বাবরি শিলান্যাস ঘিরে বেলডাঙায় উত্তেজনা, নিরাপত্তায় র‍্যাফ–পুলিশ মোতায়েন

হুমায়ুন কবীরের ঘোষিত বাবরি মসজিদ শিলান্যাসকে কেন্দ্র করে বেলডাঙা-২ ব্লকে নজিরবিহীন নিরাপত্তা, ভিনজেলায় আসা সমর্থকদের শান্তির বার্তা বিধায়কের

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বেলডাঙা-২ ব্লকে বাবরি শিলান্যাস ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শুক্রবার থেকেই র‍্যাফ ও পুলিশের উপস্থিতি কার্যত ছয়লাপ মুর্শিদাবাদে। কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে কড়া সতর্কতায় রাজ্য প্রশাসন। শনিবার সকালে আরও আঁটসাঁট করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এর মধ্যেই শিলান্যাসের জন্য নির্দিষ্ট জমিতে হাজির হন তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হওয়া ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। ভিনজেলা থেকে আসা সমর্থকদের তিনি শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানান।

বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা হুমায়ুন ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করেছেন, ৬ ডিসেম্বরই বাবরি শিলান্যাস হবে। মুখ্যমন্ত্রীর সভায় গিয়ে সাসপেনশনের খবর জানার পরও তাঁর অবস্থান বদলায়নি। বরং আরও দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করেছিলেন, বেলডাঙার ছেতিয়ানি এলাকায় তিনি ‘বাবরি মসজিদ’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেই ছাড়বেন। শনিবার সকালেও নিজে দাঁড়িয়ে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি তদারকি করতে দেখা যায় তাঁকে।

বাবরি শিলান্যাস ঘিরে বেলডাঙায় উত্তেজনা, নিরাপত্তায় র‍্যাফ–পুলিশ মোতায়েন

এদিকে, পরিস্থিতি যাতে অশান্তিতে না গড়ায়, সেই কারণে মুর্শিদাবাদকে মুড়ে ফেলা হয়েছে নিরাপত্তার বলয়ে। রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে অতিরিক্ত পুলিশবাহিনী এনে মোতায়েন করা হয়েছে এলাকায়। কেন্দ্রীয় বাহিনীর রুটমার্চ চলছে সকাল থেকে। প্রশাসনের বক্তব্য, কলকাতা হাই কোর্ট যে দায়িত্ব রাজ্যের হাতে তুলে দিয়েছে, তা নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করবে পুলিশ–প্রশাসন।

শনিবার সকালে শিলান্যাস ঘিরে উচ্ছ্বাসও প্রকাশ করেছেন হুমায়ুন। তাঁর দাবি, এই কর্মসূচি ‘ঐতিহাসিক’। বিপুল মানুষের জমায়েত হবে। সৌদি আরব থেকে আগত এক ইমামও উপস্থিত থাকবেন বলে জানান তিনি। দুপুর ১২টা থেকে ২টো—এই দুই ঘণ্টার মধ্যেই মূল অনুষ্ঠান সম্পন্ন করার পরিকল্পনা।

তবে শুরু থেকেই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে বাবরি মসজিদ নামটি। তৃণমূল নেতা ফিরহাদ হাকিম পরিষ্কার জানিয়েছিলেন, যে কেউ মন্দির বা মসজিদ তৈরি করতে পারেন—কিন্তু ‘বাবরি মসজিদ’ নামকরণের রাজনৈতিক বার্তা দল বরদাস্ত করবে না। সেই বার্তা দিয়েই দলের তরফে হুমায়ুনকে সাসপেন্ড করা হয়।

দলীয় সিদ্ধান্তের পরও হুমায়ুন নিজে পিছিয়ে যাননি। তাঁর বক্তব্য, এত বিরোধিতা সত্ত্বেও তিনি এই মসজিদ তৈরি করে ছাড়বেন। সকালেও বলেন, বেলা ১২টা থেকে ২টার মধ্যে শিলান্যাস হবে, এবং সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা তিনি নিজে দেখছেন।

হুমায়ুনের ঘোষণার পর বিষয়টি কলকাতা হাই কোর্টেও গড়ায়। যদিও আদালত হস্তক্ষেপ করেনি। বরং আইনশৃঙ্খলার ভার রাজ্য প্রশাসনের হাতে ছেড়ে দেয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশাসনের উপর চাপ আরও বেড়েছে।

এখন নজর শিলান্যাসের দিন ও সময়কে ঘিরে। বাবরি শিলান্যাস নিয়ে হুমায়ুনের দাবি, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় পরিসরে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত করেছে। অন্যদিকে, প্রশাসনের লক্ষ্য—কোনও ভাবেই অশান্তি ছড়াতে না দেওয়া। র‍্যাফ, কেন্দ্রীয় বাহিনী ও জেলা পুলিশের সমন্বিত নজরদারিতে বেলডাঙা প্রস্তুত হয়ে উঠেছে এক টানটান পরিস্থিতির দিনের জন্য।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত