প্রথম দফার ভোটের পরেই বাংলার নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করলেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। রাজ্যে প্রচারে আসার আগে তাঁর দাবি, এই ভোটে মূলত এসআইআর-এর বিরুদ্ধেই রায় দিয়েছে মানুষ। একইসঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, এই প্রবণতা শাসক দল তৃণমূল-এর পক্ষে যেতে পারে। ফলে ভোটের ফল ঘোষণার আগেই রাজনৈতিক বার্তা স্পষ্ট—তৃণমূলের জয়ের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না আপ প্রধান।
সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে কেজরিওয়াল লেখেন, “শুনলাম পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর-এর বিরুদ্ধে ভোট পড়ছে। মোদির এসআইআর মোদির বিরুদ্ধেই গিয়েছে।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে, বিশেষ করে যখন প্রথম দফায় রেকর্ড ৯২ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে।


প্রসঙ্গত, প্রথম দফায় ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ হয়েছে। এই বিপুল ভোটদানের পর শাসক ও বিরোধী—দু’পক্ষই নিজেদের পক্ষে ফলের দাবি করছে। তৃণমূলের তরফে ১৩০-র বেশি আসনে জয়ের দাবি করা হয়েছে, অন্যদিকে বিজেপিও ১১০-র বেশি আসনের আশাবাদী।
এই আবহেই বাংলায় আসছেন কেজরিওয়াল। ২৬ ও ২৭ এপ্রিল তাঁর দু’দিনের প্রচারসূচি রয়েছে। সূত্রের খবর, কলকাতায় একাধিক জনসভা ও রোডশো করবেন তিনি। বিশেষ করে টালিগঞ্জ ও ভবানীপুরে গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে তিনি মমতা ব্যানার্জি-র পাশে দাঁড়িয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হবেন।
আম আদমি পার্টি সূত্রে জানা গিয়েছে, মমতার আমন্ত্রণেই এই সফর। ফোনালাপের মাধ্যমে ইতিমধ্যেই সমর্থনের বার্তা দিয়েছেন কেজরিওয়াল। তিনি এই নির্বাচনকে “ভারতীয় গণতন্ত্রের অন্যতম কঠিন লড়াই” বলেও উল্লেখ করেছেন।


রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূল ও আপের এই ঘনিষ্ঠতা নতুন নয়। দিল্লি নির্বাচনের সময়ও দুই দলের পারস্পরিক সমর্থন দেখা গিয়েছিল। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই সমন্বয়কে বিজেপি-বিরোধী বৃহত্তর জোট রাজনীতির অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, ভোটের শেষ লগ্নে কেজরিওয়ালের এই সফর শুধু প্রচার নয়—বরং রাজনৈতিক বার্তা, কৌশল এবং জোটের ইঙ্গিত—সব কিছুরই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন হতে চলেছে।








