বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী কে হতে চলেছেন—এই প্রশ্নে রাজ্য রাজনীতি উত্তপ্ত। কেশব ভবনে চলছে টানা বৈঠক, পাশাপাশি উপমুখ্যমন্ত্রী পদ নিয়েও জোর জল্পনা। একাধিক নাম ঘুরপাক খাচ্ছে, আর সেই সঙ্গে মন্ত্রিসভায় কারা জায়গা পাবেন, তা নিয়েও শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
বিজেপির বিপুল জয়ের পর স্বাভাবিকভাবেই মুখ্যমন্ত্রীর নাম নিয়ে নানা মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। নন্দীগ্রাম থেকে উঠে আসছে শুভেন্দু অধিকারীর নাম। আবার সংগঠনের অন্দরে অন্য কিছু নাম নিয়েও আলোচনা চলছে বলে সূত্রের খবর। একই সঙ্গে এক বা দু’জন উপমুখ্যমন্ত্রী রাখার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। সেই দৌড়ে অগ্নিমিত্রা পলের নাম বারবার উঠে আসছে, যিনি গত কয়েক বছরে দলের আন্দোলনের মুখ হয়ে উঠেছেন। আছেন দিলীপ ঘোষও।


মন্ত্রিসভা গঠনেও আঞ্চলিক ভারসাম্য বজায় রাখার দিকে জোর দিচ্ছে দল। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গ, যা দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপির শক্ত ঘাঁটি, সেখানে প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সূত্রের ইঙ্গিত, নিশীথ প্রামাণিক ও শংকর ঘোষ মন্ত্রিসভায় জায়গা পেতে পারেন। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর তাঁদের হাতে যেতে পারে বলেও আলোচনা চলছে।

ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ দপ্তরের জন্য অশোক দিন্দার নাম বিবেচনায় রয়েছে। অন্যদিকে, সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ রুদ্রনীল ঘোষকে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। শিক্ষা দপ্তরের জন্য স্বপন দাশগুপ্তের নাম উঠে এসেছে, যিনি নীতিনির্ধারণী স্তরে অভিজ্ঞ।
প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার নিরিখে প্রাক্তন আইপিএস রাজেশ কুমারের নামও মন্ত্রিত্বের তালিকায় রয়েছে। স্বাস্থ্য দপ্তরের জন্য পীযূষ কানোরিয়ার নাম আলোচনায়। পাশাপাশি, সৌরভ শিকদার-সহ আরও কয়েকজন নতুন মুখকেও মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার ভাবনা রয়েছে।


মহিলা প্রতিনিধিত্বেও জোর দিতে চাইছে দল। অগ্নিমিত্রা পল ছাড়াও রত্না দেবনাথের নাম আলোচনায় রয়েছে। নির্বাচনে তাঁর সাফল্য এবং জনসংযোগের ভিত্তিতে তাঁকেও মন্ত্রিসভায় দেখা যেতে পারে।
যদিও এই সমস্ত নাম এখনও চূড়ান্ত নয়, শেষ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার পরই। ৯ মে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে শপথ অনুষ্ঠানের দিনই স্পষ্ট হবে কে হচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী এবং কেমন হচ্ছে নতুন মন্ত্রিসভা।







