ভারত বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা, রো-কো যুগলবন্দিতে ঐতিহাসিক জয়, যশস্বীর শতকে সিরিজে দাপট

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

সাদা বলের ক্রিকেটে ফিরতেই আবার ছন্দে ভারত। ভারত বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে বিশাখাপত্তনমে দাপট দেখাল রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি ও যশস্বী জয়সওয়াল। লাল বলের হতাশা ভুলিয়ে ভারত এই ম্যাচে ৯ উইকেটে জিতে সিরিজ নিজেদের নামে করল। দিন—রাতের কন্ডিশনে পরে বল করা কতটা কঠিন, তা এই ম্যাচ আবারও প্রমাণ করে দিল।

টস জেতেন লোকেশ রাহুল। সিদ্ধান্ত ছিল স্পষ্ট—প্রথমে বল করবে ভারত। টস জেতার মুহূর্তেই যেন অর্ধেক ম্যাচ পকেটে ঢুকে যায়। কারণ সন্ধ্যার পর শিশিরে বোলিং আগের দুই ম্যাচের মতোই চ্যালেঞ্জিং হবে—এটা জানত দুই দলই। কিন্তু এই ম্যাচে সেই চ্যালেঞ্জ ধরল দক্ষিণ আফ্রিকার গায়ে।

Shamim Ahamed Ads

ভারত বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা, রো-কো যুগলবন্দিতে ঐতিহাসিক জয়, যশস্বীর শতকে সিরিজে দাপট

দক্ষিণ আফ্রিকার শুরুতেই বিপর্যয়

ম্যাচের প্রথম ওভারেই অর্শদীপ সিংহ তুলে নেন রায়ান রিকেলটনের উইকেট। তবে তার পরে ডি’কক ও বাভুমা জুটি কিছুটা স্থিরতা ফেরান। ভারতের বিরুদ্ধে সব সময়ই বিপজ্জনক ডি’কক এ বারও ছন্দে ফেরেন। তিনি ও বাভুমা মিলে ১১৩ রানের পার্টনারশিপ গড়েন।

কিন্তু জাডেজার এক নিখুঁত ডেলিভারিতে বাভুমা ফিরতেই ম্যাচের রসদ বদলাতে শুরু করে।

প্রসিদ্ধ–কুলদীপের স্পেলে ভেঙে পড়ে প্রোটিয়া ব্যাটিং

সিরিজে তাৎপর্যপূর্ণ কিছু করতে পারেননি প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ। কিন্তু এ দিন দ্বিতীয় স্পেলে এসে তিনি যেন সম্পূর্ণ বদলে গেলেন। একই ওভারে প্রথমে ব্রিৎজ় এবং পরে আগের ম্যাচের শতরানকারী মার্করামকে ফেরান তিনি।

অন্য প্রান্তে ডি’কক শতরান পূর্ণ করেন হর্ষিত রানার বলে। ভারতের মাটিতে এটি তাঁর সপ্তম শতরান। কিন্তু শতকের পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। প্রসিদ্ধের বলে ১০৬ রানে আউট হন তিনি।

ডেওয়াল্ড ব্রেভিস, মার্কো জানসেন কেউই কুলদীপ যাদবের ঘূর্ণিতে বেরোবার পথ খুঁজে পাননি। কুলদীপ ও প্রসিদ্ধ নেন ৪টি করে উইকেট। ফলে পুরো ৫০ ওভার খেলতে পারল না দক্ষিণ আফ্রিকা। ৪৭.৫ ওভারে অলআউট মাত্র ২৭০-তে।

ভারত বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা, রো-কো যুগলবন্দিতে ঐতিহাসিক জয়, যশস্বীর শতকে সিরিজে দাপট

২৭১ রানের চেজে রোহিত-যশস্বীর আধিপত্য

দিন—রাতের ম্যাচে ২৭০–২৮০ রানের টার্গেট আজকাল আর বড় কিছু নয়। ভারতীয় ওপেনাররা জানতেন, ধৈর্য ধরে খেললেই ব্যাট করা সহজ হবে। তাই শুরুতে ঝুঁকি না নিয়ে জুটি গড়ায় মন দিলেন রোহিত শর্মা ও যশস্বী জয়সওয়াল।

প্রথমে সংযম, পরে আগ্রাসন—এই ছন্দে খেলেই তাঁরা ১৫৫ রানের বিরাট ওপেনিং পার্টনারশিপ গড়েন। রোহিত ৭৫ রানে আউট হয়ে গেলেও তাঁর ইনিংস ভারতকে নিশ্চিত পথে এগিয়ে দেয়।

অন্য লেভেলে যশস্বী—কেরিয়ারের প্রথম শতরান

এ দিন সম্পূর্ণ অন্যরকম দেখা গেল যশস্বীকে। প্রথমে সময় নিলেন, পরে শট খেললেন আত্মবিশ্বাসে। এক দিনের ক্রিকেটে এখনও পর্যন্ত কখনোই অর্ধশতরানের বেশি করতে পারেননি। কিন্তু এই ম্যাচে সকল চাপ সরে গিয়ে উঠে এল তাঁর প্রথম আন্তর্জাতিক এক দিনের শতরান।

ফ্রন্ট ফুট ড্রাইভ, হুক, পুল—সব শটেই ছিল সাবলীলতা। তাঁর শতরানের পরই খেলার গতিপথ পুরোপুরি ভারতের দিকে ঝুঁকে পড়ল।

কোহলির ধীরস্থির ইনিংস ম্যাচ শেষ করে দেয়

যশস্বীর সঙ্গে জুটি বাঁধেন বিরাট কোহলি। শতরানের সুযোগ ছিল না, কিন্তু স্ট্রাইক রোটেশন আর টাইমিং দিয়ে তিনি নিশ্চিত করে দেন ম্যাচ দ্রুত শেষ হবে। শেষ পর্যন্ত কোহলি অপরাজিত ৬৫ ও যশস্বী অপরাজিত ১১৬ রানে ম্যাচ শেষ করেন।

৬১ বল বাকি থাকতে এই জয় ভারতীয় দলের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়ে দিল। কোচ গৌতম গম্ভীর টেস্ট সিরিজের হতাশা পেছনে ফেলে সাদা বলে দাপট দেখালেন তাঁর দল নিয়ে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত