প্রথম দফার ভোটের পরই রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্কে বড় দাবি শাসকদলের। তৃণমূল কংগ্রেস জানিয়েছে, ১৫২ আসনের ভোটেই তারা ন্যূনতম ১২৫টি আসনে এগিয়ে—যা সরকার গঠনের লক্ষ্যমাত্রার প্রায় কাছাকাছি। দ্বিতীয় দফায় দক্ষিণবঙ্গের ভোট বাকি থাকলেও দলীয় নেতাদের দাবি, সেই ফল যুক্ত হলে চতুর্থবারের জন্য ক্ষমতায় ফেরা কার্যত নিশ্চিত। ভোটের উচ্চ হার ঘিরে যখন জল্পনা তুঙ্গে, তখনই এই আত্মবিশ্বাসী বার্তা ছুড়েছে তৃণমূল।
বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ শেষে তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ এবং রাজ্যের মন্ত্রী ব্রাত্য বসু একসুরে দাবি করেন, প্রথম দফাতেই ১২৫ থেকে ১৩৫টি আসন জয়ের পথে দল। কুণালের কথায়, “খুব কম হলেও ১২৫টি আসন আমরা পাচ্ছি, এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।” একই সঙ্গে তিনি বিরোধী শিবিরকে কড়া আক্রমণ করে বলেন, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারি নিজের আসনও রক্ষা করতে পারবেন না।


অন্যদিকে, বিজেপির তরফেও একই সংখ্যার দাবি তুলে পাল্টা চাপ তৈরি করা হয়েছে। ফলে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে ‘সংখ্যার লড়াই’—কার অঙ্ক শেষ পর্যন্ত মিলে, সেটাই এখন দেখার।
ভোটের দিন বিকেলে কলকাতায় প্রচারে নেমে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও ইঙ্গিত দেন জয়ের দিকেই। তাঁর বক্তব্য, “মানুষের নাড়ি যদি বুঝে থাকি, তবে বলব আমরা ইতিমধ্যেই চালকের আসনে।” পাশাপাশি তিনি ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার অভিযোগ তুলে ভোটগণনায় স্বচ্ছতার দাবিও জানান।
তৃণমূলের দাবি, এবারের বিপুল ভোটদানের পেছনে রয়েছে ‘প্রতিবাদের ভোট’। কুণাল ঘোষের বক্তব্য অনুযায়ী, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বহু বৈধ ভোটারকে বাদ দেওয়ার অভিযোগেই ক্ষুব্ধ মানুষ বড় সংখ্যায় ভোট দিয়েছেন, যার সিংহভাগই গিয়েছে শাসকদলের পক্ষে। বিশেষ করে মহিলা ভোটারদের অংশগ্রহণকে তারা নিজেদের পক্ষে বড় ফ্যাক্টর হিসেবে দেখছে।


শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু এই উচ্চ ভোটদানের ব্যাখ্যায় বিহারের উদাহরণ টেনে বলেন, বেশি ভোট মানেই সরকারবিরোধী হাওয়া—এই ধারণা সবসময় খাটে না। তাঁর মতে, বিহারের মতোই বাংলাতেও উচ্চ ভোটদানের পরেও শাসকদলের প্রত্যাবর্তন সম্ভব।
একই সুর শোনা গিয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলাতেও। মেটিয়াবুরুজ থেকে তিনি দাবি করেন, তৃণমূলের ভোট শতাংশ যেমন বাড়বে, তেমনই আসন সংখ্যাও বাড়বে।
এখন নজর দ্বিতীয় দফার ভোট এবং শেষ পর্যন্ত গণনার দিনের দিকে। রাজনৈতিক দাবিদাওয়ার বাইরে বাস্তব অঙ্ক কী দাঁড়ায়, সেটাই নির্ধারণ করবে বাংলার পরবর্তী সরকার।







