ইন্ডিগো যাত্রী বিভ্রাট নিয়ে দেশজুড়ে যখন আলোড়ন চলছে, ঠিক তখনই কেন্দ্র বড় পদক্ষেপ নিল। দেশে বিমান ভাড়া নিয়ন্ত্রণ করতে অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক আনল নতুন দূরত্বভিত্তিক ভাড়ার সর্বোচ্চ সীমা। বহুদিন ধরেই অভিযোগ উঠছিল—বেসরকারি এয়ারলাইনগুলি ব্যস্ত রুটগুলিতে ইচ্ছেমতো অন্তর্দেশীয় বিমান ভাড়া বাড়িয়ে দিচ্ছে। বিশেষত ইন্ডিগো কাণ্ডের পরে সেই ভাড়া একধাক্কায় বেড়ে যাওয়ায় যাত্রীরা সরব হন।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের বক্তব্য, অনেক ক্ষেত্রেই অযৌক্তিক বিমান ভাড়া নেওয়া হচ্ছিল। ফলে যাত্রীদের স্বার্থ রক্ষায় বাধ্য হয়েই ভাড়া নিয়ন্ত্রণে এই সিদ্ধান্ত। নতুন নির্দেশ শুধুমাত্র ইকোনমি ক্লাস বিমান ভাড়া-এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে এবং ভারতের অভ্যন্তরীণ রুটেই কার্যকর হবে।
সরকারের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত রুটে কোনও এয়ারলাইন ৭৫০০ টাকার বেশি ভাড়া নিতে পারবে না। ৫০০ থেকে ১০০০ কিলোমিটারের ভাড়া সর্বোচ্চ ১২,০০০ টাকা। ১০০০ থেকে ১৫০০ কিলোমিটারের যাত্রায় সর্বোচ্চ সীমা ১৫,০০০ টাকা। আর ১৫০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বের ভাড়া নির্ধারিত হয়েছে সর্বোচ্চ ১৮,০০০ টাকা।
৫০০ কিমি ভ্রমণে সর্বোচ্চ বিমান ভাড়া ৭৫০০ টাকা, ইন্ডিগো কাণ্ডের পর কঠোর সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের
তবে এই মূল ভাড়ার মধ্যে বিমানবন্দর ইউজার ডেভেলপমেন্ট ফি (UDF), প্যাসেঞ্জার সার্ভিস ফি (PSF) বা অন্যান্য সরকারি কর অন্তর্ভুক্ত নয়। অর্থাৎ মোট টিকিটের চূড়ান্ত মূল্য নির্ধারণে এই অতিরিক্ত চার্জ আলাদাভাবে যুক্ত হবে।
এছাড়া পরিষ্কার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—অনলাইন বুকিং হোক বা অফলাইন কাউন্টার, সব ক্ষেত্রেই বিমানসংস্থাগুলিকে এই সীমা মানতেই হবে। যতদিন না ভারতের বিমান ভাড়া স্থিতিশীল হচ্ছে বা মন্ত্রক থেকে নতুন নির্দেশ জারি হচ্ছে, ততদিন এই মূল্যসীমা প্রয়োগে বাধ্য থাকবে সব এয়ারলাইন।
কেন্দ্রীয় সরকার বহুবার সতর্ক করার পরও যেখানে বিমান ভাড়া লাগামহীনভাবে বাড়ছিল, সেখানে এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই যাত্রীস্বার্থে জরুরি পদক্ষেপ বলছেন। বিশেষত উৎসবের মরসুম, হঠাৎ বুকিং বা ব্যস্ত বিমানপথে ভাড়ায় উর্ধ্বগতি দেখেই যাত্রীরা ক্ষোভে ফেটে পড়ছিলেন। ইন্ডিগো ঘটনা সেই বিতর্ককে আরও উস্কে দেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গত কয়েক বছরে বিমান সংস্থার ব্যয় বাড়লেও এত মাত্রায় ভাড়া বৃদ্ধি যুক্তিযুক্ত ছিল না। নতুন নির্দেশে ভাড়ার সীমা স্থির থাকলে স্বল্প দূরত্বের বিমানযাত্রা সাধারণ যাত্রীর ধরাছোঁয়ার মধ্যে থাকবে। তবে কিছু এয়ারলাইনের দাবি, এই সর্বোচ্চ সীমা থাকলে ব্যস্ত রুটে তাদের আর্থিক চাপ বাড়তে পারে।
তবে কেন্দ্রের অবস্থান স্পষ্ট—যাত্রীদের অসুবিধা রুখতেই এই হস্তক্ষেপ। বিমানযাত্রাকে সুবিধাজনক ও সাশ্রয়ী রাখতে সরকার এই সিদ্ধান্তে অনড়।
নতুন নির্দেশ কার্যকর হওয়ার পরই বোঝা যাবে, দেশের বিমান ভাড়ার বাজার কতটা স্থিতিশীল হয়। আপাতত যাত্রীদের জন্য এটা বড় স্বস্তির খবর বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।



