পশ্চিমবঙ্গে ঐতিহাসিক জয়ের পর শপথ অনুষ্ঠানকে অভূতপূর্ব মাত্রা দিতে চলেছে বিজেপি। ৯ মে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে নতুন মুখ্যমন্ত্রীর শপথ শুধু রাজ্যের অনুষ্ঠান নয়, তা কার্যত জাতীয় শক্তিপ্রদর্শনের মঞ্চে পরিণত হতে চলেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-সহ একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের উপস্থিতির সম্ভাবনায় এই আয়োজন ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে।
বিজেপির কাছে এই জয় শুধুমাত্র একটি রাজ্য দখল নয়, বরং রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এক মাইলফলক। সেই কারণেই শপথ অনুষ্ঠানকে বৃহত্তর বার্তা পৌঁছে দেওয়ার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে দল। সূত্রের খবর, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ, সড়ক পরিবহণমন্ত্রী নিতিন গডকড়ী, দলের শীর্ষ নেতৃত্ব জেপি নড্ডা-সহ একাধিক কেন্দ্রীয় নেতার উপস্থিতি থাকতে পারে। পাশাপাশি, বিভিন্ন বিজেপি ও এনডিএ শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদেরও আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে।


শপথের আগে গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পর্বও রয়েছে। ৮ মে কলকাতার নিউটাউনে বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে বিজেপির নবনির্বাচিত বিধায়ক দল বৈঠকে বসবে। কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক হিসেবে সেখানে উপস্থিত থাকবেন অমিত শাহ। সেই বৈঠকেই আনুষ্ঠানিকভাবে পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচন করা হবে, যিনি পরের দিন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন।
শপথ মঞ্চে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা শপথ নেবে কি না, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে সূত্রের ইঙ্গিত, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দু’জন উপমুখ্যমন্ত্রী এবং কয়েকজন মন্ত্রী শপথ নিতে পারেন। পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা পরে গঠন হতে পারে।
বৃহত্তর রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মুখ্যমন্ত্রীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ, মহারাষ্ট্রের দেবেন্দ্র ফডণবীস, ওড়িশার মোহনচরণ মাঝি, উত্তরাখণ্ডের পুষ্কর সিংহ ধামী, হরিয়ানার নায়াব সিংহ সৈনী এবং মধ্যপ্রদেশের মোহন যাদব—যাঁরা নির্বাচনী প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন, তাঁদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


এই বিশাল আয়োজন ঘিরে নিরাপত্তাও নজিরবিহীন। প্রায় তিন হাজারের বেশি পুলিশ মোতায়েন করা হচ্ছে। ব্রিগেড এবং সংলগ্ন এলাকা সেক্টরভিত্তিক ভাগ করে নজরদারি চালানো হবে। উঁচু ভবন থেকে নজরদারি, ড্রোন ব্যবস্থাও থাকছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীকেও মোতায়েন করা হবে।
শুধু রাজনৈতিক অনুষ্ঠান নয়, সাংস্কৃতিক উপস্থাপনাও এই অনুষ্ঠানের অংশ হতে চলেছে। রবীন্দ্রজয়ন্তীর দিনে শপথ হওয়ায় রবীন্দ্রসঙ্গীত এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনার পরিকল্পনাও রয়েছে। মূল মঞ্চ ছাড়াও আলাদা সাংস্কৃতিক মঞ্চ তৈরি করার কথা ভাবা হয়েছে।
জনসমাগম নিয়েও বড় পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটি বিধায়ককে অন্তত এক হাজার সমর্থক নিয়ে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের দাবি। ফলে ব্রিগেডে বিপুল জনসমাগমের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
সব মিলিয়ে, এই শপথ অনুষ্ঠান শুধু প্রশাসনিক রীতি নয়—এটি বিজেপির কাছে পশ্চিমবঙ্গ জয়ের জাতীয় বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার এক বড় রাজনৈতিক মুহূর্ত।







