শিক্ষাব্যবস্থায় বড়সড় রদবদলের পথে হাঁটল পশ্চিমবঙ্গ। হোলিস্টিক প্রোগ্রেস রিপোর্ট কার্ড (HPRC)-এর বাস্তবায়নকে আরও কড়া ও কার্যকর করতে রাজ্যের সমস্ত স্কুলশিক্ষকদের জন্য নতুন নির্দেশিকা জারি করল West Bengal Board of Secondary Education (WBBSE)। ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে প্রকাশিত এই নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে— Teacher’s Diary বা শিক্ষকের ডায়েরি নির্দিষ্ট ফরম্যাটে রক্ষণাবেক্ষণ করা এখন বাধ্যতামূলক। পর্ষদের সাফ বার্তা, এই নির্দেশ অমান্য হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
পর্ষদের মতে, শুধুমাত্র পরীক্ষার নম্বর নয়— ছাত্রছাত্রীর সামগ্রিক বিকাশ, আচরণগত পরিবর্তন, দক্ষতা ও চিন্তাশক্তির অগ্রগতিকে নথিবদ্ধ করতেই এই নতুন ব্যবস্থা। শিক্ষক-ডায়েরি হবে HPRC বাস্তবায়নের অন্যতম প্রধান নথি, যা ক্লাসরুমের ভিতর ও বাইরের শেখার প্রক্রিয়ার লিখিত প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে।


কেন Teacher’s Diary এত গুরুত্বপূর্ণ?
মধ্যশিক্ষা পর্ষদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, Teacher’s Diary আর নিছক একটি খাতা নয়। এর মাধ্যমে নথিবদ্ধ হবে—
-
কোন অধ্যায় বা কোন কনসেপ্ট কতটা পড়ানো হয়েছে
-
ছাত্রছাত্রীর আচরণগত পরিবর্তন ও দক্ষতার অগ্রগতি
-
Bloom’s Taxonomy অনুযায়ী শেখার স্তর ও সক্ষমতা
-
পাঠদানের পদ্ধতি ও শেখার ফলাফল (Learning Outcomes)
পর্ষদের বক্তব্য, এই ডায়েরির মাধ্যমেই বোঝা যাবে HPRC বাস্তবে কতটা সঠিকভাবে প্রয়োগ হচ্ছে।
মূল্যায়নে আমূল পরিবর্তন: Formative ও Summative
নতুন নির্দেশিকায় মূল্যায়ন ব্যবস্থাকে দু’ভাগে ভাগ করা হয়েছে—
ফরমেটিভ ইভ্যালুয়েশন (Formative Evaluation)
-
শিক্ষাবর্ষে প্রতি বিষয়ে মোট ৯ বার মূল্যায়ন
-
প্রতি মাসের তৃতীয় সপ্তাহে মূল্যায়ন, চতুর্থ সপ্তাহে রিমিডিয়াল টিচিং
-
লিখিত পরীক্ষা, প্রোজেক্ট, মৌখিক মূল্যায়ন বা মডেল প্রদর্শনের মাধ্যমে মূল্যায়ন সম্ভব
সামেটিভ ইভ্যালুয়েশন (Summative Evaluation)
-
বছরে মোট ৩ বার
-
এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ
-
আগস্টের প্রথম সপ্তাহ
-
ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ
-
নতুন পেডাগজি: 4C, 5E ও ICON মডেল
পাঠদানের পদ্ধতিতেও আমূল বদল এনেছে পর্ষদ। ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শিক্ষণ-মডেল অনুসরণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে—
-
4C মডেল: Communication, Collaboration, Critical Thinking, Creativity
-
5E মডেল: Engage, Explore, Explain, Elaborate, Evaluate
-
ICON মডেল: তথ্য প্রক্রিয়াকরণ ও জ্ঞান নির্মাণভিত্তিক শিক্ষণ
পর্ষদের মতে, এই মডেলগুলি ছাত্রছাত্রীদের বিশ্লেষণী ক্ষমতা ও বাস্তবমুখী চিন্তাভাবনা গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।
রিমিডিয়াল ক্লাসে বাড়তি দায়িত্ব শিক্ষকদের
নতুন নিয়মে শিক্ষকদের দায়িত্বও বেড়েছে। দুর্বল ছাত্রছাত্রীদের চিহ্নিত করে তাঁদের জন্য আলাদা রিমিডিয়াল ক্লাস নিতে হবে। নির্ধারিত সাপ্তাহিক ২৫টি ক্লাসের বাইরে এই ক্লাস পরিচালনা করতে হবে শিক্ষকদের।
রিমিডিয়াল শিক্ষণের ক্ষেত্রে অনুসরণ করতে হবে Catch–Challenge–Change এই তিন ধাপ।
Teacher’s Diary-তে কী কী থাকছে?
নির্দিষ্ট ফরম্যাটে ডায়েরি চারটি ভাগে পূরণ করতে হবে—
-
Part A: দৈনিক ক্লাস কার্যকলাপ, উপস্থিতি ও লার্নিং আউটকাম (প্রধান শিক্ষকের সাপ্তাহিক সই বাধ্যতামূলক)
-
Part B: কারিকুলার ও কো-কারিকুলার কার্যক্রম
-
Part C: স্থানীয় ও জাতীয় দিবস উদযাপনে ছাত্রছাত্রীর অংশগ্রহণ
-
Part D: প্রধান শিক্ষকের রিপোর্ট, যা পর্ষদে পাঠানো হবে
পর্ষদ স্পষ্ট করে দিয়েছে, এই নির্দেশিকা অমান্য করা হলে কোনও রকম শিথিলতা দেখানো হবে না। তাই সকল শিক্ষক-শিক্ষিকাদের দ্রুত নতুন ফরম্যাট অনুযায়ী Teacher’s Diary রক্ষণাবেক্ষণ শুরু করার আহ্বান জানানো হয়েছে।









