দায়িত্ব নিয়েই বড় ঘোষণা করলেন রাজ্যের নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক। কলকাতার বহুচর্চিত ‘মেসিকাণ্ড’-এর তদন্ত হবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন তিনি। গত বছর যুবভারতীতে মেসি-কে ঘিরে হওয়া বিশৃঙ্খলা ও দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই ফাইল তলব করেছেন নিশীথ। একইসঙ্গে তাঁর দাবি, তৃণমূল আমলে ক্রীড়াক্ষেত্রে দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের কারণে বহু প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদ রাজ্য ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। নতুন সরকার সেই পরিস্থিতি বদলাতে চায়।
দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম সাংবাদিক বৈঠকেই ‘মেসিকাণ্ড’ প্রসঙ্গে মুখ খোলেন নিশীথ। তিনি বলেন, “যা হয়েছে, তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। মেসিকাণ্ডের ফাইল চেয়ে পাঠিয়েছি। সবটা খতিয়ে দেখতে হবে। তারপর মুখ্যমন্ত্রী Suvendu Adhikari-র সঙ্গে কথা বলব। যদি কোনও দুর্নীতি থেকে থাকে, তা হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


কী হয়েছিল ‘মেসিকাণ্ডে’?
গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর কলকাতার যুবভারতীতে মেসিকে দেখার আশায় হাজির হয়েছিলেন হাজার হাজার ফুটবলপ্রেমী। কিন্তু মাঠে অতিরিক্ত ভিড়, নিরাপত্তা বিভ্রাট এবং বিশৃঙ্খলার জেরে বহু দর্শক হতাশ হন।
অভিযোগ ওঠে, বাইরে থেকে বহু মানুষ মাঠে ঢুকে পড়েছিলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। পরে মেসি মাঠ ছাড়ার পর ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। সেই ঘটনায় প্রধান আয়োজক শতদ্রু দত্তকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর শতদ্রু প্রকাশ্যে প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলেছেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে আবার মেসিকে আনার ইচ্ছাপ্রকাশও করেছেন তিনি। এমনকি ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোকেও কলকাতায় আনার কথা বলেছেন।


টিকিটের টাকা ফেরত মিলবে?
মেসিকে দেখতে না পেয়ে হতাশ হওয়া দর্শকদের টিকিটের টাকা ফেরত নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। যদিও ঘটনার পর পুলিশ প্রশাসনের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, ক্ষতিগ্রস্তদের টাকা ফেরানো হবে।
এই প্রসঙ্গে নিশীথ বলেন, “এখনই কিছু বলা সম্ভব নয়। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে হবে। তারপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
তবে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, ভবিষ্যতে এমন আন্তর্জাতিক মানের ম্যাচ আয়োজন করা হবে যাতে মেসিকে না দেখতে পাওয়ার আক্ষেপ ভুলে যেতে পারবেন ক্রীড়াপ্রেমীরা।
‘তৃণমূল আমলে ক্রীড়া ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে’
নতুন ক্রীড়ামন্ত্রীর অভিযোগ, তৃণমূল সরকারের আমলে রাজ্যের ক্রীড়া পরিকাঠামো ও প্রতিভা বিকাশ কার্যত উপেক্ষিত হয়েছে। তাঁর কথায়, “শুধু স্বজনপোষণ আর দুর্নীতি হয়েছে। কেন্দ্র বহুবার স্পোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া থেকে ভাল কোচ ও প্রযুক্তিগত সাহায্য দিতে চেয়েছিল, কিন্তু রাজ্য গুরুত্ব দেয়নি।”
উদাহরণ হিসেবে তিনি স্বপ্না বর্মণের নামও উল্লেখ করেন। নিশীথের দাবি, পর্যাপ্ত সুযোগ না পাওয়ায় স্বপ্নাকে অন্য রাজ্যে চলে যেতে হয়েছিল।
কী পরিকল্পনা নতুন সরকারের?
নিশীথ জানিয়েছেন, নতুন সরকার রাজ্যের প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদদের খুঁজে বের করা এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ দেওয়ার উপর জোর দেবে। তাঁর বক্তব্য, “আমাদের লক্ষ্য থাকবে আগামী দিনে রাজ্য থেকে আরও বেশি ক্রীড়াবিদ অলিম্পিকে অংশ নিক।”
তবে আগের সরকারের আমলে চালু হওয়া ক্রীড়াবিদদের কোনও প্রকল্প বন্ধ করা হবে না বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।







