ধর্মতলায় পুলিশ-সাংবাদিক নিগ্রহে কড়া বার্তা শুভেন্দুর, গুন্ডাদমন আইনে মামলা; ‘এমন ব্যবস্থা হবে, তিন পুরুষ মনে রাখবে’

ধর্মতলায় নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুর বিক্ষোভে পুলিশ ও সাংবাদিকদের উপর হামলার অভিযোগে মোট সাতটি এফআইআর দায়ের হয়েছে। ৭০ জনকে চিহ্নিত করে গুন্ডাদমন আইনে কড়া পদক্ষেপের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ধর্মতলায় নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে বিক্ষোভ ঘিরে সংঘর্ষ, পুলিশ ও সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনায় কড়া অবস্থান নিল রাজ্য সরকার। বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) ঘোষণা করেছেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গুন্ডাদমন আইন প্রয়োগ করা হবে। ইতিমধ্যেই ৭০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে দাবি করে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, আইন ভাঙার সঙ্গে যুক্তদের বিরুদ্ধে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যা ‘তিন পুরুষ মনে রাখবে’।

শুক্রবার বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ধর্মতলার বিক্ষোভে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সীমা অতিক্রম করে পরিকল্পিতভাবে অশান্তি ছড়ানো হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, আন্দোলনের নামে একাংশ বহিরাগত বিক্ষোভকারীরা পুলিশ ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে এবং তদন্ত দ্রুত এগোচ্ছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরো ঘটনায় মোট সাতটি এফআইআর নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে হেয়ার স্ট্রিট থানায় (Hare Street Police Station) ছয়টি এবং এন্টালি থানায় (Entally Police Station) একটি মামলা দায়ের হয়েছে। পুলিশের স্বতঃপ্রণোদিত মামলাও রয়েছে। অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা পতাকা, ব্যানার ও যানবাহন নিয়ে রাস্তা দখল করে এবং বারবার সতর্ক করার পরেও জমায়েত না সরিয়ে উল্টে পুলিশকে লক্ষ্য করে বোতল, জুতো, লাঠি ও পাথর ছোড়ে। পাশাপাশি দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদেরও হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে।

এফআইআরে বেআইনি জমায়েত, সরকারি কর্মীদের কাজে বাধা, হামলা, রাস্তা অবরোধ, সরকারি নির্দেশ অমান্য, অশান্তি সৃষ্টি এবং বিদ্বেষমূলক উস্কানির মতো একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই সমস্ত মামলায় গুন্ডাদমন আইনও যুক্ত করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, এখনও পর্যন্ত ৭০ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাঁদের কেউই ছাত্র নন বা আন্দোলনের মূল সংগঠনের সদস্য নন।

ধর্মতলার ঘটনার প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার পুলিশকে সংযম বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছিল, যাতে বলপ্রয়োগের পরিস্থিতি তৈরি না হয়। তাঁর অভিযোগ, একাংশ বিক্ষোভকারী ইচ্ছাকৃতভাবে এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে চেয়েছিল যাতে পুলিশ লাঠিচার্জ বা কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে এবং পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তবে পুলিশ সেই ফাঁদে পা দেয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

বিধানসভায় বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বিক্ষোভস্থলে বিভিন্ন বামপন্থী ছাত্র ও যুব সংগঠনের সদস্যদের পাশাপাশি বহিরাগতরাও উপস্থিত ছিলেন। তিনি দাবি করেন, এদের অনেকেরই নিট পরীক্ষার সঙ্গে কোনও প্রত্যক্ষ সম্পর্ক ছিল না। একই সঙ্গে তিনি জানান, এই ঘটনায় কয়েকজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে কয়েকজন গুরুতর জখম হয়েছেন এবং তাঁদের চিকিৎসার খোঁজও নিয়েছেন তিনি।

এদিন বক্তব্যে কয়েকজন অভিযুক্তের নামও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, চিহ্নিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গুন্ডাদমন আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, আইন হাতে তুলে নেওয়া বা পুলিশ ও সংবাদমাধ্যমের উপর হামলার ঘটনায় কোনওরকম ছাড় দেওয়া হবে না।

সাংবাদিকদের উপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে শুভেন্দু অধিকারী জানান, প্রতিবাদ হিসেবে বিজেপি বিধায়কেরা আম্বেদকর মূর্তির পাদদেশে কালো ব্যাজ পরে কর্মসূচি পালন করবেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অধিকার সবার থাকলেও আইনশৃঙ্খলা ভাঙা, সরকারি কর্মী বা সাংবাদিকদের উপর হামলা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন