পশ্চিমবঙ্গের ভোটকে ঘিরে উত্তেজনার মাঝেই বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন Arvind Kejriwal। সরাসরি Narendra Modi-কে নিশানা করে তাঁর প্রশ্ন—“সব প্রতিষ্ঠান দখল করে, লক্ষ লক্ষ ভোট কেটে দেওয়ার পরেও যদি বাংলায় হারেন, তাহলে কী হবে?” এই এক মন্তব্যেই রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের ঝড় উঠেছে।
সামাজিক মাধ্যমে করা এই পোস্টে কেজরিওয়াল ইঙ্গিত দিয়েছেন, দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান নিরপেক্ষতা হারাচ্ছে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়াতেও প্রভাব পড়ছে। তাঁর বক্তব্যকে বিরোধী শিবির গণতন্ত্র নিয়ে বড় সতর্কবার্তা হিসেবেই দেখছে।
প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন ঘিরে ইতিমধ্যেই তীব্র রাজনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে শাসক শিবির All India Trinamool Congress অভিযোগ তুলেছে—লক্ষ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। যদিও Election Commission of India দাবি করেছে, সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে ভোট প্রক্রিয়া পরিচালনাই তাদের লক্ষ্য।
এই আবহেই কেজরিওয়ালের মন্তব্য রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, তিনি শুধু একটি দলকে আক্রমণ করেননি, বরং দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট বার্তা—সব প্রতিকূলতার পরেও যদি ফল ভিন্ন হয়, তবে সেটাই হবে জনগণের প্রকৃত রায়।
এদিকে রাজনৈতিক মন্তব্যের পাশাপাশি আইনি ক্ষেত্রেও সক্রিয় দেখা গেছে কেজরিওয়ালকে। Delhi High Court-এ ব্যক্তিগতভাবে হাজির হয়ে তিনি একটি মামলায় বিচারপতি স্বরনা কান্তা শর্মাকে শুনানি থেকে সরে দাঁড়ানোর আর্জি জানান। আবগারি নীতি সংক্রান্ত মামলায় সিবিআইয়ের রিভিশন আবেদন ঘিরেই এই পদক্ষেপ।
আদালতে কেজরিওয়াল জানান, তিনি নিজেই নিজের পক্ষে সওয়াল করতে চান এবং এই মুহূর্তে কোনও আইনজীবী নিয়োগ করেননি। তাঁর এই পদক্ষেপও রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।
সব মিলিয়ে, বাংলার ভোটের আগে কেজরিওয়ালের এই মন্তব্য ও পদক্ষেপ রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করল—যেখানে নির্বাচন, গণতন্ত্র ও আইনি লড়াই একসঙ্গে উঠে এল জাতীয় আলোচনায়।



