ব্রিগেডে পাঁচ লক্ষ গীতাপাঠের প্রস্তুতি, থাকছেন দিলীপ–সুকান্ত–শমীক

রবিবার কলকাতার ব্রিগেডে বিশাল ‘Gita Path’ অনুষ্ঠান, বিজেপি নেতৃত্বের সক্রিয় উপস্থিতিতে রাজনৈতিক বার্তা জোরদার

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে গীতাপাঠ ফের রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। আয়োজনকারী দল ‘সনাতন সংস্কৃতি সংসদ’ দাবি করেছে, এ বছর পাঁচ লক্ষ মানুষের গীতাপাঠ তাঁদের লক্ষ্য। লোকসভা ভোটের আগে ২০২৩ সালে ‘লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠ’-এর মাধ্যমে যেভাবে ব্রিগেড উত্তাল হয়েছিল, ঠিক দুই বছর পর সেই অনুষ্ঠান আরও বড় আকারে আয়োজন করা হচ্ছে। রাজনৈতিক জল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে বিজেপির ভূমিকাও।

রবিবারের এই গীতাপাঠ কর্মসূচিতে কারা থাকছেন, তা নিয়ে জল্পনা ছিল কয়েকদিন ধরে। শেষ পর্যন্ত পরিষ্কার হয়েছে—এ বার অনুষ্ঠান মঞ্চে দেখা যাবে দিলীপ ঘোষ, রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারকে। শুভেন্দু অধিকারী এই কর্মসূচির প্রথম ঘোষণাকারী হলেও রবিবার তিনি উপস্থিত থাকবেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

ব্রিগেডে পাঁচ লক্ষ গীতাপাঠের প্রস্তুতি, থাকছেন দিলীপ–সুকান্ত–শমীক

বিজেপির ভেতরে প্রশ্ন উঠছিল দিলীপ ঘোষের উপস্থিতি নিয়ে। দলের বড় কর্মসূচিতে তাঁকে সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যায়নি। তবে সমস্ত জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে দিলীপ নিজেই জানিয়েছেন, তিনি রবিবার সকাল ৯টার মধ্যে ব্রিগেডে পৌঁছে যাবেন। একইসঙ্গে রাজ্য বিজেপির অন্যান্য নেতৃত্বের কাছেও আমন্ত্রণ পাঠানো হয়েছে, এবং তাঁরা উপস্থিত থাকবেন বলেই নিশ্চিত সূত্রে জানা যাচ্ছে।

আয়োজকদের তরফে আমন্ত্রণ গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের কাছেও। কিন্তু রাজ্যপাল দিল্লিতে থাকার কারণে যোগ দিতে পারবেন না। মুখ্যমন্ত্রী এ বারও অনুষ্ঠানে থাকছেন না বলেই নবান্ন সূত্রে ইঙ্গিত।

ব্রিগেড ময়দানে তিনটি বিশাল মঞ্চ তৈরি হচ্ছে। মূল মঞ্চে থাকবেন সর্বভারতীয় পরিচিত সাধুসন্তেরা, যাঁদের নেতৃত্বে হবে বৃহৎ গীতাপাঠ। দুই পাশের মঞ্চে বসবেন বাংলার নামী সাধুসন্তেরা। মূল মঞ্চের সামনে একটি ক্ষুদ্র মঞ্চে থাকবে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। তিনটি বিশেষ সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে শুরু হবে রবিবারের কর্মসূচি।

bjp

এ দিন উপস্থিত থাকতে পারেন ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের স্বামী প্রদীপ্তানন্দ, রিষড়া প্রেমমন্দিরের নির্গুণানন্দ ব্রহ্মচারী, জগৎবন্ধু আশ্রমের বন্ধুগৌরব দাস মহারাজ। পাশাপাশি স্বামী জ্ঞানানন্দ, রামদেব, ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রী এবং সাধ্বী ঋতাম্ভরা-সহ একাধিক সর্বভারতীয় সাধুসন্তকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

তবে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে পাঁচ লক্ষ জমায়েতের দাবি। ২০২৩ সালের ‘লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠ’-এ শেষ পর্যন্ত সাংগঠনিক দাবি ছিল প্রায় এক লক্ষ ৩৭ হাজার মানুষের উপস্থিতি। সেই দাবিতেও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকে। তাই এ বার পাঁচ লক্ষের দাবি বাস্তবে কতটা পূরণ হবে, তা নিয়েই কৌতূহল এবং সংশয় দু’টোই তুঙ্গে।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ব্রিগেডের গীতাপাঠ বিজেপির কাছে শক্তিপ্রদর্শনের বড় সুযোগ। শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষিত লক্ষ্য—পাঁচ লক্ষ হিন্দুর সমবেত গীতাপাঠ—সার্থক হবে কি না, তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল। এ বারের অনুষ্ঠান শুধু ধর্মীয় কর্মসূচি নয়, বরং রাজনৈতিক বার্তারও এক অনন্য মঞ্চ হয়ে উঠতে চলেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত