কুলদীপ ও প্রসিদ্ধের চাপে বড় স্কোরে ব্যর্থ প্রোটিয়ারা, ভারতের জন্য টার্গেট ২৭১

ভাইজ্যাগে কুলদীপ যাদব ও প্রসিদ্ধ কৃষ্ণের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ডি’ককের সেঞ্চুরি সত্ত্বেও বড় স্কোর গড়তে ব্যর্থ দক্ষিণ আফ্রিকা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ভাইজ্যাগের সবুজ আউটফিল্ডে শনিবার ওয়ানডে সিরিজ জমে উঠল ভারত–দক্ষিণ আফ্রিকা লড়াইয়ে। কিন্তু আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এল কুলদীপ যাদব ও প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ। দুই ভারতীয় বোলারের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ডি’ককের দুর্লভ সেঞ্চুরিও শেষ পর্যন্ত হতাশার গল্প হয়ে রইল প্রোটিয়াদের জন্য। প্রথম ইনিংসে মাত্র ২৭০ রানে অলআউট হয়ে বড় স্কোরের সুযোগ হাতছাড়া করল দক্ষিণ আফ্রিকা। এই ম্যাচে কুলদীপের ঘূর্ণি ছিল ভারতের প্রধান অস্ত্র, যা ভেঙে দেয় প্রতিপক্ষের ছন্দ।

ম্যাচ শুরুর আগে টস জেতেন ভারত অধিনায়ক কেএল রাহুল। দীর্ঘ ২০ ম্যাচ পর ওয়ানডেতে টস জিতে রাহুল প্রত্যাশিতভাবেই প্রথমে ফিল্ডিং নেন। তাতে শুরুটা দারুণ হয় ভারতের। প্রথম ওভারেই অর্শদীপ সিং ফেরান রিকেলটনকে। দ্রুত উইকেট হারালেও বাভুমা ও ডি’কক প্রোটিয়া ইনিংসের হাল ধরেন। দুই অভিজ্ঞ ব্যাটারের ১১২ রানের জুটি ভারতের ওপর চাপ সৃষ্টি করে।

কুলদীপ ও প্রসিদ্ধের চাপে বড় স্কোরে ব্যর্থ প্রোটিয়ারা, ভারতের জন্য টার্গেট ২৭১

বাভুমা আউট হওয়ার পর ডি’কক আরেকটি ভালো জুটি গড়েন ব্রিৎজকের সঙ্গে। ততক্ষণে ডি’কক তুলে ফেলেছেন তাঁর সেঞ্চুরি, রানরেটও উঠেছে ছয়ের কাছাকাছি। মনে হচ্ছিল ৩৫০ বা তারও বেশি স্কোর করতে পারে দক্ষিণ আফ্রিকা। কিন্তু ম্যাচের মোড় তখনও বাকি ছিল।

সেই মোড় এনে দেন প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ। আগের ম্যাচে ব্যর্থতার পরও কোচ গৌতম গম্ভীরের আস্থা তাঁকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছিল। সেই আস্থার পূর্ণ মর্যাদা দিয়ে একই ওভারে তিনি ফেরান ডি’কক ও মার্করামকে। দুজনই দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং লাইনআপের স্তম্ভ। এক ওভারেই দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট পড়ে প্রোটিয়াদের মেরুদণ্ড যেন ভেঙে পড়ে।

এই ধাক্কা সামলানোর আগেই শুরু হয় কুলদীপ যাদব–এর বিধ্বংসী স্পেল। তাঁর ঘূর্ণিতে আচ্ছন্ন হয়ে একে একে প্যাভিলিয়নে ফেরেন ব্রেভিস, জ্যানসেন, বশ ও এনগিডি। মাত্র কয়েক ওভারের ব্যবধানে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং ধস নামে। একটি ওভারেই ব্রেভিস ও জ্যানসেনকে ফিরিয়ে কুলদীপ ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন। ফলাফল—প্রোটিয়ারা ৫০ ওভারও খেলতে পারল না, থেমে যায় ২৭০ রানে।

এই ম্যাচে কুলদীপের ঘূর্ণি ছিল ভারতীয় বোলিংয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি। প্রসিদ্ধও তুলে নিলেন ৪ উইকেট। দুই বোলারের কম্বিনেশনে দক্ষিণ আফ্রিকার পরিকল্পনা সম্পূর্ণ ভেস্তে যায়।

এই রান ভাইজ্যাগের পিচে কতটা নিরাপদ হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছেই। সাধারণত এই মাঠে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং আরও সহজ হয়ে যায়, বিশেষ করে শিশির পড়লে স্পিনাররা সাহায্য পান না। ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপে যখন রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি ও শুভমন গিলের মতো ফর্মে থাকা ব্যাটাররা আছেন, তখন ২৭০ রানের লক্ষ্য খুব বেশি কঠিন হওয়ার কথা নয়।

ভারতের ব্যাটিং শক্তি এবং পিচের আচরণ মিলিয়ে বলতে গেলে এটি একটি চেজিং ফ্রেন্ডলি ম্যাচ হয়ে উঠতে পারে। দলের আত্মবিশ্বাসও এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে, কারণ তাদের প্রধান অস্ত্র কুলদীপের ঘূর্ণি আবারও প্রমাণ করেছে তাঁর ম্যাচ-উইনিং ক্ষমতা।

এখন দেখার, রোহিত-কোহলির অভিজ্ঞতা ও ভারতের মিডল অর্ডারের স্থিতিশীলতা মিলিয়ে কতটা সহজে লক্ষ্য তাড়া করতে পারে ভারত। তবে প্রোটিয়াদের ২৭০ রানে থামিয়ে ভারত পেয়ে গেল মানসিক দিক দিয়ে বাড়তি সুবিধা।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর