নবান্নকে পাশ কাটিয়ে সাত আধিকারিককে সরাসরি সাসপেন্ড করল নির্বাচন কমিশন!

এসআইআর প্রক্রিয়ায় গাফিলতির অভিযোগে সাত এইআরও-কে সরাসরি সাসপেন্ড করল নির্বাচন কমিশন, নবান্নকে নির্দেশ পাঠানোর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই কড়া পদক্ষেপ।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) ঘিরে টানাপড়েন চরমে। রবিবার নবান্নকে চিঠি পাঠিয়ে সাত আধিকারিককে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল সেই চিঠিতে। কিন্তু ২৪ ঘণ্টা পেরোতে না-পেরোতেই কমিশন নিজেই সরাসরি পদক্ষেপ করল—রাজ্যের ওই সাত আধিকারিককে সাসপেন্ড করে দিল, একই সঙ্গে তাঁদের এইআরও দায়িত্ব থেকেও সরিয়ে দেওয়া হল। প্রশাসনিক মহলে এই পদক্ষেপকে নজিরবিহীন বলেই মনে করা হচ্ছে।

ওই সাত জনই ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (এইআরও) হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। কমিশনের অভিযোগ—এসআইআর সংক্রান্ত কাজে অসদাচরণ, কর্তব্যে গাফিলতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহার হয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে। সেই অভিযোগ উল্লেখ করে প্রথমে মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে চিঠি দিয়ে সাসপেনশনের নির্দেশ জানানো হয়।

Shamim Ahamed Ads

যাঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হয়েছে তাঁরা হলেন—দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং পূর্বের এইআরও সত্যজিৎ দাস ও জয়দীপ কুন্ডু, জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়ির ডালিয়া রায়চৌধুরী, মুর্শিদাবাদের সমশেরগঞ্জের শেফাউর রহমান, ফরাক্কার নীতীশ দাস, সুতির শেখ মুর্শিদ আলম এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরার দেবাশিস বিশ্বাস। শুধু সাসপেনশন নয়, শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে পরবর্তী বিভাগীয় পদক্ষেপের কথাও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছিল।

রবিবার নবান্নকে বলা হয়েছিল, কমিশনের নির্দেশ কার্যকর করে তার রিপোর্ট জানাতে হবে। কিন্তু রাজ্যের পদক্ষেপের অপেক্ষা না-করেই কমিশন সোমবার সরাসরি ওই আধিকারিকদের সাসপেন্ড করে দেয়। একই সঙ্গে তাঁদের এসআইআর সংক্রান্ত দায়িত্ব থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এর আগে আরও চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন। অভিযোগ ছিল, বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া শুরুর আগেই ‘ভুয়ো’ বা ‘ভূতুড়ে’ ভোটারদের নাম বেআইনি ভাবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল। গত বছর ৫ ও ৮ অগস্ট পরপর চিঠি পাঠিয়েও নির্দেশ কার্যকর না-হওয়ায় ২ জানুয়ারি সংশ্লিষ্ট দুই জেলার জেলাশাসকদের এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দেয় কমিশন। তবুও ব্যবস্থা না-হওয়ায় সিইও দফতর থেকে দু’দফা স্মারক পাঠানো হয়।

পরিস্থিতির গুরুত্ব এতটাই বেড়েছিল যে, সম্প্রতি দিল্লির নির্বাচন সদনে তলব করা হয়েছিল রাজ্যের বর্তমান মুখ্যসচিবকে। জানা গিয়েছে, চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআর করতে রাজ্যকে মঙ্গলবার পর্যন্ত সময়সীমা দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যেই এসআইআর-কাজে যুক্ত আরও সাত আধিকারিকের বিরুদ্ধে সরাসরি ব্যবস্থা নিয়ে কমিশন স্পষ্ট বার্তা দিল—ভোটার তালিকা প্রক্রিয়ায় কোনও শৈথিল্য বরদাস্ত করা হবে না।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত