আরজি কর (R G Kar) কাণ্ডে মেয়ের মৃত্যুর সুবিচারের দাবিতে ফের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দ্বারস্থ হতে চলেছেন পানিহাটির বিজেপি বিধায়ক রত্না দেবনাথ। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পরও মেডিক্যাল কলেজগুলিতে দুর্নীতি বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ তুলেছেন তিনি। রবিবার, ১ নভেম্বর, সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রত্নার স্পষ্ট বক্তব্য, “পালাবদল হয়েছে ঠিকই, কিন্তু সেই মানুষগুলোই রয়েছে। ফলে দুর্নীতি কমেনি।” কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের (CBI) তদন্তের অগ্রগতি নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি। মেয়ের হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তের দাবিতে এবার সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিধায়ক।
বিজেপিতে যোগ দেওয়ার আগে থেকেই মেয়ের মৃত্যুর বিচার নিয়ে সরব ছিলেন রত্না দেবনাথ। তাঁর বক্তব্য ছিল, সরকার পরিবর্তন না হলে সুবিচার পাওয়া কঠিন। সেই লক্ষ্যেই রাজনীতিতে যোগ দিয়ে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পানিহাটি কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী হন তিনি এবং জয়ী হয়ে বিধায়ক নির্বাচিত হন। কিন্তু নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরও তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে সন্তুষ্ট নন তিনি।
রবিবার তাঁর অভিযোগ, আরজি কর মামলায় এখনও সমস্ত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রত্যাশিত পদক্ষেপ হয়নি। সিবিআইয়ের তদন্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। রত্নার দাবি, তাঁর পরিবার কখনও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তদন্ত চায়নি। কলকাতা হাই কোর্টের (Calcutta High Court) নির্দেশেই মামলার তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে যায়। তাঁর কথায়, তদন্তকারী সংস্থা যদি কাজ করতে না পারে, তাহলে তাদের দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া উচিত।
রত্না দেবনাথের বক্তব্য, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল হলেও প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে পুরনো প্রভাবশালীদের উপস্থিতি রয়ে গিয়েছে। সেই কারণেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রত্যাশিত পদক্ষেপ হচ্ছে না বলে তাঁর অভিযোগ। তবে তাঁর এই বক্তব্য রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক স্তরে ওঠা অভিযোগ হিসেবেই বিবেচ্য।
শুধু আরজি কর মামলাই নয়, রাজ্যের একাধিক মেডিক্যাল কলেজে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়েও সরব হয়েছেন পানিহাটির বিধায়ক। তাঁর দাবি, বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজের অনিয়ম সংক্রান্ত একাধিক ফাইল তাঁর হাতে এসেছে। সেই নথিগুলির ভিত্তিতে অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু করার দাবি জানাবেন তিনি। এই বিষয়েই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে ফের দেখা করতে চান রত্না।
উল্লেখ্য, আরজি করের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা ২০২৪ সালের অগস্টে গোটা দেশকে আলোড়িত করেছিল। কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে তদন্তভার যায় সিবিআইয়ের হাতে। পরবর্তী সময়ে মামলার তদন্তের পরিধি ও অগ্রগতি নিয়ে একাধিকবার প্রশ্ন তুলেছেন নির্যাতিতার বাবা-মা। ২০২৬ সালের অগস্টে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নতুন করে তদন্তের উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেছিলেন। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু প্রশাসনিক ও অন্যান্য অভিযোগ খতিয়ে দেখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।
এদিকে, পানিহাটি স্পোর্টিং ক্লাবকে ঘিরেও নতুন বিতর্কে জড়িয়েছেন রত্না দেবনাথ। বিজয়া সম্মিলনীর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে ক্লাবের গেটে তালা ঝুলতে দেখেন বলে অভিযোগ তাঁর। শনিবার নির্ধারিত সময়ে সেখানে পৌঁছেও ক্লাবের ভিতরে ঢুকতে পারেননি বিধায়ক। পরে ক্লাবের বারান্দায় কয়েকজন সদস্যকে নিয়ে অনুষ্ঠান করতে হয় তাঁকে। এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রশাসনের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি।
এরপর রবিবার ক্লাবের চাবি নিজের হেফাজতে নেওয়ার কথা জানান রত্না। তাঁর ঘোষণা, নতুন পরিচালন কমিটি গঠন করা হবে। সেই কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁর হাতে ক্লাবের চাবি তুলে দেওয়া হবে। তবে ক্লাবের চাবি নেওয়া এবং পরিচালন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় স্তরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ক্লাবের সদস্যদের একাংশের অভিযোগও প্রকাশ্যে এসেছে।
একদিকে মেয়ের মৃত্যুর সুবিচারের দাবি, অন্যদিকে মেডিক্যাল কলেজগুলিতে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত—দুই বিষয়েই এবার মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সরাসরি জবাবদিহি চাইতে চান রত্না দেবনাথ। বিজেপির বিধায়ক হয়েও সরকারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানানো তাঁর এই অবস্থান রাজ্যের রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।



