‘চাকরি যাবে না, ভোটের কাজেও থাকবেন না’— সাসপেন্ড সাত আধিকারিককে নিয়ে কমিশনকে তোপ মমতার

সাসপেন্ড সাত এইআরও-র পাশে রাজ্য সরকার, নির্বাচনী কাজ থেকে সরিয়ে অন্য দায়িত্বে রাখার ঘোষণা; কমিশনের সিদ্ধান্তে প্রশ্ন তুললেন মুখ্যমন্ত্রী

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নির্বাচন কমিশনের সাসপেন্ড করা সাত আধিকারিককে নিয়ে কড়া অবস্থান নিল রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানালেন, তাঁরা কেউ চাকরিচ্যুত হচ্ছেন না, তবে নির্বাচনী কাজ থেকে সরিয়ে অন্য প্রশাসনিক দায়িত্বে রাখা হবে। কমিশনের সিদ্ধান্তকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তিনি অভিযোগ তুললেন, অভিযুক্তদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়নি এবং ‘তুঘলকি’ মনোভাবে পদক্ষেপ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে শুরু থেকেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। কমিশনকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “ইআরও-দের সাসপেন্ড করার আগে তাঁদের কাছে জানতে চাওয়া হল না— অপরাধটা কী?” তাঁর দাবি, যদি কারও বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ থেকেও থাকে, তা রাজ্য সরকারকে জানানো যেত। “আমরা ভদ্রতা করে কমিশনের নির্দেশ মেনেছি। কিন্তু তদন্ত না-করেই শাস্তি দেওয়া হল,” বলেন তিনি।

মমতা জানান, সাসপেন্ড হওয়া সাত আধিকারিক নির্বাচনের কাজের বাইরে অন্য প্রশাসনিক দায়িত্বে বহাল থাকবেন। “তাঁরা কাজ করবেন, জেলায় ভাল কাজই করবেন। চাকরিচ্যুত হচ্ছেন না,” স্পষ্ট বার্তা তাঁর। এমনকি প্রয়োজনে তাঁদের পদোন্নতির কথাও ভাবা হবে বলে জানান তিনি। তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত, রাজ্য সরকার অভিযুক্ত আধিকারিকদের পাশে রয়েছে।

দলীয় শৃঙ্খলার উদাহরণ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কোনও কর্মীকে সাসপেন্ড করার আগে শো-কজ় নোটিস দেওয়া হয়, তার জবাব খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। “সাসপেন্ড উইথ পেন্ডিং ইনভেস্টিগেশন— এটাই নিয়ম। এখানে তদন্তের আগেই সিদ্ধান্ত,” অভিযোগ তাঁর।

উল্লেখ্য, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অসদাচরণ, কর্তব্যে গাফিলতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে সাত এইআরও-কে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেয় কমিশন। রবিবার মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে চিঠি পাঠিয়ে পদক্ষেপের কথা জানানো হয়। তবে রাজ্য কোনও পদক্ষেপ করার আগেই সোমবার সরাসরি কমিশনই তাঁদের সাসপেন্ড করে এবং এইআরও দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়।

সাসপেন্ড হওয়া আধিকারিকেরা হলেন— ক্যানিং পূর্বের সত্যজিৎ দাস ও জয়দীপ কুন্ডু, ময়নাগুড়ির ডালিয়া রায়চৌধুরী, শমসেরগঞ্জের শেফাউর রহমান, ফরাক্কার নীতীশ দাস, সুতির শেখ মুর্শিদ আলম এবং ডেবরার দেবাশিস বিশ্বাস।

কমিশনের ভূমিকা নিয়েও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, ইআরও, ডিএম ও পুলিশ প্রশাসনকে ভয় দেখানো হচ্ছে। “ভোট ঘোষণা হওয়ার পরই নির্বাচন বিধি কার্যকর হয়। তার আগে কেন এই পদক্ষেপ?”— প্রশ্ন তোলেন তিনি। ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’র নামে সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক মানুষদের টার্গেট করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন মমতা।

এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “২৪ বছর সময় ছিল, আগে শুরু করলেন না কেন? পুজো-বড়দিনের সময়েই কেন?” কমিশনকে ‘তুঘলকি’ মনোভাবের অভিযোগে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, “কেউ যদি মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিতে চায়, আমরা চুপ করে থাকব না।”

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন