দ্বিতীয় পর্বের ভোট শেষ হতেই দক্ষিণ ২৪ পরগনায় বড়সড় বিতর্ক। মোট ৭৭টি বুথে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানানো হয়েছে নির্বাচন কমিশনের কাছে, যার সিংহভাগই পড়ছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর লোকসভা কেন্দ্র ডায়মন্ড হারবারের আওতায়। প্রথম দফায় যেখানে এমন কোনও দাবি ওঠেনি, সেখানে দ্বিতীয় দফার পরেই এই বিপুল সংখ্যক বুথে পুনর্নির্বাচনের আবেদন রাজনৈতিক মহলে নতুন প্রশ্ন তুলছে।
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর সূত্রে জানা যাচ্ছে, মোট ৭৭টি বুথের মধ্যে ফলতা বিধানসভায় ৩২টি, ডায়মন্ড হারবারে ২৯টি, বজবজে ৩টি এবং মগরাহাট পূর্বে ১৩টি বুথ রয়েছে। এর মধ্যে ফলতা, ডায়মন্ড হারবার এবং বজবজ—তিনটিই অভিষেকের লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্ভুক্ত, যা বিষয়টিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।


যদিও সরকারি ভাবে এখনও কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি, সূত্রের দাবি—এই পুনর্নির্বাচনের আবেদনগুলির বেশিরভাগই এসেছে প্রধান বিরোধী দল বিজেপির তরফে। অভিযোগ, একাধিক বুথে ভোটগ্রহণ নিয়ে অনিয়ম ও চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
বিশেষ করে ফলতা কেন্দ্রকে ঘিরে বিতর্ক সবচেয়ে বেশি। কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয়পাল শর্মা-র বিরুদ্ধে তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের বাড়ির কাছে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পাল্টা তৃণমূল ওই আধিকারিকের ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে। পাশাপাশি, ফলতার ১৭০ ও ১৮৯ নম্বর বুথে ইভিএমে ‘টেপ’ লাগানোর অভিযোগও সামনে এসেছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, দ্বিতীয় দফায় সাত জেলার ১৪২টি বিধানসভা আসনে ৪১ হাজারেরও বেশি বুথে ভোটগ্রহণ হয়েছে। অথচ প্রথম দফার ১৫২টি আসনের ৪৪ হাজারের বেশি বুথে ভোট হলেও একটিতেও পুনর্নির্বাচনের দাবি ওঠেনি। সেই তুলনায় দ্বিতীয় দফার পরেই এই বিপুল সংখ্যক অভিযোগ স্বাভাবিকভাবেই নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।


এখন নজর নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে—এই ৭৭টি বুথে আদৌ পুনর্নির্বাচন হবে কি না, সেটাই দেখার।







