SIR-এ অনিয়মের অভিযোগে সাত AERO-কে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত ঘিরে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন— অভিযুক্ত আধিকারিকদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়নি, তাঁরা চাকরিচ্যুত হচ্ছেন না এবং কমিশন যদি ডিমোশন দেয়, রাজ্য সরকার তাঁদের প্রোমোশন দেবে।
মঙ্গলবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “AERO-দের সাসপেন্ড করলেন কেন? একজন চোরকেও পুলিশ জিজ্ঞেস করে— কেন চুরি করলে? এখানে কি একবারও তাঁদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে অপরাধটা কী?” তাঁর অভিযোগ, তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই ‘সাসপেন্ড উইথ পেন্ডিং ইনভেস্টিগেশন’ করা হয়েছে।
কমিশনকে ‘তুঘলকি কমিশন’ ও ‘সো কল্ড টর্চার কমিশন’ আখ্যা দিয়ে মমতা দাবি করেন, গত কয়েক মাস ধরে রাজ্যে ‘থ্রেট কালচার’ চালানো হচ্ছে। তাঁর কথায়, “একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল এই কমিশন চালাচ্ছে। দিল্লির জমিদারদের কথায় রাজ্যের ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।”
তবে একইসঙ্গে তিনি জানান, কমিশনের নির্দেশের ভিত্তিতেই রাজ্য সরকার ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়েছে। “যদি কেউ অন্যায় করে থাকে, রাজ্যকে জানানো যেত। আমরা পদক্ষেপ নিতে পারতাম। কিন্তু তাঁদের ডিফেন্ড করার সুযোগ দেওয়া হয়নি,” বলেন মুখ্যমন্ত্রী।
সাসপেন্ড হওয়া আধিকারিকদের কাজের প্রশংসা করে তিনি বলেন, “আমি দু’একজনকে চিনি, দিনরাত খেটেছেন। তাঁদের বলতে পর্যন্ত দেওয়া হয়নি।” তদন্ত প্রক্রিয়া চলবে, তবে নির্বাচনী রোল সংক্রান্ত কাজের বাইরে অন্য প্রশাসনিক দায়িত্বে তাঁদের রাখা হবে বলে জানান তিনি।
সবশেষে মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা— “চাকরিচ্যুত হচ্ছেন না কেউ। যাঁর ডিমোশন করবে, তাঁকে প্রোমোশন দেব।” রাজনৈতিক মহলে এই মন্তব্য নতুন করে কমিশন-রাজ্য সংঘাতকে সামনে এনে দিল বলেই মত পর্যবেক্ষকদের।



