হয়। দমকল কর্মীদের নিরাপত্তার জন্য ঘটনাস্থলে আনা হয় গ্যাস মাস্কও।

দমকল সূত্রে জানা গিয়েছে, বহুতলের চারতলায় আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল। সেখানে থাকা অফিসের নথিপত্রের বড় অংশ পুড়ে গিয়েছে। শুধু কাগজপত্র নয়, আগুনের তাপে অফিসের কম্পিউটারও ভস্মীভূত হয়েছে বলে খবর। কোন সংস্থার কী ধরনের নথি নষ্ট হয়েছে, তা এখনও বিস্তারিতভাবে জানা যায়নি।

সকালের দিকে আগুন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এলেও বিপদ পুরোপুরি কাটেনি। সকাল ৮টার পরও ভবনের কয়েকটি জায়গায় পকেট ফায়ার বা আগুনের ছোট ছোট অংশ জ্বলছিল। সেগুলি চিহ্নিত করে নেভানোর কাজ চালান দমকল কর্মীরা। এরপর শুরু হয় কুলিং প্রসেস। অর্থাৎ, আগুন নিভে যাওয়ার পরও যাতে উত্তপ্ত অংশ থেকে ফের আগুন ছড়িয়ে না পড়ে, তার জন্য ভবনের বিভিন্ন অংশ ঠান্ডা করার কাজ চলছে।

এই অগ্নিকাণ্ডে ঠিক কত টাকার সম্পত্তি নষ্ট হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। সংশ্লিষ্ট অফিস কর্তৃপক্ষকে ঘটনার কথা জানানো হয়েছে। পুড়ে যাওয়া নথির মধ্যে কী কী গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নথি ও কম্পিউটার নষ্ট হওয়ার ফলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির প্রশাসনিক ও দৈনন্দিন কাজে কতটা প্রভাব পড়বে, সেটিও পর্যালোচনার বিষয়।

তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, কীভাবে আগুন লাগল? প্রাথমিকভাবে শর্ট সার্কিটের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। আবার অন্য কোনও কারণে আগুন লেগেছিল কি না, তা নিয়েও তদন্ত প্রয়োজন। দমকল কর্মীরা জানিয়েছেন, আগুন সম্পূর্ণ নিভে যাওয়ার পর ঘটনাস্থল ভালোভাবে পরীক্ষা করা হবে। আগুনের উৎস চিহ্নিত করার পাশাপাশি বহুতলের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাও খতিয়ে দেখা হবে।

দমকলের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার কারণেই ক্ষয়ক্ষতি এতটা বেড়েছে। তবে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর