ভোটের আগে নিরাপত্তা জোরদার: রাজ্যে আরও ১৫০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী, মোট ২৫৫০

ভোটের আগে পশ্চিমবঙ্গে নিরাপত্তা বাড়াতে আরও ১৫০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন, মোট সংখ্যা ২৫৫০—কমিশনের নজরে কড়া ব্যবস্থা

বিজ্ঞাপন
নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ভোটের মুখে পশ্চিমবঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও কঠোর করতে বড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র। Amit Shah-এর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক নতুন করে ১৫০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। এর ফলে রাজ্যে মোট বাহিনীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২৫৫০ কোম্পানিতে। নির্বাচন কমিশনের দাবি, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতেই এই বাড়তি মোতায়েন।

নির্বাচন ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্যে কড়া নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। আগে যেখানে ২৪০০ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন ছিল, সেখানে নতুন সংযোজনে সেই সংখ্যা আরও বেড়ে গেল। কমিশন সূত্রে জানা যাচ্ছে, পরিস্থিতি অনুযায়ী ভবিষ্যতে বাহিনীর সংখ্যা আরও বাড়ানোও হতে পারে।

প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের মতো এবারের ভোট বহু দফায় না হয়ে মাত্র দুই দফায় অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণ হবে, আর ফল ঘোষণা নির্ধারিত ৪ মে। দফা কম হলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও রকম ঢিলেমি রাখতে নারাজ কমিশন।

নির্বাচনের আগে থেকেই কেন্দ্রীয় বাহিনী রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় পৌঁছে গিয়েছে। পাড়ায় পাড়ায় টহল, রুটমার্চ—সব মিলিয়ে ভোটের আবহে নিরাপত্তা দৃশ্যমানভাবে বাড়ানো হয়েছে। প্রথমে ৪৮০ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন করা হলেও, পরে আরও ১৯২০ কোম্পানি যুক্ত হয়। এবার তার সঙ্গেই যুক্ত হল নতুন ১৫০ কোম্পানি।

কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, এই নতুন বাহিনীর মধ্যে ৯৫ কোম্পানি সিএপিএফ (কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী)। পাশাপাশি বিভিন্ন রাজ্য—মিজোরাম, অসম, মেঘালয়, মধ্যপ্রদেশ, বিহার, মহারাষ্ট্র, ছত্তীসগঢ় ও ঝাড়খণ্ড থেকে বিশেষ সশস্ত্র পুলিশ (SAP) মোতায়েন করা হচ্ছে। নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ১৮ এপ্রিলের মধ্যে এই বাহিনীকে রাজ্যে এসে দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে।

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকেই অতিরিক্ত বাহিনীর দাবি জানানো হয়েছিল বলে জানা গেছে। সেই আবেদনের ভিত্তিতেই কেন্দ্র এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কমিশনের শীর্ষ কর্তারা স্পষ্ট করে দিয়েছেন—ভোট যাতে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়, তার জন্য সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

নিরাপত্তা জোরদার করতে শুধু বাহিনী নয়, পর্যবেক্ষকের সংখ্যাও এ বার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে সাধারণ পর্যবেক্ষক ছাড়াও পুলিশ ও ব্যয়ের উপর নজরদারি চালানোর জন্য আলাদা পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে স্পষ্ট, ভোট যতই কম দফায় হোক, নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনও ঝুঁকি নিতে রাজি নয় প্রশাসন। বরং নজিরবিহীন মোতায়েন ও কড়া নজরদারির মাধ্যমে এবারের নির্বাচনকে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ করার লক্ষ্যেই এগোচ্ছে কমিশন।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর