দিল্লির আবগারি দুর্নীতি মামলায় নাটকীয় মোড়—নিজেই আদালতে সওয়াল করতে নামছেন অরবিন্দ কেজরীওয়াল। বিচারপতি বদলের দাবিতে আপের পদক্ষেপ ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। সোমবার দিল্লি হাই কোর্টে এই মামলার শুনানিতে কেজরীর সরাসরি অংশগ্রহণ ঘিরে জোর চর্চা।
রবিবার আম আদমি পার্টি (আপ)-এর তরফে জানানো হয়েছে, আবগারি দুর্নীতি মামলায় বিচারপতি পরিবর্তনের দাবিতে কেজরীওয়াল নিজেই আদালতে নিজের বক্তব্য পেশ করবেন। এই পদক্ষেপে অনেকেই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নজিরের সঙ্গে তুলনা টানছেন, যিনি আগে সুপ্রিম কোর্টে নিজে সওয়াল করেছিলেন।
প্রসঙ্গত, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি দিল্লির একটি নিম্ন আদালত এই মামলায় কেজরীওয়াল, মনীশ সিসৌদিয়া-সহ মোট ২৩ জন অভিযুক্তকে অব্যাহতি দেয়। তবে সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সিবিআই দিল্লি হাই কোর্টে যায়। বিচারপতি স্বর্ণকান্ত শর্মা ওই নির্দেশে ত্রুটি রয়েছে বলে মত দিয়ে স্থগিতাদেশ জারি করেন।
এরপরই বিচারপতি বদলের দাবি তোলে আপ। দলের পক্ষ থেকে দিল্লি হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি ডি কে উপাধ্যায়ের কাছে লিখিত আবেদন জানানো হয়। অভিযোগ, বিচারপতি শর্মা পক্ষপাতদুষ্ট এবং নিরপেক্ষ বিচার সম্ভব নয় তাঁর বেঞ্চে। যদিও প্রধান বিচারপতি সেই আবেদন খারিজ করে দেন এবং সিবিআই-কে এ বিষয়ে মতামত জানাতে বলেন। ৬ এপ্রিল পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে।
প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন খারিজ হওয়ার পর নতুন করে বিচারপতি শর্মার কাছেই মামলা থেকে সরে দাঁড়ানোর আবেদন জানিয়েছে আপ। সেই নিয়েই সোমবার আদালতে নিজের বক্তব্য পেশ করবেন কেজরীওয়াল।
এই সিদ্ধান্তকে কটাক্ষ করেছে বিজেপি। দলের দিল্লি মুখপাত্র প্রবীণ শঙ্কর কপূর সমাজমাধ্যমে বলেন, এই পদক্ষেপ বিচারব্যবস্থার প্রতি অসম্মান প্রদর্শনের সামিল। তাঁর অভিযোগ, বেঞ্চ বদলের আবেদন খারিজ হওয়ার পর কেজরীওয়ালের এই পদক্ষেপ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
উল্লেখ্য, এই আবগারি দুর্নীতি মামলায় সিবিআই এবং ইডির হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন কেজরীওয়াল। তিহাড় জেলে থাকার সময়েও তিনি মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেননি, যা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা। পরবর্তীতে দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে আপ পরাজিত হয় এবং ক্ষমতায় আসে বিজেপি। ফেব্রুয়ারিতে মামলায় অব্যাহতি পাওয়ার পর আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন কেজরীওয়াল।
এখন নজর সোমবারের শুনানিতে—নিজে সওয়াল করে কতটা আইনি লড়াইয়ে এগোতে পারেন কেজরীওয়াল, সেটাই দেখার।



