নজরবন্দি ব্যুরোঃ ‘মৌলিক কর্তব্য পালন করুন’, ‘সংবিধান দিবস’-এর সকালে মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করেন রাজ্যপাল। সেইসঙ্গে পরামর্শ দেন সংবিধান মেনে বাংলা শাসনের। এদিন সরকারি কর্মীদেরও নিশানা করেন জগদীপ ধনকড়। তবে এবার তাঁর টুইটের পালটা জবাব দিলেন তৃণমূল সাংসদ তথা পেশায় আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
আরও পড়ুনঃ দেরি না করে ডিসেম্বরেই বাংলায় আসছেন মোদি, বৈঠক ‘পঞ্চপাণ্ডব’-র সঙ্গে


তিনি রাজ্যপালের বিরুদ্ধে কলকাতা ও বিধাননগর পুলিশকে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানান। পাশাপাশিই, ধনখড়কে যেন অবিলম্বে রাজ্যপালের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়, সেইনিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছেও আর্জি জানিয়েছেন কল্যাণবাবু। রাজভবন-নবান্ন সম্পর্ক কোনওদিন মধুর নয়। সেই ফাটল ক্রমশই বাড়ছে বই কমছে না। বারবার একাধিক ইস্যুতে একে অপরকে নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী-রাজ্যপাল।
বাঁকুড়ার সভা থেকে নাম না করেই বারবার টুইটে রাজ্যের কাজের সমালোচনা করা নিয়ে ধনকড়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মমতা বন্দোপাধ্যায় । তবে সেই আক্রমণকে গুরুত্ব দিতে নারাজ রাজ্যপাল। বৃহস্পতিবার ফের টুইটে মুখ্যমন্ত্রীকে ফের খোঁচা দিলেন জগদীপ ধনকড় । সংবিধান দিবসের সকালে পরপর দুটি টুইট করেন রাজ্যপাল। একটি টুইটে সকলকে মৌলিক কর্তব্য পালনে প্রতিশ্রুতি বদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। পরের টুইটে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করেন তিনি।
সংবিধান পালনের পরামর্শ দেন তিনি। সরকারি কর্মীদের উদ্দেশ্য করে লেখেন, “রাজনৈতিক মতাদর্শ ছেড়ে সরকারি কর্মীদের সংবিধানের মশাল হতে হবে।” এরপরই সরব হন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দোপাধ্যায়। দিনকয়েক ধরে গরুপাচার ও কয়লা কাণ্ডে সুর চড়িয়েছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। সুদীপ্ত রায়চৌধুরী এবং গোবিন্দ আগরওয়ালকে গ্রেপ্তারির বিরোধিতায় একের পর এক টুইট করেছেন তিনি। তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করে রাজ্যপালের টুইটে পালটা জবাব দেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।


‘মৌলিক কর্তব্য পালন করুন’, তিনি বলেন, “সুদীপ্ত রায়চৌধুরী গরুপাচারে যুক্ত। মানুষ পাচারের সঙ্গেও যোগ রয়েছে তার। ওই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ রয়েছে। ধৃত গোবিন্দ আগরওয়াল এবং সুদীপ্ত রায়চৌধুরীর হয়ে কেন টুইট করছেন রাজ্যপাল? কেন বাংলার রাজ্যপাল অভিযুক্তদের সাহায্যে এগিয়ে আসছেন? পশ্চিমবঙ্গের অনেক অপরাধীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে রাজ্যপালের।” পাশাপাশি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আরও দাবি, “তদন্ত প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন রাজ্যপাল।
পুলিশ-সহ সরকারি আধিকারিকদের তদন্তে বাধা দিচ্ছেন। হুমকি দিচ্ছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। অসাংবিধানিক কাজ করছেন। যারা তদন্তে বাধা দেন কিংবা তদন্ত প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন তাদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৮৬ ও ১৮৯ ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া যায়। কলকাতা পুলিশকে অনুরোধ করব রাজ্যপালের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিন।”







