নজরবন্দি ব্যুরোঃ নারদ-নাটক থেকে কেন্দ্রীয় নেতাদের অনুপস্থিতি, সবকিছু একসঙ্গে বুমের্যাং হয়ে উঠেছে বঙ্গ বিজেপির কাছে। রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষ সকলের এক মত, হাজার প্রচেষ্টায় শেষমেশ মুখ পুড়ছে গেরুয়া শিবিরের। সমস্যা ডেকে এনে সামলানোর আর কোন পথ খুঁজে পাচ্ছেন না বঙ্গ বিজেপির প্রথম সারির নেতারা বলেই মনে করছে রাজনৈতিক শিবিরগুলি। আর এতোদিন মাথার উপরে ছাতা হয়ে থাকা কেন্দ্রীয় নেতা মন্ত্রীরাও একে একে ফিরে গেছেন নিজেদের রাজ্যে।
আরও পড়ুনঃ আর্জি বাতিল মদনের বেঞ্চ বদলের, আগামী কালই নারদ-কান্ডের শুনানি


গত রবিবার অরবিন্দ মেননও উড়ে গেছেন দিল্লি। এই মুহুর্তে গোটা চিত্র একসঙ্গে করলে চোখে পড়বে বাংলায় ছন্নছাড়া অভিভাবকহীন বিজেপি। তবে এই চিত্র কদিন আগে থেকেই ফুটে উঠেছে। যেদিন তরুণ চুঘের উপস্থিতিতে দিলীপের ডাকা বৈঠকে উপস্থিত হয়নি বিজেপিরই একাধিক পরাজিত বিধায়ক প্রার্থীরা। যাঁরা উপস্থিত ছিলেন তাঁদের মধ্যেও লাইমলাইট কেড়েছিলেন সেই তৃণমূল থেকে যাওয়া শুভেন্দু-অর্জুন-সৌমিত্র। আর আলোচনা নয় শুধু ভুরি ভুরি অভিযোগ আর কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ চেয়েছিলেম্ন। বৈঠক থেকে বেরিয়ে এসেছে অনেক আদি বিজেপি নেতা বলেছিলেন, শুভেন্দু প্রথম বার বুঝছেন বিরোধী দলের হয়ে কাজ করার জ্বালা।
নির্বাচনের আগের ক’মাস বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা থেকে রাজ্য নেতা সকলেই শতাংশের বেশি নিশ্চিত ছিলেন ২১ এর নির্বাচন জিতে বাংলা শাসন করবে গেরুয়া শিবির। বারবার প্রচার করেছেন সেরকমই। তবে ফলাফলে দেখা গেছে খেলা উলটে তাদের সামনে দিয়ে ডবল সেঞ্চুরি করে বেরিয়ে গেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পর থেকেই বঙ্গ বিজেপি সরব হয়েছে বাংলার ভোট-পরবর্তী হিংসা নিয়ে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে এখানেও মুখ পুড়েছে বিজেপির। মুখ্যমন্ত্রী শুরুতেই কড়া হাতে দমন করেছে হিংসা, একথা বলেছে খোদ হাই কোর্ট। তার পরেও যেভাবে বিজেপি হিংসার দিকে সব মোড় ঘুরিয়ে রাখছে তাতে রাজ্যের সাধারণ মানুষও মনে করছে এসবের নকশা তাদেরই বানানো।
সেই রেশের মধ্যেই আবার নারদ কান্ড। তৃণমূল সরকারের দুই মন্ত্রী এক বিধায়কের গ্রেপ্তারিতে বিজেপির লাভের বদলে সমস্যা হয়েছে বেশি বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। কারন তৃণ্মুলের ফিরহাদ-সুব্রত-মদন হেফাজতে যে কারণে এই একই ঘটনায় অভিযুক্ত তাদের দলের প্রথম সারির নেতা শুভেন্দু। কিন্তু তিনি জেলের বাইরে বসে ট্যুইট করছেন। যার ফলে একাধিক বার এই প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে বঙ্গ বিজেপির নেতাদের। বারবার তারা তদন্ত হবে…দেখা যাবে…মামলা যেভাবে এগোবে, এসব বলে এড়িয়ে গেলেও দলের অনেকেই বলছেন এত সমস্যার মাঝে এই প্রশ্ন নতুন সমস্যা তৈরি করেছে গেরুয়া শিবিরের।


ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে সরব হওয়া ছাড়া কেন্দ্রীয় নেতা মন্ত্রীরা ফিরে যাওয়ার পর থেকে একেবারে চুপচাপ প্রায় বঙ্গ বিজেপি টিম। যাঁরা মানুষের হয়ে কাজ করতে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে গিয়েছিলেন মিটিং এই আসছেন না তাঁরা। বিজেপির প্রথম সারির এক নেতা বলেছেন কেন্দ্রের সঙ্গে ভার্চুয়াল মিটিং হচ্ছে মাঝে মাঝে, কাজ নিয়ে আলচনা হচ্ছে। তবে বিশেষ কোন কাজের কথা এখনো বলা হয়নি।
নারদ-নাটক থেকে ভোট-পরের হিংসার বুমের্যাং, বাংলায় ছন্নছাড়া অভিভাবকহীন বিজেপি , তবে সেসব ভাবছেন না বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য্য, তিনি জানিয়েছেন, কোভিড পরিস্থিতিতে নিয়ম মেনে কাজ করছেন তাঁরা। বাড়ি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন ঘরছাড়া মানুষদের। একাধিক জায়গায় ত্রাণ শিবির চালাচ্ছে বিজেপি, রাজ্যের রাজনৈতিক লকডাউনের ফলে সমস্যা হচ্ছে, তবে কাজ করছেন তাঁরা। কিন্তু ওয়াকিবহাল মহল বলছে, যেভাবে হার থেকে একাধিক ঘটনা বুমের্যাং হয়ে ফিরছে, তার ওপরে অভিভাবকরা নেই, সব মিলিয়ে বিজেপি নেতারা একা হয়ে পড়েছেন।







